📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 রোগাক্রান্ত হয়ে বা রোগভোগের পর মৃত্যুবরণ করা

📄 রোগাক্রান্ত হয়ে বা রোগভোগের পর মৃত্যুবরণ করা


রোগাক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। রোগাক্রান্ত হলেই যেখানে গুনাহ মাফ হয় সেখানে কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায় বা রোগ ভোগ করে মারা যায় তাহলে তারও গুনাহ মাফ হওয়া তো স্বাভাবিক। এ মর্মে আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেন যে, নাবী বলেছেন:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ ابْتَلَاهُ اللهُ فِي جَسَدِهِ إِلَّا كُتِبَ لَهُ مَا كَانَ يَعْمَلُ فِي صِحَّتِهِ ، مَا كَانَ مَرِيضًا ، فَإِنْ عَافَاهُ ، أَرَاهُ قَالَ : غَسَلَهُ ، وَإِنْ قَبَضَهُ غَفَرَ لَهُ
"যে কোন মুসলিমকে আল্লাহ যখন দৈহিকভাবে পরীক্ষায় ফেলে দেন (অর্থাৎ রোগগ্রস্ত করেন) তার সুস্থাবস্থায় সে যেরূপ 'আমল করত ঠিক সেরূপ সাওয়াবই তার 'আমলনামায় লিখিত হয় যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি এরূপ রোগে আক্রান্ত থাকে। অতঃপর যদি তিনি তাকে নিরোগ করেন তবে- আমার যতদূর মনে পড়ে, তিনি বলেছেন- তাকে তিনি (তার পাপ) ধৌত করে দেন। [অর্থাৎ তার গুনাহ হতে মুক্ত করে দেন। আর যদি তাকে মৃত্যু প্রদান করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দেন। "৪৩৬

টিকাঃ
৪৩৬. সহীহ ইবনু হিব্বান, খ. ২, পৃ. ৫৪; আল আদাব আল মুফরাদ: ৫০১; আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সম্পূর্ণত দুই ব্যক্তির মধ্যে সর্বপ্রথম কথা বলার উদ্যোগ গ্রহণ করা

📄 সম্পূর্ণত দুই ব্যক্তির মধ্যে সর্বপ্রথম কথা বলার উদ্যোগ গ্রহণ করা


দুই ব্যক্তির মাঝে কোনো কারণে সম্পর্ক নষ্ট হলে তাদের মধ্যে যে সর্বপ্রথম অপরজনের সাথে কথা বলা বা সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আনাস ইবন মালিক-এর চাচাতো ভাই হিশাম ইবন 'আমির আল আনসারী (যার পিতা উহুদের যুদ্ধের দিন শহীদ হন) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি,
لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يُصَارِمَ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلَاثٍ ، فَإِنَّهُمَا نَاكِبَانِ عَنِ الْحَقِّ مَا دَامًا عَلَى صِرَامِهِمَا ، وَإِنَّ أَوَّلَهُمَا فَيْئًا يَكُونُ كَفَّارَةً عَنْهُ سَبْقُهُ بِالْفَيْءِ ، وَإِنْ مَاتَا عَلَى صِرَامِهِمَا لَمْ يَدْخُلَا الْجَنَّةَ جَمِيعًا أَبَدًا ، وَإِنْ سَلَّمَ عَلَيْهِ فَأَبِي أَنْ يَقْبَلَ تَسْلِيمَهُ وَسَلَامَهُ ، رَدَّ عَلَيْهِ الْمَلَكُ ، وَرَدَّ عَلَى الْآخَرِ الشَّيْطَانُ»
“কোন মুসলিমের জন্য অপর কোন মুসলিমের সাথে তিন দিনের অধিককাল সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়িয নয়। যদি তারা এরূপ সম্পর্কচ্যুতভাবে থাকে তবে যতক্ষণ তারা এভাবে সম্পর্কচ্যুত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা দু'জনেই সত্য বিমুখ বলে গণ্য হবে। তদের মধ্যে যে প্রথম কথা বলার উদ্যোগ গ্রহণ করবে তার এই উদ্যোগ পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফ্ফারাহ্ স্বরূপ হবে। আর যদি তারা দু'জনই এরূপ সম্পর্কচ্যুতভাবে মারা যায়, তবে তারা দু'জনের কেউই কখনও জান্নাতে যেতে পারবে না। যদি তাদের একজন অপরজনকে সালাম করে আর দ্বিতীয়জন তা গ্রহণ করতে রাযী না হয় তবে তার সালামের জবাব একজন ফেরেশতা দিয়ে থাকেন, আর দ্বিতীয়জনকে জবাব দেয় শয়তান।"৪৩৭

টিকাঃ
৪৩৭. আল মু'জামুল কাবীর, খ. ২২, পৃ. ১৭৫, হাদীস নং ৪৫৫; আলবানী আস্ সহীহাহ্ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ১২৪৬।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সালাম প্রদান করা ও সুন্দর কথা বলা

📄 সালাম প্রদান করা ও সুন্দর কথা বলা


মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সালামের আদান-প্রদান অন্যতম প্রাচীন রীতি। এটি গুবই গুরুত্বপূর্ণ ' থাকে তবে যতক্ষণ তারা এভাবে সম্পর্কচ্যুত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা দু'জনেই সত্য বিমুখ বলে গণ্য হবে। তদের মধ্যে যে প্রথম কথা বলার উদ্যোগ গ্রহণ করবে তার এই উদ্যোগ পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফ্ফারাহ্ স্বরূপ হবে। আর যদি তারা দু'জনই এরূপ সম্পর্কচ্যুতভাবে মারা যায়, তবে তারা দু'জনের কেউই কখনও জান্নাতে যেতে পারবে না। যদি তাদের একজন অপরজনকে সালাম করে আর দ্বিতীয়জন তা গ্রহণ করতে রাযী না হয় তবে তার সালামের জবাব একজন ফেরেশতা দিয়ে থাকেন, আর দ্বিতীয়জনকে জবাব দেয় শয়তান।"৪৩৭

টিকাঃ
৪৩৭. আল মু'জামুল কাবীর, খ. ২২, পৃ. ১৭৫, হাদীস নং ৪৫৫; আলবানী আস্ সহীহাহ্ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ১২৪৬।

মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক সালামের আদান-প্রদান অন্যতম প্রাচীন রীতি। এটি গুবই গুরুত্বপূর্ণ 'আমল, যার মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় ও সাওয়াব অর্জিত হয়। কিন্তু সালামের সাথে সাথে সুন্দর কথা বলাও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এই দু'টি কাজ বান্দাকে গুনাহ থেকে মুক্তি দেয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِنَّ مُوْجِبَاتِ الْمَغْفِرَةِ بَذْلُ السَّلَامِ وَحُسْنُ الْكَلَامِ
"সালাম প্রদান ও সুন্দর কথা বলা মাগফিরাত বা ক্ষমাকে আবশ্যক করে দেয়।"৪৩৮

টিকাঃ
৪৩৮. সহীহ আল জামি' : ২২৩২, হাদীসটি সহীহ।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সূরা মুলক তেলাওয়াত করা

📄 সূরা মুলক তেলাওয়াত করা


কুরআনের যে কয়টি সূরার কিছু নির্দিষ্ট ফযীলত রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সূরা হলো সূরা আল মুল্ক। এই সূরাটি গুনাহ মাফের অন্যতম উপায় হতে পারে। আবূ হুরায়রাহ্ � থেকে বর্ণিত। নাবী ﷺ বলেছেন:
إِنَّ سُورَةً مِنْ الْقُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ»
"ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট কুরআনের একটি সূরা পাঠের কারণে যদি তা কোন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করে তাহলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়। সেই সূরাটি হল 'তাবা-রাআমল, যার মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় ও সাওয়াব অর্জিত হয়। কিন্তু সালামের সাথে সাথে সুন্দর কথা বলাও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এই দু'টি কাজ বান্দাকে গুনাহ থেকে মুক্তি দেয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِنَّ مُوْجِبَاتِ الْمَغْفِرَةِ بَذْلُ السَّلَامِ وَحُسْنُ الْكَلَامِ
"সালাম প্রদান ও সুন্দর কথা বলা মাগফিরাত বা ক্ষমাকে আবশ্যক করে দেয়।"৪৩৮

টিকাঃ
৪৩৮. সহীহ আল জামি' : ২২৩২, হাদীসটি সহীহ।

কুরআনের যে কয়টি সূরার কিছু নির্দিষ্ট ফযীলত রয়েছে তারকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুল্ক' (সূরা আল মুল্ক)।"৪৩৯

টিকাঃ
৪৩৯. জামি' আত্ তিরমিযী: ৩৫৪০, হাদীসটি হাসান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00