📄 কোনো ওয়ালীর কাছে দু’আ না করে সরাসরি আল্লাহ্ তায়ালার কাছে দু’আ করলেই আল্লাহ্ আমাদেরকে সাহায্য করবেন
মহান আল্লাহ্ বলেন, ফাযকুরূনী আযকুরকুম... “অতএব, তোমরা আমাকে স্মরণ করো তাহলে আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো...” -সূরাহ্ বাক্বরহ (২), ১৫২
ওাক্বলা রব্বুকুমুদ ঊনী আস্তাজিব লাকুম... “তোমাদের রব বলেন, আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো...” -সূরাহ্ মু'মিন (৪০), ৬০
এ আয়াত দু'টো থেকে বুঝা যায় কোনো পীর বা ওয়ালী-আওলীয়ার কাছে না গিয়ে সরাসরি আল্লাহ্'র কাছে দু'আ করলেই আল্লাহ্ আমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। তাহলে কোনো মাযারে, পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ার কাছে যেয়ে দু'আ করার দরকার কি? সরাসরি আল্লাহ্'র কাছে দু'আ করলেইতো হয়। এ থেকে কি বুঝা যায় না যে মাযারের ওয়ালীর কাছে বা পীরের কাছে দু'আ করা ঠিক নয়? মহান আল্লাহ্ আরো বলেন,
... ওাকানা হাক্বক্বান আলাইনা নাসরুল মুমিনীন “...ঈমানদারগণকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব” -সূরাহ্ রূম (৩০), ৪৭
এ আয়াত থেকেও বুঝা যায় যে, মাযারে বা পীরের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ্ আমাদেরকে এমনিতেই সাহায্য করবেন।
📄 আল্লাহ্ ছাড়া কোনো পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াকে সম্মানার্থে সাজদাহ্ করা বা পায়ে চুমু দেয়া হারাম
আনাস হতে বর্ণিত, রসূলল্লাহ্ বলেছেন, ... ওয়ালা ইউসলিহু লিব্যাশারিন আই ইয়াসজুদা লিব্যাশারিন ... “...কোনো মানুষ অন্য কোনো মানুষের কাছে (সম্মানার্থে) মাথা নত করা বৈধ নয়...” -মুসনাদ আহমাদ, স্বহীহ্, হাদিস # ১২৫৫১।
এ হাদিসটি দ্বারা বুঝা যায় কোনো পীর বা ওয়ালী-আওলিয়াকে সাজদাহ্ করা বা তাদের পায়ে চুমু দেয়া বৈধ নয় অর্থাৎ হারাম। কারণ পায়ে চুমু বা সাজদাহ্ দিতে গেলে মাথা নত করতে হয়।
📄 তথাকথিত যেসকল মুসলিমরা আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করে মারা যাবে তাদের জন্য রসূলূল্লাহ ﷺ শাফা’আত (সুপারিশ) করবেন না
আবু হুরইরহ্ হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্ বলেছেন, ... ইন শাআল্লাহু মান মাতা মিনহুম লা ইউশরিকু বিল্লাহি শাইয়ান। “...ইনশাআল্লাহ্ আমার শাফা'আত সে উম্মাত পাবে যে আল্লাহ্'র সাথে শরীক না করে মারা গিয়েছে।” -তিরমিযী, স্বহীহ্, অধ্যায়ঃ ৪৫, দু'আসমূহ, অনুচ্ছেদ : ১৩১, লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ্'র ফাযীলাত, হাদিস # ৩৬০২, আস্-সুন্নাহ্ (ইমাম আবী বাকার বিন খিলাল), স্বহীহ্, হাদিস # ১২০৬, আল-আদাব (ইমাম বায়হাক্বী), স্বহীহ্, হাদিস # ১১৬২ (হাদিসটি তিরমিযীর বর্ণনা)।
এ হাদিস অনুযায়ী তথাকথিত সে সকল মুসলিমদেরকে সাবধান করছি, যারা মাযার এবং পীর বা ওয়ালী-আওলিয়াদের রবের স্থানে বসিয়ে মহান আল্লাহ্'র সাথে শির্ক করছেন, তারা কিন্তু নাবী এঁর শাফা'আত পাবেন না।
📄 কাউকে ‘রসূলের বান্দা’ বা ‘আব্দুর রসূল’ বলা যাবে না
মহান আল্লাহ্ বলেন, মা কানা লিব্যাশারিন আই ইউতিয়াহুল্লাহুল কিতাবা ওয়াল হুকমা ওয়ান নুবুওয়াতা সুম্মা ইয়াকুলা লিন্নাসি কুনু ইবাদাল্লী মিন দুনিল্লাহি ওয়ালাকিন কুনূ রব্বানিয়্যিন...
“কোন মানুষকে আল্লাহ কিতাব, হিকমত ও নবুওয়ত দান করার পর সে বলবে যে, 'তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমার বান্দা হয়ে যাও'-এটা সম্ভব নয়। বরং তারা বলবে, 'তোমরা আল্লাহৰ্ত্তয়ালা হয়ে যাও..." -সূরাহ্ আলি ইমরান (৩), ৭৯
এ আয়াতটিতে আল্লাহ্ তা'য়ালা সুস্পষ্টভাবে বলছেন যে, কোনো নাবী তাঁর জাতিকে কখনো একথা বলবেন না যে, “তোমরা আমার বান্দা।” এ থেকেই বুঝা যায় রসূলের বান্দা বলাটা বৈধ নয়। সুতরাং যে সমস্ত পীর ও মুরীদরা নিজেদের আব্দুর রসূল (রসূলের বান্দা) বলে থাকে তারা হারাম কাজ করে।