📄 ঈমান আনা ও তাকওয়া অবলম্বন করা
ঈমান আনার পর 'আমলে সালেহের পাশাপাশি জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাকওয়া অবলম্বন করলে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ
"আর যদি কিতাবীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তবে অবশ্যই আমি তাদের থেকে পাপগুলো দূর করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদেরকে আরামদায়ক জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাতাম।" ২৫৫
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
“হে মু'মিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তাহলে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান প্রদান করবেন, তোমাদের থেকে তোমাদের পাপসমূহ দূর করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।” ২৫৬
আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:
﴿وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا﴾
“আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন এবং তার পুরস্কারকে মহান করে দেন।”২৫৭
টিকাঃ
২৫৫. সূরা আল মায়িদাহ্ ৫: ৬৫।
২৫৬. সূরা আল আনফাল ৮: ২৯।
২৫৭. সূরা আত্ব ত্বলাক্ব ৬৫: ৫।
📄 আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি ঈমানের ওয়াসলায় ক্ষমা প্রার্থনা করা
মহান রব আল্লাহর প্রতি ঈমানের ওয়াসীলা করে কেউ যদি ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ﴾
“হে আমাদের রব! নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহ্বানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহ্বান করে যে, 'তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আনো'। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে'।” ২৫৮
টিকাঃ
২৫৮. সূরা আ-লি 'ইমরা-ন ০৩: ১৯৩।
📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুসরণ করা
যারা আল্লাহকে ভালোবাসে এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে অনুসরণ করে আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন এবং তাদের গুনাহও মাফ করে দেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ﴾ ﴿ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴾
"বল, 'যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু'। "২৫৯
একদল জিন্ ইসলাম গ্রহণ করে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে রাসূলুল্লাহ -এর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য উল্লেখ করে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ ﴾ ﴿ عَذَابٍ أَلِيمٍ ﴾
"হে আমাদের ক্বওম! আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর প্রতি সাড়া দাও এবং তার প্রতি ঈমান আন, আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক 'আযাব থেকে রক্ষা করবেন'। "২৬০
টিকাঃ
২৫৯. সূরা আ-লি 'ইমরা-ন ০৩: ৩১।
২৬০. সূরা আল আহ্হ্বা-ফ ৪৬: ৩১।
📄 শিরক্মুক্ত থেকে সাধ্যানুযায়ী ‘আমল করা
শিকমুক্ত ঈমান ও 'আমলের গুরুত্ব সর্বাধিক। ঈমান ও 'আমলের কোথাও সামান্য শির্ক থাকলে আল্লাহ তা বরদাশত করবেন না। কিন্তু তিনি অন্য সকল কিছু মাফ করবেন বলে তিনি কুরআনেও ঘোষণা দিয়েছেন যা পূর্বে বিস্তরিত দলীলসহ আলোকপাত করা হয়েছে। শিরকমুক্তভাবে যতটুকু 'আমল করা হবে তা-ই আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই শির্ক থেকে মুক্ত থেকে সাধ্যানুযায়ী 'আমল করে যাওয়াই মু'মিনের দায়িত্ব। হাদীসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَا ابْنَ آدَمَ مَهُمَا عَبَدْتَنِي وَرَجَوْتَنِي وَلَمْ تُشْرِكْ بِي شَيْئًا غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ مِنْكَ وَإِنِ اسْتَقْبَلْتَنِي بِمِلْءِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ خَطَايَا وَذُنُوبًا اسْتَقْبَلْتُكَ بِمِلْئِهِنَّ مِنَ الْمَغْفِرَةِ وَأَغْفِرُ لَكَ وَلَا أُبَالِي
“হে আদম সন্তান! তুমি আমার যতটুকুই 'ইবাদাত করো এবং ভালো আশা করো যদি তুমি আমার সাথে কোনো কিছুকে অংশী স্থাপন না করো তাহলে তোমার 'আমল যা-ই হোক না কেন তোমাকে আমি ক্ষমা করে দেবো। তুমি যদি আসমান ও জমিন ভরা অপরাধ ও গুনাহ নিয়ে আমার সামনে উপস্থিত হও তাহলে আমিও আসমান ও জমিন ভরা ক্ষমা নিয়ে তোমার সামনে উপস্থিত হবো এবং আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো, এতে আমি কাউকে পরোয়া করি না।”২৬১
অন্য একটি হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
مَنْ عَلِمَ أَنِّي ذُوْ قُدْرَةٍ عَلَى مَغْفِرَةِ الذُّنُوبِ غَفَرْتُ لَهُ وَلَا أُبَالِي مَا لَمْ يُشْرِكْ بِي شَيْئًا»
"যে ব্যক্তি জানলো ও বিশ্বাস করলো যে আমি গুনাহ মাফ করার ক্ষমতা রাখি এবং আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক স্থাপন করলো না তাহলে আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো, এ ক্ষেত্রে আমি কারও পরোয়া করবো না।"২৬২
টিকাঃ
২৬১. সহীহ আল জামি: ৪৩৪১, হাদীসটি সহীহ।
২৬২. সহীহ আল জামি' : ৪৩৩০, হাদীসটি সহীহ।