📄 ইসলামে হাফেজে কুরআনের মর্যাদা
পূর্বে উল্লেখিত আলোচনাসমূহের মাধ্যমে এটি প্রতিভাত হয়, ইসলামে কুরআন মুখস্থকারী হাফেজদের রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা, আর তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ কিয়ামত অবধি....
ইমাম মুসলিম রহ. বর্ণনা করেন, নাফে বিন আবদুল হারেস রা. উসফান নামক স্থানে উমর রা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। উমর রা. তাকে মক্কার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অঞ্চলের ভার কাকে দিয়ে এসেছেন? তিনি বললেন, ইবনু আবযাকে। উমর রা. জিজ্ঞেস করলেন, এই ইবনু আবযা কে? তিনি (নাফে) বললেন, আমাদের একজন 'মাওলা' (১১)। উমর রা. বললেন, আপনি একজন 'মাওলা'-কে তাদের দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন?! নাফে বললেন, সে কুরআন পাঠে প্রাজ্ঞ আর ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) শাস্ত্রেও অভিজ্ঞ। তখন উমর রা. বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা এ কিতাবের মাধ্যমে অনেক জাতির মর্যাদা উন্নত করেন আর অনেক জাতিকে অবনত করেন। (১২)
জাবের বিন আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের শহিদদের দুজন দুজন করে এক কাফনে রেখে এক কবরে দাফন করছিলেন; তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, উভয়ের মাঝে কুরআন কে অধিক জানত? তখন যার দিকে ইঙ্গিত করা হতো, তাঁকে আগে কবরে রাখা হতো।” (১৩)
আবু মুসা আশআরি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "বয়স্ক মুসলিম, অতিরঞ্জন ও অবহেলা না-করা কুরআনের ধারকবাহক এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশাহকে সম্মান করা মূলত আল্লাহ তাআলাকে সম্মান করারই অন্তর্ভুক্ত।” (১৪)
টিকাঃ
১১ ". 'মাওলা' শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে। যেমন আজাদকৃত গোলামকে তার মনিবের দিকে সম্বন্ধ করে অমুকের মাওলা বলা হয়। আবার হালিফকেও মাওলা বলা হয়—হালিফ হচ্ছে, যে দুর্বল ব্যক্তি বা গোত্র কোনো শক্তিশালী, ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা গোত্রের সহযোগিতাপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে শর্তের ভিত্তিতে সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ হয়। তখন তাদের সেই শক্তিশালী ব্যক্তি বা গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করে পরিচয় প্রদান করা হয়, যেমন কুরাইশ গোত্রের মাওলা/হালিফ।
এখানে উমর রা.-এর বিস্ময় প্রকাশের কারণ হলো, মক্কায় সম্ভ্রান্ত কুরাইশরা রয়েছে, কিন্তু তুলনামূলক নিম্নশ্রেণির একজনকে তাদের কর্তৃত্ব দিয়ে আসা হয়েছে। (সম্পাদক)
১২. সহিহ মুসলিম: ৮১৭।
১৩ সহিহ বুখারি: ১৩৪৩।
১৪ **. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮১০।
📄 শেষ কথা
প্রিয় ভাই, পুস্তিকাটি সমাপ্ত হওয়ার পথে আপনার নিকট আমি তিনটি নিবেদন জানাতে চাই—
১. আজ থেকেই হিফজ শুরু করে দিন, কালকের আশায় বসে থাকবেন না। ‘অচিরেই শুরু করব’ বাক্যটি যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে!
২. এই বইটির বিষয়বস্তুর প্রচারে অংশ নিন。
হযরত আবু মাসউদ আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সৎকাজের পথ দেখায়, আমলকারীর মতো তার আমলনামায়ও প্রতিদান যোগ হয়।” (৫৮)
৩. আল্লাহ আপনাকে হিফজের তওফিক দিলে আপনার দোয়ায় আমাকে ভুলবেন না যেন...! কারণ, আমার জন্য দোয়া করার ফলে আপনি নিজেও অনুরূপ বস্তু প্রাপ্ত হবেন...। যেমন আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে লোক তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করে, তার উপর নিয়োজিত ফেরেশতা ‘আমিন’ বলতে থাকে আর বলে—তোমার জন্যেও অনুরূপ হোক...।” (৫৯)
মহান রবের দরবারে আকুতি জানাই, তিনি আমার, আপনার এবং সকল মুসলমানের ভুলত্রুটি মার্জনা করুন! কুরআনুল কারিমকে আমাদের বিপক্ষ না বানিয়ে স্বপক্ষ বানিয়ে দিন! আমাদের তিনি তাঁর সন্তুষ্টিজনক পন্থায় দিবানিশি কুরআন তিলাওয়াতের তওফিক দিন! আর কিয়ামত দিবসে তিনি কুরআনকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী এবং জান্নাতের পথনির্দেশক হিসেবে নির্বাচন করুন!
فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ
“আমি তোমাদের যা বলছি, অচিরেই তোমরা তা স্মরণ করবে। আর আমি আমার সকল বিষয় আল্লাহর কাছেই ন্যস্ত করছি, নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের দেখেন।” [সুরা মুমিন: ৪৪]
-ড. রাগিব সারজানি
টিকাঃ
৫৮. সহিহ মুসলিম: ১৮৯৩。
৫৯. সহিহ মুসলিম: ২৭৩২।