📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 আল্লাহ্’কে বাদ দিয়ে যে অন্যকে ডাকে সে পথভ্রষ্ট

📄 আল্লাহ্’কে বাদ দিয়ে যে অন্যকে ডাকে সে পথভ্রষ্ট


মহান আল্লাহ্ বলেন, وَمَنْ أَضَلُّ মিম্মান ইয়াদউ মিন দুনিল্লাহি মাল্লা ইয়াস্তাজীবু লাহু ইলা ইয়াওমিল ক্বিয়ামাহ্ ওাহুম আন দুআয়িহিম গাফিলুন।
“তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহ্'র পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যে তার ডাকে সাড়া দিবে না! আর তাদের ডাকা-ডাকি সম্পর্কে তারা (মৃতরা) কোনো খবরও রাখে না।” -সূরাহ্ আহ্ক্বাফ (৪৬), ৫

এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, যারা পীর বা কবরওয়ালার কাছে দু'আ করে তারা পথভ্রষ্ট। যেমন- পীর বা কবরবাসীর কাছে সন্তান চাওয়া ইত্যাদি।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কাছে দু’আ করা শির্ক এবং যে করে তার জন্য জান্নাত হারাম এবং জাহান্নাম অবধারিত

📄 আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কাছে দু’আ করা শির্ক এবং যে করে তার জন্য জান্নাত হারাম এবং জাহান্নাম অবধারিত


মহান আল্লাহ্ বলেন, قُلْ إِنَّمَا اَدْعُوا রব্বী ওয়ালা উশরিকু বিহি আহাদা।
“বল (হে মুহাম্মাদ); আমি শুধু আমার রবকেই ডাকি, আর আমি (অন্য কাউকে ডেকে) তাঁর সাথে কাউকে শরিক করিনা।” -সূরাহ্ জ্বীন (৭২), ২০

এ আয়াতটি দ্বারা বুঝা যায়, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কাছে দু'আ করলে শিরক হয়। নুমান বিন বাশীর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
সামী'তুন নাবীয়্যা ﷺ ইয়াকুলু আদ-দুয়াউ হুয়াল ইবাদাহ...
"আমি নাবী ﷺ কে বলতে শুনেছি, দু'আ হচ্ছে ইবাদাত..." -আবু দাউদ, স্বহীহ্, অধ্যায় : ২, কিতাবুস্ স্বলাত, অনুচ্ছেদ : ৩৫৮, দু'আ সম্পর্কে, হাদিস # ১৪৭৯, তিরমিযী, স্বহীহ্, অধ্যায় : ৪৪, কিতাবুত তাফসীর, অনুচ্ছেদঃ ৩, সূরাহ্ বাক্বারহ, হাদিস # ২৯৬৯, অনুচ্ছেদ : ৪২, সূরাহ্ মু'মিন, হাদিস # ৩২৪৭, অধ্যায়: কিতাবুদ্ দু'আসমূহ, অনুচ্ছেদ: ০২, হাদিস # ৩৩৭২, ইবনু মাজাহ্, স্বহীহ্, অধ্যায়: ৩৪, কিতাবুদ্ দু'আ, অনুচ্ছেদ: ১, দু'আর ফাযিলাত, হাদিস # ৩৮২৮ (হাদিসটি তিরমিযীর বর্ণনা)।

দু'আ যেহেতু ইবাদাত সেহেতু এ দু'আ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কাছে করা শিরক্। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,
... وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ রব্বিহি আহাদা।
“...কেউ যেনো তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে” -সূরাহ্ কাহ্ফ্ (১৮), ১১০

অতএব, বুঝে নিতে হবে যে, যারা পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ার কাছে দু'আ করে তারা ইবাদাতের ক্ষেত্রে শির্ক করছে। আর শিরকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,
... إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ ফাক্বাদ হাররামাল্লাহু আলাইহিল জান্নাতা ওয়ামা ওায়াহুন নার ...
“...নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্'র সাথে শির্ক করবে তার জন্য জান্নাত হারাম এবং জাহান্নাম অবধারিত..." -সূরাহ্ মায়িদাহ্ (৫), ৭২

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 কোনো ওয়ালীর কাছে দু’আ না করে সরাসরি আল্লাহ্ তায়ালার কাছে দু’আ করলেই আল্লাহ্ আমাদেরকে সাহায্য করবেন

📄 কোনো ওয়ালীর কাছে দু’আ না করে সরাসরি আল্লাহ্ তায়ালার কাছে দু’আ করলেই আল্লাহ্ আমাদেরকে সাহায্য করবেন


মহান আল্লাহ্ বলেন, ফাযকুরূনী আযকুরকুম... “অতএব, তোমরা আমাকে স্মরণ করো তাহলে আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো...” -সূরাহ্ বাক্বরহ (২), ১৫২

ওাক্বলা রব্বুকুমুদ ঊনী আস্তাজিব লাকুম... “তোমাদের রব বলেন, আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো...” -সূরাহ্ মু'মিন (৪০), ৬০

এ আয়াত দু'টো থেকে বুঝা যায় কোনো পীর বা ওয়ালী-আওলীয়ার কাছে না গিয়ে সরাসরি আল্লাহ্'র কাছে দু'আ করলেই আল্লাহ্ আমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। তাহলে কোনো মাযারে, পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ার কাছে যেয়ে দু'আ করার দরকার কি? সরাসরি আল্লাহ্'র কাছে দু'আ করলেইতো হয়। এ থেকে কি বুঝা যায় না যে মাযারের ওয়ালীর কাছে বা পীরের কাছে দু'আ করা ঠিক নয়? মহান আল্লাহ্ আরো বলেন,
... ওাকানা হাক্বক্বান আলাইনা নাসরুল মুমিনীন “...ঈমানদারগণকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব” -সূরাহ্ রূম (৩০), ৪৭

এ আয়াত থেকেও বুঝা যায় যে, মাযারে বা পীরের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ্ আমাদেরকে এমনিতেই সাহায্য করবেন।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 আল্লাহ্ ছাড়া কোনো পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াকে সম্মানার্থে সাজদাহ্ করা বা পায়ে চুমু দেয়া হারাম

📄 আল্লাহ্ ছাড়া কোনো পীর বা ওয়ালী-আউলিয়াকে সম্মানার্থে সাজদাহ্ করা বা পায়ে চুমু দেয়া হারাম


আনাস হতে বর্ণিত, রসূলল্লাহ্ বলেছেন, ... ওয়ালা ইউসলিহু লিব্যাশারিন আই ইয়াসজুদা লিব্যাশারিন ... “...কোনো মানুষ অন্য কোনো মানুষের কাছে (সম্মানার্থে) মাথা নত করা বৈধ নয়...” -মুসনাদ আহমাদ, স্বহীহ্, হাদিস # ১২৫৫১।

এ হাদিসটি দ্বারা বুঝা যায় কোনো পীর বা ওয়ালী-আওলিয়াকে সাজদাহ্ করা বা তাদের পায়ে চুমু দেয়া বৈধ নয় অর্থাৎ হারাম। কারণ পায়ে চুমু বা সাজদাহ্ দিতে গেলে মাথা নত করতে হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px