📄 বালা-মুসীবতে পতিত হওয়া
বালা-মুসীবত মানবজীবনের অপরিহার্য অংশ। কোন বিপদে পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। যে যত বেশি নবী-রাসূলগণের অনুসরণ করতে চেষ্টা করবে তার বিপদ-আপদ বেশি হবে। তবে এগুলো ইতিবাচক পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ হয়। যদি বান্দা প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারে না যে, তার জন্য বিপদে কী করা উচিত। তার উচিত ধৈর্যধারণ করা ও বিপদ থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা এবং বিপদ থেকে বের হওয়ার সাধ্য মোতাবেক চেষ্টা করা। আমরা কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হলে শয়তানের ওয়াসওয়াসায় বিভ্রান্ত হই। হতে পারে এই পরীক্ষার মধ্যে আমাদের জন্য কল্যাণ আছে আর যা আমরা চাচ্ছি তার মধ্যে অকল্যাণ আছে। কিতালের প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ﴾
"হতে পারে কোন বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।” ৪২১
মু'মিন কখনো বিপদে পড়লে তাতে যে সে কষ্ট অনুভব করে তার জন্য তার কিছু গুনাহ মাফ করা হয়। উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
«مَا مِنْ مُصِيبَةٍ تُصِيبُ الْمُسْلِمَ إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا عَنْهُ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا»
"মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে সকল বিপদ-আপদ আপতিত হয় এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে বিদ্ধ হয় এর দ্বারাও (গুনাহ মাফ হয়)। "৪২২
সহীহুল বুখারীরই অন্য এক বর্ণনায় আছে, আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী বলেছেন:
مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمْ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًى وَلَا غَمْ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ
"মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে সকল ক্লান্তি, যাতনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, কষ্ট, কঠিন দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী আপতিত হয়, এমন কি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এ সবের দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।"৪২৩
আবূ হুরায়রাহ্ বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُشَاكُ شَوْكَةً فِي الدُّنْيَا يَحْتَسِبُهَا ، إِلَّا قُصَّ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
"যে কোন মুসলিমের গায়ে এই দুনিয়ায় একটি কাঁটা বিঁধে এবং সে এর বিনিময়ে সাওয়াবের আশা রাখে, তার জন্য ক্বিয়ামাতের দিন তার গুনাহরাশি মার্জনা করা হবে।"৪২৪
'আয়িশাহ্ বলেন যে, নাবী প্রায়ই বলতেন,
مَا أَصَابَ الْمُؤْمِنَ مِنْ شَوْكَةٍ فَمَا فَوْقَهَا ، فَهُوَ كَفَّارَةٌ
"মু'মিন বান্দার গায়ে কোন কাঁটা বিঁধা হতে শুরু করে যত বিপদই আপতিত হয় তা তার গুনাহের কাফ্ফারাহ্ হয়ে যায়। "৪২৫
হাদীসে এসেছে,
عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءٌ قَالَ الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ فَيُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبٍ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ دِينُهُ صُلْبًا اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَةٌ ابْتُلِي عَلَى حَسَبٍ دِينِهِ فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي عَلَى الْأَرْضِ مَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ.
মুস'আব ইবনু সা'দ (রহিমাহুল্লাহ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (সা'দ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মাঝে কার বিপদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়? তিনি বললেন: "নাবীদের বিপদের পরীক্ষা, তারপর যারা উৎকৃষ্ট তাদের, এরপর যারা উৎকৃষ্ট তাদের বিপদের পরীক্ষা। মানুষকে তার দীনের উপর দৃঢ়তার অনুপাতে অনুসারে পরীক্ষা করা হয়। তুলনামূলকভাবে যে লোক বেশি ধার্মিক তার পরীক্ষাও সে অনুপাতে কঠিন হয়ে থাকে। আর যদি কেউ তার দ্বীনের ক্ষেত্রে শিথিল হয়ে থাকে তাহলে তাকে সে মোতাবেক পরীক্ষা করা হয়। অতএব, এ জাতীয় বান্দার উপর বিপদাপদ লেগেই থাকে, অবশেষে তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে, সে যমীনে চলাফেরা করে অথচ তার কোন গুনাহই থাকে না।"৪২৬
আনাস হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
إِذَا ابْتَلَى اللهُ الْعَبْدَ الْمُسْلِمَ بِبَلَاءٍ فِي جَسَدِهِ قَالَ لِلْمَلَكِ اكْتُبْ لَهُ صَالِحَ عَمَلِهِ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُ فَإِنْ شَفَاهُ غَسَلَهُ وَطَهَّرَهُ وَإِنْ قَبَضَهُ غَفَرَ لَهُ وَرَحِمَهُ
"আল্লাহ তা'আলা যখন কোনো মুসলিম বান্দাকে শারীরিক অসুস্থতা দিয়ে পরীক্ষা করেন তখন তিনি ফেরেশতাকে আদেশ করেন, তুমি তার 'আমলনামায় সেই ভালো 'আমলগুলো ('আমলের সাওয়াবগুলো) লেখ যা সে (সুস্থাবস্থায়) করতো। যদি তাকে সুস্থতা দান করেন তাহলে তার পাপ ধুয়ে দেন ও তাকে পবিত্র করে ফেলেন। আর যদি তিনি তার মৃত্যু দেন তাহলে তাকে মাফ করে দেন এবং তাকে রহম করেন।"৪২৭
আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ وَالْمُؤْمِنَةِ فِي نَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَمَالِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ
"মু'মিন পুরুষ ও নারীর জীবন, সন্তান-সন্ততি ও তার সম্পদে (বিপদ-আপদ দ্বারা) পরীক্ষা হতে থাকে। পরিশেষে সে আল্লাহ তা'আলার সাথে নিষ্পাপ হয়ে সাক্ষাৎ করে।"৪২৮
আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
لَمَّا نَزَلَتْ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ بَلَغَتْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ مَبْلَغَا شَدِيدًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ لا قَارِبُوا وَسَدِّدُوا فَفِي كُلِّ مَا يُصَابُ بِهِ الْمُسْلِمُ كَفَّارَةٌ حَتَّى النَّكْبَةِ يُنْكَبُهَا أَوِ الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا»
যখন এ আয়াত ﴾مَنْ يَعْمَلْ سُوْءًا يُجْزَ بِهِ )যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে, তাকে তার শাস্তি দেয়া হবে) অবতীর্ণ হল তখন কতক মুসলিম ভয়ানক দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর এবং সঠিক পন্থায় চলমান থাক। একজন মুসলিম তার প্রত্যেকটি বিপদের বিনিময়ে এমনকি সে আছাড় খেলে কিংবা তার শরীরে কোন কাঁটা বিদ্ধ হলেও তাতে তার (গুনাহের) কাফ্ফারাহ্ হয়ে যায়। ৪২৯
আল আসওয়াদ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
اعْتَلَجَ نَاسٌ فَأَصَابَ طُنُبُ الْفُسْطَاطِ عَيْنَ رَجُلٍ مِنْهُمْ فَضَحِكُوا فَقَالَتْ عَائِشَةُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ يَقُولُ مَا مِنْ مُؤْمِنٍ تَشُوكُهُ شَوْكَةٌ فَمَا فَوْقَهَا إِلَّا حَطَّ اللهُ عَنْهُ خَطِيئَةً وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً
লোকেরা ধস্তা-ধস্তি বা কুস্তি করছিল, এমতাবস্থায় তাবুর রশি তাদের একজনের চোখে বিঁধলো বা আঘাত করলো। এতে অন্য সবাই হেসে উঠলো। অতঃপর 'আয়িশাহ্ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি, "যে কোন মু'মিনের গায়ে এই দুনিয়ায় একটি কাঁটা বিঁধে বা এর চেয়ে বেশি কিছু ভোগ করে (কষ্ট পায়) তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার একটি গুনাহ মাফ করেন এবং এর বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা উন্নীত করা হয়।"৪৩০
টিকাঃ
৪২১. সূরা আল বাক্বারাহ্ ০২: ২১৬।
৪২২. সহীহুল বুখারী: ৫৬৪০, সহীহ মুসলিম: ৬৭৩০, শব্দ বুখারীর।
৪২৩. সহীহুল বুখারী: ৫৬৪১-৬৫৪২।
৪২৪. আল আদাবুল মুফরাদ : ৫০৭, হাদীসটি সহীহ। আলাবানী আস্ সহীহাহ্ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ২৫০৩।
৪২৫. আল আদাবুল মুফরাদ: ৫০৬, হাদীসটি সহীহ।
৪২৬. জামি' আত্ তিরমিযী: ২৩৯৮, হাদীসটি হাসান সহীহ।
৪২৭. মুসনাদে আহমাদ: ১৩৭১২, হাদীসটি হাসান।
৪২৮. জামি' আত্ তিরমিযী: ২৩৯৯, হাদীসটি হাসান সহীহ।
৪২৯. সহীহ মুসলিম: ৬৭৩৪; জামি' আত্ তিরমিযী: ৩০৩৪।
৪৩০. মুসনাদে আহমাদ ২৬১৭৫, হাদীসটির সনদ সহীহ।
📄 রোগ-বালাই হওয়া
মুসলিম ব্যক্তির কোন রোগ হলে তার যে কষ্ট হয় তার বিনিময়েও আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করেন। মু'মিন ব্যক্তির যে কোন রোগ হলে এর বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন। হাদীসে কী পরিমাণ গুনাহ মাফ করা হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তাই আশা করা যায় আল্লাহ এর মাধ্যমে সকল সগীরা গুনাহ মাফ করবেন। নানী বলেছেন:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى مِنْ مَرَضٌ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللَّهُ بِهِ سَيِّئَاتِهِ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا
“কোন মুসলিম যখনই কোন রোগ অথবা অন্য কিছুর মাধ্যমে কষ্ট পায়, কাঁটা বিধে বা তার চেয়েও কঠিন কষ্ট হয়, আল্লাহ তা'আলা এর কারণে তার গুনাহসমূহকে মোচন করে দেন এবং তার গুনাহসমূহকে এভাবে ঝরিয়ে দেয়া হয় যেভাবে গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়। "৪৩১
জাবির হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী-কে বলতে শুনেছি,
مَا مِنْ مُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ ، وَلَا مُسْلِمٍ وَلَا مَسْلَمَةٍ ، يَمْرَضُ مَرَضًا إِلَّا قَصَّ اللَّهُ بِهِ عَنْهُ مِنْ خَطَايَاهُ
"যে কোন মু'মিন পুরুষ অথবা নারী, যে কোন মুসলিম পুরুষ অথবা নারী রোগাক্রান্ত হয় এর বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহরাশি মোচন করে দেন। "৪৩২
জাবির বলেন, উম্মে সায়িব বা উম্মে মুসাইয়িব-এর জ্বর হলে রাসূলুল্লাহ তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে উম্মে সায়িব বা উম্মে মুসাইয়িব! তোমার কী হয়েছে যে, থরথর করে কাঁপছো? সে বললো, জ্বর হয়েছে, আল্লাহ তাতে বরকত না দিন। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ বললেন:
لا تَسُتِي الْحُتَّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الْكِيرُ خَبَثَ الحديد
"জ্বরকে গালি দিও না। জ্বর তো আদম সন্তানের পাপ মোচন করে যেমন হাপর লোহার ময়লা দূর করে।"৪৩৩
'আবদুর রহমান ইবন সা'ঈদ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
كُنْتُ مَعَ سَلْمَانَ ، وَعَادَ مَرِيضًا فِي كِنْدَةَ ، فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ : أَبْشِرُ ، فَإِنَّ مَرَضَ الْمُؤْمِنِ يَجْعَلُهُ اللهُ لَهُ كَفَّارَةً وَمُسْتَعْتَبًا ، وَإِنَّ مَرَضَ الْفَاجِرِ كَالْبَعِيرِ عَقَلَهُ أَهْلُهُ ثُمَّ أَرْسَلُوهُ ، فَلَا يَدْرِي لِمَ عُقِلَ وَلِمَ أُرْسِلَ.
আমি একদিন সালমান -এর সাথে ছিলাম। তিনি তখন কিন্দায় এক রোগী দেখতে (অর্থাৎ তার কুশল জিজ্ঞেস করতে) গিয়েছিলেন। যখন তিনি তার শয্যাপাশে উপস্থিত হলেন তখন বললেন: সুসংবাদ গ্রহণ কর। কেননা, আল্লাহ তা'আলা মু'মিন বান্দার রোগকে তার গুনাহসমূহের কাফ্ফারাহ্ এবং কৈফিয়ত স্বরূপ গ্রহণ করেন। আর পাপী ব্যক্তির রোগ হল ঐ উটের মত যাকে তার মালিক পা মিলিয়ে বাঁধল। আবার ছেড়ে দিল অথচ সে জানল না যে কেন তাকে বাঁধা হল আর কেনই বা তাকে ছেড়ে দেয়া হল। ৪৩৪
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
" في هذه الاحاديث بشارة عظيمة للمسلمين ... وفيه تكفير الخطايا بالامراض والاسقام ومصايب الدنيا وهمومها وان قلت مشقتها وفيه رفع الدرجات بهذه الامور وزيادة الحسنات وهذا هو الصحيح الذي عليه جماهير العلماء"
"এ হাদীসগুলোর মধ্যে মুসলিমদের জন্য অনেক বড় সুসংবাদ রয়েছে।... এর মধ্যে রোগ-ব্যাধি, দুনিয়ার বিভিন্ন বিপদাপদ ও দুশ্চিন্তার বিনিময়ে গুনাহ মাফের ঘোষণা রয়েছে। যদিও এর জন্য সামান্য কষ্ট হোক না কেন এবং এগুলোর বিনিময়ে ব্যক্তির মর্যাদা উঁচু হয় এবং সাওয়াব বৃদ্ধি পায়। জামহূর 'আলিমগণ প্রদত্ত বিশুদ্ধ মত এটিই।"৪৩৫
টিকাঃ
৪৩১. সহীহুল বুখারী: ৫৬৪৮, সহীহ মুসলিম: ৬৭২৪।
৪৩২. আল আদাবুল মুফরাদ : ৫০৮, হাদীসটি সহীহ; আলবানী আস্ সহীহাহ্ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ২৫০৩।
৪৩৩. সহীহ মুসলিম: ৬৭৩৫।
৪৩৪. আল আদাবুল মুফরাদ: ৪৯৩; হাদীসটি সহীহ; আলবানী তাখরীজ আহাদীস আল আদাব আল মুফরাদ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ৪৯৩।
৪৩৫. শারহু সহীহ মুসলিম, খ. ১৬, পৃ. ২৪৪-৪৫।
📄 রোগাক্রান্ত হয়ে বা রোগভোগের পর মৃত্যুবরণ করা
রোগাক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। রোগাক্রান্ত হলেই যেখানে গুনাহ মাফ হয় সেখানে কেউ যদি রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায় বা রোগ ভোগ করে মারা যায় তাহলে তারও গুনাহ মাফ হওয়া তো স্বাভাবিক। এ মর্মে আনাস ইবন মালিক বর্ণনা করেন যে, নাবী বলেছেন:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ ابْتَلَاهُ اللهُ فِي جَسَدِهِ إِلَّا كُتِبَ لَهُ مَا كَانَ يَعْمَلُ فِي صِحَّتِهِ ، مَا كَانَ مَرِيضًا ، فَإِنْ عَافَاهُ ، أَرَاهُ قَالَ : غَسَلَهُ ، وَإِنْ قَبَضَهُ غَفَرَ لَهُ
"যে কোন মুসলিমকে আল্লাহ যখন দৈহিকভাবে পরীক্ষায় ফেলে দেন (অর্থাৎ রোগগ্রস্ত করেন) তার সুস্থাবস্থায় সে যেরূপ 'আমল করত ঠিক সেরূপ সাওয়াবই তার 'আমলনামায় লিখিত হয় যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি এরূপ রোগে আক্রান্ত থাকে। অতঃপর যদি তিনি তাকে নিরোগ করেন তবে- আমার যতদূর মনে পড়ে, তিনি বলেছেন- তাকে তিনি (তার পাপ) ধৌত করে দেন। [অর্থাৎ তার গুনাহ হতে মুক্ত করে দেন। আর যদি তাকে মৃত্যু প্রদান করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দেন। "৪৩৬
টিকাঃ
৪৩৬. সহীহ ইবনু হিব্বান, খ. ২, পৃ. ৫৪; আল আদাব আল মুফরাদ: ৫০১; আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
📄 সম্পূর্ণত দুই ব্যক্তির মধ্যে সর্বপ্রথম কথা বলার উদ্যোগ গ্রহণ করা
দুই ব্যক্তির মাঝে কোনো কারণে সম্পর্ক নষ্ট হলে তাদের মধ্যে যে সর্বপ্রথম অপরজনের সাথে কথা বলা বা সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আনাস ইবন মালিক-এর চাচাতো ভাই হিশাম ইবন 'আমির আল আনসারী (যার পিতা উহুদের যুদ্ধের দিন শহীদ হন) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি,
لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يُصَارِمَ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلَاثٍ ، فَإِنَّهُمَا نَاكِبَانِ عَنِ الْحَقِّ مَا دَامًا عَلَى صِرَامِهِمَا ، وَإِنَّ أَوَّلَهُمَا فَيْئًا يَكُونُ كَفَّارَةً عَنْهُ سَبْقُهُ بِالْفَيْءِ ، وَإِنْ مَاتَا عَلَى صِرَامِهِمَا لَمْ يَدْخُلَا الْجَنَّةَ جَمِيعًا أَبَدًا ، وَإِنْ سَلَّمَ عَلَيْهِ فَأَبِي أَنْ يَقْبَلَ تَسْلِيمَهُ وَسَلَامَهُ ، رَدَّ عَلَيْهِ الْمَلَكُ ، وَرَدَّ عَلَى الْآخَرِ الشَّيْطَانُ»
“কোন মুসলিমের জন্য অপর কোন মুসলিমের সাথে তিন দিনের অধিককাল সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়িয নয়। যদি তারা এরূপ সম্পর্কচ্যুতভাবে থাকে তবে যতক্ষণ তারা এভাবে সম্পর্কচ্যুত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা দু'জনেই সত্য বিমুখ বলে গণ্য হবে। তদের মধ্যে যে প্রথম কথা বলার উদ্যোগ গ্রহণ করবে তার এই উদ্যোগ পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফ্ফারাহ্ স্বরূপ হবে। আর যদি তারা দু'জনই এরূপ সম্পর্কচ্যুতভাবে মারা যায়, তবে তারা দু'জনের কেউই কখনও জান্নাতে যেতে পারবে না। যদি তাদের একজন অপরজনকে সালাম করে আর দ্বিতীয়জন তা গ্রহণ করতে রাযী না হয় তবে তার সালামের জবাব একজন ফেরেশতা দিয়ে থাকেন, আর দ্বিতীয়জনকে জবাব দেয় শয়তান।"৪৩৭
টিকাঃ
৪৩৭. আল মু'জামুল কাবীর, খ. ২২, পৃ. ১৭৫, হাদীস নং ৪৫৫; আলবানী আস্ সহীহাহ্ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ১২৪৬।