📄 সকাল-সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট দু'আ ১০ বার করে পড়া
সকাল-সন্ধ্যায় পড়া সুন্নাহ্ এমন একাধিক দু'আ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে সব দু'আ-যিক্রের ব্যপারে গুনাহ মাফের ফযীলত বর্ণিত হয়নি। নিম্নে উল্লিখিত হাদীসটিতে গুনাহ মাফের বিশেষ অফার ঘোষিত হয়েছে। আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ مَنْ قَالَهَا عَشْرَ مَرَّاتٍ حِينَ يُصْبِحُ كُتِبَ لَهُ بِهَا مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَ عَنْهُ بِهَا مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ عَدْلَ رَقَبَةٍ وَحُفِظَ بِهَا يَوْمَئِذٍ حَتَّى يُمْسِيَ وَمَنْ قَالَ مِثْلَ ذلِكَ حِينَ يُمْسِي كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ»
"কেউ যদি সকালে দশবার (নিম্নের) দু'আটি পাঠ করে তাহলে এর বিনিময়ে তার 'আমলনামায় ১০০টি সাওয়াব লিখে দেয়া হয়, তার 'আমলনামা থেকে ১০০টি গুনাহ মুছে ফেলা হয়, ১টি দাস মুক্তির সাওয়াব সে পায় এবং সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে (শয়তান ও বিপদাপদ থেকে) হিফাযাত করা হয়। আর সন্ধ্যায় কেউ যদি একই কাজ আবার করে তাহলে তার জন্য একই সাওয়াব রয়েছে।"৪১৬
দু'আটি হলো,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্দ ওয়াহুয়া 'আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সারা রাজত্ব, এবং তাঁরই নিমিত্তে সকল প্রশংসা। আর তিনি সর্ববস্তুর ওপর সর্বক্ষমতাবান।
'উমারাহ্ ইবন শাবীব আস্ সাবাঈ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ عَلَى إِثْرِ الْمَغْرِبِ بَعَثَ اللَّهُ مَسْلَحَةً يَحْفَظُونَهُ مِنَ الشَّيْطَانِ حَتَّى يُصْبِحَ وَكَتَبَ اللهُ لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ مُوجِبَاتٍ وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ مُوبِقَاتٍ وَكَانَتْ لَهُ بِعَدْلِ عَشْرِ رِقَابٍ مُؤْمِنَاتٍ
"কেউ যদি মাগরিবের পর দশবার (নিম্নের) এই দু'আটি পাঠ করে তবে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য সশস্ত্র প্রহরী ফেরেশতা দল পাঠাবেন যারা তাকে ভোর পর্যন্ত শয়তান থেকে রক্ষা করবে। এতে তার জন্য তিনি লিখবেন দশটি অবশ্য প্রাপ্য সাওয়াব, মাফ করে দিবেন তার জন্য ধ্বংসকর দশটি গুনাহ এবং তাতে তার দশজন মু'মিন দাস আযাদ করার সমতুল্য সাওয়াব হবে।"৪১৭
"আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সারা রাজত্ব, এবং তাঁরই নিমিত্তে সকল প্রশংসা। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু প্রদান করেন। আর তিনি সর্ববস্তুর উপর উপর সর্বক্ষমতাবান।"
টিকাঃ
৪১৬. মুসনাদে আহমাদ: ৮৭১৯, বুখারী-মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীসটি সহীহ।
৪১৭. জামি' আত্ তিরমিযী: ৩৫৩৪, হাদীসটি হাসান।
📄 তাশাহহুদ পড়ে সালাত শেষ করার সময় নির্দিষ্ট দু'আ পড়া
মিহজান ইবনু আদরা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (একদিন) মাসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন যে, এক ব্যক্তি তাশাহ্হুদ পড়ে সলাত শেষ করার সময় বললো,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ يَا اللهُ بِأَنَّكَ الْوَاحِدُ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ أَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইয়া আল্লা-হ বি আন্নাকাল ওয়াহিদুল আহাদুস্ সামাদ, আল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহ্ কুফুওয়ান আহাদ, আন তাগফিরালী যুনূবী ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রহীম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে চাই হে আল্লাহ! তুমি তো সেই সত্ত্বা যিনি এক ও একক এবং অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকেও জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি, আর তাঁর সমতুল্য/সমকক্ষ কেউ নেই। তুমি আমার গুনাহগুলোকে মাফ করে দাও। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, قَدْ غَفِرَ لَهُ "তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে"। এ বাক্যটি তিনি তিনবার বললেন। ৪১৮
টিকাঃ
৪১৮. সুনান আন-নাসায়ী: ১৩০০, হাদীসটির সনদ সহীহ।
📄 মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো
মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া এবং তার গোপনীয় বিষয়গুলো ঢেকে রাখা গুনাহ মাফের অন্যতম উপায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
مَنْ غَسَّلَ مَيِّتًا فَكَتَمَ عَلَيْهِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ أَرْبَعِيْنَ مَرَّةً
“যে ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয় এবং তার সকল গোপনীয় বিষয়গুলো ঢেকে রাখে, আল্লাহ তাকে চল্লিশবার ক্ষমা করেন।”৮১৯
অত্র হাদীসে ‘চল্লিশবার’ বলতে দুটি অর্থ বুঝাতে পারে। প্রথমত চল্লিশটি গুনাহ মাফ করেন। দ্বিতীয়ত বারবার গুনাহ করার পর একের পর এক মাফ করতে করতে চল্লিশবার পর্যন্ত মাফ করেন। অর্থাৎ, একবার গুনাহ করার পর মাফ চাইলে, তাকে মাফ করা হলো। আবার গুনাহ করার পর মাফ চাইলে, তাকে চল্লিশবার পর্যন্ত মাফ করা হবে।
ইমাম ত্ববারানী (রহিমাহুল্লাহ) তার বর্ণনায় مَرَّةً أَرْبَعِيْنَ (চল্লিশবার) এর স্থলে كَثِيْرَةً أَرْبَعِيْنَ (চল্লিশটি ক্বাবীরা গুনাহ) উল্লেখ করেছেন।৮২০
টিকাঃ
৮১৯. আল মুস্তাদরাক : ১৩০৭, তা'আবুল ঈমান : ৯২৬৫; হাদীসটির সনদ সহীহ।
৮২০. আল মু'জামুল কাবীর : ৯২৯; এই বর্ণনাটিকে আলবানী যঈফ বলেছেন কিন্তু ইবনু হাজার ‘আসকালানী সনদটিকে শক্তিশালী বলেছেন।
📄 বালা-মুসীবতে পতিত হওয়া
বালা-মুসীবত মানবজীবনের অপরিহার্য অংশ। কোন বিপদে পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। যে যত বেশি নবী-রাসূলগণের অনুসরণ করতে চেষ্টা করবে তার বিপদ-আপদ বেশি হবে। তবে এগুলো ইতিবাচক পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ হয়। যদি বান্দা প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারে না যে, তার জন্য বিপদে কী করা উচিত। তার উচিত ধৈর্যধারণ করা ও বিপদ থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা এবং বিপদ থেকে বের হওয়ার সাধ্য মোতাবেক চেষ্টা করা। আমরা কোন পরীক্ষার সম্মুখীন হলে শয়তানের ওয়াসওয়াসায় বিভ্রান্ত হই। হতে পারে এই পরীক্ষার মধ্যে আমাদের জন্য কল্যাণ আছে আর যা আমরা চাচ্ছি তার মধ্যে অকল্যাণ আছে। কিতালের প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ﴾
"হতে পারে কোন বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।” ৪২১
মু'মিন কখনো বিপদে পড়লে তাতে যে সে কষ্ট অনুভব করে তার জন্য তার কিছু গুনাহ মাফ করা হয়। উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
«مَا مِنْ مُصِيبَةٍ تُصِيبُ الْمُسْلِمَ إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا عَنْهُ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا»
"মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে সকল বিপদ-আপদ আপতিত হয় এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে বিদ্ধ হয় এর দ্বারাও (গুনাহ মাফ হয়)। "৪২২
সহীহুল বুখারীরই অন্য এক বর্ণনায় আছে, আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী বলেছেন:
مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمْ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًى وَلَا غَمْ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ
"মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে সকল ক্লান্তি, যাতনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, কষ্ট, কঠিন দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী আপতিত হয়, এমন কি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এ সবের দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।"৪২৩
আবূ হুরায়রাহ্ বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُشَاكُ شَوْكَةً فِي الدُّنْيَا يَحْتَسِبُهَا ، إِلَّا قُصَّ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
"যে কোন মুসলিমের গায়ে এই দুনিয়ায় একটি কাঁটা বিঁধে এবং সে এর বিনিময়ে সাওয়াবের আশা রাখে, তার জন্য ক্বিয়ামাতের দিন তার গুনাহরাশি মার্জনা করা হবে।"৪২৪
'আয়িশাহ্ বলেন যে, নাবী প্রায়ই বলতেন,
مَا أَصَابَ الْمُؤْمِنَ مِنْ شَوْكَةٍ فَمَا فَوْقَهَا ، فَهُوَ كَفَّارَةٌ
"মু'মিন বান্দার গায়ে কোন কাঁটা বিঁধা হতে শুরু করে যত বিপদই আপতিত হয় তা তার গুনাহের কাফ্ফারাহ্ হয়ে যায়। "৪২৫
হাদীসে এসেছে,
عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءٌ قَالَ الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ فَيُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبٍ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ دِينُهُ صُلْبًا اشْتَدَّ بَلَاؤُهُ وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَةٌ ابْتُلِي عَلَى حَسَبٍ دِينِهِ فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي عَلَى الْأَرْضِ مَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ.
মুস'আব ইবনু সা'দ (রহিমাহুল্লাহ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (সা'দ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মাঝে কার বিপদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়? তিনি বললেন: "নাবীদের বিপদের পরীক্ষা, তারপর যারা উৎকৃষ্ট তাদের, এরপর যারা উৎকৃষ্ট তাদের বিপদের পরীক্ষা। মানুষকে তার দীনের উপর দৃঢ়তার অনুপাতে অনুসারে পরীক্ষা করা হয়। তুলনামূলকভাবে যে লোক বেশি ধার্মিক তার পরীক্ষাও সে অনুপাতে কঠিন হয়ে থাকে। আর যদি কেউ তার দ্বীনের ক্ষেত্রে শিথিল হয়ে থাকে তাহলে তাকে সে মোতাবেক পরীক্ষা করা হয়। অতএব, এ জাতীয় বান্দার উপর বিপদাপদ লেগেই থাকে, অবশেষে তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে, সে যমীনে চলাফেরা করে অথচ তার কোন গুনাহই থাকে না।"৪২৬
আনাস হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
إِذَا ابْتَلَى اللهُ الْعَبْدَ الْمُسْلِمَ بِبَلَاءٍ فِي جَسَدِهِ قَالَ لِلْمَلَكِ اكْتُبْ لَهُ صَالِحَ عَمَلِهِ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُ فَإِنْ شَفَاهُ غَسَلَهُ وَطَهَّرَهُ وَإِنْ قَبَضَهُ غَفَرَ لَهُ وَرَحِمَهُ
"আল্লাহ তা'আলা যখন কোনো মুসলিম বান্দাকে শারীরিক অসুস্থতা দিয়ে পরীক্ষা করেন তখন তিনি ফেরেশতাকে আদেশ করেন, তুমি তার 'আমলনামায় সেই ভালো 'আমলগুলো ('আমলের সাওয়াবগুলো) লেখ যা সে (সুস্থাবস্থায়) করতো। যদি তাকে সুস্থতা দান করেন তাহলে তার পাপ ধুয়ে দেন ও তাকে পবিত্র করে ফেলেন। আর যদি তিনি তার মৃত্যু দেন তাহলে তাকে মাফ করে দেন এবং তাকে রহম করেন।"৪২৭
আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ وَالْمُؤْمِنَةِ فِي نَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَمَالِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ
"মু'মিন পুরুষ ও নারীর জীবন, সন্তান-সন্ততি ও তার সম্পদে (বিপদ-আপদ দ্বারা) পরীক্ষা হতে থাকে। পরিশেষে সে আল্লাহ তা'আলার সাথে নিষ্পাপ হয়ে সাক্ষাৎ করে।"৪২৮
আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
لَمَّا نَزَلَتْ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ بَلَغَتْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ مَبْلَغَا شَدِيدًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ لا قَارِبُوا وَسَدِّدُوا فَفِي كُلِّ مَا يُصَابُ بِهِ الْمُسْلِمُ كَفَّارَةٌ حَتَّى النَّكْبَةِ يُنْكَبُهَا أَوِ الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا»
যখন এ আয়াত ﴾مَنْ يَعْمَلْ سُوْءًا يُجْزَ بِهِ )যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে, তাকে তার শাস্তি দেয়া হবে) অবতীর্ণ হল তখন কতক মুসলিম ভয়ানক দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর এবং সঠিক পন্থায় চলমান থাক। একজন মুসলিম তার প্রত্যেকটি বিপদের বিনিময়ে এমনকি সে আছাড় খেলে কিংবা তার শরীরে কোন কাঁটা বিদ্ধ হলেও তাতে তার (গুনাহের) কাফ্ফারাহ্ হয়ে যায়। ৪২৯
আল আসওয়াদ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
اعْتَلَجَ نَاسٌ فَأَصَابَ طُنُبُ الْفُسْطَاطِ عَيْنَ رَجُلٍ مِنْهُمْ فَضَحِكُوا فَقَالَتْ عَائِشَةُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ يَقُولُ مَا مِنْ مُؤْمِنٍ تَشُوكُهُ شَوْكَةٌ فَمَا فَوْقَهَا إِلَّا حَطَّ اللهُ عَنْهُ خَطِيئَةً وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً
লোকেরা ধস্তা-ধস্তি বা কুস্তি করছিল, এমতাবস্থায় তাবুর রশি তাদের একজনের চোখে বিঁধলো বা আঘাত করলো। এতে অন্য সবাই হেসে উঠলো। অতঃপর 'আয়িশাহ্ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি, "যে কোন মু'মিনের গায়ে এই দুনিয়ায় একটি কাঁটা বিঁধে বা এর চেয়ে বেশি কিছু ভোগ করে (কষ্ট পায়) তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার একটি গুনাহ মাফ করেন এবং এর বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা উন্নীত করা হয়।"৪৩০
টিকাঃ
৪২১. সূরা আল বাক্বারাহ্ ০২: ২১৬।
৪২২. সহীহুল বুখারী: ৫৬৪০, সহীহ মুসলিম: ৬৭৩০, শব্দ বুখারীর।
৪২৩. সহীহুল বুখারী: ৫৬৪১-৬৫৪২।
৪২৪. আল আদাবুল মুফরাদ : ৫০৭, হাদীসটি সহীহ। আলাবানী আস্ সহীহাহ্ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ২৫০৩।
৪২৫. আল আদাবুল মুফরাদ: ৫০৬, হাদীসটি সহীহ।
৪২৬. জামি' আত্ তিরমিযী: ২৩৯৮, হাদীসটি হাসান সহীহ।
৪২৭. মুসনাদে আহমাদ: ১৩৭১২, হাদীসটি হাসান।
৪২৮. জামি' আত্ তিরমিযী: ২৩৯৯, হাদীসটি হাসান সহীহ।
৪২৯. সহীহ মুসলিম: ৬৭৩৪; জামি' আত্ তিরমিযী: ৩০৩৪।
৪৩০. মুসনাদে আহমাদ ২৬১৭৫, হাদীসটির সনদ সহীহ।