📄 হিফজকৃত নিয়াবলীর ওপর আমল করা
স্বাভাবিকভাবেই তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ধ্বংস সে ব্যক্তির জন্য, যে ইলম শিখল, কিন্তু তদনুযায়ী আমল করল না!
হযরত আনাস বিন মালিক রা. বলেন, “কিছু কুরআন তিলাওয়াতকারীকে খোদ কুরআন অভিসম্পাত করতে থাকে।”(৩১)
কিন্তু কুরআন কেন তার তিলাওয়াতকারীকে অভিশাপ দেয়?! কারণ, সে কুরআন পড়ে, মুখস্থ করে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে সে অনুযায়ী আমল করে না।
সে সুদের আয়াতগুলো পড়ে ও মুখস্থ করে এবং সে জানে যে সুদের লেনদেনকারী ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে—কিন্তু তারপরও সে সুদের কারবার করে! সে পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের আয়াত পাঠ করে ও মুখস্থ করে, তাদের মর্যাদা ও তাদের কষ্ট দেওয়ার শাস্তির ব্যাপারে জানে—তারপরও সে পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়! বস্তুত এগুলোই তাকে অভিশাপের উপযুক্ত বানায়...। আমরা আল্লাহর নিকট এসব থেকে আশ্রয় কামনা করছি।
কুরআনের সাথে আমাদের আচরণ কেমন হবে, সাইয়িদুনা উমর রা. সে ব্যাপারে দারুণ পথ বাতলে দিয়েছেন। তার জীবন থেকে জানা যায়, তিনি যখনই নতুন কিছু মুখস্থ করতেন, সে অনুযায়ী আমল করতেন; এরপর অন্য কিছু মুখস্থের উদ্যোগ নিতেন। কেননা, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কুরআন এমন কোনো গ্রন্থ নয়, যা কেবল মুখস্থ করা বা বরকত লাভের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে; বরং কুরআন مسلمانوں জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, সামাজিক জীবনের ছোট-বড় সকলকিছু পরিচালনার ক্ষেত্রেই এই গ্রন্থে দিকনির্দেশনা ও বিধিবিধান বিদ্যমান রয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَّبِّكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
"আপন রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হওয়া উত্তম বিষয়ের অনুসরণ করো তোমাদের উপর অতর্কিতে ও অজ্ঞাতসারে আজাব চলে আসার পূর্বেই।” [সুরা যুমার: ৫৫]
তিনি আরও বলেন:
وَهَذَا كِتَبٌ أَنْزَلْنَهُ مُبْرَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
"এটি আমার অবতীর্ণ করা বরকতময় এক গ্রন্থ। অতএব, এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করে চলো—যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও।” [সুরা আনআম: ১৫৫]
এ জন্যই, যে ব্যক্তি এই কিতাব হিফজ করল, কিন্তু তাকে আমলে পরিণত করল না, প্রকৃতপক্ষে সে এই কিতাবের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং গুরুত্বই উপলব্ধি করতে পারল না।
সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা রহ. বলেন, “সবচেয়ে নির্বোধ সে, যে নিজের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে না; সবচেয়ে জ্ঞানী সে, যে জ্ঞানানুসারে আমল করে। আর লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।” (৩২)
বস্তুত এই বোধ ও মর্মোপলব্ধির ওপরই ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সাহাবা (রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাইন)।
আলি বিন আবু তালেব রা. বলেন, “হে ইলমের ধারকবাহকগণ, ইলম অনুযায়ী আমল করো! কেননা, আলেম হলো সেই ব্যক্তি, যে তার ইলম অনুসারে আমল করে এবং তার ইলম তার আমলকে স্বীকৃতি দেয়। অচিরেই ইলমের ধারক এমন একদল লোকের আবির্ভাব ঘটবে, ইলম যাদের কণ্ঠনালিও অতিক্রম করবে না। তাদের আমলকে তাদের ইলম স্বীকৃতি দেবে না, তাদের গোপন আচরণ বাহ্যিক আচরণের বিপরীত হবে, তারা কোনো মজলিসে বসলে গর্ব-অহংকারে লিপ্ত হবে—এমনকি তাদের কোনো সঙ্গী যদি তাদের ছেড়ে অন্য কারও সাথে উঠবস করে, তবে তার প্রতি তারা ক্রোধান্বিত হয়ে উঠবে...। এরা সেই দল, যাদের সে-সব মজলিসের আমল আল্লাহ তাআলা পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না।”(৩৩)
ইয়ামামার যুদ্ধে হজরত আম্মার বিন ইয়াসির রা.-ও এই রীতি অবলম্বন করেছিলেন। তিনি যখন হাফেজ মুসলিম মুজাহিদদের সাহস দিতে চাইতেন, তখন দাঁড়িয়ে বলতেন, “হে কুরআনের অধিকারীগণ, কুরআনকে হাতল [আমল] দ্বারা সজ্জিত করো।”(৩৪)
বুঝা গেল, কুরআন হিফজ করাই মূল লক্ষ্য নয়; বরং হিফজের সাথে অবশ্যই আমলের অনুসারী হতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, হিফজকৃত অংশের ওপর আমল করা হলে তা নতুন অংশের হিফজ করা সহজ করে তুলবে। যেমন প্রবাদ রয়েছে, যে ব্যক্তি জ্ঞাত ইলম অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে অজানা বিষয়ের জ্ঞান প্রদান করেন।
অতএব, হিফজকৃত অংশের ওপর আমল মূলত কুরআনের নতুন অংশ হিফজ করার পথে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
টিকাঃ
*. ইহইয়াউ উলুমিদ্বীন: ৩২৪।
*২. সুনানে দারেনি: ৩৪২।
৩৩. সুনানে দারেমি: ৩৯৪।
৩৪. আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ৬/৩৬৭; [দারুল ইহয়ায়িত তুরাছিল আরাবি, প্রথম সংস্করণ- সূত্র: মাকতাবায়ে শামেলা]
📄 গোনাহ পরিত্যাগ করা
যে হৃদয় গোনাহর নেশায় আসক্ত, সে হৃদয়ও কি কুরআন ধারণ করতে পারে!! বস্তুত, বান্দা যত গোনাহে লিপ্ত হয়, তার হৃদয় তত কলুষিত হয়, আর তা যত বেশি কলুষিত হয়, এই পবিত্র কিতাব ধারণের ওপর তত বেশি শক্তি হারাতে থাকে...।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বান্দা যখন একটি গোনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর যখন সে গোনাহর কাজ পরিহার করে তওবার সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তার অন্তর তখন পরিষ্কার ও দাগমুক্ত হয়ে যায়। পক্ষান্তরে সে আবার পাপ করলে তার অন্তরে দাগ বৃদ্ধি পেতে থাকে আর এভাবে তার পুরো অন্তর কালো দাগে ঢেকে যায়। এটাই সেই মরিচা, যা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে,
'কখনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের মনে জং (মরিচা) ধরিয়েছে।[সুরা মুতাফফিফিন: ১৪]
এ ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল স্পষ্ট গোনাহই নয়, বরং আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্দেহ-সংশয়জনক গোনাহ থেকেও বেঁচে থাকতে আদেশ করেছেন। যেমন নুমান বিন বশির রা. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ-দুরের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়, যার জ্ঞান অনেক মানুষেরই নেই। যে ব্যক্তি সে-সব সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়বে, তার উদাহরণ সেই রাখালের ন্যায়, যে তার গবাদি পশু বাদশাহর সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে চরায়-বিধায় পশুগুলো সেখানে ঢুকে পড়ার সমূহ আশঙ্কা থাকে। জেনে রেখো, প্রত্যেক বাদশাহরই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে; আর আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হচ্ছে তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। আরও জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন সুস্থ-সুষ্ঠু হয়ে যায়, পুরো শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর সেটা যখন নষ্ট হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন অসুস্থ-অসুস্থ হয়ে পড়ে-আর সে গোশতের টুকরোটি হলো 'কলব' (অন্তর)।” (৩৬)
এই বোধ ইমাম শাফিয়ি রহ. পেয়েছিলেন তাঁর শায়খ ইমাম ওয়াকি রহ.-এর প্রায়োগিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে। ইমাম শাফিয়ি রহ.-এর আশ্চর্যজনক ধী-শক্তির খ্যাতি ছিল, কোনোকিছু কেবল একবার দেখেই তিনি মুখস্থ করে ফেলতে পারতেন। কিন্তু একদিন তিনি লক্ষ করলেন, তার মেধা স্বভাবসুলভ কাজ করছে না। তখন তিনি তার শায়খ ওয়াকি রহ.-এর নিকট গিয়ে স্মরণশক্তির বিভ্রাটের কথা জানালেন। উত্তরে তিনি বললেন, আমার মনে হয় এটা তোমার কোনো গোনাহর কারণে হচ্ছে। তখন শাফিয়ি রহ.-এর ভাবতে ভাবতে মনে পড়ল, একবার বাতাসের কারণে এক মহিলার পায়ের গোড়ালির কাপড় উঠে যায় আর সেখানে তাঁর নজর পড়ে। তখন তিনি বুঝতে পারলেন, এ-ই সেই গোনাহ, যা তার স্মরণশক্তিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। তখন তিনি জ্ঞান-প্রজ্ঞায় ভরপুর অপূর্ব সেই পঙক্তি-চতুষ্টয় রচনা করেন। তিনি বলেন,
شَكُوتُ إِلى وكيع سوء حفظى فَأَرْشَدَنِي إِلَى تَركِ المعاصي
وقال : إِنَّ العِلم نور ونورُ اللهِ لا يُهدى لعاصى
"স্মরণবিভ্রাটের অভিযোগে এলাম ওয়াকির নিকট, গোনাহ ত্যাগের নসিহতে করলেন পথনির্দেশ...। শুধালেন, ইলম যে এক আলোক, রবের সেই আলোক অর্জিত হয় না কোনো পাপিষ্ঠের।
সুবহানাল্লাহ! এই গোনাহই যখন ইমাম শাফিয়ির স্মরণশক্তিতে গোলযোগ তৈরি করেছিল, তাহলে এবার আমরা আশা করি বুঝতে পারব, কেন মাঝেমধ্যে কুরআন হিফজ আমাদের জন্য এতটা কঠিন হয়ে পড়ে!!
আবু উবাইদ রহ. শ্রেষ্ঠতম তাবিয়ি দাহহাক বিন মুযাহিম রহ.-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ আশ্চর্যজনক এক বাণী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি কুরআন শিখে ভুলে যায়, সেটা কেবল তার গোনাহর কারণেই হয়ে থাকে...। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ )
'তোমাদের উপর যে-সব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল।' [সুরা শুরা: ৩০]
আর আল্লাহর কুরআন ভুলে যাওয়া তো বড়সড় বিপদগুলোর অন্তর্ভুক্ত! (৩৭)
টিকাঃ
**. জামে তিরমিযি: ৩৩৩৪।
**. সহিহ বুখারি: ৫২, সহিহ মুসলিম: ১৫৯৯।
৩৭. শুয়াবুল ঈমান: ১৮১৩।
📄 দোয়া
যে মাধ্যমটি কখনো নিরাশার সম্মুখীন হয় না, তা হলো নিষ্ঠা ও সততার সাথে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করা। আর আমিও আল্লাহ পাকের নিকট দোয়া করি, তিনি আপনাকে কুরআনুল কারিম হিফজ করার নিয়ামত দান করুন, আপনার নিয়ত তার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করে দিন এবং কুরআন অনুযায়ী আমল করা আপনার জন্য সহজ করুন।
প্রিয় ভাই, দোয়ার জন্য আপনি নিজে কিছু সময় নির্বাচন করে নিন। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সময়গুলোতে দোয়া করার নির্দেশনা দিয়েছেন...। যেমন: রাতের শেষ প্রহরে, নামাজের শেষে, রমজানের শেষ দশকে—বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোতে, বৃষ্টি চলাকালীন বা সফরে থাকা অবস্থায় ইত্যাদি।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি, হিফজুল কুরআনের জন্য বিশেষ কোনো দোয়া বা নির্দিষ্ট কোনো নামাজ নেই। নির্দিষ্ট দোয়া বা নামাজের যে-সব কথা প্রচলিত রয়েছে, সেগুলো সব ভিত্তিহীন। আপনার মনে যে দোয়া আসে, তা দিয়েই আল্লাহকে ডাকুন—যে ভাষা বা শব্দ আসে, তা-ই বলতে থাকুন। আল্লাহর নিকট দোয়া করি, তিনি আপনার ডাকে সাড়া দিন।
📄 মর্ম বুঝে হিফজ করা
যে ব্যক্তি হিফজকৃত আয়াতসমূহের মর্ম বুঝতে পারবে, নিঃসন্দেহে তার জন্য হিফজ করা অত্যন্ত সহজ হবে। বিশেষত সে-সব সুরা, যেগুলোতে নানান ঘটনা বর্ণিত হয়েছে অথবা যে-সব আয়াতের প্রসিদ্ধ শানে নুজুল (পটভূমি) রয়েছে। তেমনইভাবে যে-সব আয়াত ফিকহি বিধান সংবলিত, যেমন: অজু, কসম বা জিহারের কাফফারা, রোজা, ভুলক্রমে হত্যার রক্তপণ ইত্যাদি, যেগুলোর হিফজও সহজ হবে বলে আশা করি।
যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ কুরআন হিফজ করতে চায়, তার জন্য উচিত হচ্ছে সহজ কোনো তাফসিরগ্রন্থের সহায়তা নেওয়া। তাহলে অল্প সময়ে ও সংক্ষেপে অর্থের মর্ম বুঝতে সুবিধা হবে। উদাহরণস্বরূপ যে গ্রন্থগুলো সহায়ক হতে পারে:
১. মুখতাসারু ইবনে কাসির
২. মুখতাসারুত তাবারি
৩. তাফসিরুস সাদি (تفسير السعدي)
৪. তাফসিরু মুহাম্মদ ফরিদ ওয়াজদি
৫. তাফসিরুল জালালাইন, ইত্যাদি।
তবে কোনো আয়াত বা সুরার বিস্তারিত তাফসির জানতে চাইলে প্রসিদ্ধ পূর্ণাঙ্গ তফসির গ্রন্থগুলোর শরণাপন্ন হতে হবে। যেমন:
১. তাফসিরে ইবনে কাসির
২. তাফসিরে কুরতুবি
৩. ফি যিলালিল কুরআন
৪. আল-আসাস ফিত-তাফসির, ইত্যাদি। (৩৮)
আমি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, এই মহান গ্রন্থই আমাদের জীবনের একমাত্র সংবিধান। অতএব, যে ব্যক্তি তা অনুযায়ী আমল করতে চায়, তার জন্য আয়াতসমূহের সঠিক ও শাশ্বত ব্যাখ্যা জানা আবশ্যক। বস্তুত, মর্মসহ একটি আয়াত হিফজ করাও মর্ম না বুঝে দশটি আয়াত হিফজের চেয়ে উত্তম।
টিকাঃ
** . উল্লিখিত গ্রন্থগুলোর সব বাংলা ভাষায় অনূদিত নেই, তাই কুরআনের অর্থ ও সংক্ষিপ্ত-বিস্তারিত তাফসিরের জন্য এই গ্রন্থগুলো দেখা যেতে পারে, যথা: 'তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন' 'তাফসীরে মা'আরেফুল-কোরআন' 'তাফসীরে ইবনে কাছীর' ইত্যাদি। (সম্পাদক)