📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া পরকালে কারো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না
আমাদের মাঝে সবার চেয়ে বড় ওয়ালী হলেন রসূলুল্লাহ্ ﷺ। তাঁর সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন, ক্বুল ইন্নী লা আমলিকু লাকুম দ্বররাও ওয়ালা রাশাদা। “বল (হে মুহাম্মাদ), আমি তোমাদের (পরকালে) ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখিনা।” -সূরাহ্ জ্বীন (৭২), ২১
যেখানে রসূলল্লাহ্ আমাদের পরকালে উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখেন না সেখানে কোনো পীর বা কোনো ওয়ালী-আওলিয়া কিভাবে আমাদের পরকালে উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখতে পারে? তাই এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, কোনো পীর বা ওয়ালী-আওলিয়া আমাদের পরকালে উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না।
আবু হুরইরহ্ থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লহ্ বলেছেন, … ইয়া ফাতিমাতু আনক্বিযী নাফ্সাকি মিনান নারি ফাইন্নী লা আমলিকু লাকুম মিনাল্লাহি শাইয়ান গইরা … “...হে ফাতিমাহ্! জাহান্নাম থেকে তুমি নিজেকে বাঁচাও। কারণ আল্লাহ্'র (আযাব) থেকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমার কোনো ক্ষমতা নেই...” -মুসলিম, অধ্যায় : ১, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ : ৮৯, মহান আল্লাহ্'র বাণী “তোমরা নিকট আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও” -সূরাহ্ শুয়ারা (২৬), ২১৪, হাদিস # ৩৪৮/২০৪।
যেখানে রসূলুল্লহ্ তাঁর মেয়ে ফাতিমাহ্ কে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর ক্ষমতা রাখেন না, সেখানে পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা কিভাবে তাদের মুরিদদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাবে? অর্থাৎ বুঝা গেলো, যে সকল পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা মানুষদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাবে বলে আশ্বাস দেয় তারা হলো মহামিথ্যুক।
📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া কাউকে হেদায়েত দেয়ার ক্ষমতা রাখে না
মহান আল্লাহ বলেন, ইন্নাকা লা তাহদী মান আহবাবতা ওয়ালা কিন্নাল্লাহা ইয়াহদী মাই ইয়াশাউ ওয়া হুয়া আলামু বিল মুহতাদীন। “(হে মুহাম্মাদ) তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে হেদায়েত দিতে পারবে না। বরং আল্লাহ্ যাকে চান তাকেই হেদায়েত দান করেন। তিনি হেদায়েত প্রাপ্তদের সম্পর্কে জানেন।” -সূরাহ্ ক্বস্বস্ব (২৮), ৫৬
যেখানে স্বয়ং নাবী তাঁর প্রিয় ব্যক্তিকে হেদায়েত দানের ক্ষমতা রাখেন না, সেখানে পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা কিভাবে হেদায়েত দেয়ার ক্ষমতা রাখে! নিশ্চয় যে সকল পীররা মানুষদেরকে হেদায়েত দানের দাবী করে তারা অবশ্যই-অবশ্যই ভণ্ড।
📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া তাদের মুরিদদের জন্য “নিজ থেকে” আল্লাহর নিকট সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখে না
মহান আল্লাহ বলেন, লা ইয়ামলিকুনাশ শাফাআতা ইল্লা মানিত্তাক্বাযা ইনদার রাহমানি আহদা। “রহমানের অনুমতি ব্যতীত কেউ সুপারিশ করার অধিকার রাখবে না।” -সূরাহ্ মারইয়াম (১৯), ৮৭
পীর ওয়ালী-আওলিয়ারা আল্লাহর নিকট থেকে তাদের মুরিদদের জন্য সুপারিশের অনুমতি পেয়েছে তার কোন প্রমাণ নেই। তাই যে সকল পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা তাদের মুরিদদের পরকালে সুপারিশের আশ্বাস দেয়, তারা মিথ্যুক।
📄 পীর বা ওয়ালী-আউলিয়া ইহকালে আল্লাহকে দেখতে পারে না
... তা'লামু আন্নাহু লাই ইয়ারা আহাদুম মিনকুম রব্বাহু আযযা ওয়া জাল্লা হাত্তা ইয়ামূতা। “রসূলুল্লহ্ ﷺ বলেছেন, ... জেনে রেখো নিশ্চয়ই কখনোই তোমাদের কেউ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমাদের রবকে দেখতে পাবে না” -মুসলিম, অধ্যায় ঃ ৫২, কিতাবুল ফিতান, অনুচ্ছেদঃ ১৯, ইবনু সাঈদের বর্ণনা, হাদিস # ১৬৯, আস্-সুন্নাহ (ইমাম ইবনু আবী আসিম রহ.), স্বহীহ, অনুচ্ছেদ : কখনোই তোমরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমাদের রবকে দেখতে পাবে না, হাদিস # ৪২৮।
সুতরাং যে সমস্ত পীর বা ওয়ালী-আওলিয়ারা ইহকালে আল্লাহকে দেখার দাবী করে এবং মুরিদদেরও আল্লাহকে দেখানোর আশ্বাস দেয়, তারা চরম মিথ্যাবাদী ও প্রতারক।