📘 কোরআন হাদিসের মানদণ্ডে সুফিবাদ 📄 ২১) সূফীদের যাহেরী ও বাতেনী

📄 ২১) সূফীদের যাহেরী ও বাতেনী


সুফীরা দ্বীনকে যাহেরী ও বাতেনী এই দুটি স্তরে ভাগ করে থাকে। শরীয়তকে তারা যাহেরী স্তর হিসেবে বিশ্বাস করে, যা সকলের জন্য মান্য করা জরুরী। বাতেনী স্তর পর্যন্ত শুধু নির্বাচিত ব্যক্তিরাই পৌঁছতে পারে। ইসলামী শরীয়তে যাহেরী ও বাতেনী বলতে কিছু নেই। কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে যা আছে, তাই ইসলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ (عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الخُلْفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِدِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَة) আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা সে সময় আমার সুন্নাত এবং খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তোমরা দ্বীনের মাঝে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবে, কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতের পরিণাম গোমরাহী বা ভ্রষ্টতা। (আবু ডাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সুন্নাহ, তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইল্ম। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীছটি হাসান সহীহ। মুসনাদে আহমাদ, ৪/১২৬, মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়া ১০/৩৫৪)

📘 কোরআন হাদিসের মানদণ্ডে সুফিবাদ 📄 ২২) শায়েখ বা পীরের আনুগত্য

📄 ২২) শায়েখ বা পীরের আনুগত্য


সুফীবাদের কথা হচ্ছে, চোখ বন্ধ করে এবং বিনা শর্তে সুফী তরীকার পীর বা শায়েখের আনুগত্য করতে হবে এবং মুরীদদেরকে তাদের সামনে পাপ করে থাকলে তা স্বীকার করতে হবে। ভক্তরা পীরের হাতে সেরকম আটকা থাকবে যেমন গোসল দাতার হাতে মৃতব্যক্তি।

📘 কোরআন হাদিসের মানদণ্ডে সুফিবাদ 📄 ২৩) পীরের আত্মার সাথে মুরীদদের আত্মার সম্পর্ক তৈরী করা

📄 ২৩) পীরের আত্মার সাথে মুরীদদের আত্মার সম্পর্ক তৈরী করা


সুফীদের কথা হচ্ছে শত শত বই-পুস্তক পাঠ করে কোন মুমিন সঠিক পথে চলতে পারবে না। পীর বা শায়েখের অন্তরের সাথে মুরীদের অন্তর যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দ্বীনি ইলম ও আমলে পরিপক্ক হওয়া যাবে না।

📘 কোরআন হাদিসের মানদণ্ডে সুফিবাদ 📄 ২৪) ইলমে লাদুন্নী নামে কল্পিত এক বিশ্বাস

📄 ২৪) ইলমে লাদুন্নী নামে কল্পিত এক বিশ্বাস


সুফীরা বেশী বেশী ইলমে লাদুন্নীর কথা বলে থাকে। ইলমে লাদুন্নী বলতে তারা বুঝাতে চায় যে, এটি এমন একটি ইলম যা আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষভাবে সুফীরা পেয়ে থাকে। সাধনা ও চেষ্টার মাধ্যমে এটি অর্জন করা যায় না। তাদের কল্পিত কথা হচ্ছে অলী-আওলীয়ারা আল্লাহর পক্ষ হতে ইলমে লাদুন্নী অর্জন করে থাকে। তাদের বানোয়াট কথার মধ্যে এটিও একটি বানোয়াট ও কল্পিত কথা এবং আল্লাহর নামে চরম মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। এই উম্মতের প্রথম কাতারের সৎ লোক তথা সাহাবীদের মাঝে এ ধরণের কথা শুনা যায় নি। তারা ঈমান, আমল ও তাকওয়ায় এত বেশী অগ্রগামী ছিলেন যে, আল্লাহ্ তাআলা তাদের প্রশংসায় কুরআনে একাধিক আয়াত নাযিল করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের অনেককেই জান্নাতী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px