📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 কতিপয় পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া মুহাম্মাদ ﷺ এঁর শারী’আহ্ মানতে বাধ্য নয় সম্পর্কিত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 কতিপয় পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া মুহাম্মাদ ﷺ এঁর শারী’আহ্ মানতে বাধ্য নয় সম্পর্কিত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৫): মুসা এর সময় খিজির যেভাবে মুসা এঁর শারী'আহ্'র অনুসরণ করেননি। ঠিক তেমনিভাবে আধ্যাত্মিক পর্যায়ের উচ্চস্তরের পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা মুহাম্মাদ এঁর শারী'আহ্ থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন। অর্থাৎ পীর বা ওয়ালী আওলিয়ারা এই শারীয়াহ'র বিধানাবলী মানতে বাধ্য নন।

উত্তর : নাউযুবিল্লাহ্, আল্লাহ্ আমাদেরকে এই বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা থেকে রক্ষা করুন। মুসা সমগ্র মানবজাতির নাবী-রসূল ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন শুধুমাত্র বানী ইসরাঈল জাতির নাবী ও রসূল। যে কারণে খিজির মূসা এর শারী'আহ্'র অনুসরণে বাধ্য ছিলেন না। কিন্তু মুহাম্মাদ তো সমগ্র মানবজাতির নাবী-রসূল।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন, ক্বুল ইয়া আইয়ুহান নাসু ইন্নী রসুলাল্লাহি ইলাইকুম জামিআ... “বল; হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহ্'র রসূল..." -সূরাহ্ আ'রফ (৭), ১৫৮। এ কারনেই মুহাম্মাদুর রসূলুল্লহ্ এঁর শারী'আহ্ থেকে কেউ বেরিয়ে যেতে পারবেনা বা বেরিয়ে যাবার অধিকার রাখে না।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সাজদাহ্ সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সাজদাহ্ সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৬) : আল্লাহ্ মালাইকাহ্'দের (ফেরেশতাদের) দিয়ে আদাম কে সাজদাহ্ করিয়েছিলেন। ইউসুফ এর ভাইরা এবং তাঁর বাবা ইয়াকুব ইউসুফ কে সাজদাহ্ করেছিলেন। এ থেকে বুঝা যায় আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকেও সম্মানের সাজদাহ্ করা যায়।

উত্তর : আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সম্মানের সাজদাহ্ করা আগের নাবীদের শারী'আয় বৈধ ছিল। কিন্তু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লহ্ এর শারী'আতে আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সম্মানের সাজদাহ্ করা হারাম। একারণে রসূলুল্লহ্ বলেছেন। আনাস হতে বর্ণিত, রসূলুল্লহ্ বলেছেন, ... ওয়ালা ইউসলিহু লিব্যাশারিন আই ইয়াসজুদা লিব্যাশারিন ... "...কোনো মানুষ অন্য কোনো মানুষকে সাজদাহ্ করা বৈধ নয়..." -মুসনাদ আহমাদ, স্বহীহ্, হাদিস # ১২৫৫১।

এই হাদিসটি থেকে বুঝা যায়, মুহাম্মাদ এর উম্মাতের জন্য সম্মানের সাজদাহ্ বৈধ নয়। এ কারণে কোনো পীর, ওয়ালী-আওলিয়া বা মৃত ব্যক্তির কবরে সাজদাহ্ দেয়া হারাম।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াগণ নিজ ক্ষমতাবলে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করতে পারবে মর্মে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াগণ নিজ ক্ষমতাবলে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করতে পারবে মর্মে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৭): "আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লহ্ বলেছেন, ইন্না মিন উম্মাতি মাই ইয়াশফাউ লিল ফিয়ামি ওয়ামিনহুম মাই ইয়াশফাউ লিল ক্বাবীলাতি ওয়ামিনহুম মাই ইয়াশফাউ লিল উসবাতি ওয়ামিনহুম মাই ইয়াশফাউ লির রাজুলি হাত্তা ইয়াদখুলুল জান্নাহ। আমার উম্মাতের এমনও ব্যক্তি আছে যে বহু লোকের জন্য সুপারিশ করবে, এমনও ব্যক্তি আছে যে, কোন ক্ববিলার (একটি গোত্রের) জন্য সুপারিশ করবে। এমনও ব্যক্তি আছে যে কিছু সংখ্যক লোকের জন্য সুপারিশ করবে, এমনও ব্যক্তি আছে যে এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে। শেষ পর্যন্ত এই সুপারিশে তারা জান্নাতে দাখিল হবে। -তিরমিযী, অধ্যায়: ৩৫, কিয়ামতের বর্ণনা, অনুচ্ছেদ : ১২, হাদিস # ২৪৪০।

উপরোক্ত হাদিসে বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি চাইলে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করে মানুষকে জান্নাতে নিতে পারে। পীর বা ওয়ালী-আওলিয়াগণও মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে। এটাই হচ্ছে হাশরের ময়দানে আল্লাহর ওয়ালীদের ক্ষমতা।

উত্তর : উপরোক্ত হাদিসটি যঈফ। হাদিসটির একজন বর্ণনাকারী হচ্ছেন আতিয়া বিন সা'দ আওফী। যিনি মুদাল্লিস এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট দুর্বল বর্ণনাকারী (তাহযিবুল কামাল, রাবী # ৩৯৫৬)। অতএব, এ হাদিসটি দ্বারা পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা 'নিজ ক্ষমতায়' সুপারিশ করে কাউকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে মর্মে বিশ্বাসটি ভুল।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 কদমবুচি (পায়ে চুমু) দেয়া সম্পর্কে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 কদমবুচি (পায়ে চুমু) দেয়া সম্পর্কে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৮): "যারঈ যিনি আব্দুল কায়েসের প্রতিনিধি দলের একজন ছিলেন, তিনি বলেন, লাম্মা ক্বাদিমল মাদীনাতি ফাজআলনা নাতাবাদারু মিন রওয়াহিলিনা ফাতুক্বাব্বিলু ইয়াদা রসূলাল্লাহি ওয়া রিজলাহু। আমরা মাদিনায় এসে আমাদের বাহন হতে দ্রুত নেমে এসে রসূলুল্লহ এঁর হাতে ও পায়ে চুমু দিলাম।" -আবু দাউদ, হাদিস # ৫২২৫।

উত্তর: হাদিসটি যঈফ। কারণ সানাদের রাবী (বর্ণনাকারী) উম্মু আবান মাজহুল (অজ্ঞাত)। অতএব, হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশ্ন (১৯): “স্বফওয়ান বিন আস্সাল থেকে বর্ণিত, আন্না ক্বওমাম মিনাল ইয়াহুদী ক্বাব্বালু ইয়াদান নাবীয়্যি ওয়া রিজলাইহি। একদল ইয়াহুদি নাবী এঁর হাতে এবং পায়ে চুমু দিয়েছিলো।” -তিরমিযী, হাদিস # ২৭৩৩।

উত্তর : হাদিসটি যঈফ। কারণ সকল সানাদে আব্দুল্লাহ্ বিন সালামাহ্ যঈফ (দুর্বল) রাবী (বর্ণনাকারী) রয়েছে।

প্রশ্ন (২০): বুরাইদা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, বেদুঈন বললো “তাহলে আমাকে আপনার হাত ও পা চুম্বন করার অনুমতি দিন” তিনি (রসূলুল্লহ্ ) তাঁকে অনুমতি দিলেন।" -আশ-শিফা (কাজী আয়াজ রহ.) পৃষ্ঠা নং-৪২১।

উত্তর : হাদিসটির সানাদ খুবই দুর্বল, বরং জাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

প্রশ্ন (২১) : রসূলুল্লহ বলেন, মাই ক্বাব্বালা রিজলা উম্মিহি ফাকায়ান্নামা ক্বাব্বালা উতবাতাল জান্নাহ। যে ব্যক্তি তার মায়ের পা চুম্বন করল সে যেন জান্নাতের চৌকাঠে চুমু খেলো।” -আল-মাবসুত (ইমাম সারাখছি রহ.)।

উত্তর : আল মাবসুত কিতাবে এই হাদিসটি সানাদবিহীন ভাবে বর্ণিত হয়েছে।

প্রশ্ন (২২) : “সুহাইব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রআইতু আলীয়্যান ইউক্বাব্বিলু ইয়াদাল আব্বাসি ওয়া রিজলাইহি। আমি আলীকে দেখেছি আব্বাস এঁর হাতে ও পায়ে চুমু দিতে।” -আদাবুল মুফরদ (ইমাম বুখারী), হাদিস # ৯৯০।

উত্তর : এ হাদিসটি যঈফ। কারণ সানাদে আব্বাস এঁর গোলাম সুহাইব রয়েছে। তিনি মাজহুল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px