📄 হিফজকৃত অংশ দ্বারা সুন্নতসমূহের সাথে নামাজ আদায় করা
নামাজে কুরআন তিলাওয়াতও আপনার হিফজকে খুব শক্তিশালী করতে পারে। যেমন: প্রথমে সদ্য মুখস্থকৃত অংশটুকু পড়ুন, এরপর পূর্বে হিফজ করা অংশের তিলাওয়াত করুন। কেউ বলতে পারেন, আমি তো মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করি, তাই নিজে তিলাওয়াত করতে পারি না; বরং ইমামের তিলাওয়াত শুনি কেবল—অতএব, আমার জন্য এই আমল করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে আমি বলব, আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন...। আপনি যা করছেন, সকল মুসলিম থেকে আমরাও সেটাই কামনা করি—অর্থাৎ সবাই মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করুক। কেননা, এটা মোটেও যুক্তিসংগত কথা নয় যে—কেউ কুরআন হিফজ করতে গিয়ে তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মসজিদের জামাতে নামাজ পড়া ছেড়ে দেবে!
তবে এক্ষেত্রে একটি উত্তম সমাধান রয়েছে—এমন এক প্রকার নামাজ রয়েছে, আপনি যদি তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আদায় করেন, তবে তা আপনার হিফজ শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও খুব সহায়ক হবে, পাশাপাশি তার জন্য আপনার বিরাট আকারের সওয়াবও অর্জিত হবে—আর সেই সুযোগ হলো কিয়ামুল লাইল।
এই কিয়ামুল লাইলে আপনি যত খুশি তিলাওয়াতের সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি মধ্যরাতে মহান রবের সামনে দাঁড়িয়ে একান্তে ইবাদতে লিপ্ত হতে পারবেন...। বস্তুত কতই-না উত্তম আমল এটি! জান্নাতের পথে কতই-না সংক্ষিপ্ত রাস্তা এটি!!
ইচ্ছে করলে তখন আপনি বিস্মৃত অংশ ইয়াদ করার জন্য কুরআন তিলাওয়াতে রত হতে পারবেন, আবার চাইলে মুখস্থকৃত অংশগুলো ভালোভাবে রপ্ত করতে বারবার নামাজে দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতে পারবেন।
আপনি চাইলে এশার নামাজের পরপর কিয়ামুল লাইল আদায় করতে পারেন, আবার চাইলে মধ্যরাতে বা রাতের শেষ প্রহরেও তা পড়তে পারেন—আর এটাই [রাতের শেষ প্রহর] উত্তম।
মোটকথা, যখন আর যে পরিমাণ কিয়ামুল লাইলই হোক, সর্বাবস্থায় এটি এক মহৎ আমল এবং বিরাট প্রতিদানপ্রাপ্তির বিষয়! আল্লাহর কাছে নিবেদন, তিনি আমাদের এই মহা নিয়ামত দান করুন।
আয়েশা রা. [আব্দুল্লাহ বিন আবু কায়স রহ.-কে] বলেন, “তুমি কখনো কিয়ামুল লাইল ছেড়ো না। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তা পরিত্যাগ করতেন না। তিনি যদি অসুস্থ থাকতেন বা অলসতা বোধ করতেন, তবে তা বসে বসে আদায় করতেন।” (৪৬)
বিশেষত, কুরআন হিফজ করার পর কিয়ামুল লাইল ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন! মনোযোগ দিয়ে দেখুন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী উপদেশ দিচ্ছেন! আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ, তুমি অমুক ব্যক্তির মতো হয়ো না, যে একসময় কিয়ামুল লাইল আদায় করত, কিন্তু পরে তা ছেড়ে দিয়েছে...।” (৪৭)
টিকাঃ
৪৬. সুনানে আবু দাউদ: ১৩০১।
৪৭. সহিহ বুখারি: ১১৫২।
📄 প্রধান নিয়মগুলোর সংক্ষিপ্ত স্মারকলিপি
১. আপনার এ আমল কেবল আল্লাহর জন্য ইখলাসপূর্ণ করুন এবং এতে বেশি বেশি নেক নিয়ত অন্তর্ভুক্ত করুন।
২. দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করুন। আজই আপনি নিজে, আপনার স্ত্রী-সন্তান এবং ভাই-বোনদের নিয়ে হিফজ শুরু করে দিন। 'অচিরেই শুরু করব' বাক্যের প্রবঞ্চনা থেকে বেঁচে থাকুন।
৩. যে কাজের নিয়ত করেছেন, তার মূল্য অনুধাবন করুন।
৪. হিফজের পাশাপাশি তদনুযায়ী আমলের প্রতি মনোযোগ প্রদান করুন। আপনার ইলম যেন আপনার আমলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না-পারে...।
৫. গোনাহ ছেড়ে দিন। অতীতের গোনাহর জন্য ইস্তেগফার করুন, সামনে তা থেকে বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা করুন।
৬. একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আপনার জন্য সততাপূর্ণ নিয়ত, নির্ভুল হিফজ এবং নেক আমল সহজ করে দেন।
৭. সর্বদা তাফসিরের গ্রন্থাদির সহায়তা নিন—যেন আপনি কুরআনের আয়াতসমূহের মর্ম বুঝতে পারেন।
৮. দ্রুত সময়ে এবং শুদ্ধরূপে তাজউইদ শিখে নিন।
৯. এক মাস বা তারও কম সময়ে একবার করে কুরআন খতমের চেষ্টা করুন।
১০. হিফজকৃত অংশ নামাজে পড়ার প্রতি আগ্রহান্বিত হোন, বিশেষত কিয়ামুল লাইলে।