📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 গুনাহ্ করার পর সুন্দর করে উযূ করে দুই রাক্'আত সালাত আদায় করে ইস্তিগফার করা

📄 গুনাহ্ করার পর সুন্দর করে উযূ করে দুই রাক্'আত সালাত আদায় করে ইস্তিগফার করা


'আলী বলেন, আমার নিকট আবূ বকর হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন,
مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ثُمَّ يَقُومُ فَيَتَطَهَّرُ ثُمَّ يُصَلَّى ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ لَهُ ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
“কোন ব্যক্তি যদি গুনাহ করে, অতঃপর সেখান থেকে উঠে ভালোভাবে উযূ করে দুই রাক্'আত সলাত আদায় করে এবং ঐ নির্দিষ্ট গুনাহ থেকে আল্লাহর কাছে মাফ চায় তাহলে আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন।” তারপর রাসূলুল্লাহ এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন:
وَالَّذِيْنَ إِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوْا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ ....
“আর যারা কখনো কোন অশ্লীল কাজ করে ফেলে অথবা নিজদের প্রতি জুলুম করে বসে এবং (পরক্ষণেই) আল্লাহকে স্মরণ করে...।”৩৭১

টিকাঃ
৩৭১. সূরা আ-লি 'ইমরা-ন ০৩: ১৩৫; সুনান আবূ দাউদ : ১৫২৩, জামি' আত্ তিরমিযী: ৩০০৬, সুনান ইবনু মাজাহ : ১৩৯৫, সহীহ আল জামি' : ৫৭৩৮, হাদীসটি সহীহ।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 আল্লাহ্র জন্য সাজদা প্রদান

📄 আল্লাহ্র জন্য সাজদা প্রদান


সাজদাহ্ বিনয়ের সর্বোচ্চ প্রকাশ। তাই এই বিনয় প্রকাশক ভঙ্গিটি শুধু আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। আর আল্লাহর সবচেয়ে কাছে যাওয়া যায় সাজদার মাধ্যমে। আবার এই সাজদার মাধ্যমে বান্দা তার গুনাহও মাফ পেতে পারেন। রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْجُدُ لِلهِ سَجْدَةً إِلَّا رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ»
“যখনই কোন বান্দা আল্লাহর উদ্দেশে সাজদাহ্ করে, তখনই এতে আল্লাহ তা'আলা তার দরজা উঁচু করে দেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দেন।” ৩৭২
অন্য বর্ণনায় নাবী বলেছেন:
عَلَيْكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ لِلَّهِ فَإِنَّكَ لَا تَسْجُدُ لِلَّهِ سَجَدَةً إِلَّا رَفَعَكَ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْكَ بِهَا خَطِيئَةً»
“আল্লাহর উদ্দেশে অধিক সাজদাহ্ কর। কেননা, তুমি যখনই আল্লাহর উদ্দেশে একটি সাজদাহ্ করবে, তখন এ দিয়ে আল্লাহ তা'আলা তোমার মর্যাদা এক ধাপ বাড়িয়ে দিবেন এবং তোমার একটি পাপ মোচন করে দিবেন।” ৩৭৩
'উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছেন,
مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْجُدُ لِلهِ سَجْدَةً إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا حَسَنَةً وَمَحَا عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَرَفَعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةً فَاسْتَكْثِرُوا مِنْ السُّجُودِ
"যখনই কোন বান্দা আল্লাহর উদ্দেশে সাজদাহ্ করে, তখনই এর বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা তার 'আমলনামায় একটি সাওয়াব লিখে দেন, তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার মর্যাদার একটি স্তর উঁচু করে দেন এবং অতএব তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে অধিক সাজদাহ্ কর।"৩৭৪

টিকাঃ
৩৭২. জামি' আত্ তিরমিযী: ৩৮৮, হাদীসটি সহীহ।
৩৭৩. জামি' আত্ তিরমিযী: ৩৮৮, হাদীসটি সহীহ।
৩৭৪. সুনান ইবনু মাজাহ: ১৪২৪, হাদীসটি সহীহ।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 রমাযানে ‘ইবাদাত করা

📄 রমাযানে ‘ইবাদাত করা


রমাযান 'ইবাদাতের মৌসুম। বছরের সবচেয়ে ফযীলতের মাস। এই মাসে সিয়াম পালন, ক্বিয়ামুল লাইল (তারাবীহ/তাহাজ্জুদের সলাত) আদায়, দান-সদাক্বাহ্ ইত্যাদির মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে। এই মাস গুনাহ মাফ পাওয়ারও মাস। এই মাসে বিভিন্ন 'ইবাদাত, তাওবাহ্ ও দু'আ করার মাধ্যমে জীবনের সকল গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে হয়। এই মাসে গুনাহ মাফের অনেক উপলক্ষ রয়েছে। সেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে গুনাহ থেকে মুক্ত না হতে পারাটা গুনাহগার বান্দার জন্য লজ্জাকর ও ক্ষতির কারণ। জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ رَقَى الْمِنْبَرَ ، فَلَمَّا رَقَى الدَّرَجَةَ الْأُولَى قَالَ : آمِينَ ، ثُمَّ رَقَى الثَّانِيَةَ فَقَالَ : آمِينَ ، ثُمَّ رَقَى الثَّالِثَةَ فَقَالَ : آمِينَ ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، سَمِعْنَاكَ تَقُولُ : آمِينَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ؟ قَالَ : لَمَّا رَقِيتُ الدَّرَجَةَ الْأُولَى جَاءَنِي جِبْرِيلُ فَقَالَ : شَقِيَ عَبْدٌ أَدْرَكَ رَمَضَانَ ، فَانْسَلَخَ مِنْهُ وَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ ، فَقُلْتُ : آمِينَ . ثُمَّ قَالَ : شَقِيَ عَبْدٌ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ ، فَقُلْتُ : آمِينَ . ثُمَّ قَالَ : شَقِيَ عَبْدٌ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ ، فَقُلْتُ : آمِينَ»
একদিন নাবী মিম্বরে আরোহণ করলেন। যখন প্রথম সিঁড়িতে আরোহণ করলেন, তখন বললেন : আ-মীন! অতঃপর যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে আরোহণ করলেন এবং বললেন, আ-মীন! অতঃপর তৃতীয় সিঁড়িতে আরোহণ করলেন এবং বললেন : আ-মীন! তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ আমরা আপনাকে তিনবার 'আ-মীন' বলতে শুনলাম, এর অর্থ কী? তিনি বললেন, যখন আমি প্রথম সিঁড়িতে আরোহণ করলাম তখন জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম আসলেন এবং বললেন, দুর্ভাগ্য হোক সেই ব্যক্তির যে রমাযান পেল এবং ওটা অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তার মাগফিরাত (গুনাহ মাফ) হয়নি। আমি বললাম, আ-মীন! অতঃপর তিনি বললেন দুর্ভাগ্য হোক সেই ব্যক্তির যে তার পিতামাতা উভয়কে অথবা তাঁদের যে কোন একজনকে পেল, অথচ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাল না। আমি বললাম, আ-মীন! অতঃপর বললেন, দুর্ভাগ্য হোক সেই ব্যক্তির যার সম্মুখে আপনার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হল অথচ সেই ব্যক্তি আপনার প্রতি সলাত আদায় করল না। আমি বললাম, আ-মীন। ৩৭৫
আবূ হুরায়রাহ্ বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ رَقِيَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ : آمِينَ ، آمِينَ ، آمِينَ ، قِيلَ لَهُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، مَا كُنْتَ تَصْنَعُ هَذَا ؟ فَقَالَ : قَالَ لِي جِبْرِيلُ : رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا لَمْ يُدْخِلْهُ الْجَنَّةَ ، قُلْتُ : آمِينَ . ثُمَّ قَالَ : رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ لَمْ يُغْفَرُ لَهُ ، فَقُلْتُ : آمِينَ . ثُمَّ قَالَ : رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ ، فَقُلْتُ : آمِينَ»
একদিন নাবী মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেন, আ-মীন! আ- মীন!! আ-মীন!!! তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটা কি করলেন? জবাবে বললেন : ধুলায় ধূসরিত হোক তার নাক যে ব্যক্তি তার পিতামাতা দু'জনকে বা তাঁদের কোন একজনকে পেল অথচ তারা তার জান্নাতে প্রবেশের কারণ হল না! আমি বললাম: আ-মীন (অর্থাৎ তাই হোক)। অতঃপর (দ্বিতীয়বার) তিনি বললেন: ধূলায় ধূসরিত হোক তার নাক যে রমাযান মাস পেল অথচ তার মাগফিরাত হল না, আমি বললাম: আ-মীন! অতঃপর জিব্রীল পুনরায় বললেন, ধূলায় ধূসরিত হোক তার নাক যার সম্মুখে আপনার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হল অথচ সে আপনার প্রতি সলাত আদায় করল না। তখনও আমি বললাম: আ-মীন। ৩৭৬

টিকাঃ
৩৭৫. আদ্ দুর আল মানসুর, খ. ৬, পৃ. ৬৫১; হাদীসটি সহীহ।
৩৭৬. আল আদাবুল মুফরাদ: ৬৪৬; হাদীসটির সনদ হাসান সহীহ।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 ‘উমরাহ্ করা

📄 ‘উমরাহ্ করা


'উমরাহ্ করলে পাপ মাফ হয়ে যায়। নাবী বলেছেন:
«الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءً إِلَّا الْجَنَّةُ»
"একটি 'উমরাহ্ পরবর্তী 'উমরাহ্ পর্যন্ত ঐ দুয়ের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত পাপরাশির জন্য কাফফারাহ্ (মোচনকারী) হয়। আর 'মাবরূর' (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হাজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।"৩৭৭

টিকাঃ
৩৭৭. সহীহুল বুখারী: ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম: ৩৩৫৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00