📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 হজ্জের জন্য যাওয়ার বাহনের পা উঠানামা করা

📄 হজ্জের জন্য যাওয়ার বাহনের পা উঠানামা করা


হাজ্জে যাওয়ার বাহন যদি পশু হয় তাহলে সেই পশুর প্রতি কদমে হাজীর গুনাহ মাফের সুযোগ রয়েছে। 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী -কে বলতে শুনেছি,
مَا يَرْفَعُ إِبِلُ الْحَاجَ رِجْلًا وَلَا يَضَعُ يَدًا إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا حَسَنَةً أَوْ مَحَا عَنْهُ سَيِّئَةً أَوْ رَفَعَهُ بِهَا دَرَجَةً
"হাজীর উটের (প্রত্যেকবার) পা উঠানামার বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা হাজীর 'আমলনামায় একটি করে সাওয়াব লিখেন অথবা তার 'আমলনামা থেকে একটি গুনাহ মোচন করেন কিংবা এর মাধ্যমে তিনি তার মর্যাদা উন্নীত করেন। ৩৭৮
রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
فَإِنَّكَ إِذَا خَرَجْتَ مِنْ بَيْتِكَ تَؤُمُ الْبَيْتَ الْحَرَامَ لَا تَضَعُ نَاقَتُكَ خُفًّا وَلَا تَرْفَعُهُ إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَكَ بِهِ حَسَنَةٌ وَمَحَا عَنْكَ خَطِيئَةً
"যখন তুমি (হাজ্জ করার জন্য) বাইতুল্লাহিল হারাম-এর উদ্দেশে তোমার বাড়ি থেকে বের হবে তখন থেকেই তোমার উট যতবারই তার পা উঠানামা করে তার প্রতিটির বিনিময়ে আল্লাহ তোমার জন্য একটি সাওয়াব লেখেন এবং একটি গুনাহ মুছে দেন।"৩৭৯
রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
فَإِنَّ لَكَ مِنَ الْأَجْرِ إِذَا أَمَّمْتَ الْبَيْتَ الْعَتِيقَ أَلَّا تَرْفَعَ قَدَمًا أَوْ تَضَعَهَا أَنْتَ وَدَابَّتُكَ إِلَّا كُتِبَتْ لَكَ حَسَنَةٌ وَرُفِعَتْ لَكَ دَرَجَةً
"যখন তুমি (হাজ্জ করার জন্য) বাইতুল 'আতীক্ব (কা'বাহ্)-এর উদ্দেশে বের হবে তখন থেকেই তুমি ও তোমার বাহন (পশু) যতবারই তার পা উঠানামা করে তার প্রতিটির বিনিময়ে তোমার জন্য একটি সাওয়াব লেখা হয় এবং একটি মর্যাদার স্তর উন্নীত করা হয়। "৩৮০

টিকাঃ
৩৭৮. শু'আবুল ঈমান: ৪১১৬।
৩৭৯. সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব : ১১২, হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী।
৩৮০. আল মু'জামুল আওসাত: ২০২৩, হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 হজ্জ ও ‘উমরাহ্ পরস্পর করা

📄 হজ্জ ও ‘উমরাহ্ পরস্পর করা


পরপর হাজ্জ ও 'উমরাহ্ করলে জীবনের গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। নাবী বলেছেন:
تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ»
"তোমরা হজ্জকে 'উমরাহ্ ও 'উমরাহকে হজ্জের অনুগামী কর। (অর্থাৎ হাজ্জ করলে 'উমরাহ্ ও 'উমরাহ্ করলে হাজ্জ কর।) কারণ হাজ্জ ও 'উমরাহ্ উভয়েই দারিদ্র্য ও পাপরাশিকে সেরূপ দূরীভূত করে যেরূপ (কামারের) হাপর লোহার ময়লাকে দূরীভূত করে ফেলে।"৩৮১

টিকাঃ
৩৮১. সুনান আন্ নাসায়ী: ২৬৩০, ২৬৩১; জামি' আত্ তিরমিযী: ৮১০, হাদীসটি হাসান সহীহ।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করা

📄 হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করা


হাজারে আসওয়াদ চুম্বন ও রুক্সে ইয়ামানী স্পর্শ করলে পাপ মাফ হয়। নাবী বলেছেন:
إِنَّ مَسْحَ الحَجَرِ الْأَسْوَدِ والرُّكْنِ اليَمَانِي يَحُطَانِ الخَطايا حَطًّا»
"হাজারে আসওয়াদ ও রুক্সে ইয়ামানী উভয়কে স্পর্শ পাপ মোচন করে।"৩৮২
'আবদুল্লাহ ইবন 'উমার বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন,
إِنَّ مَسْحَهُمَا يَحْطَانِ الْخَطِيئَةَ»
"উভয়কে স্পর্শ পাপ মোচন করে।"৩৮৩
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
فالسنة في الحجر الاسود استلامه وتقبيله والسنة في الركن اليماني استلامه ولا يقبل"
"হাজরে আসওয়াদের ক্ষেত্রে সুন্নাহ্ হলো সেটি স্পর্শ করা ও চুমু দেয়া আর রুকনুল ইয়ামানীর ক্ষেত্রে সুন্নাহ্ হলো সেটি শুধু স্পর্শ করা, চুমু দেয়া (সুন্নাহ) নয়।"৩৮৪
অতএব যেহেতু রুকনে ইয়ামানী চুমু দেয়ার কোন দলীল নেই। সুতরাং তা বৈধ নয়।

টিকাঃ
৩৮২. আল মু'জামুল কাবীর: ১৩৪৩৮, সহীহ আল জামি': ২১৯৪।
৩৮৩. মুসনাদ তাহমাদ: ৫৭০১; সুনান আন্ নাসায়ী: ২৯১৯, হাদীসটি সহীহ।
৩৮۴. আল মাজমূ', খ. ৮, পৃ. ৩৭।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 কা’বা ঘর তুওয়াফ করা

📄 কা’বা ঘর তুওয়াফ করা


মুসলিমদের কিবলা কা'বাহ্ ঘর ত্বওয়াফ করা একটি রুত্বপূর্ণ 'ইবাদাত। হাজ্জ ও 'উমরাহ্ পালনের সময় ত্বওয়াফ করা জরুরি। কিন্তু সাধারণভাবে নফল হিসেবেও কা'বাহ্ ঘর ত্বওয়াফ করা অনেক ফযীলতের 'আমল। ত্বওয়াফের মাধ্যমে ত্বওয়াফকারীর গুনাহও মাফ হয়। নাবী বলেছেন:
مَنْ طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ أُسْبُوعًا يُحْصِيهِ كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ حَسَنَةٌ وَكُفْرَ عَنْهُ سَيِّئَةٌ وَرُفِعَتْ لَهُ دَرَجَةٌ وَكَانَ عَدْلَ عِتْقِ رَقَبَةٍ
"যে ব্যক্তি এই (কাবা) ঘর সাতবার চক্কর দেয় (অর্থাৎ একবার ত্বওয়াফ করে) তার প্রতি পদক্ষেপের (হাঁটার সময় পা রাখা-উঠানো) বিনিময়ে একটি করে সাওয়াব তার 'আমলনামায় লেখা হয় ও তার থেকে একটি করে গুনাহ মাফ করা হয় এবং তার মর্যাদা বাড়ানো হয় আর পুরো ত্বওয়াফ একটি দাসমুক্তির সমতুল্য।"৩৮৫
'উমায়র (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন,
أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنَيْنِ زِحَامًا مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِي يَفْعَلُهُ فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّكَ تُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنَيْنِ زِحَامًا مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِي لَا يُزَاحِمُ عَلَيْهِ فَقَالَ إِنْ أَفْعَلْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ لَا يَقُولُ إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ مَنْ طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ أُسْبُوعًا فَأَحْصَاهُ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ لَا يَضَعُ قَدَمًا وَلَا يَرْفَعُ أُخْرَى إِلَّا حَطَّ اللَّهُ عَنْهُ خَطِيئَةً وَكَتَبَ لَهُ بِهَا حَسَنَةً»
ইবনু 'উমার চাপাচাপি করে হলেও হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী বায়তুল্লাহর এই দুই রুকনে যেতেন। আমি একদিন তাঁকে বলাম, আপনি এ দু'টি রুকনে ভীড়ে চাপাচাপি করে হলেও গিয়ে উপস্থিত হন কিন্তু অন্য কোন সাহাবী তো এমন চাপাচাপি করে সেখানে যেতে দেখি না। তিনি বললেন, যদি আমি এরূপ চাপাচাপি করি তাতে দোষ কী? কেননা আমি তো রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি, এ দু'টো রুকন স্পর্শ করা স্পর্শকারীর গুনাহসমূহের কাফফারাহ্ হয়ে যায় তাঁকে আরো বলতে শুনেছি, কেউ যদি যথাযথ ভাবে বায়তুল্লাহর সাতবার তৃওয়াফ করে (অর্থাৎ সাত চক্কর দিয়ে এক ত্বওয়াফ সম্পন্ন করে) তাহলে তাতে একটি ক্রীতদাস মুক্ত করার মত সাওয়াব হয়। আমি তাঁকে আরো বলতে শুনেছি, ত্বওয়াফ করতে গিয়ে এমন কোন কদম সে রাখেনা বা তা উঠায় না যা দ্বারা তার একটি গুনাহ মাফ না হয় এবং একটি নেকী লেখা না হয়। ৩৮৬

টিকাঃ
৩৮۵. মুসনাদে আহমাদ: ৫৭০১।
৩৮۶. জামি' আত্ তিরমিযী: ৯৫৯, হাদীসটি সহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00