📄 তফসীরের অনুমান ভিত্তিক উৎস
এখানে তফসীরের অনুমানভিত্তিক কতিপয় উৎস সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলব। অনুমানভিত্তিক বলতে আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সেসব উৎস, যার ওপর সর্বাবস্থায় পুরোপুরি নির্ভর করা যায় না; বরং সেগুলোর ভেতরে যেহেতু অনুমান ও সন্দেহ-সংশয়ের সংস্পর্শ রয়েছে, সেজন্যে কোরআনের তফসীরের বেলায় সেগুলোকে ততটুকুই গুরুত্ব দেয়া বাঞ্ছনীয় যতটুকু কোরআনের সাথে আনুকূল্য বিধান করবে। তার কোন বিষয় যদি কোরআনের বিরুদ্ধে যায়, তা হলে সেক্ষেত্রে সেগুলো বর্জিত হবে এবং কোরআনের কথাই হবে চূড়ান্ত।
১. কোরআন তফসীরের অনুমানভিত্তিক উৎসগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ও পবিত্র উৎসটি হল বিভিন্ন দুর্বল বর্ণনার মাধ্যমে প্রাপ্ত হাদীসে রসূল এবং সাহাবায়ে কেরামের বাণী। এগুলোর বিশুদ্ধতা ও যথার্থতার ব্যাপারে যদি পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া যেত, তা হলে তফসীরের ক্ষেত্রে এগুলোর মর্যাদাও ঠিক ততটাই হতে পারত যতটা সুন্নতে মুতাওয়াতেরাহর রয়েছে। কিন্তু যেহেতু এগুলোর সঠিকতার ব্যাপারে পূর্ণ ভরসা করা যায় না, সেহেতু তফসীর করতে গিয়ে এগুলোর মধ্য থেকে ততটুকুই গ্রহণ করা যাবে যতটুকু সে সমস্ত চূড়ান্ত ও অকাট্য মূলনীতিসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সাধারণভাবে বর্ণিত হাদীস ও সাহাবায়ে কেরামের 'আসার'কে গুরুত্ব দিতে গিয়ে যারা কোরআনের ওপরে নিয়ে দাঁড় করায়, তারা প্রকৃতপক্ষে কোরআনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ তাতে হাদীসের মর্যাদাও বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে যারা আদপেই হাদীসকে অস্বীকার করে বসেন তারা সে আলো থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়ে পড়েন, যা কোরআন মজীদের বহু সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিশ্লেষণে সর্বাধিক সহায়ক হতে পারত। এ ব্যাপারে মধ্যম পন্থা হচ্ছে, কোরআন মজীদের সংক্ষিপ্ততার বিশ্লেষণে যেসমস্ত বিশুদ্ধ ও যথার্থ হাদীস সহায়ক হতে পারে, সেগুলোর সাহায্য গ্রহণ করা এবং সেগুলোর মোকাবিলায় অন্য কোন বিষয়কে স্থান না দেয়া। আর হাদীস যদি সুস্পষ্টভাবেই কোরআনের শব্দাবলীর এবং তার বিষয়বস্তুর বিন্যাসধারার বিরোধী হয়, তবে সেসব ক্ষেত্রে বিরত থাকতে হবে। সেসব অবস্থাতে হাদীসকে বর্জন করাই কর্তব্য, যাতে দেখা যাবে, কোরআনের শব্দের সাথে কোনক্রমেই তার সমন্বয় হতে পারছে না। অথবা ঐ হাদীসটি মানতে গেলে দ্বীনের এমন কোন মূলনীতির প্রতি আঘাত আসে, যা মান্য করা অপরিহার্য। সহীহ্ বা বিশুদ্ধ হাদীস বলতে যা বুঝায় এমন খুব কমই দেখা যায়, কোরআনের সাথে যার সামঞ্জস্য হতে পারে না। যাই হোক, এমন সব ক্ষেত্রে কোরআনকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই তার এ অগ্রাধিকারকে উপেক্ষা করা যায় না। কিন্তু এমন ক্ষেত্র খুব বেশী নেই।
শানে নুযূল সম্পর্কে যেসব রেওয়ায়েত রয়েছে, সেগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর ব্যাপারে এই মূলনীতিগত বাস্তবতার প্রতিও লক্ষ্য রাখা কর্তব্য যে, আমাদের প্রাচীন ওলামা-মনীষীবৃন্দ কোন আয়াতের শানে নুযুলের ব্যাপারে যে নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করেন তাতে তাঁদের উদ্দেশ্য এমন থাকে না যে, হুবহু এ ঘটনাটিই এ আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ। বরং তাতে সাধারণত তাঁদের উদ্দেশ্য থাকে যে, এ ধরনের ঘটনার ব্যাপারে যে কি নির্দেশ তা এ আয়াতে রয়েছে। এই বিষয়টির বিশ্লেষণ আমাদের তফসীরের বিশিষ্ট আলেমগণ করেছেন। তাতে শানে নুযূল সম্পর্কিত বেশীর ভাগ জটিলতারই সমাধান হয়ে যায়। শানে নুযূলের প্রতি শুধু সে সকল ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেয়া উচিত যেখানে কোরআন কোন নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে থাকবে। যেমন, সূরা তাহরীম কিংবা আহযাবে কোরআন কোন কোন ঘটনার প্রতি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত করেছে। এ ধরনের ঘটনার সবিস্তার বিবরণ হাদীস থেকে জেনে নেয়া বাঞ্ছনীয়, যা কোরআনের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর সে বিষয়গুলো উপেক্ষা করা উচিত, যা স্বীকার করতে কোরআন বাধা দেয় অথবা তা মেনে নিলে এমন সব ব্যক্তির জীবনে কোন কথা আসে যাদের জীবনের সম্পূর্ণ পবিত্রতা ও নিষ্কলুষতা সম্পর্কে স্বয়ং কোরআন সাক্ষ্য দিয়েছে।
২. এমনিভাবে বিভিন্ন জাতির প্রমাণিত ইতিহাস দ্বারাও কোরআনের তফসীরে সাহায্য নেয়া বাঞ্ছনীয়। কোরআন বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে জাতিসমূহের ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। কোথাও আরবের প্রাচীন জাতি আদ, সামুদ, মাদইয়ান ও কওমে লূত প্রভৃতির ধ্বংসের আলোচনা করেছে, কোথাও হযরত ইবরাহীম (আঃ) এবং হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর মক্কায় আগমন, সেখানে বসতি স্থাপন ও খানায়ে কাবার নির্মাণের ঘটনাবলীর প্রতি আরববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আবার কোথাও ইহুদী-নাসারাদের ইতিহাসের উল্লেখয্যেগ্য ঘটনাবলীর প্রতি ইশারা করেছে। কোথাও কোথাও কোরআনের অবতরণকালীন কোন কোন জাতি এবং তাদের বিশেষ বিশেষ অবস্থার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এমনিভাবে অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনা বা বিষয় রয়েছে, যা কোন না কোনভাবে কোরআনে আলোচিত হয়েছে। এই সমুদয় ইঙ্গিত-ইশারা স্পষ্ট করে বুঝতে হলে সেসব জাতির ইতিহাস এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে মোটামুটিভাবে ওয়াকিফহাল হওয়া আবশ্যক। তা না হলে সেসব উদ্দেশ্য সঠিকভাবে উপলব্ধি করা যায় না, যে জন্যে কোরআন মজীদ এসব ঘটনা বর্ণনা করেছে।
কোরআন মজীদের কোন কোন বিষয়ের বিশ্লেষণকল্পে আমাদের সেসব ঐতিহাসিক বিষয়ের জ্ঞান লাভ করা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু তার প্রমাণিত অংশ খুবই অল্প। কাজেই সেগুলোর যাচাইয়ের জন্যও আমরা কোরআনকেই কষ্টি পাথর হিসাবে নির্দিষ্ট করতে পারি। অর্থাৎ তার যেসব কথা কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী হবে সেগুলোকেই আমরা গ্রহণ করব আর যা কোরআনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে সেগুলো বর্জন করব।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে লক্ষ্য করলে আমরা অনুমান করতে পারব যে, কোরআন মানবতা ও গোটা মানব জাতির প্রতি যে মহান করুণা করেছে, তা ছাড়াও সে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ইতিহাসের প্রতি যে অবদান রেখেছে, সারা বিশ্ব মিলে যদি সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা বা শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে চায় তবুও তার যথার্থ প্রাপ্য শোধ করা সম্ভব হবে না। আমাদের ইতিহাসশাস্ত্র ছিল সম্পূর্ণভাবে একটা নিষ্প্রাণ বিষয়। তা থেকে মানুষ যদিও কিছু পেত তবে তা ছিল শুধুমাত্র ইতিহাসের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার রূপকথার আকারে পুনরাবৃত্তি এবং তা থেকে সাময়িকভাবে বাপ-দাদাদের গৌরবের অনুভূতি কে একটা সান্ত্বনা দেয়া। কোরআন ইতিহাসকে সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছে। সে তাকে জাতিসমূহের উত্থান ও পতনের এক শিক্ষামূলক উপাখ্যান হিসেবে পেশ করেছে এবং খন্ডনের অযোগ্য যুক্তি-দলিল দ্বারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, জাতির উত্থান-ওপতনের প্রকৃত কারণ হচ্ছে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত চরিত্র। ইতিহাসকে নতুন এই আঙ্গিক দান করে কোরআন সমগ্র মানব জাতির ইতিহাসকে ইতিপূর্বে প্রচলিত সাধারণ গল্প-কাহিনীর ন্যায় গুরুত্বহীন পর্যায় থেকে উত্তরিত করে গোটা দুনিয়ার পথ প্রদর্শন ও হেদায়াতের জন্যে সর্বাধিক মূল্যবান উপকরণে পরিণত করে দিয়েছে। বিশেষভাবে বনী ইসরাঈল এবং বনী ইসমাঈলদের ইতিহাসের প্রতি কোরআন যে অনুগ্রহ করেছে তার জন্যে গোটা দুনিয়াকেই তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ, এই জাতিদ্বয়ের ইতিহাস শুধু জাতির ইতিহাসই ছিল না, বরং প্রকৃতপক্ষে তা ছিল বিশ্বের কল্যাণকল্পে আবির্ভূত সুউচ্চ মর্যাদাস্পন্ন নবী-রসূলগণের অবদানের ইতিহাস। আর এই ইতিহাসের বিকৃতি (যেমনটি হয়েছিল আরব ও ইহুদীদের হাতে) পৃথিবীর জন্যে ছিল একটা বিরাট দুর্ভাগ্যের ব্যাপার। এতে হেদায়াত ও পথপ্রাপ্তির সেসমস্ত মাইলফলক নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল যা আল্লাহ্ মনোনীত বান্দারা মানরতাকে পথের দিশা দেয়ার জন্য স্থাপন করেছিলেন। এটা কোরআন মজীদেরই একক অবদান যে, সে ইতিহাসের মুছে যাওয়া সেসব চিহ্নগুলো উদ্ধার করে এমনভাবে পুনঃস্থাপন করেছে যে, কেয়ামত পর্যন্তের জন্য প্রতিটি ফলক চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
তফসীরের অনুমানভিত্তিক উৎসগুলোর মধ্যে তৃতীয়টি হচ্ছে প্রাচীন আসমানী গ্রন্থরাজি। এ সত্য কেউই অস্বীকার করতে পারেন না যে, আমাদের নবী করীম (সঃ) নবী-রসূলগণেরই একজন এবং এই কোরআন মজীদ আসমানী গ্রন্থরাজিরই একটি গ্রন্থ। সুতরাং কোরআনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অন্যান্য আসমানী গ্রন্থসমূহ থেকে অত্যন্ত মূল্যবান সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। হেদায়াতপ্রাপ্তির ব্যাপারে এখন আর আমরা প্রাচীন গ্রন্থসমূহের মুখাপেক্ষী রইনি। হেদায়াত ও পথ প্রদর্শনের উদ্দেশে যাবতীয় ত্রুটি থেকে মুক্ত আল্লাহ্র সর্বশেষ গ্রন্থটিই আমাদের জন্যে যথেষ্ট। সূর্যোদয়ের পরে যেমন নক্ষত্ররাজি থেকে পথনির্দেশ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্ট থাকে না- তেমনিভাবে কোরআন অবতীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর হেদায়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে অপর কোন গ্রন্থেরই প্রয়োজনীয়তা থাকে না। কিন্তু এমন কিছু দিক রয়েছে, যার প্রেক্ষিতে আমাদের পক্ষে প্রাচীন আসমানী গ্রন্থসমূহের ব্যাপারে সরাসরি জ্ঞান অর্জন করা কর্তব্য।
প্রথমত কোরআন মজীদের বহু বাণীর বিশ্লেষণকল্পে আমাদের ওলামা সম্প্রদায়কে আহলে কিতাবদের রেওয়ায়েত নিতে হয়েছে। আর সেই রেওয়ায়েতগুলো যেহেতু সম্পূর্ণতই শোনা কথার ওপর নির্ভরশীল, সেজন্যে সেগুলোর তেমন বৈজ্ঞানিক মূল্য-মর্যাদা নেই। সেগুলো না আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে কোন দলিল হতে পারে, আর নাই বা আমরা নিজেদের কোন দাবী কিংবা যুক্তি-প্রমাণের ভিত্তি সেগুলোর ওপর স্থাপন করতে পারি। কাজেই সরাসরি সেসব আসমানী গ্রন্থ ও পুস্তক-পুস্তিকার জ্ঞান লাভ করা আমাদের জন্যে প্রয়োজন-যাতে সেসব বিষয়ে কোন কিছু বলতে গেলে তা জেনে শুনে বলতে পারি।
দ্বিতীয়ত কোরআন মজীদ অতীত গ্রন্থসমূহের শিক্ষাকে পরিপূর্ণ করে তোলে এবং সেগুলোতে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে তার সংশোধন দান করে। কাজেই কেউ যখন কোরআনের সঙ্গে সঙ্গে প্রাচীন গ্রন্থগুলোও অধ্যয়ন করে, তখন কোরআনের মহত্ত্ব ও গুরুত্ব অনেক বেশী পরিমাণে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং কোরআনের মাধ্যমে এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ্ যে কত-বড় অনুগ্রহ করেছেন, তা এক বৈচিত্র্যময় প্রক্রিয়ায় উদ্ভাসিত হয়।
তৃতীয়ত কোরআনে হাকীম বিধি-বিধানের বর্ণনা প্রসঙ্গে এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর আলোচনাক্রমেও বিভিন্ন স্থানে এমন সব ইশারা-ইঙ্গিত করেছে, যেগুলো প্রাচীন আসমানী কিতাবাদির অভিজ্ঞতা ছাড়া পুরোপুরিভাবে স্পষ্ট হতে পারে না। আমাদের মহামান্য মুফাস্সেরীনের অধিকাংশই যেহেতু তওরাত ও ইঞ্জীল-এর সাথে সরাসরিভাবে পরিচিত ছিলেন না, সেহেতু তাঁরা ঐ ধরনের ইঙ্গিত-ইশারার পরিপূর্ণ বিশ্লেষণ দিতে পারেননি।
চতুর্থত কোরআন মজীদও নাসারাদেরকে এ বিষয়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে যে, তারা আল্লাহ্ কর্তৃক প্রদত্ত গ্রন্থের বিকৃতি সাধন করেছে। সেগুলোর ভেতরে এমন বহু বিষয় সংযুক্ত করে দিয়েছে যা ইতিপূর্বে তাতে ছিল না। আর কিছু বিষয় সেগুলোর ভেতর থেকে বের করে দিয়েছে যা ইতিপূর্বে যথেষ্ট বিস্তারিতভাবে তাতে বর্ণিত ছিল। এমনকি অসংখ্য ব্যাপার রয়েছে যাতে তারা নিজেদের আচার-আচরণকে আল্লাহ্ ও তাঁর নবী-রসূলগণের নির্ধারিত রীতি-নীতির প্রকাশ্য বিরোধী বানিয়ে নিয়েছে। অনেক নিষিদ্ধকে সিদ্ধ করে নিয়েছে আবার বহু সিদ্ধকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। এ ধরনের যাবতীয় বিষয়কে প্রামাণ্য করে তোলার জন্য সরাসরি তওরাত ও ইঞ্জীলের প্রতিও নজর থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় আহলে কিতাবদের ওপর যথাযথভাবে যুক্তি স্থাপন সম্ভব নয়।
পঞ্চমত এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি সত্ত্বেও প্রাচীন গ্রন্থসমূহে আল্লাহ্ ও আম্বিয়ায়ে কেরামের বাণী সম্বলিত একটা অংশ রয়েছে যা কোরআন মজীদের সাথে পরিচিত ব্যক্তিরা চিনে নিতে পারেন। আল্লাহ্ ও তাঁর আম্বিয়া (আঃ)-এর বাণী সম্বলিত সে অংশটি প্রকৃতপক্ষে মুমিনদেরই একটা হৃত ভান্ডার। আর মুমিনদেরই সে অধিকার যে, যেখানেই তারা সেই ভান্ডারের সন্ধান পাবে, সেখান থেকেই তা সংগ্রহ করার চেষ্টা করবে।