📄 মর্ম বুঝে হিফজ করা
যে ব্যক্তি হিফজকৃত আয়াতসমূহের মর্ম বুঝতে পারবে, নিঃসন্দেহে তার জন্য হিফজ করা অত্যন্ত সহজ হবে। বিশেষত সে-সব সুরা, যেগুলোতে নানান ঘটনা বর্ণিত হয়েছে অথবা যে-সব আয়াতের প্রসিদ্ধ শানে নুজুল (পটভূমি) রয়েছে। তেমনইভাবে যে-সব আয়াত ফিকহি বিধান সংবলিত, যেমন: অজু, কসম বা জিহারের কাফফারা, রোজা, ভুলক্রমে হত্যার রক্তপণ ইত্যাদি, যেগুলোর হিফজও সহজ হবে বলে আশা করি।
যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ কুরআন হিফজ করতে চায়, তার জন্য উচিত হচ্ছে সহজ কোনো তাফসিরগ্রন্থের সহায়তা নেওয়া। তাহলে অল্প সময়ে ও সংক্ষেপে অর্থের মর্ম বুঝতে সুবিধা হবে। উদাহরণস্বরূপ যে গ্রন্থগুলো সহায়ক হতে পারে:
১. মুখতাসারু ইবনে কাসির
২. মুখতাসারুত তাবারি
৩. তাফসিরুস সাদি (تفسير السعدي)
৪. তাফসিরু মুহাম্মদ ফরিদ ওয়াজদি
৫. তাফসিরুল জালালাইন, ইত্যাদি।
তবে কোনো আয়াত বা সুরার বিস্তারিত তাফসির জানতে চাইলে প্রসিদ্ধ পূর্ণাঙ্গ তফসির গ্রন্থগুলোর শরণাপন্ন হতে হবে। যেমন:
১. তাফসিরে ইবনে কাসির
২. তাফসিরে কুরতুবি
৩. ফি যিলালিল কুরআন
৪. আল-আসাস ফিত-তাফসির, ইত্যাদি। (৩৮)
আমি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, এই মহান গ্রন্থই আমাদের জীবনের একমাত্র সংবিধান। অতএব, যে ব্যক্তি তা অনুযায়ী আমল করতে চায়, তার জন্য আয়াতসমূহের সঠিক ও শাশ্বত ব্যাখ্যা জানা আবশ্যক। বস্তুত, মর্মসহ একটি আয়াত হিফজ করাও মর্ম না বুঝে দশটি আয়াত হিফজের চেয়ে উত্তম।
টিকাঃ
** . উল্লিখিত গ্রন্থগুলোর সব বাংলা ভাষায় অনূদিত নেই, তাই কুরআনের অর্থ ও সংক্ষিপ্ত-বিস্তারিত তাফসিরের জন্য এই গ্রন্থগুলো দেখা যেতে পারে, যথা: 'তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন' 'তাফসীরে মা'আরেফুল-কোরআন' 'তাফসীরে ইবনে কাছীর' ইত্যাদি। (সম্পাদক)
📄 সঠিক তাজউইদ (তিলাওয়াতজ্ঞান) জানা
কুরআন পাঠের জন্য তাজউইদজ্ঞান বড়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বস্তুত, কেউ আরবি ভাষাভাষী হলেই সে শুদ্ধরূপে কুরআন পড়তে পারে না। কারণ, কুরআন পাঠের বিশেষ কিছু নীতিমালা আছে, যেগুলো কেবল আল্লাহর কিতাবের জন্যই প্রণীত। আল্লাহ তাআলা চান, আমরা তার কালাম ঠিক সেভাবে পাঠ করি, যে নিয়মে তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরিল আলাইহিস সালাম থেকে শিখে সাহাবায়ে কেরামকে শিক্ষা দিয়েছেন। আর সেই তাজউইদের সাথেই এই মহৎ জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের ধারাবাহিকতায় আমাদের পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে।
ইনশাআল্লাহ—কিয়ামত পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে...।
তাজউইদসহ কুরআন পড়লে হিফজ করাটাও সহজ হয়। এই বিশেষ ধ্বনিজ্ঞান কুরআনকে একেবারে হৃদয়ে গেঁথে দেয়। অতএব, হিফজে আগ্রহী প্রতিটি মুসলিমের অবশ্যকর্তব্য হলো দ্রুত তাজউইদ শিখে নেওয়া। কেননা, হিফজ সমাপ্ত করার পর সেগুলোর তাজউইদ ঠিক করা অনেকটা দুঃসাধ্য। ব্যাপার। ফলে যদি কেউ ভুল তাজউইদে কুরআন হিফজ করে ফেলে, দুর্ভাগ্যবশত সারাজীবন সেভাবেই তাকে কুরআন পড়ে যেতে হবে।
সঠিক তাজউইদসহ কুরআন হিফজ করার দরুন আল্লাহ তাআলার নিকট উত্তম প্রতিদানের আশা করা যায়। সুতরাং, তাজউইদের রীতিশৈলী যত কঠিনই হোক না-কেন, প্রতিটি কুরআন শিক্ষার্থীরই এর জন্য চেষ্টা-সাধনা করা উচিত। কেননা, কুরআন শেখার এ যাত্রার প্রতিটি কসরতই তার প্রতিদানের পাল্লা ভারী করবে। যেমন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুরআন পড়তে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত রাসুলগণের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি [হিফজ দুর্বলতার দরুন] তার জন্য কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও আটকে আটকে কুরআন পাঠ করে, তার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে।” (৩৯) উল্লেখ্য, সহিহ বুখারির বর্ণনায় প্রথমাংশে রয়েছে, “হাফেজ কুরআন তিলাওয়াতকারী ব্যক্তি..."।
ইমাম নববি রহ. 'সম্মানিত রাসুলগণ'-এর ব্যাখ্যায় বলেন, এর দ্বারা এখানে মানুষ নবী-রাসুলদেরও উদ্দেশ্য নেওয়া যায়, আবার ফেরেশতা ওহিবাহকদেরও উদ্দেশ্য নেওয়া যায়-তবে যারাই হোক, প্রকৃতপক্ষে উভয় দলই পরম সম্মানিত ও মর্যাদাবান।
একটি বিষয়ে সতর্ক করার প্রয়োজন বোধ করছি, কুরআনের তাজউইদ সরাসরি অভিজ্ঞ কোনো হাফেজ শিক্ষকের নিকট শেখা চাই। কেননা, কোনো বই বা অডিও ক্লিপের উপর নির্ভর করে শুদ্ধ তাজউইদ শেখা অসম্ভব ব্যাপার! তবে প্রথমে শিক্ষকের কাছ থেকে শুনে পরবর্তী সময়ে অডিও ক্লিপ, কম্পিউটার সফটওয়্যার, কুরআনের তিলাওয়াত শোনা বা কোনো তাজউইদের বই ইত্যাদির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
অভিভাবকদের উচিত, শৈশবেই বাচ্চাকে কুরআন হিফজ করানোর জন্য শিক্ষকের ব্যবস্থা করা। আপন সন্তানকে কুরআন হিফজ করানোর বিশাল উপকারের ব্যাপারটি মাথায় রেখে মুসলিম বাবা-মায়েদের জন্য বাচ্চাদের স্মরণশক্তি তেজোদীপ্ত ও প্রখর থাকার এই সময়টিকে যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত...।
টিকাঃ
৩৯. সহিহ মুসলিম: ৭৯৮, সহিহ বুখারি: ৪৯৩৭।
📄 ধারাবাহিক তিলাওয়াত
প্রত্যেক মাসে অন্তত একবার কুরআনুল কারিম খতমের (পাঠ করে শেষ করা) চেষ্টা করা উচিত। যদি এরচেয়েও কম সময়ে পারা যায়, তাহলে তো আরও ভালো। সাহাবায়ে কেরামের একটি বড় অংশই সপ্তাহে একবার কুরআনুল কারিম খতম করতেন; আবার কেউ কেউ তো মাত্র তিনদিনেও খতম করতেন!
বুদ্ধিমান প্রতিটি ব্যক্তিই অবগত আছেন, অধিক কুরআন তিলাওয়াতকারী ব্যক্তি অধিক সওয়াবের অধিকারী হয়ে থাকে, পাশাপাশি এটি হিফজকেও আরও শক্তিশালী করে। তা ছাড়া যে-সমস্ত সুরা ও আয়াত এখনো মুখস্থ করা হয়নি, বারবার পড়ার কারণে সেগুলোও স্মৃতিশক্তির কাছাকাছি এসে যাবে, ফলে পরবর্তী সময়ে সেই জায়গাগুলোর হিফজ করা অত্যন্ত সহজ হবে।
অধিক তিলাওয়াতের দ্বারা মুখস্থ সুরাগুলো 'স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি' থেকে 'দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি'-তে চলে আসে। 'স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি'-এর বৈশিষ্ট্য হলো, কোনো বিষয় তাতে দ্রুত মুখস্থ হয়, কিন্তু তার মেয়াদকাল হয় সংক্ষিপ্ত...। আর 'দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি' লম্বা সময় ব্যয় করে তথ্যসমূহ ধারণ করলেও সেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে হেফাজত করতে পারে। আর মুখস্থ করার বিষয়াদিকে 'দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি'-তে প্রবেশ করানোর সর্বস্বীকৃত পদ্ধতি হলো, সেগুলোর 'তাকরার' বা বারংবার পাঠ। অতএব, অধিক তিলাওয়াত হিফজকে সুদৃঢ় করবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "এটি খুবই খারাপ কথা যে—তোমাদের কেউ বলবে, আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি; বরং তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে! সুতরাং, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকো; কেননা, তা মানুষের অন্তর থেকে পলায়নপর উটের চেয়েও অধিক বিস্মৃতিময়।” (৪০)
ইবনু উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কুরআনের অধিকারী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হচ্ছে উট বেঁধে রাখা ব্যক্তির মতো-যদি সে উটটি বেঁধে রাখে, তবে সেটি তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আর যদি সে তার বাঁধন খুলে দেয়, তবে তা পালিয়ে যাবে।” (৪১)
ইবনু উমর রা. থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরও বাণী বর্ণিত রয়েছে, “কুরআনের অধিকারী ব্যক্তি যদি দিন-রাত কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত করে, তাহলে তা স্মরণ রাখতে পারবে, অন্যথায় তা ভুলে যাবে।” (৪২)
তিলাওয়াত শ্রবণও অনেকটা তিলাওয়াত করার মতোই। কারণ, কুরআনের বারংবার শ্রবণ আয়াতগুলোকে 'দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি'-তে প্রবেশ করাতে সাহায্য করে। অতএব প্রিয় ভাই, গাড়ি, বাস, বা ট্যাক্সিতে সাথে থাকা অডিও ডিভাইসের মাধ্যমে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে থাকুন। তা ছাড়া এটি একধরনের দাওয়াত বলেও গণ্য হবে, বিধায় যতগুলো কানে এই আয়াত পৌঁছবে, সেই সওয়াবও আপনি প্রাপ্ত হবেন...। (৪৩)
অতএব, সম্ভব হলে আপনার সাথে হিফজকৃত অংশের অডিও রাখুন, এতে অধিক কুরআন শ্রবণকরত আপনার হিফজকে আপনি শক্তিশালী করে তুলতে পারবেন। পাশাপাশি, রেডিওতে প্রচারিত কুরআন শোনার প্রতিও আমি জোর সমর্থন জানিয়ে বলছি, আপনার চ্যানেলটি আপনি কুরআন তিলাওয়াতের কোনো চ্যানেলেই রাখুন, নিশ্চয় এতে অনেক বরকত ও কল্যাণ রয়েছে...।৪৪
হিফজ মজবুতকরণে শ্রবণের গুরুত্ব বুঝতে নিম্নোক্ত হাদিসটির প্রতি লক্ষ করুন, এতে এর ভূমিকার প্রতি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে—কেননা এটি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়েছে! যেমন হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে রাতে কুরআন পড়তে শুনে বললেন, আল্লাহ তার প্রতি রহমত করুন। কারণ, সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত মনে করিয়ে দিয়েছে, যাতে আমার বিস্মৃতি এসে গিয়েছিল।”(৪৫)
টিকাঃ
৪০. সহিহ বুখারি: ৫০৩২, সহিহ মুসলিম: ৭৯০।
৪১. সহিহ বুখারি: ৫০৩১, সহিহ মুসলিম: ৭৮৯।
৪২. সহিহ মুসলিম: ৭৮৯।
৪৩. তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রতি দৃষ্টি রাখা বাঞ্ছনীয়। যে-স্থলে তা বিরক্তির কারণ হতে পারে, সেখানে উচ্চ আওয়াজে কুরআন তিলাওয়াত উচিত নয়। (সম্পাদক)
৪৪. উল্লেখ্য, লেখকের দেশ মিশরে সার্বক্ষণিক কুরআন তিলাওয়াত শোনার জন্য ১৯৬৪খ্রি. থেকেই বিজ্ঞাপনহীন আলাদা রেডিও চ্যানেল রয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের এ দেশে এখন অবধি আমাদের সে রকম কোনো রেডিও চ্যানেল নেই। তবে উন্নত প্রযুক্তির বদৌলতে এখন আমরা সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্বের= যেকোনো দেশের কুরআন তিলাওয়াত সম্প্রচারমূলক রেডিও চ্যানেলগুলো সরাসরি শুনতে পারি। (সম্পাদক)
৪৫. সহিহ বুখারি: ৫০৩৮।
📄 হিফজকৃত অংশ দ্বারা সুন্নতসমূহের সাথে নামাজ আদায় করা
নামাজে কুরআন তিলাওয়াতও আপনার হিফজকে খুব শক্তিশালী করতে পারে। যেমন: প্রথমে সদ্য মুখস্থকৃত অংশটুকু পড়ুন, এরপর পূর্বে হিফজ করা অংশের তিলাওয়াত করুন। কেউ বলতে পারেন, আমি তো মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করি, তাই নিজে তিলাওয়াত করতে পারি না; বরং ইমামের তিলাওয়াত শুনি কেবল—অতএব, আমার জন্য এই আমল করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে আমি বলব, আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন...। আপনি যা করছেন, সকল মুসলিম থেকে আমরাও সেটাই কামনা করি—অর্থাৎ সবাই মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করুক। কেননা, এটা মোটেও যুক্তিসংগত কথা নয় যে—কেউ কুরআন হিফজ করতে গিয়ে তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মসজিদের জামাতে নামাজ পড়া ছেড়ে দেবে!
তবে এক্ষেত্রে একটি উত্তম সমাধান রয়েছে—এমন এক প্রকার নামাজ রয়েছে, আপনি যদি তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আদায় করেন, তবে তা আপনার হিফজ শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও খুব সহায়ক হবে, পাশাপাশি তার জন্য আপনার বিরাট আকারের সওয়াবও অর্জিত হবে—আর সেই সুযোগ হলো কিয়ামুল লাইল।
এই কিয়ামুল লাইলে আপনি যত খুশি তিলাওয়াতের সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি মধ্যরাতে মহান রবের সামনে দাঁড়িয়ে একান্তে ইবাদতে লিপ্ত হতে পারবেন...। বস্তুত কতই-না উত্তম আমল এটি! জান্নাতের পথে কতই-না সংক্ষিপ্ত রাস্তা এটি!!
ইচ্ছে করলে তখন আপনি বিস্মৃত অংশ ইয়াদ করার জন্য কুরআন তিলাওয়াতে রত হতে পারবেন, আবার চাইলে মুখস্থকৃত অংশগুলো ভালোভাবে রপ্ত করতে বারবার নামাজে দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতে পারবেন।
আপনি চাইলে এশার নামাজের পরপর কিয়ামুল লাইল আদায় করতে পারেন, আবার চাইলে মধ্যরাতে বা রাতের শেষ প্রহরেও তা পড়তে পারেন—আর এটাই [রাতের শেষ প্রহর] উত্তম।
মোটকথা, যখন আর যে পরিমাণ কিয়ামুল লাইলই হোক, সর্বাবস্থায় এটি এক মহৎ আমল এবং বিরাট প্রতিদানপ্রাপ্তির বিষয়! আল্লাহর কাছে নিবেদন, তিনি আমাদের এই মহা নিয়ামত দান করুন।
আয়েশা রা. [আব্দুল্লাহ বিন আবু কায়স রহ.-কে] বলেন, “তুমি কখনো কিয়ামুল লাইল ছেড়ো না। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তা পরিত্যাগ করতেন না। তিনি যদি অসুস্থ থাকতেন বা অলসতা বোধ করতেন, তবে তা বসে বসে আদায় করতেন।” (৪৬)
বিশেষত, কুরআন হিফজ করার পর কিয়ামুল লাইল ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন! মনোযোগ দিয়ে দেখুন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী উপদেশ দিচ্ছেন! আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ, তুমি অমুক ব্যক্তির মতো হয়ো না, যে একসময় কিয়ামুল লাইল আদায় করত, কিন্তু পরে তা ছেড়ে দিয়েছে...।” (৪৭)
টিকাঃ
৪৬. সুনানে আবু দাউদ: ১৩০১।
৪৭. সহিহ বুখারি: ১১৫২।