📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সুন্দর করে উযূ করে দুই রাক্'আত সালাত আদায় করা

📄 সুন্দর করে উযূ করে দুই রাক্'আত সালাত আদায় করা


শুধু উযূ করলেও যেমন গুনাহ মাফ হয় তেমনি অন্য হাদীস মোতাবেক কেউ যদি সুন্দরমত উযূ করে কোন ভুল ছাড়াই পূর্ণ মনোযোগ সহকারে দুই রাক্'আত সলাত আদায় করে তাহলেও তার বিগত জীবনের সকল পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
যায়েদ বিন খালিদ আল জুহানী বলেন, নাবী ﷺ বলেছেন:
﴿مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوْءَهُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يَسْهُوُ فِيْهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ﴾
“যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে উযূ করে, কোন ভুল না করে (একাগ্রচিত্তে) দুই রাক‘আত সালাত আদায় করে, সেই ব্যক্তির পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।”২৬৮
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
﴿مَنْ تَوَضَّأَ كَمَا أُمِرَ غُفِرَ لَهُ مَا قَدَّمَ مِنْ عَمَلٍ﴾
“(আল্লাহ ও তার রাসূলের) নির্দেশনা মোতাবেক যে ব্যক্তি উযূ করবে এবং নির্দেশনা মোতাবেক সালাত আদায় করবে তার পূর্বে ‘আমলের গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হবে।”২৬৯
‘উসমান উযূ করা শেষ করে বললেন, আমি নাবী ﷺ-কে দেখেছি, আমি এযায়গায় যেভাবে উযূ করেছি তিনি সেভাবে উযূ করেছেন। তারপর তিনি বলেন,
﴿مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوْئِى هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ فِيْهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ﴾
“যে ব্যক্তি আমার মতো এ রকম উযূ করবে, তারপর দু রাক‘আত সালাত আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পেছনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।”২৭০
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
﴿أَمَّا قَوْلُهُ ﷺ لَا يُحَدِّثُ فِيْهِمَا نَفْسَهُ فَالْمُرَادُ لَا يَحْدُثُ بِشَيْءٍ مِنْ أُمُورِ الدُّنْيَا وَمَا لَا يَتَعَلَّقُ بِالصَّلَاةِ وَلَوْ عَرَضَ لَهُ حَدِيْثٌ فَأَعْرَضَ عَنْهُ عُفِيَ
عن ذلك وحصلت له هذه الفضيلة إن شاء الله تعالى لأن هذا ليس من فعله وقد عفى لهذه الامة عن الخواطر التي تعرض ولا تستقر "
"রাসূলুল্লাহ-এর কথা 'যাতে নিজের কোন বাক্যালাপ করবে না'-এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত এবং সলাতের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কোন কাজ করবে না। যদি তার সামনে কোন কথা বলা হয় তাহলে সে তা এড়িয়ে যাবে আর স্বল্প প্রতি উত্তর দিবে। তাহলে তাকে মাফ করে দেয়া হবে এবং হাদীসে বর্ণিত ফযীলত সে পেয়ে যাবে, ইনশা-আল্লা-হ। কারণ এতটুকু তার ইচ্ছাকৃত কর্মের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই উম্মাতের সেসব ভুল ধরা হয় না যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সামনে চলে আসা পরিস্থিতির কারণে করতে হয় কিন্তু তার উপরে অটল থাকে না।"২৯۹
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন,
المراد بالغفران الصغائر دون الكبائر وفيه استحباب صلاة ركعتين فأكثر عقب كل وضوء وهو سنة مؤكدة
"অত্র হাদীসে গুনাহ মাফ দ্বারা সগীরা গুনাহ মাফের কথা উদ্দেশ্য করা হয়েছে; কাবীরা গুনাহ নয়। আর এই হাদীস দ্বারা প্রত্যেকবার উযূর পরপরই দুই বা ততোধিক রাক্' আত সলাত আদায় করা মুস্তাহাব 'আমল প্রমাণিত হলো। এ 'আমল সুন্নাতে মুয়াক্কাদাও।"৩০০

টিকাঃ
২৬৮. সুনান আবূ দাউদ: ৯০৫; সহীহুত তারগীব: ২২১ হাদীসটি সহীহ।
২৬۹. সুনান আন নাসাঈ: ১৪৪, সুনান ইবনু মাজাহ: ১৩৯৫, হাদীসটির সহীহ।
২৭۰. সহীহুল বুখারী: ১৫৯, ১৬৪, সহীহ মুসলিম: ৫৬৩, ৫৬১।
২৯۹. শারহু সহীহ মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ১০৮।
৩۰۰. শারহু সহীহ মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ১০৮।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সালাতের সময় হলে উত্তমরূপে উযূ করে উত্তরূপে সালাত আদায় করা

📄 সালাতের সময় হলে উত্তমরূপে উযূ করে উত্তরূপে সালাত আদায় করা


খলীফা 'উসমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেন:
مَا مِن امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ الدَّهْرَ كله
"কোন মুসলিম ব্যক্তির যখন কোন ফরয সলাত-এর ওয়াক্ত হয় আর সে সলাত-এর উযূকে উত্তমরূপে করে, সলাত-এর ভিতরে বিনয় ও রুকূ' উত্তমরূপে আদায় করে, তাহলে যতক্ষণ না সে কোন কাবীরা গুনাহে লিপ্ত হবে, তার এই সলাত তার পূর্ববর্তী যাবতীয় গুনাহের জন্য কাফ্ফারা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান।"৩০১
নাবী বলেছেন:
«لَا يَتَوَضَّأُ رَجُلٌ مُسْلِمٌ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ فَيُصَلِّي صَلَاةً إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الَّتِي تَلِيهَا»
“যেই মুসলিম ব্যক্তি উযূ করবে এবং উযূকে সুন্দরভাবে আদায় করবে, অতঃপর সলাত আদায় করবে সেই ব্যক্তির এই সলাত ও তার পূর্ববর্তী সলাত- এর মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।৩০২

টিকাঃ
৩০۱. সহীহ মুসলিম: ৫৬৫।
৩০۲. সহীহ মুসলিম: ৫৬২।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা শেষে “আ-মীন” বলা

📄 ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা শেষে “আ-মীন” বলা


ইমামের পিছনে জামা'আতে সলাত আদায়কালে ইমাম সূরা ফাতিহার শেষ আয়াত 'গাইরিল মাগযুবি 'আলাইহিম ওয়ালায যো-ল্লীন' পড়া শেষ করে তখন উচ্চৈঃস্বরে ৩০৩ 'আ-মীন' বলা সুন্নাত। যে ব্যক্তি এমন করে 'আ-মীন' বলবে আর তার 'আ-মীন' বলার সাথে ফেরেশতাগণের 'আ-মীন' বলা মিলে যাবে তাহলে তার জীবনের পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
«إِذَا قَالَ الْإِمَامُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
“ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগযুবি 'আলাইহিম ওলায যো-ল্লীন' বলে তখন তোমরা 'আ-মীন' বল। কারণ যার 'আ-মীন' বলা ফেরেশতাদের 'আ-মীন' বলার সাথে মিলে যায়, তার পূর্বেকার সকল পাপ মাফ করে দেয়া হয়।”৩০৪
অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
إِذَا أَمَّنَ الْإِمَامُ فَأَمَنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“ইমাম যখন 'আ-মীন' বলবে, তখন তোমরাও 'আ-মীন' বল। কারণ, যার 'আ-মীন' বলা ফেরেশতাদের 'আ-মীন' বলার সাথে সাথে হয়, তখন তার পূর্বেকার গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়।”৩০৫
আরো এক বর্ণনায় তিনি বলেন,
إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِينَ وَقَالَتْ الْمَلَائِكَةُ فِي السَّمَاءِ آمِينَ فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
“তোমাদের কেউ যখন সলাতে 'আ-মীন' বলে এবং ফেরেশতারা আকাশে 'আ-মীন' বলেন, আর পরস্পরে 'আ-মীন' বলা সমস্বরে হয়, তখন তার পূর্বের পাপরাশি মাফ করে দেয়া হয়।”৩০৬
উপরে উল্লিখিত হাদীসগুলো দ্বারা জানা গেলো যে, জামা'আতে সলাত আদায়ের সময় যদি মুক্তাদী ইমাম সাহেবের সূরা ফাতিহা শেষে 'আ-মীন' বলা শুনে পূর্ণ মনোযোগ, ভীতি ও একনিষ্ঠতা সহকারে 'আ-মীন' বলে এবং তা যদি ফেরেশতাগণের 'আ-মীন' বলার সাথে মিলে যায় তাহলে তার পূর্বের সকল সগীরা গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আর যদি তার 'আমলনামায় সগীরা গুনাহ না থাকে তাহলে তার কাবীরা গুনাহ (যদি থাকে) হালকা করে দেয়া হবে, ইন্‌শা-আল্লাহ। ৩০৭

টিকাঃ
৩০৩. গগণবিদারী চিৎকার করে নয়, স্বাভাবিক উচ্চ আওয়াজে বলতে হবে।
৩০۴. সহীহুল বুখারী: ৭৮২; সহীহ মুসলিম: ৯৪৭।
৩০۵. সহীহুল বুখারী: ৭৮০, সহীহ মুসলিম: ৯৪২।
৩০۶. সহীহুল বুখারী: ৭৮০-৭৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২; সহীহ মুসলিম: ৯৪২, ৯৪৪-৯৪৫।
৩০۷. মিন মুকাফফিরাতিয যুনূব, পৃ. ২৩।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 সালাতে রুকূ’ থেকে উঠে নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা

📄 সালাতে রুকূ’ থেকে উঠে নির্দিষ্ট দু'আ পাঠ করা


জামা'আতের সাথে সলাত আদায়কালে ইমাম যখন রুকূ' থেকে উঠার সময় সামি' আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে, তখন মুক্তাদী আল্লা-হুম্মা রব্বানা-লাকাল হাম্দ বললে মুক্তাদীর বিগত জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে নাবী বলেছেন:
إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ. فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ . فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
"যখন ইমাম সামি' আল্লা-হু লিমান হামিদাহ বলে, তখন তোমরা আল্লা-হুম্মা রব্বানা লাকাল হাম্দ বল। কেননা যার ঐ কথা বলা ফেরেশতাদের বলার সাথে মিলে যায়, তার বিগত জীবনের সকল পাপ মাফ করে দেয়া হয়।"৩০৮

টিকাঃ
৩০৮. সহীহুল বুখারী: ৭৯৬; সহীহ মুসলিম: ৯৪০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00