📄 কদমবুচি (পায়ে চুমু) দেয়া সম্পর্কে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন (১৮): "যারঈ যিনি আব্দুল কায়েসের প্রতিনিধি দলের একজন ছিলেন, তিনি বলেন, লাম্মা ক্বাদিমল মাদীনাতি ফাজআলনা নাতাবাদারু মিন রওয়াহিলিনা ফাতুক্বাব্বিলু ইয়াদা রসূলাল্লাহি ওয়া রিজলাহু। আমরা মাদিনায় এসে আমাদের বাহন হতে দ্রুত নেমে এসে রসূলুল্লহ এঁর হাতে ও পায়ে চুমু দিলাম।" -আবু দাউদ, হাদিস # ৫২২৫।
উত্তর: হাদিসটি যঈফ। কারণ সানাদের রাবী (বর্ণনাকারী) উম্মু আবান মাজহুল (অজ্ঞাত)। অতএব, হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রশ্ন (১৯): “স্বফওয়ান বিন আস্সাল থেকে বর্ণিত, আন্না ক্বওমাম মিনাল ইয়াহুদী ক্বাব্বালু ইয়াদান নাবীয়্যি ওয়া রিজলাইহি। একদল ইয়াহুদি নাবী এঁর হাতে এবং পায়ে চুমু দিয়েছিলো।” -তিরমিযী, হাদিস # ২৭৩৩।
উত্তর : হাদিসটি যঈফ। কারণ সকল সানাদে আব্দুল্লাহ্ বিন সালামাহ্ যঈফ (দুর্বল) রাবী (বর্ণনাকারী) রয়েছে।
প্রশ্ন (২০): বুরাইদা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, বেদুঈন বললো “তাহলে আমাকে আপনার হাত ও পা চুম্বন করার অনুমতি দিন” তিনি (রসূলুল্লহ্ ) তাঁকে অনুমতি দিলেন।" -আশ-শিফা (কাজী আয়াজ রহ.) পৃষ্ঠা নং-৪২১।
উত্তর : হাদিসটির সানাদ খুবই দুর্বল, বরং জাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।
প্রশ্ন (২১) : রসূলুল্লহ বলেন, মাই ক্বাব্বালা রিজলা উম্মিহি ফাকায়ান্নামা ক্বাব্বালা উতবাতাল জান্নাহ। যে ব্যক্তি তার মায়ের পা চুম্বন করল সে যেন জান্নাতের চৌকাঠে চুমু খেলো।” -আল-মাবসুত (ইমাম সারাখছি রহ.)।
উত্তর : আল মাবসুত কিতাবে এই হাদিসটি সানাদবিহীন ভাবে বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্ন (২২) : “সুহাইব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রআইতু আলীয়্যান ইউক্বাব্বিলু ইয়াদাল আব্বাসি ওয়া রিজলাইহি। আমি আলীকে দেখেছি আব্বাস এঁর হাতে ও পায়ে চুমু দিতে।” -আদাবুল মুফরদ (ইমাম বুখারী), হাদিস # ৯৯০।
উত্তর : এ হাদিসটি যঈফ। কারণ সানাদে আব্বাস এঁর গোলাম সুহাইব রয়েছে। তিনি মাজহুল।
📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া মৃত্যুবরণ করে না মর্মে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন (২৩): আনাস থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসূলুল্লহ্ বলেন, আল আম্বিয়াউ আহ্ইয়াউন ফী ক্বুবুরিহিম ইউসল্লূন। নাবীগণ কবরে জীবিত, তাঁরা (ক্ববরে) স্বলাত আদায় করেন। -মুসনাদে আবু ইয়ালা মাওসুলী, স্বহীহ, হাদিস # ৩৪২৫। এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, নবীগণ জীবিত অর্থাৎ আমাদের নাবী হায়াতুন্নাবী। আর নাবীগণ যেহেতু জীবিত, সেহেতু বুঝে নিতে হবে ওয়ালী-আওলিয়াগণও জীবিত।
উত্তর: আপনার ব্যাখ্যায় কিছুটা ভুল রয়েছে। নাবীগণকে হায়াতুন্নাবী বলা যাবে না। কারণ হায়াতুন্নাবী মানে জীবিত নাবী। আর জীবিত কথাটা শুধুমাত্র ইহকালীন জীবনের ক্ষেত্রে খাটে। এ কারণে রসূলুল্লহ্ “কবরে জীবিত” বলে ইহকালীন জীবন থেকে আলাদা করেছেন। তাই আমাদের বলা উচিত, হায়াতুন্নাবী ফিল বারযাখ বা নবীগণ কবরে জীবিত।
প্রশ্ন (২৪): মহান আল্লাহ বলেন, ওালা তাক্বুলু লিমাই ইউক্বতালু ফী সাবীলিল্লাহি আমওয়াতুন বাল আহ্ইয়াউন ওালাকিল লা তাশউরূন। “আল্লাহ্'র পথে যারা মারা যায় তোমরা তাঁদেরকে মৃত বলো না। বরং তাঁরা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারো না।” -সূরাহ বাক্বরহ্ (২), ১৫৪। এ আয়াতটি থেকে বুঝা যায়, পীর বা ওয়ালী-আওলীয়ারা মারা যায় না।
উত্তর : আপনার অনুবাদটি ভুল, আর সঠিক অনুবাদটি হবে “যাদেরকে আল্লাহ্'র পথে মারা হয় তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না” অর্থাৎ আল্লাহ্'র রাস্তায় মারা হয় মানে যারা শহীদ হন তাঁদের কথা বলা হয়েছে। সাধারণভাবে যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের কথা এ আয়াতে বলা হয়নি।
📄 কবরবাসীরা শুনতে পারে মর্মে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন (২৫): এক তরুণ... মূর্ছা যান এবং আল্লাহর ভয়ে ইন্তেকাল করেন... ওমার ওই তরুণের কবরে যান এবং তাঁকে সম্ভাষণ জানিয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি নিজ রবের সম্মুখে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেন, তাঁর জন্য রয়েছে দু'টি জান্নাত।” ওই তরুণ নিজ কবর থেকে জবাব দেন, হে ওমার, নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে দু'টি জান্নাত দান করেছেন'।
উত্তর : হাদিসটি যঈফ (দুর্বল) হওয়ার কারণে দালিল হিসেবে অগ্রহণযোগ্য। হাদিসটিতে বর্ণিত 'ঘটনার' বর্ণনাকারী মাজহুল (অজ্ঞাত)।
প্রশ্ন (২৬) : আনাস থেকে বর্ণিত, নাবী বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয়... তখন সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়...। -বুখারী, হাদিস # ১৩৩৮।
উত্তর : আপনার ব্যাখ্যাটি ভুল। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, কোনোভাবেই কুরআন ও গ্রহণযোগ্য হাদিসের সাংঘর্ষিক ব্যাখ্যা করা যাবে না। কুরআন এবং হাদিসের সমন্বয় করতে হবে এভাবে যে, কবরস্থ ব্যক্তি তাকে দাফন করার পরের কিছু সময় শুধু জুতার শব্দ শুনতে পায়। এরপরে আর কিছুই শুনতে পায় না।
প্রশ্ন (২৭): বদর যুদ্ধে যে সকল কাফির নিহত হয়েছিলো তাদের উদ্দেশ্য করে রসূলুল্লহ্ ﷺ বলেছিলেন... ওমার বললেন, আপনি মৃত দেহগুলির সাথে কি কথা বলছেন? নাবী ﷺ বললেন, আমি যা বলছি তা তারা শুনছে... -বুখারী, হাদিস # ৩৯৭৬।
উত্তর: আপনার ব্যাখ্যাটি ভুল। এখানে আরবী শব্দ “সামি'আ” যার একটি অর্থ হলো বুঝতে পারা। মা আইশাহ্ রা. এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী নাবী ﷺ যা বলেছেন তার অর্থ হলো এখন তারা বুঝতে পারছে আমি তাদের যা বলেছিলাম তা সঠিক ছিল।
প্রশ্ন (২৮): আবু হুরইরহ্ বর্ণনা করেন... “যে আমার কবরের পাশে আমার উপর সালাত পেশ করে আমি তা শুনি...।
উত্তর : হাদিসটি যঈফ। কারণ সানাদে আব্দুর রহমান বিন আহমাদ আল আ'রজ মাজহুল।
📄 কাউকে রসূলের বান্দা বলা সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন (২৯): মহান আল্লাহ্ বলেন, ক্বুল ইয়া ইবাদিয়াল্লাযীনা আসরাফূ আলা আনফুসিহিম লা তাক্বনাথূ মির রহমাতিল্লাহি... “(হে নাবী) বলুন, হে আমার বান্দাগণ... তোমরা আল্লাহ্র রহমাত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ্ সকল গোনাহ্ মাফ করে দিবেন।"
উত্তর: এ ব্যাখ্যাটি মারাত্মক একটি ভুল ব্যাখ্যা। উভয় আয়াতের মাঝে সমন্বয় করতে হলে ধরে নিতে হবে “হে আমার বান্দারা” সম্বোধনটি মূলতঃ আল্লাহ্'র।
প্রশ্ন (৩০): ওমার মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- কুন্তূ মাআ রসূলাল্লাহি ﷺ ফাকুন্তূ আবদাহু ওয়া খাদিমাহু... "আমি রসূলুল্লহ্ এর সাথে ছিলাম, তখন আমি তাঁর বান্দা ও খাদেম ছিলাম...."।
উত্তর : হাদিসটির সানাদ যঈফ। কারণ সাঈদ বিন মুসায়েব ওমার এর যুগ পাননি।