📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সালাতের সময় হলে উত্তমরূপে উযূ করে উত্তরূপে সালাত আদায় করা

📄 সালাতের সময় হলে উত্তমরূপে উযূ করে উত্তরূপে সালাত আদায় করা


খলীফা 'উসমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেন:
مَا مِن امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ الدَّهْرَ كله
"কোন মুসলিম ব্যক্তির যখন কোন ফরয সলাত-এর ওয়াক্ত হয় আর সে সলাত-এর উযূকে উত্তমরূপে করে, সলাত-এর ভিতরে বিনয় ও রুকূ' উত্তমরূপে আদায় করে, তাহলে যতক্ষণ না সে কোন কাবীরা গুনাহে লিপ্ত হবে, তার এই সলাত তার পূর্ববর্তী যাবতীয় গুনাহের জন্য কাফ্ফারা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান।"৩০১
নাবী বলেছেন:
«لَا يَتَوَضَّأُ رَجُلٌ مُسْلِمٌ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ فَيُصَلِّي صَلَاةً إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الَّتِي تَلِيهَا»
“যেই মুসলিম ব্যক্তি উযূ করবে এবং উযূকে সুন্দরভাবে আদায় করবে, অতঃপর সলাত আদায় করবে সেই ব্যক্তির এই সলাত ও তার পূর্ববর্তী সলাত- এর মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।৩০২

টিকাঃ
৩০۱. সহীহ মুসলিম: ৫৬৫।
৩০۲. সহীহ মুসলিম: ৫৬২।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা শেষে “আ-মীন” বলা

📄 ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা শেষে “আ-মীন” বলা


ইমামের পিছনে জামা'আতে সলাত আদায়কালে ইমাম সূরা ফাতিহার শেষ আয়াত 'গাইরিল মাগযুবি 'আলাইহিম ওয়ালায যো-ল্লীন' পড়া শেষ করে তখন উচ্চৈঃস্বরে ৩০৩ 'আ-মীন' বলা সুন্নাত। যে ব্যক্তি এমন করে 'আ-মীন' বলবে আর তার 'আ-মীন' বলার সাথে ফেরেশতাগণের 'আ-মীন' বলা মিলে যাবে তাহলে তার জীবনের পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
«إِذَا قَالَ الْإِمَامُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
“ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগযুবি 'আলাইহিম ওলায যো-ল্লীন' বলে তখন তোমরা 'আ-মীন' বল। কারণ যার 'আ-মীন' বলা ফেরেশতাদের 'আ-মীন' বলার সাথে মিলে যায়, তার পূর্বেকার সকল পাপ মাফ করে দেয়া হয়।”৩০৪
অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
إِذَا أَمَّنَ الْإِمَامُ فَأَمَنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“ইমাম যখন 'আ-মীন' বলবে, তখন তোমরাও 'আ-মীন' বল। কারণ, যার 'আ-মীন' বলা ফেরেশতাদের 'আ-মীন' বলার সাথে সাথে হয়, তখন তার পূর্বেকার গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়।”৩০৫
আরো এক বর্ণনায় তিনি বলেন,
إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِينَ وَقَالَتْ الْمَلَائِكَةُ فِي السَّمَاءِ آمِينَ فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“তোমাদের কেউ যখন সলাতে 'আ-মীন' বলে এবং ফেরেশতারা আকাশে 'আ-মীন' বলেন, আর পরস্পরে 'আ-মীন' বলা সমস্বরে হয়, তখন তার পূর্বের পাপরাশি মাফ করে দেয়া হয়।”৩০৬
উপরে উল্লিখিত হাদীসগুলো দ্বারা জানা গেলো যে, জামা'আতে সলাত আদায়ের সময় যদি মুক্তাদী ইমাম সাহেবের সূরা ফাতিহা শেষে 'আ-মীন' বলা শুনে পূর্ণ মনোযোগ, ভীতি ও একনিষ্ঠতা সহকারে 'আ-মীন' বলে এবং তা যদি ফেরেশতাগণের 'আ-মীন' বলার সাথে মিলে যায় তাহলে তার পূর্বের সকল সগীরা গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আর যদি তার 'আমলনামায় সগীরা গুনাহ না থাকে তাহলে তার কাবীরা গুনাহ (যদি থাকে) হালকা করে দেয়া হবে, ইন্‌শা-আল্লাহ। ৩০৭

টিকাঃ
৩০৩. গগণবিদারী চিৎকার করে নয়, স্বাভাবিক উচ্চ আওয়াজে বলতে হবে।
৩০۴. সহীহুল বুখারী: ৭৮২; সহীহ মুসলিম: ৯৪৭।
৩০۵. সহীহুল বুখারী: ৭৮০, সহীহ মুসলিম: ৯৪২।
৩০۶. সহীহুল বুখারী: ৭৮০-৭৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২; সহীহ মুসলিম: ৯৪২, ৯৪৪-৯৪৫।
৩০۷. মিন মুকাফফিরাতিয যুনূব, পৃ. ২৩।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সালাতে রুকূ’ থেকে উঠে নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা

📄 সালাতে রুকূ’ থেকে উঠে নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা


জামা'আতের সাথে সলাত আদায়কালে ইমাম যখন রুকূ' থেকে উঠার সময় সামি' আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে, তখন মুক্তাদী আল্লা-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হাম্দ বললে মুক্তাদীর বিগত জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন:
إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ. فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ . فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
"যখন ইমাম সামি' আল্লা-হু লিমান হামিদাহ বলে, তখন তোমরা আল্লা-হুম্মা রব্বানা লাকাল হাম্দ বল। কেননা যার ঐ কথা বলা ফেরেশতাদের বলার সাথে মিলে যায়, তার বিগত জীবনের সকল পাপ মাফ করে দেয়া হয়।"৩০৮

টিকাঃ
৩০৮. সহীহুল বুখারী: ৭৯৬; সহীহ মুসলিম: ৯৪০।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 রমাযানের সিয়াম পালন

📄 রমাযানের সিয়াম পালন


ঈমানসহ ও সাওয়াবের আশায় কেউ যদি রমাযান মাসের ফরয সিয়াম পালন করে তাহলে তার পূর্বের জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। আবু হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
"যে ব্যক্তি ঈমানসহ সাওয়াবের আশায় রমাযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।"৩০৯

টিকাঃ
৩০۹. সহীহুল বুখারী: ৩৮, ২০১৪, সহীহ মুসলিম: ১৮১৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00