📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সালাতে রুকূ’ থেকে উঠে নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা

📄 সালাতে রুকূ’ থেকে উঠে নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা


জামা'আতের সাথে সলাত আদায়কালে ইমাম যখন রুকূ' থেকে উঠার সময় সামি' আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে, তখন মুক্তাদী আল্লা-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হাম্দ বললে মুক্তাদীর বিগত জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন:
إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ. فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ . فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
"যখন ইমাম সামি' আল্লা-হু লিমান হামিদাহ বলে, তখন তোমরা আল্লা-হুম্মা রব্বানা লাকাল হাম্দ বল। কেননা যার ঐ কথা বলা ফেরেশতাদের বলার সাথে মিলে যায়, তার বিগত জীবনের সকল পাপ মাফ করে দেয়া হয়।"৩০৮

টিকাঃ
৩০৮. সহীহুল বুখারী: ৭৯৬; সহীহ মুসলিম: ৯৪০।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 রমাযানের সিয়াম পালন

📄 রমাযানের সিয়াম পালন


ঈমানসহ ও সাওয়াবের আশায় কেউ যদি রমাযান মাসের ফরয সিয়াম পালন করে তাহলে তার পূর্বের জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। আবু হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
"যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় রমাযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।"৩০৯

টিকাঃ
৩০۹. সহীহুল বুখারী: ৩৮, ২০১৪, সহীহ মুসলিম: ১৮১৭।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 রমাযানে কিয়ামুল লাইল আদায় করা

📄 রমাযানে কিয়ামুল লাইল আদায় করা


রমাযান মাসে ক্বিয়ামুল লাইল বা রাতের সলাত (তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ) আদায় করলে বিগত জীবনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
"যে ব্যক্তি রমাযানের রাতে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।"৩১০
ইবনু হাজার আল 'আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ)৩১১ বলেন:
ظاهره يتناول الصغائر والكبائر و به جزم ابن المنذر وقال النووي المعروف أنه يختص بالصغائر وبه جزم إمام الحرمين وعزاه القاضي عياض لأهل السنة قال بعضهم ويجوز أن يخفف من الكبائر إذا لم يصادف صغيرة"
"হাদীসের বাহ্যিক অর্থ সগীরা-কাবীরা সকল গুনাহকে শামিল করে। ইবনুল মুনযির এই মত পোষণ করেছেন। ইমাম নাবাভীর মতে, এ হাদীস শুধু সগীরা গুনাহের জন্য নির্ধারিত। ইমামুল হারামাইনও এই মত পোষণ করেছেন। ক্বাযী 'ইয়ায এ মতকে আহলুস্ সুন্নাহ্ দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, 'আমলনামায় সগীরা গুনাহ না থাকলে কাবীরা গুনাহকে হালকা করা হয় (যদি থাকে)।৩১২

টিকাঃ
৩১০. সহীহুল বুখারী: ৩৭, ২০০৯, সহীহ মুসলিম: ১৮১৫-১৮১৬।
৩১১. জন্ম: ৭৭৩ হি. - মৃত্যু: ৮৫২ হি.।
৩১২. ফাতহুল বারী, খ. ৪, পৃ. ২৫১।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 লাইলাতুল ক্বদরের সালাত আদায় করা

📄 লাইলাতুল ক্বদরের সালাত আদায় করা


লাইলাতুল কুদর বা শবে ক্বদরে বেশি বেশি নফল সলাত আদায় করলে পূর্বের জীবনের সমস্ত পাপ মাফ করে দেয়া হয়। আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।"৩১৩
উল্লেখ্য যে, নির্দিষ্ট করে প্রতিবছর ২৭ রমাযানের রাতকে লাইলাতুল কদর হিসেবে নির্ধারণ করার কোন নিশ্চিত ভিত্তি নেই। ২৭ তারিখও হতে পারে আবার ২১, ২৩, ২৫ বা ২৯ রমাযানের রাতও কদরের রাত হতে পারে। তাইতো রাসূলুল্লাহ রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে আদেশ দিয়েছেন। 'আয়িশাহ্ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন,
تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
"তোমরা রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।"৩১৪

টিকাঃ
৩১৩. সহীহুল বুখারী: ১৯০১, ২০১৪, সহীহ মুসলিম: ১৮১৭।
৩১৪. সহীহুল বুখারী : ২০১৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00