📄 ১৪) সূফীদের যিকির ও অযীফা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন মুসলিম ঘুম থেকে উঠে, ঘুমানোর সময়, ঘরে প্রবেশ কিংবা ঘর হতে বের হওয়ার সময় থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পঠিতব্য অসংখ্য যিকির-আযকার শিখিয়েছেন। কিন্তু সমস্ত সুফী তরীকার লোকেরা এ সমস্ত যিকির বাদ দিয়ে বিভিন্ন ধরণের বানোয়াট যিকির তৈরী করে নিয়েছে। নকশবন্দী তরীকার লোকেরা যিকরে মুফরাদ তথা শুধু (الله আল্লাহ) বলে যিকির করে। শাযেলী তরীকার لا إله إلا الله এবং অন্যান্য তরীকার লোকে শুধু هو هو (হু হু) বলে যিকির করে থাকে। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেন: এভাবে আওয়াজ করে বা আওয়াজবিহীন একক শব্দ দ্বারা যিকির করার কোন দলীল নেই; বরং এগুলো মানুষকে বিদআত ও গোমরাহীর দিকে নিয়ে যায়। (মাজমুআয়ে ফতোয়া: পৃষ্ঠা নং- ২২৯) আমাদের দেশের বিভিন্ন পীরদের মুরীদদেরকে যিকরে জলী ও যিকিরে খফী নামে বিভিন্ন ধরণের বিদআতী যিকির করতে দেখা যায়, যেগুলোর কোন শরঈ ভিত্তি নেই।
📄 ১৫) চুলে ও দাড়িতে ঝট বাঁধা
সুফীবাদের নামে কতিপয় লোকের মাথায় ও দাড়িতে ঝট বাঁধতে দেখা যায়, কারও শরীরে লোহার শিকল, কাউকে উলঙ্গ বা অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। এটি সাহাবী, তাবেয়ী বা তাদের পরবর্তী যুগের কোন আলেম বা সাধারণ সৎ লোকের নিদর্শন ছিল না। এমন কি আব্দুল কাদের জিলানী, শাইখ আহমাদ রেফায়ী এবং সুফীরা যাদেরকে সুফীবাদের প্রতিষ্ঠাতা বলে মনে করেন তাদের কেউ এ ধরণের লেবাস গ্রহণ করেন নি।
📄 ১৬) অলী-আওলীয়ার নামে শপথ
অলী-আওলীয়ার নামে শপথ করা সুফী তরীকার লোকদের একটি সাধারণ ব্যাপার। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেন: مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করল সে শির্ক করল। (আবু দাউদ)
📄 ১৭) হালাল-হারাম
যে সমস্ত সুফী ওয়াদাতুল উজুদে বিশ্বাসী তারা কোন কিছুকেই হারাম মনে করে না। মদ, জিনা-ব্যভিচারসহ সকল প্রকার কবীরা গুনাহতে লিপ্ত হওয়াই তাদের জন্য বৈধ।