📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াদের আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে না সম্পর্কে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াদের আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে না সম্পর্কে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৪): মহান আল্লাহ বলেন, وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ “তোমার রবের ইবাদাত করতে থাকো যতক্ষণ না তোমাদের নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াকীন) আসে।” -সূরাহ হিজর (১৫), ৯৯

এ আয়াত বলছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলুল্লাহ্ এর প্রতি ইয়াকীন (নিশ্চিত বিশ্বাস) না আসা পর্যন্ত ইবাদাত করতে হবে। তার মানে বুঝা গেল, ইয়াকীন চলে আসলে আর ইবাদাত করা লাগবে না। আধ্যাত্মিকতার চূড়ান্ত মাকামে প্রবেশ করলে পীর-আওলিয়াদের ইয়াকীন অর্জিত হয়, বিধায় তাদের ইবাদাত করা লাগে না।

উত্তর : নাউযুবিল্লাহ! আল্লাহ আমাদের এমন উদ্ভট বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন তাফসীর থেকে রক্ষা করুন। মুহাম্মাদ এবং স্বহাবীগণের ইয়াকীন (নিশ্চিত বিশ্বাস) অবশ্যই ছিল তারপরও তাঁরা আল্লাহর ইবাদাত ছাড়লেন না কেন? তাঁরা কি আয়াতটি বুঝেননি? মূলতঃ এখানে আরবী শব্দ “ইয়াকীন” এর উদ্দেশ্য হচ্ছে 'মৃত্যু' (আল মু'জামুল ওয়াসীত)। ইয়াকীন শব্দটি রসূল ও মৃত্যু অর্থে ব্যবহার করেছেন। উসমান ইবনু মায'উন ইন্তিকাল করলে রসূলুল্লহ্ তাঁকে দেখতে গিয়ে বলেন, ... আম্মা হুয়া ফাক্বাদ জাআহুল ইয়াক্বীনু ওয়াল্লাহি ইন্নী লা আরজু লাহুল খইরা ... ...নিশ্চয়ই তাঁর ইয়াকীন (মৃত্যু) এসেছে এবং আল্লাহর কসম! আমি তার জন্য কল্যাণ কামনা করি...। -বুখারী, অধ্যায় : ২৩, জানাযা, অনুচ্ছেদ : ৩, কাফন পরানোর পর মৃত ব্যক্তির নিকট গমন করা, হাদিস # ১২৪৩

তাই আয়াতটির সঠিক অনুবাদ হবে, وَاعْبُدْ رَبُّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ “তোমার রবের ইবাদাত করতে থাকো যতক্ষণ না তোমাদের মৃত্যু (ইয়াকীন) আসে” -সূরাহ হিজর (১৫), ৯৯। আর এজন্যই আমাদের নাবী ও স্বহাবীগণ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদাত করে গেছেন।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 কতিপয় পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া মুহাম্মাদ ﷺ এঁর শারী’আহ্ মানতে বাধ্য নয় সম্পর্কিত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 কতিপয় পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া মুহাম্মাদ ﷺ এঁর শারী’আহ্ মানতে বাধ্য নয় সম্পর্কিত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৫): মুসা এর সময় খিজির যেভাবে মুসা এঁর শারী'আহ্'র অনুসরণ করেননি। ঠিক তেমনিভাবে আধ্যাত্মিক পর্যায়ের উচ্চস্তরের পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা মুহাম্মাদ এঁর শারী'আহ্ থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন। অর্থাৎ পীর বা ওয়ালী আওলিয়ারা এই শারীয়াহ'র বিধানাবলী মানতে বাধ্য নন।

উত্তর : নাউযুবিল্লাহ্, আল্লাহ্ আমাদেরকে এই বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা থেকে রক্ষা করুন। মুসা সমগ্র মানবজাতির নাবী-রসূল ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন শুধুমাত্র বানী ইসরাঈল জাতির নাবী ও রসূল। যে কারণে খিজির মূসা এর শারী'আহ্'র অনুসরণে বাধ্য ছিলেন না। কিন্তু মুহাম্মাদ তো সমগ্র মানবজাতির নাবী-রসূল।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন, ক্বুল ইয়া আইয়ুহান নাসু ইন্নী রসুলাল্লাহি ইলাইকুম জামিআ... “বল; হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহ্'র রসূল..." -সূরাহ্ আ'রফ (৭), ১৫৮। এ কারনেই মুহাম্মাদুর রসূলুল্লহ্ এঁর শারী'আহ্ থেকে কেউ বেরিয়ে যেতে পারবেনা বা বেরিয়ে যাবার অধিকার রাখে না।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সাজদাহ্ সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সাজদাহ্ সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৬) : আল্লাহ্ মালাইকাহ্'দের (ফেরেশতাদের) দিয়ে আদাম কে সাজদাহ্ করিয়েছিলেন। ইউসুফ এর ভাইরা এবং তাঁর বাবা ইয়াকুব ইউসুফ কে সাজদাহ্ করেছিলেন। এ থেকে বুঝা যায় আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকেও সম্মানের সাজদাহ্ করা যায়।

উত্তর : আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সম্মানের সাজদাহ্ করা আগের নাবীদের শারী'আয় বৈধ ছিল। কিন্তু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লহ্ এর শারী'আতে আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সম্মানের সাজদাহ্ করা হারাম। একারণে রসূলুল্লহ্ বলেছেন। আনাস হতে বর্ণিত, রসূলুল্লহ্ বলেছেন, ... ওয়ালা ইউসলিহু লিব্যাশারিন আই ইয়াসজুদা লিব্যাশারিন ... "...কোনো মানুষ অন্য কোনো মানুষকে সাজদাহ্ করা বৈধ নয়..." -মুসনাদ আহমাদ, স্বহীহ্, হাদিস # ১২৫৫১।

এই হাদিসটি থেকে বুঝা যায়, মুহাম্মাদ এর উম্মাতের জন্য সম্মানের সাজদাহ্ বৈধ নয়। এ কারণে কোনো পীর, ওয়ালী-আওলিয়া বা মৃত ব্যক্তির কবরে সাজদাহ্ দেয়া হারাম।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াগণ নিজ ক্ষমতাবলে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করতে পারবে মর্মে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াগণ নিজ ক্ষমতাবলে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করতে পারবে মর্মে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৭): "আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লহ্ বলেছেন, ইন্না মিন উম্মাতি মাই ইয়াশফাউ লিল ফিয়ামি ওয়ামিনহুম মাই ইয়াশফাউ লিল ক্বাবীলাতি ওয়ামিনহুম মাই ইয়াশফাউ লিল উসবাতি ওয়ামিনহুম মাই ইয়াশফাউ লির রাজুলি হাত্তা ইয়াদখুলুল জান্নাহ। আমার উম্মাতের এমনও ব্যক্তি আছে যে বহু লোকের জন্য সুপারিশ করবে, এমনও ব্যক্তি আছে যে, কোন ক্ববিলার (একটি গোত্রের) জন্য সুপারিশ করবে। এমনও ব্যক্তি আছে যে কিছু সংখ্যক লোকের জন্য সুপারিশ করবে, এমনও ব্যক্তি আছে যে এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে। শেষ পর্যন্ত এই সুপারিশে তারা জান্নাতে দাখিল হবে। -তিরমিযী, অধ্যায়: ৩৫, কিয়ামতের বর্ণনা, অনুচ্ছেদ : ১২, হাদিস # ২৪৪০।

উপরোক্ত হাদিসে বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি চাইলে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করে মানুষকে জান্নাতে নিতে পারে। পীর বা ওয়ালী-আওলিয়াগণও মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে। এটাই হচ্ছে হাশরের ময়দানে আল্লাহর ওয়ালীদের ক্ষমতা।

উত্তর : উপরোক্ত হাদিসটি যঈফ। হাদিসটির একজন বর্ণনাকারী হচ্ছেন আতিয়া বিন সা'দ আওফী। যিনি মুদাল্লিস এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিসের নিকট দুর্বল বর্ণনাকারী (তাহযিবুল কামাল, রাবী # ৩৯৫৬)। অতএব, এ হাদিসটি দ্বারা পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা 'নিজ ক্ষমতায়' সুপারিশ করে কাউকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে মর্মে বিশ্বাসটি ভুল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px