📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 মুহাররমের ১০ তারিখ (‘আশূরার) সিয়াম রাখা

📄 মুহাররমের ১০ তারিখ (‘আশূরার) সিয়াম রাখা


রমাযানের ফরয সিয়ামের পরে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ সিয়াম হচ্ছে 'আশূরা দিনের (অর্থাৎ মুহাররম মাসের ১০ তারিখের) সিয়াম। এই সিয়াম পূর্বের এক বছরের গুনাহ মাফ করায়। কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী 'আশূরার সাওম (মুহাররম মাসের দশ তারিখে সিয়াম) পালন করার ফযীলত সম্পর্কে বলেন,
صِيَامُ يَوْمٍ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ
"আর 'আশূরার সাওম (রোযা) সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর মাধ্যমে বান্দার পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন।"৩৯০
উল্লেখ্য যে, এই দিনের সাথে সাথে আগের দিন (৯ তারিখ) বা পরের দিন (১১ তারিখ) মোট দুই দিন সিয়াম পালন করা মুস্তাহাব ও অধিক ফযীলতের।

টিকাঃ
৩৯۰. সহীহ মুসলিম: ২৮০৩।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠ করা

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠ করা


রাসূলুল্লাহ -এর প্রতি সলাত ও সালাম পেশ করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি 'আমল। তাঁর প্রতি সলাত পেশ করলে শুধু সাওয়াবই হয় না বরং গুনাহও মাফ হয়। আনাস ইবন মালিক নাবী -এর বরাত দিয়ে বলেন যে, তিনি বলেছেন:
مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا ، وَحَطَّ عَنْهُ عَشْرَ خَطِيئَاتٍ
"যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার সলাত আদায় করবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন এবং তার দশটি গুনাহ মোচন করেন।"৩৯১
আবূ ত্বলহাহ্ আল আনসারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَصْبَحَ رَسُولُ اللهِ لا يَوْمًا طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِهِ الْبِشْرُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصْبَحْتَ الْيَوْمَ طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِكَ الْبِشْرُ قَالَ أَجَلْأَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فَقَالَ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ صَلَاةٌ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ وَتَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ
একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ প্রফুল্ল মনে সকাল করলেন। তখন তার চেহারায় আনন্দের ছাপ দেখা যাচ্ছিল। তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আজ আপনি প্রফুল্লচিত্তে সকাল করেছেন, এতে আপনার চেহারায় খুশির ছাপ দেখা যাচ্ছে। (এর কারণ কী?) তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার কাছে আমার সম্মানিত রবের পক্ষ থেকে একজন আগমণকারী এসে বললো,
"আপনার উম্মাতের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তোমার প্রতি একবার সলাত পাঠ করবে আল্লাহ তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখে দেন, তার দশটি গুনাহ মোচন করেন এবং তার মর্যাদার দশটি স্তর বৃদ্ধি করে দেন।"৩৯২

টিকাঃ
৩৯۱. মুসনাদ আহমাদ: ১১৯৯৮; আলবানী আস্ সহীহাহ্ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ৮২৯।
৩৯۲. মুসনাদ আহমাদ: ১৬৩৫২; সনদ হাসান।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 দান-সদাক্বাহ্ করা

📄 দান-সদাক্বাহ্ করা


দান-সদাক্বাহ্ একদিকে যেমন আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার ও তাঁর ক্রোধ প্রশমনের মাধ্যম তেমনি তা দাতার গুনাহ মাফেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দান-খয়রাত করলে পাপ ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿إِنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ﴾
"তোমরা যদি সদাক্বাহ্ প্রকাশ কর, তবে তা উত্তম। আর যদি তা গোপন কর এবং ফকীরদেরকে তা দাও, তাহলে তাও তোমাদের জন্য উত্তম এবং তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ মুছে দেবেন। আর তোমরা যে 'আমল কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।"৩৯৩
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন:
﴿إِنْ تُقْرِضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفُهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ﴾
"যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুন করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল।"৩৯৪
কা'ব ইবন 'উজরাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
«الصَّوْمُ جُنَّةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ»
“সিয়াম হল ঢাল স্বরূপ। আর সদাক্বাহ্ গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে (নিশ্চিহ্ন) করে দেয়।”৩৯৫

টিকাঃ
৩৯۳. সূরা আল বাক্বারাহ্ ০২: ২৭১।
৩৯۴. সূরা আত্ তাগা-বুন ৬৪: ১৭।
৩৯۵. সুনান আত্ তিরমিযী: ৬১৪, মুসনাদ আহমাদ: ১৫২৮৪, অনেকগুলো সূত্র ও শাহেদ থাকার কারণে সহীহ।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 ইসলামী মজলিসে ও যিকরে বসা

📄 ইসলামী মজলিসে ও যিকরে বসা


আমরা তো দুনিয়ার জীবনে কত শত রকমের সভা-সমাবেশে বসি। কিন্তু সেসব দুনিয়াকেন্দ্রিক সভা-সমাবেশে বসলে গুনাহ মাফ হওয়া তো দূরের কথা বরং উল্টা গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর আলোচনা হয় এমন ইসলামী সভায় বসলে গুনাহ মাফের ঘোষণা রয়েছে। আল্লাহর নাম, গুণ, বাণী স্মরণ করা হয় যে মজলিসে সে মজলিসে যারা বসে এবং আল্লাহর কাছে মাফ চায় তাদের গুনাহগুলো আল্লাহ মাফ করে দেন। এমনকি কেউ যদি ঐ মজলিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটু সময়ের জন্যও বসে তাহলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন। আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللهَ تَنَادَوْا هَلُمُّوا إِلَى حَاجَتِكُمْ قَالَ فَيَحُفُّونَهُمْ بِأَجْنِحَتِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا قَالَ فَيَسْأَلُهُمْ رَبُّهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ مِنْهُمْ مَا يَقُولُ عِبَادِي قَالُوا يَقُولُونَ يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيُمَجِدُونَكَ قَالَ فَيَقُولُ هَلْ رَأَوْنِي قَالَ فَيَقُولُونَ لَا وَاللَّهِ مَا رَأَوْكَ قَالَ فَيَقُولُ وَكَيْفَ لَوْ رَأَوْنِي قَالَ يَقُولُونَ لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا أَشَدَّ لَكَ عِبَادَةً وَأَشَدَّ لَكَ تَمْجِيدًا وَتَحْمِيدًا وَأَكْثَرَ لَكَ تَسْبِيحًا قَالَ يَقُولُ فَمَا يَسْأَلُونِي قَالَ يَسْأَلُونَكَ الْجَنَّةَ قَالَ يَقُولُ وَهَلْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُونَ لَا وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُ فَكَيْفَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُونَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ عَلَيْهَا حِرْصًا وَأَشَدَّ لَهَا طَلَبًا وَأَعْظَمَ فِيهَا رَغْبَةً قَالَ فَمِمَّ يَتَعَوَّذُونَ قَالَ يَقُولُونَ مِنَ النَّارِ
قَالَ يَقُولُ وَهَلْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُونَ لَا وَاللهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُ فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا قَالَ يَقُولُونَ لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ مِنْهَا فِرَارًا وَأَشَدَّ لَهَا مَخَافَةٌ قَالَ فَيَقُولُ فَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ قَالَ يَقُولُ مَلَكَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ فِيهِمْ فُلَانٌ لَيْسَ مِنْهُمْ إِنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ قَالَ هُمُ الْجُلَسَاءُ لَا يَشْقَى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ»
আল্লাহর একদল ফেরেশতা আছেন, যারা আল্লাহর যিক্র রত লোকেদের তালাশে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করেন। যখন তারা কোথাও আল্লাহর যিক্র রত লোকেদের দেখতে পান, তখন তাঁদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেন, তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো। তখন তাঁরা সবাই এসে তাদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকেদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত।
তখন তাদের রব তাদের জিজ্ঞেস করেন (অথচ এ সম্পর্কে ফেরেশতাদের চাইতে তিনিই বেশি জানেন) আমার বান্দারা কী বলছে? তখন তারা জবাব দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তখন তারা বলবেন: হে আমাদের রব, আপনার কসম! তারা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলবেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তারা বলবেন, যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও বেশি আপনার 'ইবাদাত করত, আরো অধিক আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করত, আর বেশি বেশি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।
বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বলবেন, তারা আমার কাছে কী চায়? তারা বলবেন, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলবেন, না। আপনার সত্তার কুসম হে রব! তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন যদি তারা তা দেখত তবে তারা কী করত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো বেশি লোভ করত, আরো অধিক চাইত এবং এর জন্য আরো অতিশয় উৎসাহী হয়ে উঠত।
আল্লাহ তা'আলা জিজ্ঞেস করবেন, তারা কিসের থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়? ফেরেশতাগণ বলবেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তাঁরা জবাব দিবেন, আল্লাহর কসম! হে রব! তারা জাহান্নাম দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, যদি তারা তা দেখত তখন তাদের কী হত? তারা বলবেন, যদি তারা তা দেখত, তবে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে সাংঘাতিক ভয় করত। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের মাফ করে দিলাম। তখন ফেরেশতাদের একজন বলবেন, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তারা এমন বৈঠকের সদস্য যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিমুখ হয় না। ৩৯৬
উল্লেখ্য যে, কোন মজলিসে কিছু লোক একত্রে বসে উচ্চ আওয়াজে সম্মিলিত যিক্র করা সুন্নাহ্ দ্বারা সাব্যস্ত নয়।

টিকাঃ
৩৯৬. সহীহুল বুখারী: ৬৪০৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00