📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 রমাযানে ‘ইবাদাত করা

📄 রমাযানে ‘ইবাদাত করা


রমাযান 'ইবাদাতের মৌসুম। বছরের সবচেয়ে ফযীলতের মাস। এই মাসে সিয়াম পালন, ক্বিয়ামুল লাইল (তারাবীহ/তাহাজ্জুদের সলাত) আদায়, দান-সদাক্বাহ্ ইত্যাদির মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে। এই মাস গুনাহ মাফ পাওয়ারও মাস। এই মাসে বিভিন্ন 'ইবাদাত, তাওবাহ্ ও দু'আ করার মাধ্যমে জীবনের সকল গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে হয়। এই মাসে গুনাহ মাফের অনেক উপলক্ষ রয়েছে। সেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে গুনাহ থেকে মুক্ত না হতে পারাটা গুনাহগার বান্দার জন্য লজ্জাকর ও ক্ষতির কারণ। জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ رَقَى الْمِنْبَرَ ، فَلَمَّا رَقَى الدَّرَجَةَ الْأُولَى قَالَ : آمِينَ ، ثُمَّ رَقَى الثَّانِيَةَ فَقَالَ : آمِينَ ، ثُمَّ رَقَى الثَّالِثَةَ فَقَالَ : آمِينَ ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، سَمِعْنَاكَ تَقُولُ : آمِينَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ؟ قَالَ : لَمَّا رَقِيتُ الدَّرَجَةَ الْأُولَى جَاءَنِي جِبْرِيلُ فَقَالَ : شَقِيَ عَبْدٌ أَدْرَكَ رَمَضَانَ ، فَانْسَلَخَ مِنْهُ وَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ ، فَقُلْتُ : آمِينَ . ثُمَّ قَالَ : شَقِيَ عَبْدٌ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ ، فَقُلْتُ : آمِينَ . ثُمَّ قَالَ : شَقِيَ عَبْدٌ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ ، فَقُلْتُ : آمِينَ»
একদিন নাবী মিম্বরে আরোহণ করলেন। যখন প্রথম সিঁড়িতে আরোহণ করলেন, তখন বললেন : আ-মীন! অতঃপর যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে আরোহণ করলেন এবং বললেন, আ-মীন! অতঃপর তৃতীয় সিঁড়িতে আরোহণ করলেন এবং বললেন : আ-মীন! তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ আমরা আপনাকে তিনবার 'আ-মীন' বলতে শুনলাম, এর অর্থ কী? তিনি বললেন, যখন আমি প্রথম সিঁড়িতে আরোহণ করলাম তখন জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম আসলেন এবং বললেন, দুর্ভাগ্য হোক সেই ব্যক্তির যে রমাযান পেল এবং ওটা অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তার মাগফিরাত (গুনাহ মাফ) হয়নি। আমি বললাম, আ-মীন! অতঃপর তিনি বললেন দুর্ভাগ্য হোক সেই ব্যক্তির যে তার পিতামাতা উভয়কে অথবা তাঁদের যে কোন একজনকে পেল, অথচ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাল না। আমি বললাম, আ-মীন! অতঃপর বললেন, দুর্ভাগ্য হোক সেই ব্যক্তির যার সম্মুখে আপনার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হল অথচ সেই ব্যক্তি আপনার প্রতি সলাত আদায় করল না। আমি বললাম, আ-মীন। ৩৭৫
আবূ হুরায়রাহ্ বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ رَقِيَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ : آمِينَ ، آمِينَ ، آمِينَ ، قِيلَ لَهُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، مَا كُنْتَ تَصْنَعُ هَذَا ؟ فَقَالَ : قَالَ لِي جِبْرِيلُ : رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا لَمْ يُدْخِلْهُ الْجَنَّةَ ، قُلْتُ : آمِينَ . ثُمَّ قَالَ : رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ لَمْ يُغْفَرُ لَهُ ، فَقُلْتُ : آمِينَ . ثُمَّ قَالَ : رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ ، فَقُلْتُ : آمِينَ»
একদিন নাবী মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন, আ-মীন! আ- মীন!! আ-মীন!!! তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটা কি করলেন? জবাবে বললেন : ধুলায় ধূসরিত হোক তার নাক যে ব্যক্তি তার পিতামাতা দু'জনকে বা তাঁদের কোন একজনকে পেল অথচ তারা তার জান্নাতে প্রবেশের কারণ হল না! আমি বললাম: আ-মীন (অর্থাৎ তাই হোক)। অতঃপর (দ্বিতীয়বার) তিনি বললেন: ধূলায় ধূসরিত হোক তার নাক যে রমাযান মাস পেল অথচ তার মাগফিরাত হল না, আমি বললাম: আ-মীন! অতঃপর জিব্রীল পুনরায় বললেন, ধূলায় ধূসরিত হোক তার নাক যার সম্মুখে আপনার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হল অথচ সে আপনার প্রতি সলাত আদায় করল না। তখনও আমি বললাম: আ-মীন। ৩৭৬

টিকাঃ
৩৭৫. আদ্ দুর আল মানসুর, খ. ৬, পৃ. ৬৫১; হাদীসটি সহীহ।
৩৭৬. আল আদাবুল মুফরাদ: ৬৪৬; হাদীসটির সনদ হাসান সহীহ।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 ‘উমরাহ্ করা

📄 ‘উমরাহ্ করা


'উমরাহ্ করলে পাপ মাফ হয়ে যায়। নাবী বলেছেন:
«الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءً إِلَّا الْجَنَّةُ»
"একটি 'উমরাহ্ পরবর্তী 'উমরাহ্ পর্যন্ত ঐ দুয়ের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত পাপরাশির জন্য কাফফারাহ্ (মোচনকারী) হয়। আর 'মাবরূর' (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হাজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।"৩৭৭

টিকাঃ
৩৭৭. সহীহুল বুখারী: ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম: ৩৩৫৫।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 হজ্জের জন্য যাওয়ার বাহনের পা উঠানামা করা

📄 হজ্জের জন্য যাওয়ার বাহনের পা উঠানামা করা


হাজ্জে যাওয়ার বাহন যদি পশু হয় তাহলে সেই পশুর প্রতি কদমে হাজীর গুনাহ মাফের সুযোগ রয়েছে। 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী -কে বলতে শুনেছি,
مَا يَرْفَعُ إِبِلُ الْحَاجَ رِجْلًا وَلَا يَضَعُ يَدًا إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا حَسَنَةً أَوْ مَحَا عَنْهُ سَيِّئَةً أَوْ رَفَعَهُ بِهَا دَرَجَةً
"হাজীর উটের (প্রত্যেকবার) পা উঠানামার বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা হাজীর 'আমলনামায় একটি করে সাওয়াব লিখেন অথবা তার 'আমলনামা থেকে একটি গুনাহ মোচন করেন কিংবা এর মাধ্যমে তিনি তার মর্যাদা উন্নীত করেন। ৩৭৮
রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
فَإِنَّكَ إِذَا خَرَجْتَ مِنْ بَيْتِكَ تَؤُمُ الْبَيْتَ الْحَرَامَ لَا تَضَعُ نَاقَتُكَ خُفًّا وَلَا تَرْفَعُهُ إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَكَ بِهِ حَسَنَةٌ وَمَحَا عَنْكَ خَطِيئَةً
"যখন তুমি (হাজ্জ করার জন্য) বাইতুল্লাহিল হারাম-এর উদ্দেশে তোমার বাড়ি থেকে বের হবে তখন থেকেই তোমার উট যতবারই তার পা উঠানামা করে তার প্রতিটির বিনিময়ে আল্লাহ তোমার জন্য একটি সাওয়াব লেখেন এবং একটি গুনাহ মুছে দেন।"৩৭৯
রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
فَإِنَّ لَكَ مِنَ الْأَجْرِ إِذَا أَمَّمْتَ الْبَيْتَ الْعَتِيقَ أَلَّا تَرْفَعَ قَدَمًا أَوْ تَضَعَهَا أَنْتَ وَدَابَّتُكَ إِلَّا كُتِبَتْ لَكَ حَسَنَةٌ وَرُفِعَتْ لَكَ دَرَجَةً
"যখন তুমি (হাজ্জ করার জন্য) বাইতুল 'আতীক্ব (কা'বাহ্)-এর উদ্দেশে বের হবে তখন থেকেই তুমি ও তোমার বাহন (পশু) যতবারই তার পা উঠানামা করে তার প্রতিটির বিনিময়ে তোমার জন্য একটি সাওয়াব লেখা হয় এবং একটি মর্যাদার স্তর উন্নীত করা হয়। "৩৮০

টিকাঃ
৩৭৮. শু'আবুল ঈমান: ৪১১৬।
৩৭৯. সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব : ১১২, হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী।
৩৮০. আল মু'জামুল আওসাত: ২০২৩, হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 হজ্জ ও ‘উমরাহ্ পরস্পর করা

📄 হজ্জ ও ‘উমরাহ্ পরস্পর করা


পরপর হাজ্জ ও 'উমরাহ্ করলে জীবনের গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। নাবী বলেছেন:
تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ»
"তোমরা হজ্জকে 'উমরাহ্ ও 'উমরাহকে হজ্জের অনুগামী কর। (অর্থাৎ হাজ্জ করলে 'উমরাহ্ ও 'উমরাহ্ করলে হাজ্জ কর।) কারণ হাজ্জ ও 'উমরাহ্ উভয়েই দারিদ্র্য ও পাপরাশিকে সেরূপ দূরীভূত করে যেরূপ (কামারের) হাপর লোহার ময়লাকে দূরীভূত করে ফেলে।"৩৮১

টিকাঃ
৩৮১. সুনান আন্ নাসায়ী: ২৬৩০, ২৬৩১; জামি' আত্ তিরমিযী: ৮১০, হাদীসটি হাসান সহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00