📄 ‘আরাফাত দিবসের সিয়াম রাখা
হাজ্জের মৌলিক কাজ হচ্ছে যিলহাজ্জ মাসের ৯ তারিখে মক্কার অনতিদূরে 'আরাফাত ময়দানে সারাদিন অবস্থান করা। কিন্তু এই দিনে যারা 'আরাফাতের ময়দানের বাইরে থাকেন, অর্থাৎ হাজ্জ করেন না তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহসম্মত 'আমল হচ্ছে এই দিন সিয়াম পালন করা। আর এই একটি সিয়ামের মাধ্যমে ব্যক্তির পূর্বের একবছর ও পরের একবছরের গুনাহ মাফ করা হয়। ক্বাতাদাহ্ বলেন, নাবী 'আরাফার দিবসের সাওম পালন করার ফযীলত সম্পর্কে বলেছেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
"আর 'আরাফাত দিবসের সাওম (রোযা) সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এর মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।" ৩৮৭
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
"والمراد بها الصغائر ... أنه ان لم تكن صغائر يرجى التخفيف من الكبائر فان لم يكن رفعت درجات"
"এর দ্বারা সগীরা গুনাহ উদ্দেশ্য।... যদি সগীরা গুনাহ ব্যক্তির 'আমলনামায় না থাকে তাহলে তার কাবীরা গুনাহ (থাকলে) হালকা করা হবে বলে আশা করা যায়। আর যদি কাবীরা গুনাহও না থাকে তাহলে তার মর্যাদা উন্নীত করা হয়।"৩৮৮
সাহল বিন সা'দ বর্ণনা করেছেন, নাবী বলেন:
مَنْ صَامَ يَوْمَ عَرَفَةً غُفِرَ لَهُ ذَنْبٌ سَنَتَيْنِ مُتَتَابِعَتَيْنِ
"যে ব্যক্তি 'আরাফার দিন সিয়াম রাখে তার উপর্যুপরি দুই বছরের পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।"৩৮৯
টিকাঃ
৩৮۷. সহীহ মুসলিম: ২৮০৩।
৩৮۸. শারহু সহীহ মুসলিম, খ. ৮, পৃ. ২৯২।
৩৮۹. আল মু'জামুল কাবীর ৫৯২৩; সহীহুত তারগীব: ১০১২।
📄 মুহাররমের ১০ তারিখ (‘আশূরার) সিয়াম রাখা
রমাযানের ফরয সিয়ামের পরে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ সিয়াম হচ্ছে 'আশূরা দিনের (অর্থাৎ মুহাররম মাসের ১০ তারিখের) সিয়াম। এই সিয়াম পূর্বের এক বছরের গুনাহ মাফ করায়। কাতাদাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী 'আশূরার সাওম (মুহাররম মাসের দশ তারিখে সিয়াম) পালন করার ফযীলত সম্পর্কে বলেন,
صِيَامُ يَوْمٍ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ
"আর 'আশূরার সাওম (রোযা) সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর মাধ্যমে বান্দার পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন।"৩৯০
উল্লেখ্য যে, এই দিনের সাথে সাথে আগের দিন (৯ তারিখ) বা পরের দিন (১১ তারিখ) মোট দুই দিন সিয়াম পালন করা মুস্তাহাব ও অধিক ফযীলতের।
টিকাঃ
৩৯۰. সহীহ মুসলিম: ২৮০৩।
📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠ করা
রাসূলুল্লাহ -এর প্রতি সলাত ও সালাম পেশ করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি 'আমল। তাঁর প্রতি সলাত পেশ করলে শুধু সাওয়াবই হয় না বরং গুনাহও মাফ হয়। আনাস ইবন মালিক নাবী -এর বরাত দিয়ে বলেন যে, তিনি বলেছেন:
مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا ، وَحَطَّ عَنْهُ عَشْرَ خَطِيئَاتٍ
"যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার সলাত আদায় করবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন এবং তার দশটি গুনাহ মোচন করেন।"৩৯১
আবূ ত্বলহাহ্ আল আনসারী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَصْبَحَ رَسُولُ اللهِ لا يَوْمًا طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِهِ الْبِشْرُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصْبَحْتَ الْيَوْمَ طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِكَ الْبِشْرُ قَالَ أَجَلْأَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فَقَالَ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ صَلَاةٌ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ وَتَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ
একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ প্রফুল্ল মনে সকাল করলেন। তখন তার চেহারায় আনন্দের ছাপ দেখা যাচ্ছিল। তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আজ আপনি প্রফুল্লচিত্তে সকাল করেছেন, এতে আপনার চেহারায় খুশির ছাপ দেখা যাচ্ছে। (এর কারণ কী?) তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার কাছে আমার সম্মানিত রবের পক্ষ থেকে একজন আগমণকারী এসে বললো,
"আপনার উম্মাতের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তোমার প্রতি একবার সলাত পাঠ করবে আল্লাহ তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখে দেন, তার দশটি গুনাহ মোচন করেন এবং তার মর্যাদার দশটি স্তর বৃদ্ধি করে দেন।"৩৯২
টিকাঃ
৩৯۱. মুসনাদ আহমাদ: ১১৯৯৮; আলবানী আস্ সহীহাহ্ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ৮২৯।
৩৯۲. মুসনাদ আহমাদ: ১৬৩৫২; সনদ হাসান।
📄 দান-সদাক্বাহ্ করা
দান-সদাক্বাহ্ একদিকে যেমন আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার ও তাঁর ক্রোধ প্রশমনের মাধ্যম তেমনি তা দাতার গুনাহ মাফেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দান-খয়রাত করলে পাপ ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿إِنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ﴾
"তোমরা যদি সদাক্বাহ্ প্রকাশ কর, তবে তা উত্তম। আর যদি তা গোপন কর এবং ফকীরদেরকে তা দাও, তাহলে তাও তোমাদের জন্য উত্তম এবং তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ মুছে দেবেন। আর তোমরা যে 'আমল কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।"৩৯৩
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন:
﴿إِنْ تُقْرِضُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفُهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ﴾
"যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুন করে দিবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, পরম ধৈর্যশীল।"৩৯৪
কা'ব ইবন 'উজরাহ্ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
«الصَّوْمُ جُنَّةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ»
“সিয়াম হল ঢাল স্বরূপ। আর সদাক্বাহ্ গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে (নিশ্চিহ্ন) করে দেয়।”৩৯৫
টিকাঃ
৩৯۳. সূরা আল বাক্বারাহ্ ০২: ২৭১।
৩৯۴. সূরা আত্ তাগা-বুন ৬৪: ১৭।
৩৯۵. সুনান আত্ তিরমিযী: ৬১৪, মুসনাদ আহমাদ: ১৫২৮৪, অনেকগুলো সূত্র ও শাহেদ থাকার কারণে সহীহ।