📄 কবরবাসীরা শুনতে পারে মর্মে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন (২৫): এক তরুণ... মূর্ছা যান এবং আল্লাহর ভয়ে ইন্তেকাল করেন... ওমার ওই তরুণের কবরে যান এবং তাঁকে সম্ভাষণ জানিয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি নিজ রবের সম্মুখে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেন, তাঁর জন্য রয়েছে দু'টি জান্নাত।” ওই তরুণ নিজ কবর থেকে জবাব দেন, হে ওমার, নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে দু'টি জান্নাত দান করেছেন'।
উত্তর : হাদিসটি যঈফ (দুর্বল) হওয়ার কারণে দালিল হিসেবে অগ্রহণযোগ্য। হাদিসটিতে বর্ণিত 'ঘটনার' বর্ণনাকারী মাজহুল (অজ্ঞাত)।
প্রশ্ন (২৬) : আনাস থেকে বর্ণিত, নাবী বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয়... তখন সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়...। -বুখারী, হাদিস # ১৩৩৮।
উত্তর : আপনার ব্যাখ্যাটি ভুল। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, কোনোভাবেই কুরআন ও গ্রহণযোগ্য হাদিসের সাংঘর্ষিক ব্যাখ্যা করা যাবে না। কুরআন এবং হাদিসের সমন্বয় করতে হবে এভাবে যে, কবরস্থ ব্যক্তি তাকে দাফন করার পরের কিছু সময় শুধু জুতার শব্দ শুনতে পায়। এরপরে আর কিছুই শুনতে পায় না।
প্রশ্ন (২৭): বদর যুদ্ধে যে সকল কাফির নিহত হয়েছিলো তাদের উদ্দেশ্য করে রসূলুল্লহ্ ﷺ বলেছিলেন... ওমার বললেন, আপনি মৃত দেহগুলির সাথে কি কথা বলছেন? নাবী ﷺ বললেন, আমি যা বলছি তা তারা শুনছে... -বুখারী, হাদিস # ৩৯৭৬।
উত্তর: আপনার ব্যাখ্যাটি ভুল। এখানে আরবী শব্দ “সামি'আ” যার একটি অর্থ হলো বুঝতে পারা। মা আইশাহ্ রা. এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী নাবী ﷺ যা বলেছেন তার অর্থ হলো এখন তারা বুঝতে পারছে আমি তাদের যা বলেছিলাম তা সঠিক ছিল।
প্রশ্ন (২৮): আবু হুরইরহ্ বর্ণনা করেন... “যে আমার কবরের পাশে আমার উপর সালাত পেশ করে আমি তা শুনি...।
উত্তর : হাদিসটি যঈফ। কারণ সানাদে আব্দুর রহমান বিন আহমাদ আল আ'রজ মাজহুল।
📄 কাউকে রসূলের বান্দা বলা সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন (২৯): মহান আল্লাহ্ বলেন, ক্বুল ইয়া ইবাদিয়াল্লাযীনা আসরাফূ আলা আনফুসিহিম লা তাক্বনাথূ মির রহমাতিল্লাহি... “(হে নাবী) বলুন, হে আমার বান্দাগণ... তোমরা আল্লাহ্র রহমাত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ্ সকল গোনাহ্ মাফ করে দিবেন।"
উত্তর: এ ব্যাখ্যাটি মারাত্মক একটি ভুল ব্যাখ্যা। উভয় আয়াতের মাঝে সমন্বয় করতে হলে ধরে নিতে হবে “হে আমার বান্দারা” সম্বোধনটি মূলতঃ আল্লাহ্'র।
প্রশ্ন (৩০): ওমার মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- কুন্তূ মাআ রসূলাল্লাহি ﷺ ফাকুন্তূ আবদাহু ওয়া খাদিমাহু... "আমি রসূলুল্লহ্ এর সাথে ছিলাম, তখন আমি তাঁর বান্দা ও খাদেম ছিলাম...."।
উত্তর : হাদিসটির সানাদ যঈফ। কারণ সাঈদ বিন মুসায়েব ওমার এর যুগ পাননি।
📄 ঘুমের মধ্যে আল্লাহর সাথে কথা বলা সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন (৩১): ওবাদাহ্ বিন স্বমিত হতে বর্ণিত, রসূলুল্লহ্ বলেছেন, রু'ইয়াল মু'মিনু কালামুই ইউকাল্লিমু বিহিল আবদু রব্বাহু তাবারাকা ওয়া তা'য়ালা ফিল মানামি। “মু'মিন বান্দা ঘুমের মধ্যে তাঁর রবের সাথে কথা বলার মাধ্যমে তাঁকে দেখে।”
উত্তর : হাদিসটি যঈফ। কারণ সানাদে মাজহুল রাবী রয়েছেন এবং কারো কারো স্মৃতিশক্তি বিভ্রাট (ইখতিলাত) হয়েছিল। অতএব, এ হাদিসটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
📄 ওয়াসিলাহ্ সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন (৩২): মহান আল্লাহ্ বলেন, ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানুত ত্তাক্বুল্লাহি ওাবতাগূ ইলাইহিল ওয়াসিলাহ্... “হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ্'কে ভয় করো এবং তাঁর (আল্লাহ্'র) ওয়াসিলাহ্ অনুসন্ধান করো..."
উত্তর: এ ব্যাখাটি মনগড়া। ওয়াসিলাহ্ প্রধানত তিনভাবে ধরা যায়। ক) আল্লাহর নাম ও গুণের ওয়াসীলাহ্। খ) নেক আমলের ওয়াসীলাহ্। গ) দ্বীনদার ব্যক্তির দু'আর ওয়াসীলাহ্।
প্রশ্ন (৩৩): আমরা যখন কোনো মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর সাথে যদি দেখা করতে যাই তখন আমরা বিভিন্ন নেতা-নেত্রীকে মাধ্যম ধরি... এ জন্য পীর বা ওয়ালী-আওলিয়াদের ওয়াসীলাহ্ করে দু'আ করতে হবে।
উত্তর : সরাসরি আল্লাহ্'র কাছে দু'আ করলেই আল্লাহ্ আমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। এক ব্যক্তি একশত খুন করার পরও আল্লাহ্'র কাছে তাওবাহ্'র করার মাধ্যমে ক্ষমা পেয়েছেন।
প্রশ্ন (৩৪): ইবলিস কোনো পীর বা ওয়ালী-আওলিয়াদের ওয়াসিলাহ্ ছাড়া দু'আ করেছে... সুতরাং যারা পীর বা ওয়ালী-আওলিয়াদের ওয়াসিলাহ্ ছাড়া দু'আ করে তারা শয়তানের অনুসারী।
উত্তর : এ ব্যাখ্যাটি চরম বেয়াদবীমূলক ব্যাখ্যা। কারণ, বহু নাবী-রাসূলগণ সরাসরি আল্লাহ্' তায়ালার কাছে দু'আ করেছেন।
প্রশ্ন (৩৫): আদম (আঃ) মুহাম্মাদের (সাঃ) ওয়াসীলাহ্ নিয়ে মুক্তি পেয়েছেন... (হাকিম ৪১৫৯)।
উত্তর : এই হাদিসের একজন বর্ণনাকারী আবদুর রহমান বিন যাইদ বিন আসলামা যঈফ।
প্রশ্ন (৩৬): ওমার (রাঃ) অনাবৃষ্টির সময় আব্বাস এর ওয়াসিলাহ্ দিয়ে দু'আ করতেন (বুখারী ১০১০)।
উত্তর : ওমার যে বলেছেন, “নাবী কে ওয়াসিলাহ্ করে বৃষ্টির জন্য দু'আ করতেন” তা মূলতঃ রসূলুল্লহ্ এর দু'আর ওয়াসিলাহ্'কে বুঝিয়েছেন।