📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা শেষে “আ-মীন” বলা

📄 ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা শেষে “আ-মীন” বলা


ইমামের পিছনে জামা'আতে সলাত আদায়কালে ইমাম সূরা ফাতিহার শেষ আয়াত 'গাইরিল মাগযুবি 'আলাইহিম ওয়ালায যো-ল্লীন' পড়া শেষ করে তখন উচ্চৈঃস্বরে ৩০৩ 'আ-মীন' বলা সুন্নাত। যে ব্যক্তি এমন করে 'আ-মীন' বলবে আর তার 'আ-মীন' বলার সাথে ফেরেশতাগণের 'আ-মীন' বলা মিলে যাবে তাহলে তার জীবনের পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
«إِذَا قَالَ الْإِمَامُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
“ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগযুবি 'আলাইহিম ওলায যো-ল্লীন' বলে তখন তোমরা 'আ-মীন' বল। কারণ যার 'আ-মীন' বলা ফেরেশতাদের 'আ-মীন' বলার সাথে মিলে যায়, তার পূর্বেকার সকল পাপ মাফ করে দেয়া হয়।”৩০৪
অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
إِذَا أَمَّنَ الْإِمَامُ فَأَمَنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“ইমাম যখন 'আ-মীন' বলবে, তখন তোমরাও 'আ-মীন' বল। কারণ, যার 'আ-মীন' বলা ফেরেশতাদের 'আ-মীন' বলার সাথে সাথে হয়, তখন তার পূর্বেকার গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়।”৩০৫
আরো এক বর্ণনায় তিনি বলেন,
إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِينَ وَقَالَتْ الْمَلَائِكَةُ فِي السَّمَاءِ آمِينَ فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“তোমাদের কেউ যখন সলাতে 'আ-মীন' বলে এবং ফেরেশতারা আকাশে 'আ-মীন' বলেন, আর পরস্পরে 'আ-মীন' বলা সমস্বরে হয়, তখন তার পূর্বের পাপরাশি মাফ করে দেয়া হয়।”৩০৬
উপরে উল্লিখিত হাদীসগুলো দ্বারা জানা গেলো যে, জামা'আতে সলাত আদায়ের সময় যদি মুক্তাদী ইমাম সাহেবের সূরা ফাতিহা শেষে 'আ-মীন' বলা শুনে পূর্ণ মনোযোগ, ভীতি ও একনিষ্ঠতা সহকারে 'আ-মীন' বলে এবং তা যদি ফেরেশতাগণের 'আ-মীন' বলার সাথে মিলে যায় তাহলে তার পূর্বের সকল সগীরা গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আর যদি তার 'আমলনামায় সগীরা গুনাহ না থাকে তাহলে তার কাবীরা গুনাহ (যদি থাকে) হালকা করে দেয়া হবে, ইন্‌শা-আল্লাহ। ৩০৭

টিকাঃ
৩০৩. গগণবিদারী চিৎকার করে নয়, স্বাভাবিক উচ্চ আওয়াজে বলতে হবে।
৩০۴. সহীহুল বুখারী: ৭৮২; সহীহ মুসলিম: ৯৪৭।
৩০۵. সহীহুল বুখারী: ৭৮০, সহীহ মুসলিম: ৯৪২।
৩০۶. সহীহুল বুখারী: ৭৮০-৭৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২; সহীহ মুসলিম: ৯৪২, ৯৪৪-৯৪৫।
৩০۷. মিন মুকাফফিরাতিয যুনূব, পৃ. ২৩।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সালাতে রুকূ’ থেকে উঠে নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা

📄 সালাতে রুকূ’ থেকে উঠে নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা


জামা'আতের সাথে সলাত আদায়কালে ইমাম যখন রুকূ' থেকে উঠার সময় সামি' আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে, তখন মুক্তাদী আল্লা-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হাম্দ বললে মুক্তাদীর বিগত জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন:
إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ. فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ . فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
"যখন ইমাম সামি' আল্লা-হু লিমান হামিদাহ বলে, তখন তোমরা আল্লা-হুম্মা রব্বানা লাকাল হাম্দ বল। কেননা যার ঐ কথা বলা ফেরেশতাদের বলার সাথে মিলে যায়, তার বিগত জীবনের সকল পাপ মাফ করে দেয়া হয়।"৩০৮

টিকাঃ
৩০৮. সহীহুল বুখারী: ৭৯৬; সহীহ মুসলিম: ৯৪০।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 রমাযানের সিয়াম পালন

📄 রমাযানের সিয়াম পালন


ঈমানসহ ও সাওয়াবের আশায় কেউ যদি রমাযান মাসের ফরয সিয়াম পালন করে তাহলে তার পূর্বের জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। আবু হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
"যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় রমাযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।"৩০৯

টিকাঃ
৩০۹. সহীহুল বুখারী: ৩৮, ২০১৪, সহীহ মুসলিম: ১৮১৭।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 রমাযানে কিয়ামুল লাইল আদায় করা

📄 রমাযানে কিয়ামুল লাইল আদায় করা


রমাযান মাসে ক্বিয়ামুল লাইল বা রাতের সলাত (তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ) আদায় করলে বিগত জীবনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
"যে ব্যক্তি রমাযানের রাতে ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।"৩১০
ইবনু হাজার আল 'আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ)৩১১ বলেন:
ظاهره يتناول الصغائر والكبائر و به جزم ابن المنذر وقال النووي المعروف أنه يختص بالصغائر وبه جزم إمام الحرمين وعزاه القاضي عياض لأهل السنة قال بعضهم ويجوز أن يخفف من الكبائر إذا لم يصادف صغيرة"
"হাদীসের বাহ্যিক অর্থ সগীরা-কাবীরা সকল গুনাহকে শামিল করে। ইবনুল মুনযির এই মত পোষণ করেছেন। ইমাম নাবাভীর মতে, এ হাদীস শুধু সগীরা গুনাহের জন্য নির্ধারিত। ইমামুল হারামাইনও এই মত পোষণ করেছেন। ক্বাযী 'ইয়ায এ মতকে আহলুস্ সুন্নাহ্ দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, 'আমলনামায় সগীরা গুনাহ না থাকলে কাবীরা গুনাহকে হালকা করা হয় (যদি থাকে)।৩১২

টিকাঃ
৩১০. সহীহুল বুখারী: ৩৭, ২০০৯, সহীহ মুসলিম: ১৮১৫-১৮১৬।
৩১১. জন্ম: ৭৭৩ হি. - মৃত্যু: ৮৫২ হি.।
৩১২. ফাতহুল বারী, খ. ৪, পৃ. ২৫১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00