📘 কুরআন গবেষণার মূলনীতি > 📄 দার্শনিকদের পদ্ধতি

📄 দার্শনিকদের পদ্ধতি


মুসলমানদের সম্পর্ক যখন অনারবদের সাথে গড়ে ওঠে এবং তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনের সাথে যখন তাদের পরিচয় ঘটে, তখনই ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে চিন্তা করার সে দৃষ্টিভঙ্গির উদ্ভব ঘটে, যাকে আমরা ইলমে কালাম বা দর্শনশাস্ত্র বলে অভিহিত করি। এই দর্শনশাস্ত্রও আমাদের মধ্যে বহু মতাদর্শের জন্ম দিয়েছে এবং সেসব মতাদর্শের অনুসারীরা নিজেদের বিশেষ মত ও দৃষ্টিভঙ্গিকে মুসলমানদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশে কোরআন মজীদের তফসীর প্রণয়ন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এসব তফসীরের উদ্দেশ্য কোরআনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের চেয়ে বেশী ছিল সে সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে দলিল-প্রমাণ সংগ্রহ করা, যা এসব তফসীরের প্রণেতাগণ নিজেদের দার্শনিক চিন্তাধারার মাধ্যমে সৃষ্টি করে নিয়েছিলেন। এই পদ্ধতিতে যেসব তফসীর প্রণীত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচাইতে বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ তফসীর হচ্ছে দুটি। একটি আল্লামা যামাশরী (রঃ) প্রণীত 'তফসীরে কাশশাফ' এবং অপরটি ইমাম রাযী (রঃ) প্রণীত 'তফসীরে কবীর'। এতদুভয়ের মধ্যে প্রথমোক্তটি মু'তাযেলা মতাদর্শের মুখপত্র আর দ্বিতীয়টিতে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই আশায়েরা মতাদর্শের ওকালতি করা হয়েছে। রেওয়ায়েতভিত্তিক তফসীরের ক্ষেত্রে ইবনে জারীর (রঃ)-এর তফসীরের যে মর্যাদা, দার্শনিক পদ্ধতিতে প্রণীত তফসীরসমূহের মধ্যেও ইমাম রাযী ও আল্লামা যামাখশারীর তফসীরের মর্যাদা তেমনি। আর পরবর্তীকালে যাঁরা এই পদ্ধতিতে তফসীর প্রণয়ন করেছেন, তাঁরা প্রধানত এ দুটির চর্বিতই চর্বণ করেছেন মাত্র।

📘 কুরআন গবেষণার মূলনীতি > 📄 মুকাল্লেদ বা অনুসরণবাদীদের পদ্ধতি

📄 মুকাল্লেদ বা অনুসরণবাদীদের পদ্ধতি


মুকাল্লেদ বা অনুসরণবাদী বলতে আমাদের উদ্দশ্য ফেকাহশাস্ত্রের ইমাম মহোদয় কিংবা ফেকাহর কিতাবের অনুসরণ নয়, বরং মুফাস্সেরীনের গ্রন্থের অনুসরণ। ইবনে জারীর (রঃ), ইমাম রাযী (রঃ) এবং আল্লামা যামাখশারী (রঃ)-এর পরে তফসীরের যেসব গ্রন্থ প্রণীত হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই উপরোল্লিখিত তফসীরত্রয় থেকেই গৃহীত এবং সেগুলোরই সার-সংক্ষেপ। সেগুলোর পর এমন তফসীর খুব কমই লেখা হয়েছে, যার স্বতন্ত্র কোন ভিত্তি রয়েছে। এমনকি ধীরে ধীরে তফসীর প্রণয়নের সাধারণ নিয়মই দাঁড়িয়ে যায় যে, যাই কিছু লেখা হোক না কেন, উল্লিখিত তফসীরের যেকোন একটির সনদ অনুসারে লেখতে হবে। কোরআনের কোন অনুবাদ কিংবা তার কোন তফসীরকে প্রামাণ্য হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট বলে মনে করা হতে থাকে যে, প্রতিটি বিষয়ের সনদ তফসীরের পূর্ববর্তী কোন না কোন গ্রন্থে পাওয়া যাবে। কাজেই আমাদের এ যুগে কোরআন মজীদের যেসব তরজমা বা তফসীর প্রকাশিত হয়েছে, সেসবের সবচাইতে বড় কোন বৈশিষ্ট্যের কথা যদি উল্লেখ করা যায়, তা হলে সম্ভবত তা হচ্ছে এসব তরজমা বা তফসীরের প্রতি পূর্ববর্তী তফসীরের সমর্থন রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউই সেই সীমানা অতিক্রম করতে সাহস করেননি, যা ইবনে জারীর, ইমাম রাযী, ইমাম সুয়ূতী, ইমাম শাওকানী ও ইমাম বয়যাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহিম নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। সাধারণত তরজমা কিংবা তফসীরের বেলায় সেসব মতের ঊর্ধ্বে কোন কথা বলার বা মত প্রকাশের প্রয়োজন অনুভব করা হয় না, যা পূর্ববর্তী তফসীরসমূহের কোন একটি থেকে উদ্ধৃত হয়ে থাকে। এমন উদাহরণ খুব কমই পাওয়া যাবে যে, এই সহজ ও নিরাপদ পন্থা ছেড়ে কোরআনের জটিলতাসমূহের সমাধানের পথে কোন দুঃসাহসী পদক্ষেপ গৃহীত হয়ে থাকবে।

📘 কুরআন গবেষণার মূলনীতি > 📄 আধুনিকতাবাদীদের পদ্ধতি

📄 আধুনিকতাবাদীদের পদ্ধতি


আধুনিকতাবাদী বলতে সেসমস্ত লোককে বুঝানো হয়েছে, যারা আধুনিক পাশ্চাত্য চিন্তাধারা ও মতবাদে প্রভাবিত হয়ে নিজেদের কিছু কিছু বিশেষ মতাদর্শ তৈরী করে নিয়েছেন এবং তারই ভিত্তিতে কোরআন মজীদকে ঢেলে সাজাতে প্রয়াস পেয়েছেন। আর এতে তারা ক্ষেত্রবিশেষে এমনি বাড়াবাড়ির আশ্রয় নিয়েছেন যে, অন্যান্য যাবতীয় বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণভাবে চোখ বন্ধ করে নিয়েছেন। এমনিভাবে আধুনিকতাবাদীরা পাশ্চাত্য চিন্তাধারা ও মতাদর্শকে নিজেদের পথনির্দেশক নির্ধারণ করে একান্ত নির্দয়তার সাথে কোরআনকেও সেই মতাদর্শের পেছনে পেছনে টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছেন। আমাদের সমাজে এই তফসীর পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেছেন স্যার সৈয়দ আহমদ মরহুম। তারপর থেকে এই ফেতনা ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। আল্লাহই বলতে পারেন, তাঁর পবিত্র গ্রন্থ আর কতকাল এ ধরনের মূর্খ ও প্রবৃত্তির দাসদের যথেচ্ছ বিচরণের ক্ষেত্র হয়ে থাকবে।

📘 কুরআন গবেষণার মূলনীতি > 📄 উল্লেখিত পদ্ধতিসমূহের পর্যালোচনা

📄 উল্লেখিত পদ্ধতিসমূহের পর্যালোচনা


এবার আমরা উল্লিখিত পদ্ধতিগুলোর পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেষ্টা করব, এগুলোর প্রকাশ্য ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো কি কি?
সর্বাগ্রে রেওয়ায়েতাশ্রয়ীদের পদ্ধতিকেই ধরা যাক। এতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে, উল্লিখিত সমস্ত পদ্ধতির মধ্যে এটাই সর্বাধিক পবিত্র ও নিরাপদ তফসীর পদ্ধতি। এ পদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এই যে, এতে তফসীর করতে গিয়ে রসূলে করীম (সঃ), সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) ও পূর্ববর্তী মনীষীদের বাণী ও মতামতের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আর এ কথা সকলেই জানেন যে, কোরআন মজীদের তফসীর করার অধিকার হুযুরে আকরাম (সঃ)-এর চাইতে বেশী আর কারোই থাকতে পারে না। তাই নবী করীম (সঃ) ও সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর তফসীর অপেক্ষা যথার্থ ও বিশুদ্ধ তফসীরও অন্য কারও হতে পারে না। কিন্তু এ পদ্ধতিতে কয়েকটি ত্রুটিও রয়েছে, যা কোন জ্ঞানী ব্যক্তিই অস্বীকার করতে পারেন না।
১. তফসীরের ক্ষেত্রে হুযুরে আকরাম (সঃ) থেকে ধারাবাহিক বর্ণনা খুব কমই রয়েছে। তেমনিভাবে সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)-এর তফসীর সংক্রান্ত বর্ণনাও খুব বেশী নেই। তাই আমাদের তফসীর গ্রন্থসমূহ পরবর্তী ব্যাখ্যাতাদের মতামত ও বর্ণনায় ভরপুর হয়ে আছে। আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পরবর্তী ব্যাখ্যাতাদের সে মর্যাদা কোথায়, যাতে তফসীরের বেলায় সেগুলোর ওপর পরিপূর্ণ নির্ভর করা যাবে।
২. তদুপরি আমাদের মুহাদ্দেসীন (রঃ)-এর বর্ণনামতেও তফসীর সংক্রান্ত রেওয়ায়েতগুলোতে সাবধানতার প্রতি ততটা লক্ষ্য রাখা হয়নি, যতটা রাখা হয়েছে সাংবিধানিক ও আইন-কানুন সংক্রান্ত রেওয়ায়েতসমূহের প্রতি। হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রঃ) তফসীর সংক্রান্ত রেওয়ায়েতসমূহের অমৌলিকতার ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় করেছেন। আর এ প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যার গুরুত্ব সম্পর্কে সবাই জানেন। কাজেই আমাদের তফসীর গ্রন্থসমূহ যেসব ভিত্তিহীন রেওয়ায়েতে ভরে রয়েছে, সেগুলোর শুদ্ধাশুদ্ধের পার্থক্য করা অত্যন্ত কঠিন।
৩. এসব রেওয়ায়েতের পরীক্ষা-পর্যালোচনা করে তাতে যে সারবস্তু রয়েছে, যদি সেগুলো পৃথক করা সম্ভব হয়ও, তবুও এককভাবে সেগুলোকে তফসীরের জন্য সিদ্ধান্তমূলক বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করা কোনক্রমেই সঠিক হতে পারে না। কারণ, এসব রেওয়ায়েত বিশুদ্ধতার মাপকাঠিতে পরিপূর্ণভাবে টিকে যাবার পরেও ধারণার সন্দেহ থেকে মুক্ত নয়। কাজেই যদি কোরআন মজীদের তফসীরের ক্ষেত্রে এককভাবে এগুলোকেই সিদ্ধান্তসূচক বিষয় হিসেবে মেনে নেয়া হয়, তা হলে কোরআন মজীদের অকাট্যতাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা কোনক্রমেই সহ্য করা যায় না। সুতরাং অন্যান্য যুক্তি-প্রমাণের সমন্বয়ে নিঃসন্দেহে এসব রেওয়ায়েত কোরআন মজীদের সঠিক মর্ম সাব্যস্তকরণে যথেষ্ট সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এককভাবে এগুলোর সাহায্যে কোন অকাট্য সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না।
৪. আমাদের তফসীর গ্রন্থসমূহে একটি আয়াত, বরং কোন কোন সময় একেকটি শব্দের ব্যাপারে ব্যাখ্যাতা-বিশ্লেষকদের একাধিক বক্তব্য কোন রকম দলিল-প্রমাণের আলোচনা ব্যতিরেকেই উদ্ধৃত করে দেয়া হয়। এসর বক্তব্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধীও হয়ে দাঁড়ায়। কাজেই এ কথা বলাই বাহুল্য যে, তফসীরের এই পদ্ধতি একান্তই ভুল। কোরআন মজীদ যেহেতু প্রমাণের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ অকাট্য, সেহেতু উল্লিখিত একাধিক বক্তব্যের মধ্য থেকে সেগুলোই গ্রহণ করা কর্তব্য যা কোরআন মজীদের পূর্বাপর ধারাবাহিকতা এবং অন্যান্য নিদর্শনাবলী অনুযায়ী প্রমাণিত হবে। অন্যথায় কোরআনের অকাট্যতা আশঙ্কার সম্মুখীন হয়ে পড়ে।
এবার ধরা যাক দার্শনিকদের তফসীর পদ্ধতি। দার্শনিকদের পদ্ধতিতে মৌলিক ত্রুটি হচ্ছে এতে নিজেদের দার্শনিক মতাদর্শকে ভিত্তি সাব্যস্ত করে কোরআনকে সে অনুযায়ী তৈরী করে নিতে চেষ্টা করা হয়েছে এবং যেখানেই কোরআন তাদের মতাদর্শের সাথে অসমঞ্জস হয়েছে, সেক্ষেত্রে নিজেদের মতাদর্শের সংশোধন করার পরিবর্তে এবং কোরআনকে কোরআনের মত থাকতে দেয়ার পরিবর্তে কোনক্রমে কোরআনকে ভেঙ্গেচুরে নিজেদের মতাদর্শের অনুযায়ী ' করে তোলাই ছিল তাঁদের একান্ত প্রচেষ্টা। পূর্বসূরি মনীষীবৃন্দের বক্তব্য থেকেও তাঁরা সেটুকুই গ্রহণ করেছেন, যাতে তাঁদের নিজেদের মতাদর্শের সমর্থন পাওয়া গেছে। আর যেসব বক্তব্য তাঁদের মতের বিরোধী, সেগুলো সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এ ধরনের বহু উদাহরণ আমরা ইমাম রাযী (রাঃ)-এর তফসীরে পেতে পারি। তিনি অনেক সময় 'আশায়েরা' মতাদর্শের যথার্থতা প্রমাণ করতে গিয়ে তফসীরের সীমাকে এমনভাবেই লংঘন করেছেন যে, কোন আয়াত যদি পরিষ্কারভাবে আশায়েরা মতবাদের বিরোধী পরিলক্ষিত হয়েছে, তা হলে তার খণ্ডন করতে গিয়ে এমন কথা বলতেও দ্বিধাবোধ করতেন না যে, আমাদের যে মূলনীতি দার্শনিক দলিল-প্রমাণের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, তা শুধুমাত্র এ কারণে আহত হতে পারে না যে, একটি আয়াতের শব্দাবলী তার বিরোধী-যার প্রমাণ সম্পূর্ণত শ্রবণশক্তির ওপর নির্ভরশীল। অথচ তফসীরের এহেন প্রবণতার ফলে কোরআন যে একটি হেদায়াতদানকারী কিতাব তার যথার্থতা নিরর্থক হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে কোরআন মজীদকে পথপ্রদর্শক এবং নেতৃত্বের মর্যাদা হারিয়ে কতিপয় দার্শনিক মতবাদের অনুসারী হয়ে চলতে হয়। আর অন্য শব্দে বলতে গেলে, এটা কোরআন যে আল্লাহর কালাম প্রকারান্তরে তারই অস্বীকৃতি।
অতঃপর তফসীরের গ্রন্থাবলীর অনুসারীদের পদ্ধতিটিতেও যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি বিদ্যমান, তা ফেকাহশাস্ত্রের ইমাম বা ফেকাহশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের অনুসারীদের মাঝেও রয়েছে। ফেকাহশাস্ত্রের ইমামগণ কিংবা ফেকাহ গ্রন্থসমূহ যেমন নিজস্বভাবে কোন সনদ নয়, বরং প্রকৃত সনদ হচ্ছে আল্লাহর কালাম ও মহানবীর হাদীস বা সুন্নাহ এবং ফেকাহ শাস্ত্রের ইমাম কিংবা গ্রন্থের যেমন শুধুমাত্র সেটুকুই অনুসরণযোগ্য যেটুকু কোরআন ও সুন্নাহর কষ্টি পাথরে যাচাইয়ের দ্বারা প্রমাণিত, তেমনিভাবে আমাদের তফসীর গ্রন্থসমূহের মধ্যেও নিজস্ব পরিমন্ডলে কোন একটিরও সনদ হওয়ার উপযোগিতা নেই; সেগুলোরও সেসব কথাই যথার্থ ও সঠিক হতে পারে যা যথার্থ বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক ও রেওয়ায়েতের কষ্টি পাথরের যাচাইয়ে টিকে থাকবে। সেজন্যই শুধুমাত্র এতটুকু বলে দেয়াই যথার্থতার প্রমাণ হতে পারে না যে, ইমাম রাযী (রঃ) কিংবা ইবনে জারীর (রঃ)-এর তফসীরে তা রয়েছে। বরং তা সঠিক কিনা তার ফয়সালা করার জন্য সম্পূর্ণভাবে অন্যান্য সূত্রের সাহায্য নিতে হবে।
আধুনিকতাবাদীদের পদ্ধতিতেও হুবহু সেসব ত্রুটি-বিচ্যুতিই রয়েছে যা মুতাকাল্লেমীন বা দার্শনিকদের পদ্ধতিতে বিদ্যমান। দার্শনিকরা যেমন গ্রীক দর্শনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে নিজেদের কিছু বিশেষ বিশেষ মতাদর্শ তৈরী করে নিয়ে সেগুলোকে শরীয়তের সার্টিফিকেট দেয়ার উদ্দেশ্যে ভেঙ্গেচুরে দিয়েছেন, তেমনিভাবে যারা পাশ্চাত্যের আধুনিক চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়ে পড়েছেন, তাঁরাও নিজেদের সেসব মতামত কিংবা চিন্তাধারাকে মুসলমানদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলার প্রয়াসে অত্যন্ত ধৃষ্টতার সাথে কোরআন মজীদের ওপর হাত সাফাই করেছেন। মিসরের আল্লামা তানতাভী এবং ভারতের স্যার সৈয়দ আহমদ মরহুম এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীরা যা কিছু লিখেছেন, তা পড়লে অনুমান করা যাবে যে, আমাদের পূর্ববর্তী দার্শনিকরা তবুও কিছুটা মান রেখেছিলেন; তাঁরা নিজেদের মতবাদের সমর্থনের সঙ্গে সঙ্গে কোরআনের ভাষা, ব্যাকরণ, বর্ণনাধারা কিংবা অন্তত আনুক্রমিক হাদীস বা সুন্নাহর প্রতি লক্ষ্য রেখেছিলেন। কিন্তু আমাদের আধুনিকতানুরাগীরা যাবতীয় সীমার বাঁধন ছিন্ন করেছেন এবং এমনি নির্লজ্জভাবে ছিন্ন করেছেন যেন মনে হয়, তাদের ধারণা মতে বর্তমান জগতে পড়ালেখা জানা লোকই রয়নি। বলাবাহুল্য, এ ধরনের তফসীরকে তফসীর বলাই ঠিক নয়, বরং এগুলোকে কোরআনের বিকৃতি বলাই বাঞ্ছনীয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00