📄 ধৈর্যধারণ ও ‘আমলে সালেহ্ করা
জীবন চলার পথে ধৈর্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে ঈমান আনার পরে ধৈর্যধারণ বেশি দরকারী। ধৈর্যের সাথে সাথে 'আমলে সালেহ করাও জরুরি। তাহলেই ক্ষমা মিলবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
(إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ)
"তবে যারা সবর করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।"২৮২
টিকাঃ
২৮২. সূরা হূদ ১১: ১১।
📄 শিরক ও পারস্পরিক শত্রুতা না থাকা অবস্থায় ‘আমল পেশ হওয়া’
আবূ হুরায়রাহ্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلَّا رَجُلًا كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحًا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا»
"প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়। এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক স্থাপন করে না। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই ও তার মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান। এরপর বলা হবে, এই দুজনকে আপোষ-রফা করার জন্য অবকাশ দাও, এই দু'জনকে আপোষ-রফা করার জন্য অবকাশ দাও, এই দু'জনকে আপোষ-রফার জন্য অবকাশ দাও।"২৮৩
আবূ হুরায়রাহ্-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
تُعْرَضُ أَعْمَالُ النَّاسِ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّتَيْنِ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ مُؤْمِنٍ إِلَّا عَبْدًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ اتْرُكُوا - أَوِ ارْكُوا - هَذَيْنِ حَتَّى يَفِينَا»
"মানুষের 'আমলনামা সপ্তাহে দু'বার সোমবার ও বৃহস্পতিবার পেশ করা হয়। এরপর প্রত্যেক মু'মিন বান্দাকে ক্ষমা করা হয়। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই এর সাথে তার শত্রুতা আছে। তখন বলা হবে, এই দু'জনকে রেখে দাও অথবা অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা আপোষের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।"২৮৪
টিকাঃ
২৮৩. সহীহ মুসলিম: ৬৭০৯।
২৮৪. সহীহ মুসলিম: ৬৭১২।
📄 তাকওয়া অবলম্বন করা ও সঠিক কথা বলা
ঈমানদাররা আল্লাহকে ভয় করে সর্বদা সঠিক কথা বললে আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করে দিবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করল।”২৮৫
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ يَفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ )
“হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি স্বীয় রহমতে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন, আর তোমাদেরকে নূর দেবেন যার সাহায্যে তোমরা চলতে পারবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”২৮৬
টিকাঃ
২৮۵. সূরা আল আহযাব ৩৩: ৭০-৭১।
২৮۶. সূর' আল হাদীদ ৫৭: ২৮।
📄 জিহাদ করা
যারা নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে হিজরত করেছে এবং যাদেরকে আল্লাহর পথে থাকার জন্য কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ বিরোধী জালিম শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং শহীদ হয়েছে আল্লাহ তা'আলা তাদের গুনাহ মাফ করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং আরও উত্তম প্রতিদান তাদেরকে তিনি দিবেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ)
"অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, 'নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন পুরুষ অথবা মহিলা 'আমলকারীর 'আমল নষ্ট করব না। তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং যাদেরকে আমার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ বিলুপ্ত করে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ; আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান।”২৮৭
টিকাঃ
২৮৭. সূরা আ-লি 'ইমরা-ন ০৩: ১৯৫।