📄 হজ্জ করা
হাজ্জ করলে পাপ থেকে নিষ্পাপ হওয়া যায়। আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, নাবী বলেছেন:
مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقُ رَجَعَ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
"যে ব্যক্তি রাফাছ ও ফিস্ক থেকে বিরত থেকে আল্লাহর উদ্দেশে হাজ্জ (হজ্জ) করলো, সে এমন নবজাতক শিশু, যাকে তাঁর মা এ মুহূর্তেই প্রসব করেছে, তার ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে।"৩২৯
হাদীসে বর্ণিত 'রাফাস' অর্থ হলো স্ত্রীর সাথে যৌন মিলন বা এর প্রাথমিক কাজ করা ও অশ্লীল কতাবার্তা বলা। আর 'ফিস্ক' অর্থ হলো কোন হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থাৎ আল্লাহর আনুগত্যমূলক ফরয কাজ না করা।৩৩০
ইবনু হাজার 'আস্ফালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
وظاهره غفران الصغائر والكبائر والتبعات
"এই হাদীসের প্রকাশ্য অর্থ হচ্ছে, হাজ্জ হাজ্জকারীর সগীরা-কাবীরা ও তাবি'আত (জীবন ও সম্পদের দায়ভারজনিত) গুনাহগুলো মাফ করিয়ে দেয়।"৩৩১
হাজ্জে মাবরূর বা কবূল হাজ্জের মাধ্যমে বান্দার মাযালিম ও আর্থিক দায় রহিত হয়ে যায় না। বরং এর দ্বারা কোন সাধারণ কর্মজনিত গুনাহ ও আদায়যোগ্য দায় আদায়ে দেরি করার কারণে যে গুনাহ হয়েছে তা রহিত করে।৩৩২
'আবদুর রওফ আল মুনাভী (রহিমাহুল্লাহ)৩৩৩ বলেন :
يغفر له الصغائر والكبائر إلا التبعات إذا كان حجه مبرورًا.
"হাজ্জে মাবরূর হাজ্জকারীর সগীরা-কাবীরা গুনাহগুলো মাফ করবে কিন্তু জীবন ও সম্পদের দায়ভারজনিত গুনাহ মাফ করবে না।"৩৩৪
মুল্লা 'আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ)৩৩৫ বলেন: "إن الله تعالى إذا أراد لعاص أن يعفو عنه وعليه تبعات عوض صاحبها من جزيل ثوابه ما يكون سببا لعفوه ورضاه"
"আল্লাহ তা'আলা যখন কোন গুনাহগার বান্দাকে ক্ষমা করতে চান অথচ তার উপরে জীবন ও সম্পদের দায়ভারজনিত গুনাহ (তাবি'আত) রয়েছে তাহলে আল্লাহ তা'আলা যার দায়ভার এর উপরে বর্তিত তাকে বিপুল পরিমাণের সাওয়াব দান করেন, যা তাকে মাফের ও তার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হবে।"৩৩৬
টিকাঃ
৩২৯. সহীহুল বুখারী: ১৫২১, সহীহ মুসলিম: ১৮২০।
৩৩০. মিন মুকাফফিরাতিয যুনূব, পৃ. ৩৫; এই দু'টি পরিভাষার আরো অনেক অর্থ ও ব্যাখা রয়েছে।
৩৩১. ফাতহুল বারী, খ. ৮, পৃ. ১০৮।
৩৩২. মিন মুকাফফিরাতিয যুনূব, পৃ. ৩৫।
৩৩৩. জন্ম: ৯৫২ হি. - মৃত্যু: ১০৩১ হি.।
৩৩৪. ফায়যুল কাদীর, খ. ১, পৃ. ৪৩৮।
৩৩৫. জন্ম: ৯৩০ হি. - মৃত্যু: ১০১৪ হি.।
৩৩৬. মিরকাতুল মাফাতীহ শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ, খ. ১, পৃ. ১৮৮।
📄 রোগাক্রান্ত হলে আল্লাহর প্রশংসা করা
একদিন শাদ্দাদ বিন আওস ও সুনাবিহী এক রোগীকে দেখতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আজ সকালে তুমি কেমন আছ?' লোকটি বলল, (আল্লাহর) নি'আমতে আছি। শাদ্দাদ বলল, পাপসমূহ মাফ হয়ে যাওয়া এবং গুনাহসমূহ ঝরে যাওয়ার সুসংবাদ নাও। আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি, তিনি (স) বলেছেন:
"إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبْدًا مُّؤْمِنًا فَحَمِدَنِي عَلَى مَا ابْتَلَيْتُهُ فَإِنَّهُ يَقُومُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ كَيَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ مِنَ الْخَطَايَا وَيَقُولُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا قَيَّدْتُ عَبْدِي وَابْتَلَيْتُهُ وَأَجَرْتُ لَهُ كَمَا كُنْتُمْ تُجْرُونَ لَهُ وَهُوَ صَحِيحٌ"
“আল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন আমার কোন মু’মিন বান্দাকে (রোগ-বালা দিয়ে) পরীক্ষা করি এবং সে ঐ রোগ-বালাতে আমার প্রশংসা করে, তখন সে তার ঐ বিছানা থেকে সেই দিনকার মত নিষ্পাপ হয়ে ওঠে, যেদিন তার মা তাকে ভূমিষ্ট করেছিলেন’। রব্ব তাবারাকা ওয়া তা’আলা (কিরমান কাতিবী’র) বলেন, ‘আমি আমার বান্দাকে (অনেক ‘আমল থেকে) বিরত রেখেছি এবং রোগগ্রস্ত করেছি। সুতরাং তার জন্য সেই ‘আমলের সাওয়াব লিখতে থাক, যে ‘আমলের সাওয়াব তার সুস্থ অবস্থায় লিখত’।”