📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 তাকওয়া অবলম্বন করা ও সঠিক কথা বলা

📄 তাকওয়া অবলম্বন করা ও সঠিক কথা বলা


ঈমানদাররা আল্লাহকে ভয় করে সর্বদা সঠিক কথা বললে আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করে দিবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করল।”২৮৫
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ يَفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ )
“হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি স্বীয় রহমতে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন, আর তোমাদেরকে নূর দেবেন যার সাহায্যে তোমরা চলতে পারবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”২৮৬

টিকাঃ
২৮۵. সূরা আল আহযাব ৩৩: ৭০-৭১।
২৮۶. সূর' আল হাদীদ ৫৭: ২৮।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 জিহাদ করা

📄 জিহাদ করা


যারা নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে হিজরত করেছে এবং যাদেরকে আল্লাহর পথে থাকার জন্য কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ বিরোধী জালিম শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং শহীদ হয়েছে আল্লাহ তা'আলা তাদের গুনাহ মাফ করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং আরও উত্তম প্রতিদান তাদেরকে তিনি দিবেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ)
"অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, 'নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন পুরুষ অথবা মহিলা 'আমলকারীর 'আমল নষ্ট করব না। তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং যাদেরকে আমার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ বিলুপ্ত করে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ; আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান।”২৮৭

টিকাঃ
২৮৭. সূরা আ-লি 'ইমরা-ন ০৩: ১৯৫।

📘 কুরআন-হাদীসের আলােকে গুনাহ মাফের উপায় > 📄 মানুষের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করা

📄 মানুষের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করা


আত্মীয়-স্বজন বা অভাবী মানুষ কিংবা সাধারণ যে কারও প্রতি উদারতা প্রদর্শন করলে এবং তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে এর বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা দাতার গুনাহ মাফ করে দেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيلِ اللهِ وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَّا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
"আর তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন এমন কুসম না করে যে, তারা নিকটাত্মীয়দের, মিসকীনদের ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের কিছুই দেবে না। আর তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ কর না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেন? আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”২৮৮
এ আয়াতটি অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার সারমর্ম উল্লেখ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। 'আয়িশাহ্ -এর প্রতি অপবাদের ঘটনায় মুসলিমদের মধ্যে মিসতাহ্ ও হাসান জড়িয়ে পড়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ আয়াত নাযিল হওয়ার পর তাদের প্রতি অপবাদের শাস্তি প্রয়োগ করেন। তারা উভয়েই বিশিষ্ট সাহাবী এবং বদর-যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট সাহাবীদের অন্যতম ছিলেন। কিন্তু তাদের দ্বারা একটি ভুল হয়ে যায় এবং তারা খাঁটি তাওবার তাওফীক লাভ করেন। আল্লাহ তা'আলা যেমন 'আয়িশার দোষমুক্ততা ঘোষণা করে প্রকাশ্যে আয়াত নাযিল করেন, এমনিভাবে এই মুসলিমদের তাওবাহ্ কবূল করা ও ক্ষমা করার কথাও ঘোষণা করে দেন। মিসতাহ্ আবূ বাক্স আত্মীয় ও নিঃস্ব ছিলেন। আবূ বাক্ তাকে আর্থিক সাহায্য করতেন। যখন অপবাদের ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার কথা প্রকাশিত হল, তখন কন্যা-বৎসল পিতা আবু বাক্স সিদ্দীক কন্যাকে এমন কষ্টদানের কারণে স্বাভাবিকভাবেই মিসতার প্রতি ভীষণ অসন্তুষ্ট হলেন। তিনি কুসম করে বসলেন, ভবিষ্যতে তাকে কোনরূপ আর্থিক সাহায্য করবেন না।
বলাবাহুল্য, কোন বিশেষ ফকীরকে আর্থিক সাহায্য নির্দিষ্টভাবে কোন বিশেষ মুসলিমের উপর ওয়াজিব নয়। কেউ কাউকে আর্থিক সাহায্য করার পর যদি বন্ধ করে দেয়, তবে গোনাহের কোন কারণ নেই। কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের দলকে আল্লাহ তা'আলা বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ দলরূপে গঠন করতে ইচ্ছুক ছিলেন। তাই একদিকে বিচ্যুতিকারীদের খাঁটি তাওবাহ্ এবং ভবিষ্যত সংশোধনের নি'আমত দ্বারা ভূষিত করেছেন এবং অপরদিকে যারা স্বাভাবিক মনোকষ্টের কারণে গরীবদের সাহায্য ত্যাগ করার কুসম করেছিলেন, তাদেরকেও আদর্শ চরিত্রের শিক্ষা আলোচ্য আয়াতে দান করেছেন। তাদেরকে বলা হয়েছে তারা যেন কুসম ভঙ্গ করে কাফ্ফারা দিয়ে দেয়। গরীবদের আর্থিক সাহায্য থেকে হাত গুটিয়ে নেয়া তাদের উচ্চমর্যাদার পক্ষে সমীচীন নয়। আল্লাহ তা'আলা যেমন তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তেমনি তাদেরও ক্ষমা ও মার্জনা প্রদর্শন করা উচিত। ২৮৯
আয়াতের শেষ বাক্যে বলা হয়েছে: ﴿أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ ﴾ "তোমরা কি পছন্দ করো না যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের গোনাহ্ মাফ করবেন?" আয়াতটি শুনে আবূ বাক্স তৎক্ষণাৎ বলে উঠলেন: ﴿وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لِي ﴾ অর্থাৎ- "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! হে আমাদের রব! আমরা চাই তুমি আমাদের ক্ষমা করো।" এরপর তিনি মিসতার আর্থিক সাহায্য পুনর্বহাল করে দেন এবং বলেন: এ সাহায্য কোন দিন বন্ধ হবে না। ২৯০
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ وَإِنْ تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴾
“হে মু'মিনগণ! তোমাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের কেউ কেউ তোমাদের দুশমন। অতএব তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর যদি তোমরা মার্জনা কর, এড়িয়ে যাও এবং মাফ করে দাও তবে নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু।”২৯১
হুযায়ফাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী বলেছেন:
تَلَقَّتْ الْمَلَائِكَةُ رُوحَ رَجُلٍ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ قَالُوا أَعَمِلْتَ مِنَ الْخَيْرِ شَيْئًا قَالَ كُنْتُ آمُرُ فِتْيَانِي أَنْ يُنْظِرُوا وَيَتَجَاوَزُوا عَنْ الْمُوسِرِ قَالَ قَالَ فَتَجَاوَزُوا عَنْهُ
“তোমাদের পূর্ববর্তীগণের মধ্যে এক ব্যক্তির রূহের সাথে ফেরেশতা সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন নেক কাজ করেছ? লোকটি উত্তর দিল, আমি আমার কর্মচারীদের আদেশ করতাম যে, তারা যেন সচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় এবং তার ওপর পীড়াপীড়ি না করে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বলেছেন, ফেরেশতারাও তাঁকে ক্ষমা করে দেন।”২৯২
আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
كَانَ رَجُلٌ يُدَايِنُ النَّاسَ فَكَانَ يَقُولُ لِفَتَاهُ إِذَا أَتَيْتَ مُعْسِرًا فَتَجَاوَزَ عَنْهُ لَعَلَّ اللَّهَ يَتَجَاوَزُ عَنَّا فَلَقِيَ اللَّهَ فَتَجَاوَزَ عَنْهُ»
“এক লোক মানুষের সাথে লেন-দেন করত। সে তার গোলামকে বলে দিত, তুমি যখন কোন অভাবগ্রস্তের কাছে (পাওনা আদায়ের জন্য) যাবে তখন তাকে (কিছু) ক্ষমা করে দিবে। হয়ত আল্লাহ আমাদেরও ক্ষমা করে দিবেন। এরপর সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে মিলিত হল। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাকে মাফ করে দিলেন।”২৯৩
আবূ মাস্'উদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
حُوسِبَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ شَيْءٌ إِلَّا أَنَّهُ كَانَ يُخَالِطُ النَّاسَ وَكَانَ مُوسِرًا فَكَانَ يَأْمُرُ غِلْمَانَهُ أَنْ يَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُعْسِرِ قَالَ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ تَجَاوَزُوا عَنْهُ
"তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের মধ্যে এক লোকের হিসাব গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তার মধ্যে কোন প্রকার ভালো 'আমল পাওয়া যায়নি। কিন্তু সে মানুষের সাথে লেন-দেন করত এবং সে ছিল সচ্ছল। তাই দরিদ্র লোকেদের মাফ করে দেয়ার জন্য সে তার কর্মচারীদের নির্দেশ দিত। রাসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহ বললেন: ক্ষমার ব্যাপারে আমরা তার চেয়ে অধিকযোগ্য। একে ক্ষমা করে দাও।"২৯৪

টিকাঃ
২৮৮. সূরা আন্ নূর ২৪: ২২।
২৮৯. তাফসীরে কুরতুবীর বরাতে কুরআনুল কারীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর), খ. ২, পৃ. ১৮৬৪।
২৯০. সহীহুল বুখারী: ৪৭৫০, সহীহ মুসলিম: ৭১৯৬।
২৯১. সূরা আত্ তাগা-বুন ৬৪ : ১৪।
২৯۲. সহীহুল বুখারী: ২০৭৭।
২৯۳. সহীহুল বুখারী: ৩৪৮০, সহীহ মুসলিম: ৪০৮১।
২৯۴. সহীহ মুসলিম: ৪০৮০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00