📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 কবরকে এক বিঘতের বেশি উঁচু করা হারাম

📄 কবরকে এক বিঘতের বেশি উঁচু করা হারাম


قَالَ عَلِىُّ ﷺ أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَلَا تَدَعَنَّ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّয়ْتَهُ “আলী বলেন, আমি কি তোমাকে সেই কাজে পাঠাবো না, যেই কাজে আমাকে রসূলুল্লহ্ ﷺ পাঠিয়েছিলেন ? তুমি (এক বিঘতের) উঁচু কবরকে সমান করে দিবে...” -মুসলিম, অধ্যায়: ১১, কিতাবুল জানায়িয, অনুচ্ছেদ: ৩১, কবর সমান করার নির্দেশ, হাদিস # ৯৩/৯৬৯, নাসাঈ, সহীহ, অধ্যায়: ২১, জানায়িয, অনুচ্ছেদ: কবর উঁচু হলে তা সমতল করে দেয়া, হাদিস # ২০৩১, আবু দাউদ, সহীহ, অধ্যায়: ১৫. জানাযা, অনুচ্ছেদ: ৭২. কবর সমান করা, হাদিস # ৩২১৮ (হাদিসটি নাসাঈর বর্ণনা)।

এ হাদিসটি থেকে বুঝা যায়, যারা মাযারের কবরকে এক বিঘতের চেয়ে বেশি উঁচু করেছে, তারা হারাম কাজ করেছে।

قَالَ عَلِىُّ ﷺ أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا বয়াছানি আলাইহি রাসূলুল্লাহি ﷺ আল্লা তাদাআন্না ক্বাবরান মুশরিফান ইল্লা সাওআইতাহু “আলী বলেন, আমি কি তোমাকে সেই কাজে পাঠাবো না, যেই কাজে আমাকে রসূলুল্লহ্ ﷺ পাঠিয়েছিলেন ? তুমি (এক বিঘতের) উঁচু কবরকে সমান করে দিবে...” -মুসলিম, অধ্যায়: ১১, কিতাবুল জানায়িয, অনুচ্ছেদ: ৩১, কবর সমান করার নির্দেশ, হাদিস # ৯৩/৯৬৯, নাসাঈ, সহীহ, অধ্যায়: ২১, জানায়িয, অনুচ্ছেদ: কবর উঁচু হলে তা সমতল করে দেয়া, হাদিস # ২০৩১, আবু দাউদ, সহীহ, অধ্যায়: ১৫. জানাযা, অনুচ্ছেদ: ৭২. কবর সমান করা, হাদিস # ৩২১৮ (হাদিসটি নাসাঈর বর্ণনা)।

এ হাদিসটি থেকে বুঝা যায়, যারা মাযারের কবরকে এক বিঘতের চেয়ে বেশি উঁচু করেছে, তারা হারাম কাজ করেছে।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 কবরের উপরে ছবি আঁকা হারাম

📄 কবরের উপরে ছবি আঁকা হারাম


আইশাহ্ থেকে বর্ণিত,
أُولَئِكَ إِذَا مَاتَ مِنْهُمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنُوا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا, ثُمَّ صَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّورَةَ أُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ . “...রসূলুল্লহ্ ﷺ বলেছেন, সেসব দেশের লোকেরা (হাবশার খৃষ্টানরা) তাদের কোনো নেককার ব্যক্তি মারা গেলে তার কবরের উপরে মাসজিদ নির্মাণ করতো এবং ঐসব চিত্রকর্ম অঙ্কন করতো। তারা হলো আল্লাহ্'র নিকৃষ্ট সৃষ্টি।” -বুখারী, অধ্যায়: ২৩, কিতাবুল জানাযা, অনুচ্ছেদঃ ৭০, কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করা, হাদিস # ১৩৪১।

এ হাদিসটি থেকে বুঝা যায়, যারা কবরের উপর ভাস্কর্য নির্মাণ বা প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছে, তারা রসূলুল্লহ্ ﷺ এর নির্দেশ অমান্য করে হারাম কাজ করেছে।

আইশাহ্ থেকে বর্ণিত, উলাইকা ইযা মাতা মিনহুমুর রাজুলুস সালিহু বানাও আলা ক্বাবরিহি মাসজিদান, সুম্মা সাওয়ারু ফীহি তিলকাস সূরতি উলাইকা শিরারুল খালক্বি ইনদাল্লাহ। “...রসূলুল্লহ্ ﷺ বলেছেন, সেসব দেশের লোকেরা (হাবশার খৃষ্টানরা) তাদের কোনো নেককার ব্যক্তি মারা গেলে তার কবরের উপরে মাসজিদ নির্মাণ করতো এবং ঐসব চিত্রকর্ম অঙ্কন করতো। তারা হলো আল্লাহ্'র নিকৃষ্ট সৃষ্টি।” -বুখারী, অধ্যায়: ২৩, কিতাবুল জানাযা, অনুচ্ছেদঃ ৭০, কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করা, হাদিস # ১৩৪১।

এ হাদিসটি থেকে বুঝা যায়, যারা কবরের উপর ভাষ্কর্য নির্মাণ বা প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছে, তারা রসূলুল্লহ্ ﷺ এর নির্দেশ অমান্য করে হারাম কাজ করেছে।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 কবরের উপরে মাসজিদ বানানো হারাম

📄 কবরের উপরে মাসজিদ বানানো হারাম


জুনদুব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নাবী এর মৃত্যুর ৫ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি,
أَنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمُ مَسَاجِدَ أَلَا فَلَا تَتَّখِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ إِنِّى أَنْهُكُمْ عَنْ ذَلِكَ.
“... নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নাবী এবং সৎলোকদের কবরকে মাসজিদ বানিয়েছিল। সাবধান তোমরা কবরগুলোকে মাসজিদ বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদের নিষেধ করছি।” -মুসলিম, অধ্যায়ঃ ৫, মাসজিদ ও স্বলাতের স্থানসমূহ, অনুচ্ছেদ : ৩, কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ, মাসজিদে ছবি বানানো এবং কবরকে সাজদাহ্'র স্থান নির্ধারণ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা, হাদিস # ২৩/৫৩২

আব্দুল্লহ্ হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ إِنَّ مِنْ شِرَّارَ النَّاسِ مَنْ تَدْرَكَهُ السَّاعَةُ وَهُمْ أَحْيَاء وَমَنْ يَتَّخِذُ الْقُبُرَ مَسَاجِدَ.
"আমি নাবীকে বলতে শুনেছি জীবিত অবস্থায় যাদের উপর ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে, তারা হলো মানুষের মাঝে সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক এবং যারা কবরকে মাজিদ বানাবে তারাও সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক।” -মুসনাদে আহমাদ, স্বহীহ্, হাদিস # ৩৮৪৪, ৪১৪৩

আবু হুরইরহ্ নাবী থেকে বর্ণনা করেন,
لَعَنَ اللهُ قَوْمًا اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
“...ঐ জাতির উপর আল্লাহ্'র অভিশাপ বর্ষণ হোক যারা নাবীদের কবরকে মাসজিদে রূপান্তর করে।"-মুসনাদে আহমাদ, স্বহীহ, হাদিস # ৭৩৫২।

উপরোক্ত হাদিসসমূহ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, যারা কবরের উপর মাজিদ নির্মাণ করে মাযার বানিয়েছে তারা রসূলুল্লহ্ এর নির্দেশ অমান্য করে হারাম কাজ করেছে, তারা মানুষের মধ্যে সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক ও তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ রয়েছে।

জুনদুব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নাবী এর মৃত্যুর ৫ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি, আনাল্লা মান কানা ক্বাবলাকুম কানূ তাত্তাকিযূনা ক্বুবুরা আম্বিয়ায়িহিম ওয়া সলিহীহিম মাসাজিদা আলা ফালা তাত্তাকিযুল ক্বুবুরা মাসাজিদা ইন্নী আনহাকুম আন যালিকা। “... নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নাবী এবং সৎলোকদের কবরকে মাসজিদ বানিয়েছিল। সাবধান তোমরা কবরগুলোকে মাসজিদ বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদের নিষেধ করছি।” -মুসলিম, অধ্যায়ঃ ৫, মাসজিদ ও স্বলাতের স্থানসমূহ, অনুচ্ছেদ : ৩, কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ, মাসজিদে ছবি বানানো এবং কবরকে সাজদাহ্'র স্থান নির্ধারণ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা, হাদিস # ২৩/৫৩২

আব্দুল্লহ্ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, সামী'তু রসুলাল্লাহি ﷺ ইয়াক্বুলু ইন্না মিন শিররারাি ন্নাসি মান তাদরিকুহুস সাআতু ওয়াহুম আহ্ইয়াউ ওয়ামাই তাত্তাকিযুল ক্বুবুরা মাসাজিদা। "আমি নাবীকে বলতে শুনেছি জীবিত অবস্থায় যাদের উপর ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে, তারা হলো মানুষের মাঝে সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক এবং যারা কবরকে মাজিদ বানাবে তারাও সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক।” -মুসনাদে আহমাদ, স্বহীহ্, হাদিস # ৩৮৪৪, ৪১৪৩

আবু হুরইরহ্ নাবী থেকে বর্ণনা করেন, লানাল্লাহু ক্বওমান তাত্তাকিযূ ক্বুবুরা আম্বিয়ায়িহিম মাসাজিদা “...ঐ জাতির উপর আল্লাহ্'র অভিশাপ বর্ষণ হোক যারা নাবীদের কবরকে মাসজিদে রূপান্তর করে।" -মুসনাদে আহমাদ, স্বহীহ, হাদিস # ৭৩৫২।

উপরোক্ত হাদিসসমূহ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, যারা কবরের উপর মাজিদ নির্মাণ করে মাযার বানিয়েছে তারা রসূলুল্লহ্ এর নির্দেশ অমান্য করে হারাম কাজ করেছে, তারা মানুষের মধ্যে সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক ও তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ রয়েছে।

📘 কুরআন হাদিসের আলোকে মাযার ও পীর আওলিয়া 📄 মাযার বানানো সম্পর্কে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর

📄 মাযার বানানো সম্পর্কে সংশয়মূলক প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন (১): আস্বহাবে কাহফ্ফের লোকদের কবরের উপর তৎকালীন লোকেরা মাস্জিদ নির্মাণ করেছিল। যা থেকে বুঝা যায় কবরের উপর মাস্জিদ নির্মাণ করা বৈধ? বর্ণনাটি লক্ষ্য করুন,
إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِمْ بُنْيَانًا ، رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمُ . قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَ التَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ মَّসজদাঁ।
“...যখন তারা নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ করছিল, (কতক) বলল তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর, তাদের রব তাদের সম্পর্কে জানেন। তাদের কর্তব্য সম্পর্কে যাদের মতামত প্রাধান্য লাভ করল তারা বলল, আমরা তাদের উপর অবশ্যই মাসজিদ নির্মাণ করব।” -সূরাহ্ কাহফ (১৮), ২১
উপরের কুরআনের আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, পুন্যবান ব্যক্তি তথা পীর বুজুর্গ, ওয়ালী-আওলিয়াদের স্মৃতি সংরক্ষণ করে রাখার জন্য কবরের উপর মাজিদ বা মাযার-রওযা নির্মাণ করা জায়েজ।

উত্তর : আপনার ব্যাখ্যাটি ভুল। কারণ, আয়াতটিতে কবরের উপরে মাসজিদ নির্মাণ করা যাবে বলা হয়নি। বরং, তখনকার লোকেরা কি করেছিল সেই ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে মাত্র। তাহলে আপনি কিভাবে বুঝলেন কবরের উপরে মাসজিদ নির্মাণ করা হালাল? বরং নাবী কবরের উপর মাসজিদ বানাতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাটি লক্ষ্য করুন, আবু হুরইরহ্ নাবী থেকে বর্ণনা করেন,
لَعَنَ اللهُ قَوْمًا اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
“...ঐ জাতির উপর আল্লাহ্'র অভিশাপ বর্ষণ হোক যারা নাবীদের কবরকে মাসজিদে রূপান্তর করে।” -মুসনাদে আহমাদ, স্বহীহ, হাদিস # ৭৩৫২।

আবু সাঈদ হতে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيِّ عَبْدِ الله نَهَى أَنْ يُبْنَى عَلَى الْقَبْرِ.
“নাবী কবরের উপরে কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।” -ইবনু মাজাহ্, স্বহীহ্, অধ্যায়ঃ ৬, কিতাবুল জানায়িয, অনুচ্ছেদ: কবরের উপর কিছু নির্মাণ করা, তা পাকা করা এবং তাতে কিছু লেখা নিষেধ, হাদিস # ১৫৬৪। এ হাদিসগুলো থেকে বুঝা যায়, কবরের উপর কোনো কিছু নির্মাণ করা নিষেধ। সুতরাং, পুণ্যবান ব্যক্তি তথা পীর বুজুর্গ, ওয়ালী-আওলিয়াদের স্মৃতি সংরক্ষণ করার ওয়াসিলাহ্ দিয়ে কবরের উপর মাজিদ, মাযার ইত্যাদি নির্মাণ করা হারাম এবং গর্হিত কাজ। আশাকরি বুঝতে পেয়েছেন।

প্রশ্ন (২): আবু আইয়ুব আনসারী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে; তিনি নাবী এর কবরের কাছে এসে বলেন,
... جِئْتُ رَسُولَ اللهِ وَلَمْ آتِ الْحَجَرَ ... “আমি নাবী এর কাছে এসেছি, পাথরের কাছে নয়” -মুসনাদে আহমদ, হাদিস # ২৩৪৭৬, মুস্তাদরক আল-হাকিম, হাদিস # ৮৫৭১।
এই রিওয়ায়াতটি প্রমাণ করে যে নাবী এর রওযা (কবর) পাকা ছিল, নতুবা স্বহাবী আবু আইয়ুব আনসারী মারওয়ানের কথা খণ্ডন করার সময় 'পাথর' শব্দটি ব্যবহার করতেন না। সুতরাং কবর পাকা করা বৈধ।

উত্তর : হাদিসটি যঈফ। কারণ সানাদে দাউদ বিন আবি সালেহ মাজহুল (অজ্ঞাত) রাবী। অতএব, হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশ্ন (৩): সুফইয়ান তাম্মার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, أَنَّهُ رَأَى قَبْرِ النَّبِيِّ مُسَنَّمًا
"তিনি নাবী এর কবর উটের কুঁজের ন্যায় (উঁচু) দেখেছেন।” -বুখারী, অধ্যায় : ২৩ কিতাবুল জানাযা, অনুচ্ছেদ : ৯৬, নাবী সা:, আবু বাকার ও ওমার রা. এর কবর সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, হাদিস # ১৩৯০
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, কবর উঁচু করা যায়। তাই মাযারে যে সমস্ত উচু কবর আছে তা শারী'আহ্'র দৃষ্টিতে বৈধ।

উত্তর : কবর উঁচু করার সীমা হচ্ছে এক বিঘত পর্যন্ত, এর বেশি নয়। এ সম্পর্কিত হাদিসটি লক্ষ্য করুন। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
... وَرُفِعَ قَبْرُهُ مِنَ الْأَرْضِ نَحُوًا مِنْ شِبْرٍ রসূলুল্লহ্ এর ...কবর মাটি থেকে এক বিঘত উঁচু ছিল। -ইবনে হিব্বান, স্বহিহ্, হাদিস # ৬৭৯১।

কবর এক বিঘতের চেয়ে বেশি উঁচু হলে ভেঙ্গে সমান করতে হবে। এ সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদিসটি লক্ষ্য করুন,
قَالَ عَلِى أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا বয়াছানি আলাইহি রাসূলুল্লাহি ﷺ লানি তাদান্না ক্বাবরান মুশরিফান ইল্লা সাওআইতাহু...
“আলী বলেন, আমি কি তোমাকে সেই কাজে পাঠাবো না, যেই কাজে আমাকে রসূলুল্লহ্ ﷺ পাঠিয়েছিলেন? তুমি (এক বিঘতের) উঁচু ক্ববরকে সমান করে দিবে..."-মুসলিম, অধ্যায় : ১১, কিতাবুল জানায়িয, অনুচ্ছেদ : ৩১, কবর সমান করার নির্দেশ, হাদিস # ৯৩/৯৬৯, নাসাঈ, স্বহীহ্, অধ্যায়: ২১, জানায়িয, অনুচ্ছেদ: কবর উঁচু হলো তা সমতল করে দেয়া, হাদিস # ২০৩১, আবু দাউদ, স্বহীহ্, অধ্যায় : ১৫. জানাযা, অনুচ্ছেদ: ৭২. কবর সমান করা, হাদিস # ৩২১৮ (হাদিসটি নাসাঈর বর্ণনা)।

প্রশ্ন (৪): আলীকে কবর সমান করার জন্য যে নির্দেশটি দেওয়া হয়েছিল, সেটি ছিলো কাফিরদের কবর, মুসলিমদের কবর নয়। তাই বুঝে নিতে হবে যে, কাফিরদের উঁচু কবর ভেঙ্গে ফেলতে হবে, কিন্তু মুসলিমদের নয়।

উত্তর : আপনার বক্তব্যটি ভুল। কারণ স্বহাবীগণ কবর সমান করার নির্দেশটি মুসলিম-অমুসলিম সকলের জন্যই রসূলুল্লহ্ ﷺ এর নির্দেশ হিসেবে বুঝেছিলেন। নিম্নে তার প্রমাণ দেওয়া হলো। ছুমামাহ ইবনু শুফাই (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে,
كُنَّا مَعَ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ بِأَرْضِ الرُّومِ بِرُودِسَ فَتُوُفِّى صَاحِبٌ لَنَا فَأَمَرَ فَضَالَةَ ابْنُ عُبَيْدٍ بِقَبْرِهِ فَسُوَى ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَأْمُرُ بِتَصْوِيَتِهَا .
“আমরা রোম সাম্রাজ্যের রূদাস উপদ্বীপে ফাদালাহ ইবনু উবাইদ এর সাথে ছিলাম। সেখানে আমাদের এক সাথী (দ্বীনি ভাই) মৃত্যুবরণ করল, তখন ফাদালাহ ইবনু উবাইদ নির্দেশ দিলে আমরা তাঁর কবরকে সমতল করে দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লহকে কবর সমতল করার নির্দেশ দিতে শুনেছি।” -সহীহ মুসলিম, অধ্যায় : ১২ কিতাবুল জানায়িজ অনুচ্ছেদ : ৩১ ক্ববর সমান করা সম্পর্কে, হাদিস # ৯২/৯৬৮, সুনানু নাসাঈ, অধ্যায়: ৩১ কিতাবুল জানায়িজ অনুচ্ছেদঃ ৯৯ কবর উঁচু করা হলে তা সমান করে দেওয়া, হাদিস # ২০৩০ (হাদিসটি মুসলিমের বর্ণনা)। আশা করি উত্তরটি পেয়েছেন।

প্রশ্ন (৫): বর্তমানে দেখা যায় নাবী এর কবর মাসজিদের ভিতরে, যদি কবরের উপর মাজিদ তৈরি করা হারাম হয়, তবে নাবী এর কবর কেন মাসজিদের ভিতরে রয়েছে? তাহলে স্বহাবিগণ কি ভুল করেছেন?

উত্তর: স্বহাবীদের যুগে নাবী এর কবর মাসজিদের ভিতরে ছিল না। বরং খলীফাহ্ ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক ৮৮ হিজরীতে নাবী এর কবরকে মাসজিদের ভিতরে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তখন কোন স্বহাবী মাদীনায় জীবিত ছিলেন না। তাই বুঝতে হবে নাবী এর কবর স্বহাবীগণ মাসজিদের ভিতরে অন্তর্ভুক্ত করেননি। অর্থাৎ বুঝা গেল যে, ক্ববরকে মাজিদ বানানো যাবে না, এ ব্যাপারে স্বহাবীগণ একমত ছিলেন। আর যেখানে রসূলুল্লহ্ এর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা থেকেই বুঝা যায় শারীয়াহ্'য় কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করা নিষেধ। এ সংক্রান্ত বর্ণনাটি লক্ষ্য করুন- জুনদুব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নাবী এর মৃত্যুর ৫ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি,
أَنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمُ ম্যাসাজিদ আল্লা ফালা তাত্তাকিযুল ক্বুবুরা মাসাজিদা ইন্নি আনহাকুম আন যালিকা।
“...নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নাবী এবং সৎলোকদের কবরকে মাসজিদ বানিয়েছিল। সাবধান তোমরা কবরগুলোকে মাজিদ বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদের নিষেধ করছি।” -মুসলিম, অধ্যায়ঃ ৫, মাসজিদ ও স্বলাতের স্থানসমূহ, অনুচ্ছেদ : ৩, কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ, মাসজিদে ছবি বানানো এবং কবরকে সাজদাহ্'র স্থান নির্ধারণ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা, হাদিস # ২৩/৫৩২।
পরবর্তীতে যারা নাবী এর কবরকে মাসজিদের ভিতরে অন্তর্ভুক্ত করেছে তারা বড় গুনাহের কাজ করেছে এবং যারা বর্তমানে ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও নাবী এর কবরকে মাসজিদের ভিতরে অন্তর্ভুক্ত রেখেছে তারাও বড় গুনাহের কাজ করছে। আশা করি উত্তরটি পেয়েছেন।

প্রশ্ন (১): আস্বহাবে কাহফ্ফের লোকদের কবরের উপর তৎকালীন লোকেরা মাস্জিদ নির্মাণ করেছিল। যা থেকে বুঝা যায় কবরের উপর মাস্জিদ নির্মাণ করা বৈধ? বর্ণনাটি লক্ষ্য করুন, … ইয ইয়াতানাযাউনা বাইনাহুম আমরাহুম ফাক্বলুবনু আলাইহিম বুনইয়ানা, রব্বুহুম আলামু বিহিম। ক্বল্লাযীনা গালাবূ আলা আমরিহিম লানাত্তাক্বিযাল্না আলাইহিম মাসজিদা। “...যখন তারা নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ করছিল, (কতক) বলল তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর, তাদের রব তাদের সম্পর্কে জানেন। তাদের কর্তব্য সম্পর্কে যাদের মতামত প্রাধান্য লাভ করল তারা বলল, আমরা তাদের উপর অবশ্যই মাসজিদ নির্মাণ করব।” -সূরাহ্ কাহফ (১৮), ২১

উত্তর : আপনার ব্যাখ্যাটি ভুল। কারণ, আয়াতটিতে কবরের উপরে মাসজিদ নির্মাণ করা যাবে বলা হয়নি। বরং, তখনকার লোকেরা কি করেছিল সেই ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে মাত্র। তাহলে আপনি কিভাবে বুঝলেন কবরের উপরে মাসজিদ নির্মাণ করা হালাল? বরং নাবী কবরের উপর মাসজিদ বানাতে নিষেধ করেছেন। আবু হুরইরহ্ নাবী থেকে বর্ণনা করেন, লানাল্লাহু ক্বওমান তাত্তাকিযূ ক্বুবুরা আম্বিয়ায়িহিম মাসাজিদা “...ঐ জাতির উপর আল্লাহ্'র অভিশাপ বর্ষণ হোক যারা নাবীদের কবরকে মাসজিদে রূপান্তর করে।” -মুসনাদে আহমাদ, স্বহীহ, হাদিস # ৭৩৫২। আবু সাঈদ হতে বর্ণিত, আন্নান নাবীয়্যা নহা আই ইউবনা আল্যাল ক্বাবরি। “নাবী কবরের উপরে কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।” -ইবনু মাজাহ্, স্বহীহ্, হাদিস # ১৫৬৪। এ হাদিসগুলো থেকে বুঝা যায়, কবরের উপর কোনো কিছু নির্মাণ করা নিষেধ। সুতরাং, পুণ্যবান ব্যক্তি তথা পীর বুজুর্গ, ওয়ালী-আওলিয়াদের স্মৃতি সংরক্ষণ করার ওয়াসিলাহ্ দিয়ে কবরের উপর মাজিদ, মাযার ইত্যাদি নির্মাণ করা হারাম এবং গর্হিত কাজ।

প্রশ্ন (২): আবু আইয়ুব আনসারী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে; তিনি নাবী এর কবরের কাছে এসে বলেন, ... জীতু রসূলাল্লাহি ওয়ালাম আতিহাল হাজারা ... “আমি নাবী এর কাছে এসেছি, পাথরের কাছে নয়” -মুসনাদে আহমদ, হাদিস # ২৩৪৭৬। এই রিওয়ায়াতটি প্রমাণ করে যে নাবী এর রওযা (কবর) পাকা ছিল, নতুবা স্বহাবী আবু আইয়ুব আনসারী মারওয়ানের কথা খণ্ডন করার সময় 'পাথর' শব্দটি ব্যবহার করতেন না। সুতরাং কবর পাকা করা বৈধ।

উত্তর : হাদিসটি যঈফ। কারণ সানাদে দাউদ বিন আবি সালেহ মাজহুল (অজ্ঞাত) রাবী। অতএব, হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রশ্ন (৩): সুফইয়ান তাম্মার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আন্নাহু রআ ক্বাবরান নাবীয়্যি মুসান্নামান "তিনি নাবী এর কবর উটের কুঁজের ন্যায় (উঁচু) দেখেছেন।” -বুখারী, হাদিস # ১৩৯০। এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, কবর উঁচু করা যায়। তাই মাযারে যে সমস্ত উচু কবর আছে তা শারী'আহ্'র দৃষ্টিতে বৈধ।

উত্তর : কবর উঁচু করার সীমা হচ্ছে এক বিঘত পর্যন্ত, এর বেশি নয়। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ... ওারুফিয়া ক্বাবরুহু মিনাল আরদ্বি নাহ্ওয়ান মিন শিবরিন রসূলুল্লহ্ এর ...কবর মাটি থেকে এক বিঘত উঁচু ছিল। -ইবনে হিব্বান, স্বহিহ্, হাদিস # ৬৭৯১।

প্রশ্ন (৪): আলীকে কবর সমান করার জন্য যে নির্দেশটি দেওয়া হয়েছিল, সেটি ছিলো কাফিরদের কবর, মুসলিমদের কবর নয়।

উত্তর : আপনার বক্তব্যটি ভুল। ছুমামাহ ইবনু শুফাই (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, “আমরা রোম সাম্রাজ্যের রূদাস উপদ্বীপে ফাদালাহ ইবনু উবাইদ এর সাথে ছিলাম। সেখানে আমাদের এক সাথী (দ্বীনি ভাই) মৃত্যুবরণ করল, তখন ফাদালাহ ইবনু উবাইদ নির্দেশ দিলে আমরা তাঁর কবরকে সমতল করে দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লহকে কবর সমতল করার নির্দেশ দিতে শুনেছি।” -সহীহ মুসলিম, হাদিস # ৯২/৯৬৮।

প্রশ্ন (৫): বর্তমানে দেখা যায় নাবী এর কবর মাসজিদের ভিতরে, যদি কবরের উপর মাজিদ তৈরি করা হারাম হয়, তবে নাবী এর কবর কেন মাসজিদের ভিতরে রয়েছে?

উত্তর: স্বহাবীদের যুগে নাবী এর কবর মাসজিদের ভিতরে ছিল না। বরং খলীফাহ্ ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক ৮৮ হিজরীতে নাবী এর কবরকে মাসজিদের ভিতরে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তখন কোন স্বহাবী মাদীনায় জীবিত ছিলেন না। জুনদুব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নাবী এর মৃত্যুর ৫ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি, ... আনাল্লা মান কানা ক্বাবলাকুম কানূ তাত্তাকিযূনা ক্বুবুরা আম্বিয়ায়িহিম ওয়া সলিহীহিম মাসাজিদা আলা ফালা তাত্তাকিযুল ক্বুবুরা মাসাজিদা ইন্নী আনহাকুম আন যালিকা। “...নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নাবী এবং সৎলোকদের কবরকে মাসজিদ বানিয়েছিল। সাবধান তোমরা কবরগুলোকে মাজিদ বানাবে না।” -মুসলিম, হাদিস # ২৩/৫৩২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px