📄 ফজরের সালাতের পর ১০০ বার করে সুবহা-নাল্লা-হ ও লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ পড়া
ফজরের সলাত এমনিতেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সলাত। এ সময়েরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এই সময়ের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে নিম্নের হাদীসটি。
আবু হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেন: “مَنْ سَبَّحَ فِي دُبُرِ الصَّلَاةِ الْغَدَاةِ مِائَةَ تَسْبِيْحَةً وَهَلَّلَ مِائَةً تَهْلِيْلَةً غُفِرَتْ لَّهُ ذُنُوبُهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ”
“যে ব্যক্তি সকালের (ফজরের) সালাতের পর একশত বার সুবহানাল্লাহ্ এবং একশত বার লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমপরিমাণ হয়।”
হাদীসে বর্ণিত এত বড় পুরস্কার পেতে হলে তাসবীহ, তাহলিলের শব্দ-বাক্যগুলো অর্থ না বুঝে বেখেয়ালে শুধু মুখে আওড়ালেই হবে না। বরং এগুলোর অর্থ বুঝে, পূর্ণ মনোযোগ সহকারে, যার নাম উচ্চারণ করা হচ্ছে তার প্রতি অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি যথাযথ ভক্তি-শ্রদ্ধা-সম্মান অন্তরে ধারণ করে উচ্চারণ করলে হাদীসে বর্ণিত পুরস্কার পাওয়ার দৃঢ় আশা করা যায়。
ইমাম আল গাযালী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ولا تظنن ان هذه الحسنات بازاء تحريك اللسان بهذه الكلمات من غير حصول معانيها في القلب فسبحان الله كلمة تدل على التقديس ولا اله الا الله كلمة تدل على التوحيد والحمد لله كلمة تدل على النعمة من الواحد الحق فالحسنات بازاء هذه المعارف التي هي من ابواب الايمان واليقين"
“হাদীসে উল্লিখিত শব্দ-বাক্যসমূহের মর্মার্থ অন্তরে অনুধাবন করা ছাড়াই শুধু মুখে উচ্চারণের মাধ্যমেই (হাদীসে বর্ণিত) সাওয়াব অর্জিত হবে, তা ভাববার অবকাশ নেই। যেমন সুবহানাল্লাহ্ শব্দটি আল্লাহর পবিত্রতা প্রকাশ করে এবং লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বাক্যটি আল্লাহর একত্ব প্রমাণ করে আর আলহামদুলিল্লাহ্ শব্দটি একক সত্ত্বা সর্বপ্রকার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নিয়ামতের স্বীকৃতি। ঈমান ও ইয়াকীনের সাথে সম্পৃক্ত এসব মর্মার্থ বুঝে পড়লেই সাওয়াব অর্জিত হবে।”
টিকাঃ
সুনান আন-নাসায়ী : ১০৫৪, হাদীসটি সহীহ。
মিন মুকাশিফাতিল কুলুব, পৃ. ২৫。
ইহ্ইয়াউ উলুমুদ্দিন, খ. ৪, পৃ. ৬২।