📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 কবরওয়ালাদের নিকট সাহায্যের জন্য যাওয়ার বিষয়ে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 কবরওয়ালাদের নিকট সাহায্যের জন্য যাওয়ার বিষয়ে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (৯): আবুল জাওযা' আউস ইবনে আব্দিল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ক্বুহিত দ্বা আহলুল মাদীনাতি ক্বাহতান শাদীদান ফাশাকাও ইলা আইশাহ্ ফাক্বালাতিন যুরূ ক্বাবরান নাবীয়ি ﷺ ফাজআলূ মিনহু কিওয়ান ইলাস সামায়ি হাত্তা লা ইয়াকুনা বাইনাহু ওয়া বাইনাস সামায়ি সাক্বফুন ক্বলা ফাফাআলূ ফামুতীরনা মাতারান হাত্তা নাবাতাল উশবুন ওয়া সামিনাতিল ইবলু হাত্তা তাফাত্তাক্বাত মিনা শাহমি ফাসুম্মিয়া আমাল ফাতক্বি। মাদীনাবাসীগণ একবার দূর্ভিক্ষের কবলে পড়েন। তাঁরা মা আয়েশা রাঃ এঁর কাছে এ (শোচনীয় অবস্থার) ব্যাপারে ফরিয়াদ করেন। তিনি তাঁদেরকে নাবী সাঃ এর রওযায় (কবরে) গিয়ে তার ছাদে একটি ছিদ্র করতে বললেন এবং রওযা পাক ও আকাশের মাঝে কোনো বাধা না রাখতে নির্দেশ দেন। তাঁরা তাই করেন। তারপর মুষলধারে বৃষ্টি নামে। এতে সর্বত্র সবুজ ঘাস জন্মায় এবং উট হৃষ্টপুষ্ট হয়ে মনে হয় যেন চর্বিতে ফেটে পড়বে। এই বছরটিকে 'প্রাচুর্যের বছর' বলা হয়। -সুনানু দারিমী, অধ্যায়ঃ মুক্বদ্দমা, অনুচ্ছেদঃ ১৫, নাবী সাঃ কে আল্লাহ মৃত্যুর পরও মর্যাদা দিয়েছেন, হাদীস # ৯২।

উত্তর: হাদিসটি ৩টি কারণে যঈফ হওয়ায় দালিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। ক) সানাদে আওসা বিন আবদুল্লাহ রয়েছেন। তিনি হাদিসটি মা আইশাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু মা আইশাহ এর সাথে তার সাক্ষাত হয়নি (তাহযিবুত তাহযিব, রাবী # ৭০২)। খ) সানাদে সাঈদ বিন যায়েদ রয়েছেন। তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করতেন। তাই ইবনে হিব্বান রহ. বলেন, সাঈদ বিন যায়েদ এর একক বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। আর এ হাদিসটি একক বর্ণনা (তাহযিবুত-তাহযিব, রাবী # ২৬৬০)। সুতরাং এই হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নয়। গ) আরেক বর্ণনাকারী আবু নু'মান মুহাম্মাদ বিন ফাযল এর ইখতিলাত হয়েছিল (তাহযিবুত-তাহযিব, রাবী # ৭২৮৯)। আর এই হাদিসটি তিনি ইখতিলাতের আগে বর্ণনা করেছেন নাকি পরে বর্ণনা করেছেন তা জানা যায় না, বিধায় হাদিসটি দালিলযোগ্য নয়।

প্রশ্ন (১০): আবু ইসহাক আল-কারশী বর্ণনা করেন, কা-না ইনদানা রাজুলুম বিল মাদীনাতি ইযা রআ মুনকারান লা ইউমকিনুহু আই ইউগয়্যিরাহু আতাল ক্বাবরা, ফাক্বলা : আয়া ক্বাবরান নাবীয়ি ওয়া সাহিবিহি - আলা ইয়া গাওসানা লাউ তা'লামুন। মদীনা মুনাও-ওয়ারায় আমাদের সাথে এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি যখন-ই এমন কোনো খারাপ কাজ সংঘটিত হতে দেখতেন যাকে তিনি বাধা দিতে অক্ষম, তৎক্ষণাৎ তিনি নবী এর কবরে যেতেন এবং আরয করতেন, 'হে কবরের অধিবাসীবৃন্দ (রসূলল্লহ্ এবং আবু বাকর ও ওমার) এবং আমাদের সাহায্যকারীমণ্ডলী! আমাদের অবস্থার দিকে কৃপাদৃষ্টি করুন।' -শু'আবুল ঈমান (ইমাম বায়হাক্বী), হাদীস # ৩৮৬৯

উত্তর: সানাদে আবু ইসহাক্ব আল-কারশী স্বহাবী না'কি তাবেঈ তা জানা যায় না। আর স্বহাবী না হলে কোন তাবেয়ীর কথা বা কর্ম দ্বারা শারীয়াহ'র বিধান সাব্যস্ত হয় না। তাই উল্লিখিত হাদিসটি আমাদের নিকট পালনীয় নয়।

প্রশ্ন (১১): আলী ইবনে মাইমুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইমাম শাফেয়ী রহ. কে বলতে শুনেছি, ইয়াকুলু : ইন্নি লা আতাবাররাকু বি আবি হানিফাতা ওয়া আজীউ ইলা ক্বাবরিহি ফী কুল্লি ইয়াওমিন ইয়ানি যাইরান, ফাইযা আরাদাত লী হাজাতুন সল্লাইতু রকআতাইন, ওয়া জীতু ইলা ক্বাবরিহি ওয়া সাআলতুল্লাহ তা'য়ালাল হাজাতা ইনদাহু, ফামা তাবউদু আন্নি হাত্তা তুক্বদ্বা। আমি ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মাধ্যমে বারাকাত লাভ করি। প্রত্যেক দিন তার কবরের নিকট যাই। যখন আমি কোন প্রয়োজনের সম্মুখীন হই, দু'রকা'আত স্বলাত আদায় করি এবং তার কবরের কাছে যাই এবং তার কবরের কাছে গিয়ে আল্লাহ্র কাছে দু'আ করি। অল্প সময়ে আমার প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়।” -তারিখে বাগদাদ, খণ্ড # ১, পৃষ্ঠা # ৪৪৫, দারুল গাব আল-ইসলামী, বৈরুত, লেবানন, প্রকাশকাল: ২০০১

উত্তর : উপরোক্ত বর্ণনাটি যঈফ (দুর্বল)। কারণ সানাদের ওমার বিন ইসহাক বিন ইব্রাহীম মাজহুল (অজ্ঞাত)। আর বর্ণনাটিকে অনেকেই জাল-বানোয়াট বলেছেন।

প্রশ্ন (১২): মালিক আদ্-দার বর্ণনা করেন, আসাবান নাসা ক্বাহতুন ফী যামানি ওমার, ফাজাআ রাজুলুন ইলা ক্বাবরিন নাবীয়্যি ﷺ ফাক্বলা : ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইস্তাসক্বি লি উম্মাতিকা ফাইন্নাহুম ক্বাদ হালাকূ ফা আতাল রাজুলা ফিল মানাম : ফাক্বিলা লাহু : ইতি ওমারা ফাক্বরিউহুস সালাম, ওয়া আখবিরহু আন্নাকুম মাসক্বিয়্যূনা, ওয়া ক্বুল লাহু : আলাইকাল কাইসু আলাইকাল কাইসু ফা আতি ওমারা, ফা আখবারাহু, ফাবাকা ওমারু সুম্মা ক্বলা : ইয়া রব্বি. লা আলূ ইল্লা মা আজাযতু আনহু। (খলীফাহ্) ওমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে মানুষেরা খরাপীড়িত হন। এমতাবস্থায় কেউ একজন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রওযায় (ক্ববরে) আসেন এবং আরয করেন, 'হে নবী, আপনার উম্মতের জন্যে (আল্লাহ্র দরবারে) বৃষ্টি প্রার্থনা করুন, কেননা নিশ্চয় তারা নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে।' অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রাতে ওই ব্যক্তির স্বপ্নে দেখা দেন এবং তাঁকে বলেন, 'ওমারের কাছে যাও এবং তাঁকে আমার সালাম জানাও। তারপর তাঁকে বলবে যে বৃষ্টি হবে। তাঁকে বলবে বিচক্ষণ হতে (শাসনে)'। ওই ব্যক্তি (খলীফাহ্) ওমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছ গিয়ে ঘটনা জানালেন। এতে (খলীফাহ্) ওমার রাদিয়াল্লাহু আনহু খুব কাঁদলেন এবং দু'আ করলেন, 'হে প্রভু! আমি চেষ্টার ত্রুটি করি না, শুধু যা আমার জ্ঞানের বাইরে, তা ছাড়া!” -মুস্বন্নাফে ইবনু আবি শাইবাহ, অধ্যায় : ৩০, কিতাবুল ফাযায়েল, অনুচ্ছেদ : ১৬, ওমার বিন খত্তব রা.-এর মর্যাদা, হাদিস # ৩২৬৬৫, দালাইলুন নাবুওয়াহ্ (ইমাম বায়হাক্বী), হাদিস # ৩০৩০, তারিখ ইবনু আবি খইসামাহ্, হাদিস # ৪৩২ (হাদিসটি মুস্বন্নাফে ইবনু আবি শাইবাহ্'র বর্ণনা)।

উত্তর : এই বর্ণনাটি একটি যঈফ (দুর্বল) বর্ণনা। কারণ সানাদে 'আ'মাশ মুদাল্লিস রাবী রয়েছেন (তাক্বরীবুত্ তাহযীব, রাবী # ২৬৩০)। তিনি 'আন' শব্দে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আর মুদাল্লিস রাবীর 'আন' দ্বারা বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশ্ন (১৩): আবু সাদেক রহ. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ক্বাদিমা আলাইনা আ'রাবিয়্যুন বা'দামা দফান্না রসূলাল্লাহি ﷺ বি সালাসাতি আইয়্যামিন ফারামা বিনফসিহি ইলা ক্বাবরিন নাবীয়ি ﷺ ওয়া হাসা আলা রইসিহি মিন তুরাবিহি ওয়া ক্বলা: ইয়া রসূলাল্লাহ ﷺ ক্বুলতা ফাসামিনা ক্বাওলাকা ওয়া আইনা আনিল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ফামা আইনা আনকা, ওয়া কানা ফীমা আনযালাল্লাহু আযযা ওয়া জাল্লা আলাইকা : ওয়াক্বাদ দ্বলামতু নাফসী ওয়া জিতুকা তাসতাগফিরু লী ফানূদী মিনাল ক্বাবরি আন্নাহু ক্বাদ গুফিরা লাকা। একজন আরব লোক রসূলল্লহ ﷺ এর দাফনের তিন দিন পর নিজেকে তাঁর কবরের উপর ফেলে দিয়ে তার ধুলো মাটি নিয়ে নিজের মাথায় ঢালছিল আর বলছিল: হে আল্লাহর রসূল ﷺ, আপনার বাণী শুনেছি, আমরা আপনার কাছে চাচ্ছি আর আপনি আল্লাহর কাছে চান। যে আয়াত আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, “যদি আমার কোন বান্দা নিজের উপর যুলুম অত্যাচার করে, তারা তোমার কাছে আসবে তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো আর আল্লাহ্ রব্বুল আলামিনও তাদের তাওবা কবুল করবেন”, আমি নিজের উপর যুলুম করেছি, এখন এসেছি যাতে আপনি আমার জন্য আল্লাহর দরবারে মাগফেরাত ও ক্ষমা কামনা করেন; অতঃপর নাবী ﷺ এর কবর থেকে আওয়াজ এলো যে, তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে। -তাফসীরে কুরতুবি, সূরাহ নিসার ৬৪ নং আয়াতের তাফসীর, আস্-সারিমুল মুনকি (মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল হাদি রহ.), পৃষ্ঠা-৩২১।

উত্তর: হাদিসটি জাল। কারণ হাদিসটির একজন বর্ণনাকারী হচ্ছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল হায়সামুত ত্বয়ী। তিনি বর্ণনা করেছেন তার পিতা মুহাম্মাদ থেকে, আর মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন তার পিতা থেকে যার নাম হায়সাম বিন আদী ত্বয়ী। আর এই ব্যক্তি মিথ্যুক (মীযানুল ঈ'তিদ্বাল, রাবী # ৯৩১৯)।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াদের আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে না সম্পর্কে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াদের আল্লাহর ইবাদাত করতে হবে না সম্পর্কে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৪): মহান আল্লাহ বলেন, وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ “তোমার রবের ইবাদাত করতে থাকো যতক্ষণ না তোমাদের নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াকীন) আসে।” -সূরাহ হিজর (১৫), ৯৯

এ আয়াত বলছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলুল্লাহ্ এর প্রতি ইয়াকীন (নিশ্চিত বিশ্বাস) না আসা পর্যন্ত ইবাদাত করতে হবে। তার মানে বুঝা গেল, ইয়াকীন চলে আসলে আর ইবাদাত করা লাগবে না। আধ্যাত্মিকতার চূড়ান্ত মাকামে প্রবেশ করলে পীর-আওলিয়াদের ইয়াকীন অর্জিত হয়, বিধায় তাদের ইবাদাত করা লাগে না।

উত্তর : নাউযুবিল্লাহ! আল্লাহ আমাদের এমন উদ্ভট বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন তাফসীর থেকে রক্ষা করুন। মুহাম্মাদ এবং স্বহাবীগণের ইয়াকীন (নিশ্চিত বিশ্বাস) অবশ্যই ছিল তারপরও তাঁরা আল্লাহর ইবাদাত ছাড়লেন না কেন? তাঁরা কি আয়াতটি বুঝেননি? মূলতঃ এখানে আরবী শব্দ “ইয়াকীন” এর উদ্দেশ্য হচ্ছে 'মৃত্যু' (আল মু'জামুল ওয়াসীত)। ইয়াকীন শব্দটি রসূল ও মৃত্যু অর্থে ব্যবহার করেছেন। উসমান ইবনু মায'উন ইন্তিকাল করলে রসূলুল্লহ্ তাঁকে দেখতে গিয়ে বলেন, ... আম্মা হুয়া ফাক্বাদ জাআহুল ইয়াক্বীনু ওয়াল্লাহি ইন্নী লা আরজু লাহুল খইরা ... ...নিশ্চয়ই তাঁর ইয়াকীন (মৃত্যু) এসেছে এবং আল্লাহর কসম! আমি তার জন্য কল্যাণ কামনা করি...। -বুখারী, অধ্যায় : ২৩, জানাযা, অনুচ্ছেদ : ৩, কাফন পরানোর পর মৃত ব্যক্তির নিকট গমন করা, হাদিস # ১২৪৩

তাই আয়াতটির সঠিক অনুবাদ হবে, وَاعْبُدْ رَبُّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ “তোমার রবের ইবাদাত করতে থাকো যতক্ষণ না তোমাদের মৃত্যু (ইয়াকীন) আসে” -সূরাহ হিজর (১৫), ৯৯। আর এজন্যই আমাদের নাবী ও স্বহাবীগণ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদাত করে গেছেন।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 কতিপয় পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া মুহাম্মাদ ﷺ এঁর শারী’আহ্ মানতে বাধ্য নয় সম্পর্কিত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 কতিপয় পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া মুহাম্মাদ ﷺ এঁর শারী’আহ্ মানতে বাধ্য নয় সম্পর্কিত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৫): মুসা এর সময় খিজির যেভাবে মুসা এঁর শারী'আহ্'র অনুসরণ করেননি। ঠিক তেমনিভাবে আধ্যাত্মিক পর্যায়ের উচ্চস্তরের পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা মুহাম্মাদ এঁর শারী'আহ্ থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন। অর্থাৎ পীর বা ওয়ালী আওলিয়ারা এই শারীয়াহ'র বিধানাবলী মানতে বাধ্য নন।

উত্তর : নাউযুবিল্লাহ্, আল্লাহ্ আমাদেরকে এই বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা থেকে রক্ষা করুন। মুসা সমগ্র মানবজাতির নাবী-রসূল ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন শুধুমাত্র বানী ইসরাঈল জাতির নাবী ও রসূল। যে কারণে খিজির মূসা এর শারী'আহ্'র অনুসরণে বাধ্য ছিলেন না। কিন্তু মুহাম্মাদ তো সমগ্র মানবজাতির নাবী-রসূল।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন, ক্বুল ইয়া আইয়ুহান নাসু ইন্নী রসুলাল্লাহি ইলাইকুম জামিআ... “বল; হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহ্'র রসূল..." -সূরাহ্ আ'রফ (৭), ১৫৮। এ কারনেই মুহাম্মাদুর রসূলুল্লহ্ এঁর শারী'আহ্ থেকে কেউ বেরিয়ে যেতে পারবেনা বা বেরিয়ে যাবার অধিকার রাখে না।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সাজদাহ্ সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সাজদাহ্ সংক্রান্ত সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১৬) : আল্লাহ্ মালাইকাহ্'দের (ফেরেশতাদের) দিয়ে আদাম কে সাজদাহ্ করিয়েছিলেন। ইউসুফ এর ভাইরা এবং তাঁর বাবা ইয়াকুব ইউসুফ কে সাজদাহ্ করেছিলেন। এ থেকে বুঝা যায় আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকেও সম্মানের সাজদাহ্ করা যায়।

উত্তর : আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সম্মানের সাজদাহ্ করা আগের নাবীদের শারী'আয় বৈধ ছিল। কিন্তু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লহ্ এর শারী'আতে আল্লাহ্ ছাড়া অন্যকে সম্মানের সাজদাহ্ করা হারাম। একারণে রসূলুল্লহ্ বলেছেন। আনাস হতে বর্ণিত, রসূলুল্লহ্ বলেছেন, ... ওয়ালা ইউসলিহু লিব্যাশারিন আই ইয়াসজুদা লিব্যাশারিন ... "...কোনো মানুষ অন্য কোনো মানুষকে সাজদাহ্ করা বৈধ নয়..." -মুসনাদ আহমাদ, স্বহীহ্, হাদিস # ১২৫৫১।

এই হাদিসটি থেকে বুঝা যায়, মুহাম্মাদ এর উম্মাতের জন্য সম্মানের সাজদাহ্ বৈধ নয়। এ কারণে কোনো পীর, ওয়ালী-আওলিয়া বা মৃত ব্যক্তির কবরে সাজদাহ্ দেয়া হারাম।

ফন্ট সাইজ
15px
17px