📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 উযূ করে সালাতের জন্য মাসজিদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা

📄 উযূ করে সালাতের জন্য মাসজিদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা


মাসজিদের উদ্দেশে হাঁটার প্রতি কদমে মুসলিমের গুনাহ মাফ হতে থাকে।
আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন :
«صَلَاةُ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ تُضَعَّفُ عَلَى صَلَاتِهِ فِي بَيْتِهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ ضِعْفًا وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ لَا يُخْرِجُهُ إِلَّا الصَّلَاةُ لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلَّا رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ فَإِذَا صَلَّى لَمْ تَزَلُ الْمَلَائِكَةُ تُصَلَّى عَلَيْهِ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ وَلَا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلَاةَ»
“কোন ব্যক্তির জামা'আতের সাথে সলাতের সাওয়াব, তাঁর নিজের ঘরে বা বাজারে আদায়কৃত সলাতের সাওয়াব দ্বিগুণ করে ২৫ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণে এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করল, তারপর একমাত্র সলাতের উদ্দেশে মাসজিদে রওয়ানা করল তখন তাঁর প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সলাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সলাতের স্থানে থাকে, ফেরেশতাগণ তার জন্য এ বলে দু'আ করতে থাকেন- 'হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।' আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সলাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সলাতরত রয়েছে বলে গণ্য হয়।”৩৫৩
'আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
«مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللهَ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظُ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ ﷺ سُنَنَ الْهُدًى وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدًى وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلَّى هُذَا الْمُتَخَلَّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ثُمَّ يَعْمِدُ إِلَى مَسْجِدٍ مِنْ هَذِهِ الْمَسَاجِدِ إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً وَيَرْفَعُهُ بِهَا دَرَجَةً وَيَحُطُّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصف
"যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, আগামীকাল বিচার দিবসে সে মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে, তার উচিত এই সলাতসমূহের সংরক্ষণ করা, যেখানে সলাতের জন্য আহ্বান করা হয়। কারণ, আল্লাহ তোমাদের নাবীকে হিদায়াতের সকল পথ বাতলে দিয়েছেন। আর এই সমস্ত সলাত হল হিদায়াতের পথ সমূহের অন্যতম। তোমরা যদি এই সকল সলাত ঘরে আদায় কর, যেমন একদল লোক জামা'আত ছেড়ে ঘরে সলাত আদায় করে, তাহলে তোমরা তোমাদের নাবীর সুন্নাতকে ছেড়ে দিলে। তোমরা যদি নাবীর সুন্নাত ছেড়ে দাও, তাহলে তোমরা অবশ্যই গুমরাহ হয়ে যাবে। যে উত্তমরূপে পবিত্র হয়ে এই সকল মাসজিদের একটির দিকে অগ্রসর হবে তার প্রত্যেক কদমের জন্য একটি করে নেকী লেখা হবে এবং তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি গুনাহ মাফ করা হবে। তারপর একমাত্র প্রকাশ্য মুনাফিক্ব ছাড়া আর কাউকে জামা'আত থেকে বাদ পড়তে আমরা দেখিনি। অনেক লোক দু'জনের কাঁধে ভর করে হেচঁড়িয়ে হেচঁড়িয়ে মাসজিদে আসত এবং তাদের সারিতে দাঁড় করে দেয়া হতো।"৩৫৪
'উসমান ইবনু 'আফফান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি যে,
مَنْ تَوَضَّأَ لِلصَّلَاةِ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ فَصَلَّاهَا مَعَ النَّاسِ أَوْ مَعَ الْجَمَاعَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَهُ»
“যে ব্যক্তি সলাতের জন্য উযূ করে এবং পরিপূর্ণভাবে উযূ করে, অতঃপর ফরয সলাতের উদ্দেশে হেঁটে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে সলাত আদায় করে, কিংবা তিনি বলেন, জামা'আতের সঙ্গে সলাত আদায় করে, কিংবা তিনি বলেন, মাসজিদে সলাত আদায় করে, আল্লাহ সেই ব্যক্তির গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিবেন।”৩৫৫
আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন :
مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ مَشَى إِلَى بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ لِيَقْضِيَ فَرِيضَةً مِنْ فَرَائِضِ اللَّهِ كَانَتْ خَطْوَتَاهُ إِحْدَاهُمَا تَحُطُّ خَطِيئَةً وَالْأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً
“যে ব্যক্তি গৃহে পবিত্রতা অর্জন করল, তারপর হেঁটে আল্লাহর ঘর সমূহের মধ্যে কোন ঘরে গেল, এই জন্য যে আল্লাহর ফরযগুলোর কোন ফরয আদায় করবে। তাহলে তার এক কদমে একটিতে একটি গুনাহ মাফ হবে এবং আরেকটি কদমে এক ধাপ মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।”৩৫৬
সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসার সাহাবীর মৃত্যু উপস্থিত হলে তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট একটি হাদীছ একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই বর্ণনা করতে চাই। অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি,
إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ لَمْ يَرْفَعُ قَدَمَهُ الْيُمْنَى إِلَّا كَتَبَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ حَسَنَةٌ وَلَمْ يَضَعُ قَدَمَهُ الْيُسْرَى إِلَّا حَجَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنْهُ سَيِّئَةً فَلْيُقَرِّبْ أَحَدُكُمْ أَوْ لِيُبَعِدْ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ فَصَلَّى فِي جَمَاعَةٍ غُفِرَ لَهُ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّوْا بَعْضًا وَبَقِيَ بَعْضُ صَلَّى مَا أَدْرَكَ وَأَتَمَّ مَا بَقِيَ كَانَ كَذَلِكَ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّوْا فَأَتَمَّ الصَّلَاةَ كَانَ كَذَلِكَ»
“তোমাদের কেউ যখন ভালোভাবে উযূ করে সলাতের জন্য রওনা হয়, তখন সে তার ডান পা উঠানোর সাথে সাথেই তার 'আমলনামায় একটি নেকী লিখিত হয়। অতঃপর তার বাম পা ফেলার সাথে সাথেই তার একটি গুনাহ মার্জিত হয়। এখন যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে, সে তার আবাসস্থান মাসজিদের নিকটে বা দূরে করতে পারে। অতঃপর ঐ ব্যক্তি মাসজিদে আগমনের পর জামা'আতের সাথে সলাত আদায় করলে- তার সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মাফ হবে। ঐ ব্যক্তি মাসজিদে পৌঁছতে পৌঁছতে মুসল্লীগণ যদি কিছু অংশ আদায় করে ফেলে, তখন সে ইমামের সাথে বাকী সলাত আদায়ের পর ইমাম যা পূর্বে আদায় করেছে, তা পূর্ণ করবে। কিন্তু সাওয়াবের ব্যাপারে ঐ ব্যক্তি পূর্ণ সলাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুরূপ হবে। ঐ ব্যক্তি মাসজিদে আগমনের পর যদি দেখে যে, মুসল্লীগণ তাদের সলাত শেষ করে ফেলেছে, তখন সে একাকী সলাত আদায় করল। তবুও তাকে ক্ষমা করা হবে।"৩৫৭

টিকাঃ
৩৫৩. সহীহুল বুখারী : ৬৪৭; সহীহ মুসলিম : ১৫০৮, এ শব্দগুলো সহীহুল বুখারীর।
৩৫৪. সহীহ মুসলিম: ১৫২০।
৩৫۵. সহীহ মুসলিম: ৫৭১।
৩৫۶. সহীহ মুসলিম: ১৫৫৩।
৩৫۷. সুনান আবূ দাউদ: ৫৬৩, হাদীসটি সহীহ।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সালাতের জন্য আযান দেয়া

📄 সালাতের জন্য আযান দেয়া


বারা' ইবনু 'আযিব থেকে বর্ণিত। নাবী বলেছেন:
إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ وَالْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ بِمَدِ صَوْتِهِ وَيُصَدِّقُهُ مَنْ سَمِعَهُ مِنْ رَطْبٍ وَيَابِسٍ وَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ صَلَّى مَعَهُ
"নিশ্চয় আল্লাহ প্রথম কাতারে সলাত আদায়কারীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও তাদের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করেন এবং মুয়াযয্যিনকে তার আওয়াজের দূরত্ব পরিমাণ ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং যে সকল জীব ও বস্তু তার শব্দ শোনে, তারা তাকে সত্যবাদী বলে ঘোষণা দেয় এবং তাকে তার সাথে সলাত আদায়কারীদের সমপরিমাণ পুরস্কার দেয়া হয়। "৩৫৮
'উক্‌বাহ্ ইবনু 'আমির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি,
يَعْجَبُ رَبُّكُمْ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَفِيَّةٍ بِجَبَلٍ يُؤَذِّنُ بِالصَّلَاةِ وَيُصَلِّى فَيَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِى هَذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ يَخَافُ مِنِّي فَقَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ
“যখন কোন বকরীর পালের রাখাল পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থানকালে আযান দিয়ে সলাত আদায় করে, তখন মহান আল্লাহ পাক তাঁর উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং বলেন, (হে আমার ফেরেশতারা) তোমরা আমার বান্দার প্রতি তাকাও। এই ব্যক্তি (পাহাড়ের চূড়ায়ও) আযান দিয়ে সলাত আদায় করছে। সে আমার ভয়েই তা করছে। অতএব আমি আমার এই বান্দার যাবতীয় গুনাহ (পাপ) মাফ করে দিলাম এবং আমি তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।”৩৫৯

টিকাঃ
৩৫۸. সুনান আন-নাসায়ী: ৬৪৫, মুসনাদে আহমাদ: ১৮৫০৬, হাদীসটি সহীহ।
৩৫۹. সুনান আবূ দাউদ: ১২০৫, হাদীসটি সহীহ।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সালাত সম্পর্কিত তিনটি কাজ করা

📄 সালাত সম্পর্কিত তিনটি কাজ করা


সলাতের সাথে সম্পৃক্ত ৩টি কাজ রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা বান্দার অনেক পাপ ক্ষমা করেন এবং তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
«أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ. قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَانِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ»
"আমি কি তোমাদেরকে এমন (কাজের) কথা বলব না, যা দ্বারা আল্লাহ তা'আলা পাপরাশি দূর করে দিবেন এবং মর্যাদা উঁচু করে দিবেন? সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি (ﷺ) বললেন: তা হল, অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণভাবে উযূ করা, মাসজিদে আসার জন্য বেশী পদচারণা এবং এক সলাতের পর অন্য সলাতের জন্য অপেক্ষা করা। জেনে রাখ, এটাই হল রিবা ।"৩৬০ ৩৬১
অসুবিধা ও কষ্ট বলতে তীব্র শীত ও শরীরে ব্যাথা নিয়ে উযূ করাকে উদাহরণ হিসেবে বোঝা যেতে পারে। তবে ঠাণ্ডা পানিতে উযূ করলে অসুস্থ হওয়ার বা অসুস্থতা বাড়ার মাধ্যমে নিজের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা অবশ্যই বর্জনীয়।

টিকাঃ
৩৬০. রিবাত বলতে মূলত নিজেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে আটকে রাখা ও শয়তানের মুকাবিলায় নিজকে প্রস্তুত রাখাকে বুঝায়। তবে এই হাদীসে যে রিবাতের কথা বলা হয়েছে তা অধিকাংশ মানুষের জন্য সহজ। (মিন মুকাফফিরাতিয যুনূব, পৃ. ২৭)
৩৬১. সহীহ মুসলিম: ৬১০।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা

📄 পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা


গুনাহ মাফের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত সলাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهْرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ هَلْ يَبْقَى مِنْدَرَنِهِ شَيْءٌ ». قَالُوا لَا يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ قَالَ « فَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا
"বল তো! তোমাদের মধ্যে কারো দরজার সামনে যদি একটি নদী থাকে এবং সে যদি তাতে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে তবে তার (শরীরে) কোন ময়লা থাকতে পারে? তাঁরা বললেন, কোন ময়লাই থাকতে পারে না। রাসূলুল্লাহ বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের দৃষ্টান্ত এটিই। আল্লাহ তা'আলা এর দ্বারা পাপ মোচন করেন। "৩৬২
রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَطَهَّرُ فَيُتِمُّ الطُّهُورَ الَّذِي كَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَيُصَلِّي هَذِهِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ إِلَّا كَانَتْ كَفَّارَاتٍ لِمَا بَيْنَهَا»
"কোন মুসলিম যখন পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহ তার উপর যে পবিত্রতা অপরিহার্য করেছেন তা পূর্ণাঙ্গরূপে অর্জন করে এবং তারপর এই পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করে তাহলে এ সকল সলাত তাদের মধ্যবর্তী সময়ের সকল গুনাহের কাফফারাহ্ হয়ে যায়।"৩৬৩

টিকাঃ
৩৬২. সহীহুল বুখারী: ৫২৮, ৫৬৪০, সহীহ মুসলিম: ৬৭৩০, শব্দ মুসলিমের।
৩৬৩. সহীহ মুসলিম: ৫৬৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00