📄 কিতাবের তা’লীম
'তা'লীমে কিতাব' অর্থ কোরআনের শিক্ষা। কিন্তু আয়াতের এ প্রসঙ্গটি ওপরে আলোচিত হয়ে গেছে। 'হেকমত' সম্পর্কে পৃথকভাবে আলোচনা করা হবে। কাজেই কিতাব বলতে সমগ্র কোরআনকে উদ্দেশ করা যায় না। বরং এর শুধুমাত্র সে অংশটুকু হতে পারে, যা আদেশ-নিষেধ এবং নীতি-পদ্ধতি ও আইন-কানুন সংক্রান্ত। এভাবে বিষয়টিকে নির্দিষ্ট করার কারণ এই যে, কোরআনের বিভিন্ন স্থানে 'কিতাব' শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যার কয়েকটি প্রসিদ্ধ অর্থ নিম্নরূপ-
১। আসমানী 'কিতাব'-যা আম্বিয়ায়ে কেরামের ওপর নাযিল হয়েছে। যেমন, ذَالِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيْهِ এটি একটি আসমানী কিতাব বা গ্রন্থ, যাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
২। আল্লাহ্ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত সিদ্ধান্ত এবং নির্দিষ্ট নিয়তি। যেমন, وَمَا أَهْلَكْنَا مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌ مَعْلُوْمٌ. আর আমি কোন জনপদকেই ধ্বংস করিনি, কিন্তু তার জন্য একটা নির্দিষ্ট অবকাশ ছিল।
৩। বিধি-বিধান ও আইন-কানুন। যেমন, لا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ .
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা করো না, যতক্ষণ না আইন কর্তৃক নির্ধারিত সময় উত্তীর্ণ হয়ে যায়।
৪। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সিদ্ধান্তসমূহের রেজিস্টার বা দপ্তর। যেমন, وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٌ - কাঁচা বা চিঠা এমন কোন বিষয়ই নেই যে একটি প্রকৃষ্ট ‘কিতাবে’ লিখিত নেই।
৫। আমলনামা বা কর্ম বিবরণী। যেমন أَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ. কিন্তু সেব্যক্তি যে তার আমলনামা ডান হাতে পাবে।
আমাদের ধারণা, নিম্নের আলোচ্য আয়াতসমূহে 'কিতাব' শব্দটি আদেশ-নিষেধ সংক্রান্ত নির্দেশ এবং বিধি-বিধান অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে।
কোরআন মজীদে এই অর্থে 'কিতাব' শব্দের ব্যবহার যথেষ্ট স্পষ্ট। সুতরাং সূরা বাকারার যেখান থেকে সংবিধান পরিচ্ছেদ আরম্ভ হয়, প্রায় বিধানই كُتِبَ (কাতাবা) অথবা كُتِبَ (কুতিবা) শব্দের দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ - كُتِبَ عَلَيْكُمُ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتَ - كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالَ - كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ.
প্রভৃতি। আবার অনেক জায়গায় পরিষ্কারভাবেই 'কিতাব' শব্দের দ্বারা প্রচলিত আইনকে উদ্দেশ করা হয়েছে। যেমন, وَلَا تَعْزُمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ . . .
'কিতাব' শব্দের অর্থ হচ্ছে ইদ্দতের সময়। সূরা আহযাবে রয়েছে- وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللهِ এ আয়াতে 'কিতাব অর্থ উত্তরাধিকার আইন।
ফলকথা, কোরআন মজীদে আইন ও সংবিধান অর্থে 'কিতাব' শব্দটির ব্যবহার যথেষ্ট পরিচিত। আর যেহেতু আলোচ্য আয়াতে কোরআন মজীদের সাংগঠনিক উপাদানসমূহের বিশ্লেষণ উপলক্ষে এতে কি কি উপাদান বিদ্যমান তাও বলে দেয়া হয়েছে, কাজেই স্থান-কাল ও পাত্রের চাহিদা অনুযায়ী এখানে 'কিতাব' বলতে সংবিধান ও আইন বিষয়ক অংশটিকেই বুঝতে হয়।
এ ব্যাখ্যার দ্বারা খোদায়ী শিক্ষার তাৎপর্য পরিষ্কারভাবে বুঝা যায়, তাতে আমাদের প্রকৃতির চাহিদার প্রতি এতটা লক্ষ্য রাখা হয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদেরকে যাবতীয় অস্বাভাবিক জঞ্জালমুক্ত না করা হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আইন বা সংবিধানের আনুগত্যের কোন দায়-দায়িত্ব আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়নি।
প্রকৃতির উদাহরণ অনেকটা পাকস্থলীর মত। পাকস্থলী যেমন দূষিত খাদ্যের ব্যবহার কিংবা তাতে আবর্জনা জমা হয়ে গেলে তার খাদ্যস্পৃহা হারিয়ে বসে এবং তখন কোন সুস্বাদু বস্তুতেও কোন আগ্রহ সঞ্চার করতে পারে না, তেমনিভাবে বাজে কল্পনা ও কুসংস্কারের প্রবলতার দরুন প্রকৃতিও তার উৎকর্ষণস্পৃহা হারিয়ে ফেলে এবং অতপর কোন সৎকর্মের প্রতিও আকৃষ্ট হতে পারে না। কাজেই এমতাবস্থায় যেমন একজন কবিরাজ প্রথমে পাকস্থলীকে দূষিত আবর্জনা থেকে মুক্ত করে তার খাদ্য গ্রহণের আগ্রহ যথাস্থানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন, তেমনিভাবে একজন আধ্যাত্মিক চিকিৎসকও অন্তরকে প্রাকৃতিক যাবতীয় অপরিচ্ছন্নতা থেকে মুক্ত করে তাতে প্রকৃত ক্ষুধার সঞ্চার করেন। এ আগ্রহ সঞ্চারিত হয়ে যাবার পর শরীয়ত ও দ্বীনের প্রতিটি বিষয় গ্রহণ করার জন্য তেমনিভাবে সে উদগ্রীব হয়ে ওঠবে, যেমন একজন তৃষ্ণার্ত পানির জন্যে এবং একজন ক্ষুধার্ত খাবারের জন্যে উদগ্রীব হয়েও উঠে। কোরআন মজীদ এ অবস্থার প্রতি এভাবে আলোকপাত করেছেঃ
رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا تُنَادِى لِلْإِيْمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ .
হে পরওয়ারদেগার! আমরা একজন আহবানকারীকে শুনেছি, তোমার প্রতি ঈমান আনার জন্য আহবান করে যাচ্ছে যে, হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। অতএব, আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদিগকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদিগকে পাপমুক্ত করে দাও। আর আমাদের মৃত্যু দাও তোমার অনুগত বান্দাদের সাথে।
এতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসে যায়।
১। গোটা শরীয়তের উৎসমূল হচ্ছে প্রকৃতির কতিপয় মৌলিক তত্ত্ব। 'এক' থেকেই যেমন শ' এবং হাজারের উদ্ভব হয়, তেমনিভাবে সেই কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের অনুষংগ ও ফলাফলের প্রেক্ষিতেই ধর্মের সমস্ত বিশ্বাস ও কর্ম অস্তিত্ব লাভ করে। সেজন্যেই ইসলামকে বলা হয়েছে প্রকৃতির ধর্ম।
فطرة اللهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ - ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ .
এটি আল্লাহ্রই বানানো প্রকৃতি, যার ভিত্তিতে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ্র (তৈরী) প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ বৈধ নয়। এটাই হচ্ছে (ইবরাহীম কর্তৃক প্রচারিত) সহজ-সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা উপলব্ধি করে না।
📄 হেকমতের শিক্ষা
তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে 'হেকমতের' শিক্ষা। 'হেকমত' সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে যে, এই 'হেকমত' কোরআনের একটা অংশ, না তা থেকে বিচ্ছিন্ন কোন বিষয়? আমাদের বিশ্বাস, আল্লাহ্র কালাম কোরআন মজীদ যেমন আল্লাহ্ আয়াত, নিদর্শন ও আহকাম বা বিধানসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে, তেমনিভাবে হেকমত বা জ্ঞান, দর্শন, তত্ত্ব ও রহস্যসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। কিন্তু আমাদের এ দাবী অবশ্য তাঁদের ধারণার বিরুদ্ধে যাবে, যাঁদের মতে হেকমত বলতে হাদীস কিংবা অন্যান্য কতিপয় জ্ঞানকে উদ্দেশ করা হয়েছে। আর যেহেতু কোন কোন বিশিষ্ট মনীষীর মতও তাই, যেমন ইমাম শাফেয়ী (রঃ) প্রমুখ। কাজেই বিষয়টি উপেক্ষা করা কঠিন। অতএব, দেখতে হবে, যাঁরা হেকমত বলতে হাদীস বুঝেন, তাঁদের প্রমাণ কি?
তাঁদের প্রমাণ হচ্ছে যে, আলোচ্য আয়াতে 'হেকমত' শব্দটি 'কিতাব' শব্দের সংগে এসেছে। আর তারা 'কিতাব' অর্থে সামগ্রিকভাবে কোরআন মজীদকে বুঝেন। কাজেই অপরিহার্যভাবেই 'হেকমত' শব্দের দ্বারা অন্য কোন কিছু বুঝতে হয় (যা কোরআন নয়)। আর বলাই বাহুল্য, কোরআনের পরে হাদীস ছাড়া অন্য কোন বস্তু এ শব্দের অর্থ হতেই পারে না।
কিন্তু উল্লিখিত বিতর্কের দ্বারা একথা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, প্রমাণটি যথেষ্ট শক্ত নয়। আমাদের ব্যাখ্যানুসারে উল্লিখিত আয়াতে 'কিতাব' অর্থ বিধান ও নির্দেশাবলী। কাজেই 'হেকমত'-এর জন্য স্বয়ং কোরআন মজীদেই যথেষ্ট জায়গা রয়েছে-এর দ্বারা হাদীস কিংবা কোরআন বহির্ভূত অন্য কোন বস্তু উদ্দেশ করা অপরিহার্য নয়। অবশ্য এটা স্বতন্ত্র কথা যে, হাদীসেও (বিপুল) হেকমত রয়েছে। হাদীসের মর্যাদা বহু ঊর্ধ্বে। গোটা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য কোরআনের অব্যবহিত পরেই তার স্থান। এতেও কোরআনী হেকমত বা দর্শনের এক বিপুল ভাণ্ডার নিহিত। তা ছাড়া হাদীসেই যদি হেকমত না থাকবে, তা হলে থাকবে কোথায়? কিন্তু একথা যথার্থ নয় যে, আলোচ্য আয়াতে 'হেকমত' শব্দটি হাদীস অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। বিভিন্ন কারণ-উপকরণ এ ধারণার পরিপন্থী। তার কয়েকটির প্রতি আমরা এখানে ইংগিত করছি -
১। বেশ কতিপয় আয়াতে 'হেকমত' বুঝাতে গিয়ে (يتلی )ইউতলা(,انزل )উনযিলা) ও (اوحی )উহিয়া) প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ব্যবহার হাদীসকে বুঝাবার উদ্দেশে কোরআনের কোথাও নেই। যেমন-
وَأَنْزَلَ اللهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ مَالَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ .
আর আল্লাহ্ তোমার প্রতি কিতাব ও হেকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং সেসব বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা তোমরা (ইতিপূর্বে) জানতে না। অন্য জায়গায় আছে-
وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللهِ وَالْحِكْمَةِ .
তোমাদের ঘরে আল্লাহর যেসব আয়াত এবং হেকমত পাঠ করা হয়, সেগুলো স্মরণ রেখো। আরো এক জায়গায় ধর্মের মৌলিক বিষয়সমূহের আলোচনার পর বলা হয়েছে-
ذَالِكَ مِمَّا أُوحِيَ إِلَيْكَ رَبُّكَ مِنَ الْحِكْمَةِ -
তোমাদের পরওয়ারদেগার তোমাদের কাছে যে হেকমত ওহী (প্রত্যাদেশ) করেছেন, এটা তারই মধ্য থেকে।
২। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোরআন মজীদের দলিল-প্রমাণগুলোকে 'হেকমতে বালেগাহ' শব্দে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং স্বয়ং কোরআন মজীদকে 'কোরআনে হাকীম' ও 'কিতাবে হাকীম' বলে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন, বলা হয়েছেঃ يس - وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ - حِكْمَةَ بَالِغَةً فَمَا تُغْنِ النُّذُرُ .
৩। হযরত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ
وَإِذْ عَلَّمْتُكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ .
স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে কিতাব, হেকমত, তওরাত এবং ইঞ্জীল-এর শিক্ষা দিয়েছি।
এ আয়াতে কিতাব ও হেকমতের পর এরই ব্যাখ্যাস্বরূপ তওরাত ও ইঞ্জীল-এর উল্লেখ করা হয়েছে। 'কিতাব' শব্দের ব্যাখ্যা করা হয়েছে তওরাত আর হেকমত-এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে ইঞ্জীল। পণ্ডিত মনীষীরা জানেন যে, তওরাত প্রধানত আইন-কানুন ও সাংবিধানিক বিষয় সম্বলিত গ্রন্থ আর ইঞ্জিল হচ্ছে যুক্তি-প্রমাণ ও উপদেশাবলীর একটা সংকলন। প্রথমোক্তটিতে যুক্তি-প্রমাণ ও উপদেশের অংশ অতি অল্প। পক্ষান্তরে শেষোক্তটিতে নীতি-বিধানের আলোচনা নামমাত্র। সংবিধান ও আইন-কানুন সম্পর্কে ইঞ্জীল তওরাতের প্রত্যয়ন করেই দায়িত্বমুক্ত হয়ে যায়। তওরাতের এই সাংবিধানিক গুরুত্বের কারণেই তাকে 'কিতাব' শব্দে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং ইঞ্জীলকে তার যুক্তি-দর্শন ও উপদেশাবলীর জন্য 'হেকমত' বলা হয়েছে।
অপরপর কয়েকটি আয়াতেও এ ধারণার সমর্থন পাওয়া যায়। বলা হয়েছেঃ
وَلَمَّا جَاءَ عِيسَى بِالْبَيِّنَاتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُمْ بِالْحِكْمَةِ وَلِأُبَيِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي تَخْتَلِفُونَ فِيهِ .
হযরত ঈসা যখন প্রকৃষ্ট ও প্রকাশ্য মু'জেযা নিয়ে আগমন করলেন, তিনি আমন্ত্রণ জানালেন, হে জনগণ! আমি তোমাদের কাছে 'হেকমত' নিয়ে এসেছি এবং এমন কোন কোন বিষয় নিয়ে এসেছি যা নিয়ে তোমরা বিবাদ করছ, যাতে করে সেগুলো বিশ্লেষিত করতে পারি।
এ সব কারণ-প্রকরণের ভিত্তিতে 'হেকমত' বলতে 'হাদীস' অর্থ করা আমাদের মতে যথার্থ নয়। প্রকৃতপক্ষে এ ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল 'কিতাব' এবং 'হেকমত' শব্দ দুটির একত্রিত হয়ে যাওয়ার দরুন। কিন্তু আমরা যে দিকটি বিশ্লেষিত করেছি, তার আলোকে 'কিতাব' ও হেকমতের পরিসীমা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। যার পরে আর কোন ভুল বুঝাবুঝির অবকাশ থাকে না।
📄 হেকমত শব্দের আভিধানিক বিশ্লেষণ
এবার সংক্ষেপে 'হেকমত'কে অভিধান এবং তার ব্যবহারের আলোকেও দেখে নেয়া বাঞ্ছনীয়। মাওলানা হামীদুদ্দীন ফারাহী তাঁর 'মুফ্রাদাতুল কোরআন' গ্রন্থে এ শব্দটির সবিস্তার আলোচনা করেছেন। নিম্নে তারই প্রয়োজনীয় সার-সংক্ষেপ তুলে দেয়া হয়েছে-
অভিধানে ‘হুকুম’ অর্থ মীমাংসা করা, সিদ্ধান্ত নেয়া। তা ন্যায়ই হোক কিংবা অন্যায়, যথার্থ হোক অথবা ভ্রান্ত। কোরআনে আছে— مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ (তোমাদের কি হল। কেমন ফয়সালা করছ তোমরা!) أَفَحُكُمُ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ (তারা কি জাহেলিয়াত যুগের মীমাংসা কামনা করে?)
তা ছাড়া এই শব্দটি সে শক্তির উদ্দেশেও বলা হয়, যার আলোকে এ মীমাংসা সম্পাদিত হয়। তখন তার অর্থ হয় বিচার-বুদ্ধি। রইল ‘হেকমত’ শব্দটি। এটি সে শক্তির জন্য বলা হয়, যা যথার্থ মীমাংসার উৎসমূল। হযরত দাউদ (আঃ)-এর প্রশংসা উপলক্ষে আল্লাহ্ বলেছেন أَتَيْنَاهُ الْحِكْمَةَ وَفَصْلَ الْخِطَابِ - (আমি তাঁকে ‘হেকমত’ এবং সিদ্ধান্তমূলক কথা বলার যোগ্যতা দিয়েছি।)
এখানে ক্রিয়াকে সে শক্তির পরে বলা হয়েছে, যা সে ক্রিয়ার উৎসমূল। আর সিদ্ধান্ত বা মীমাংসা যেমন হেকমতের কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়া, তেমনিভাবে নৈতিক পবিত্রতা এবং শিষ্টাচারও তারই ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। সে জন্যেই আরবের অধিবাসীরা এ শব্দটি সে শক্তিকে বুঝার জন্য ব্যবহার করত, যা বুদ্ধির পরিপক্বতা এবং শিষ্টাচার উভয়ের জন্যেই ব্যাপক। আর বুদ্ধিমান ও শিষ্টাচারীকে বলা হত ‘হাকীম’। তেমনিভাবে ‘হেকমত’ শব্দটি ‘প্রকৃষ্ট সংশোধন’ অর্থেও ব্যবহৃত হত, যার উদ্দেশ্য এমন প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাকে বুঝানো, যা মন ও মেধা উভয়ের কাছেই পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। ‘হেকমত’ শব্দটি এ সমস্ত অর্থেই আরবী ভাষায় ব্যবহৃত। আর যেহেতু আরবরা শব্দটির এ সমস্ত দিক সম্পর্কেই সম্যক অবগত ছিল, কাজেই কোরআন এবং পয়গম্বর (সঃ) একে ব্যবহার করেছেন।
এ প্রসংগে মহানবী (সঃ) বলেছেন, কবিতার মধ্যে কোন কোনটা ‘হেকমত’। অর্থাৎ, সব কবিতাই পথভ্রষ্টতা নয়; কিছু কবিতা এমনও রয়েছে যাতে সত্য কথা বলা হয়েছে এবং কল্যাণের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। অতপর আল্লাহ্ তাআলা একে তার সর্বাধিক উত্তম অর্থে ব্যবহার করেছেন; অর্থাৎ, ওহীর অর্থে। ওহীকে যেমন ‘নূর’, ‘প্রমাণ’, ‘যিকর’, ‘রহমত’ প্রভৃতি শব্দের দ্বারা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তেমনিভাবে ‘হেকমত’ শব্দের দ্বারাও তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন, (আল্লাহ্) নিজের সত্তার জন্য ‘হাকীম’ ও ‘আলীম’ শব্দ ব্যবহার করেছেন .....।
ওপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, 'হেকমত' বক্তব্য ও বক্তা উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান থাকে। তার তাৎপর্য হচ্ছে সেই দৃঢ়তা ও পরিপক্বতা, যা একান্তই বুদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। আগুনের অস্তিত্ব যেমন উষ্ণতার দ্বারা প্রতীয়মান হয়, তেমনিভাবে 'হেকমত' (প্রজ্ঞা)-ও তার ক্রিয়াকলাপেই চেনা যায়। এটা যখন কারো ভেতর সৃষ্টি হয়, তখন তার মধ্যে সত্য উপলব্ধি করার মত একটা যোগ্যতাও জন্মায়। তখন তার মুখ দিয়ে যে কথাটি বেরোয় তা হয় সত্য ও যথার্থ। আর তার দ্বারা যে কার্যানুষ্ঠানই হয় তা হয় সঠিক ও নির্ভুল। কোরআন মজীদে বর্ণিত হযরত লোকমানের কাহিনীতে তার কার্যক্রম সম্পর্কেই বর্ণনা রয়েছে। তা ছাড়া হাদীসেও তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এ জিনিসটিই আল্লাহ্র 'হাত', আল্লাহ্'চোখ'। যে এতে দেখে, তার রাতটিও দিনের মতই উজ্জ্বল হয়ে যায়। সে সংকীর্ণ অন্ধকার পথেও হুমড়ি-হোঁচট থেকে মুক্ত থাকে। সে বিন্দুতে বিশাল সমুদ্র প্রত্যক্ষ করে। সে কারণেই শরীয়তের ছোট একটি নির্দেশকে পর্বততুল্য জ্ঞান করে। অন্যের কাছে যে বিষয়ের গুরুত্ব একটা নুড়ি অপেক্ষা বেশী নয়, সে তারই মধ্যে দেখতে পায় হীরার দ্যুতি।
এমনিভাবে এটা (হেকমত) যখন কোন বাক্যে নিহিত থাকে, তখন সে বাক্য মেধাপথে মনের গভীরে গিয়ে প্রবেশ করে। যাবতীয় দোদুল্যমান অবস্থার তখন পরিসমাপ্তি ঘটে যায়, প্রতিটি সন্দেহ-সংশয় ধুয়ে-মুছে যায়, প্রতিটি অহেতুক দাবী বাতিল করে দেয়, প্রতিটি মিথ্যা যুক্তি ধসে পড়ে।
جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا .
'সত্য এসে গেছে, মিথ্যা শেষ হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা স্থিতিহীন।' আর এই হচ্ছে কোরআন মজীদের বৈশিষ্ট্য।
📄 একটি লক্ষ্যণীয় বিষয়
এক্ষেত্রে হেকমতের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব উপলব্ধি করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় তাৎপর্য বুঝে নেয়া বাঞ্ছনীয়। তাতে প্রসংগক্রমে তওরাত এবং কোরআন মজীদের পারস্পরিক পার্থক্যটাও পরিষ্কার হয়ে যাবে।
কোরআন মজীদে তওরাতের যেসব গুণ-বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, তাতে কোথাও হেকমতের উল্লেখ নেই। বরং কোন কোন জায়গায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, তওরাত হচ্ছে সংবিধান আর ইঞ্জীল হেকমত। অবশ্য কোন কোন ক্ষেত্রে তার উপদেশ সম্বলিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যেমন:
وَكَتَبْنَا لَهُ فِي الْأَلْوَاحِ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْعِظَةٌ وَ تَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ . (اعراف - ١٤٤)
আমি তার জন্যে লওহ্ তথা পটের ওপর সমস্ত বিষয় উৎকীর্ণ করে দিয়েছি। উপদেশবাণী এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত (বিবরণ)।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, 'উপদেশবাণী' কি? আমরা যতটা লক্ষ্য করেছি, উপদেশও ' হেকমতেরই একটি শাখা; সরাসরি হেকমত নয়। হেকমত বা অভিজ্ঞান উপদেশ অপেক্ষা অনেক ঊর্ধ্বের বিষয়। আর আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে এ বিষয়টি সব ব্যক্তি কিংবা দলসমূহকেই দেয়া হয়, যারা বুদ্ধির পরিপক্বতায় পৌঁছতে পারে। যে পর্যন্ত কোন জাতি মেধার দিক দিয়ে শৈশবের পর্যায়ে অবস্থান করে, আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে হেকমতের দ্বারা ভূষিত করেন না, বরং জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার জন্য তাদেরকে দেয়া হয় একটি শরীয়তী নীতিমালা। আর চিন্তা-ভাবনার সাধারণ ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য সাধারণ বুদ্ধি ও যুক্তিগ্রাহ্য উপদেশাবলী দান করা হয়েছে। সূরা আ'রাফের এক আয়াতে এই বাস্তবতার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। হযরত মূসা (আঃ) যখন 'তুর' পর্বতে গিয়ে উপস্থিত হন, তখন তিনি আল্লাহকে দেখার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তাতে আল্লাহ্ উত্তর দেন, "তুমি আমাকে দেখতে পারবে না, আমার জ্যোতির ছটা পাহাড় পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না; আর মানুষের তো কোন প্রশ্নই ওঠে না।" অতএব, আল্লাহ্ যখন নিজের নূরের ছটা পাহাড়ের ওপর নিক্ষেপণ করলেন, পাহাড় খন্ড-বিখন্ড হয়ে গেল আর হযরত মূসা (আঃ) অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। তারপর যখন জ্ঞান ফিরে এল, সাথে সাথে তিনি তওবা করলেন-
قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ .
বললেন, হে আমার পরওয়ারদেগার! এখন আমি তোমার দিকে ফিরে এসেছি। আমি প্রথম অনুগত বান্দায় পরিণত হচ্ছি।
আল্লাহ বললেন-
يَا مُوسَى إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا أَتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ .
হে মূসা! আমি আমার পয়গাম এবং আমার বাক্যের দ্বারা তোমাকে মানুষের মধ্যে বিশিষ্টতা দান করলাম। সুতরাং আমি যা দিলাম তা গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
فَخُذْ مَا أَتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ -
এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর- এর শব্দগুলোর প্রতি লক্ষ্য করে দেখুন। বর্ণনারীতিতে পরিষ্কার বুঝা যায়, হযরত মূসা (আঃ) পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভের অভিলাষ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ্ বললেন, এমন অভিলাষ করো না; পরিপূর্ণ পরিচয়ের চাপ পাহাড়-পর্বতও সহ্য করতে পারে না। তা তুমি কেমন করে সহ্য করবে? কাজেই যেটুকু পেলে তাইতে সন্তুষ্ট থাক আর আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করা।
বিষয়টিতে সে সত্যের প্রতিই ইংগিত করা হয়েছে যে, হযরত মূসা (আঃ)-এর জাতি পরিপূর্ণ হেকমত লাভের যোগ্য হতে পারেনি। তাদেরকে শুধু সংবিধান এবং উপদেশ দেয়া হয়েছে। কারণ, তাদের মন-মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা তার বেশী সহ্য করার উপযোগী ছিল না। হযরত মূসা (আঃ)-এর পর যেসব নবী আগমন করেন, তাঁরা ধীরে ধীরে বনী ইসরাঈলকে হেকমতের সাথে কিছুটা পরিচিত করাতে চাইলেন, কিন্তু তারা তার এতটুকু মর্যাদা দেয়নি। এমনকি হযরত ঈসা (আঃ) এলেন। তাঁকে আল্লাহ্ তাআলা হেকমত সম্বলিত কিতাব দান করলেন। কিন্তু স্বয়ং ঈসা (আঃ)-এর বর্ণনা অনুসারে তখনও পর্যন্ত বনী ইসরাঈলের মেধাগত সামর্থ্য পরিপূর্ণ হেকমত বা অভিজ্ঞতা ধারণ করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে তিনি বললেন, "তোমাদের প্রতি আমার অনেক কিছু বলার ছিল, কিন্তু তোমরা সেসব বিষয় সহ্য করতে পারবে না।" অতঃপর তিনিও পরিপূর্ণ হেকমত শিক্ষাদানের বিষয়টি উত্তরসুরির দায়িত্বে রেখে দুনিয়া থেকে অন্তর্হিত হলেন।
এই উত্তরসুরি যখন এলেন, তখন আল্লাহ্ তাঁকে এমন এক গ্রন্থ দান করলেন, যা তওরাতের মত শুধু সংবিধানই নয়, বরং ইঞ্জীলের মত হেকমত এবং উপদেশও বটে। তদুপরি হেকমতের সে অংশটিও এতে রয়েছে যার শিক্ষাকে হযরত মসীহ নিজের জাতির অযোগ্যতার দরুন মুলতবী রেখে দিয়েছিলেন। কিতাব ও হেকমতের এই হচ্ছে সমন্বয়, যাকে আমরা 'কোরআন' নামে অভিহিত করি। যেহেতু এ গ্রন্থটি পরিপূর্ণ হেকমতে ভরপুর, কাজেই এতে সম্যক পরিচয় লাভের সে সকল দ্যুতিও সংরক্ষিত, যার অতি সামান্য বিকিরণে গোটা 'তুর' পর্বত খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গিয়েছিল, হযরত মূসা (আঃ)-কে জ্ঞান হারাতে হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ্ যখন চাইলেন, এমন একজন মানুষ জন্মিয়ে দিলেন, যিনি সে দায়িত্বের বোঝা তুলে নিলেন, যার চাপ সহ্য করা তুরের পক্ষেও সম্ভব হয়নি। সূরা হাশরের নিম্ন আয়াতে কোরআনে হাকীমের এই বাস্তব সত্যটির প্রতিই ইংগিত করা হয়েছে-
لَوْ أَنْزَلْنَا هُذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّهِ .
আমি যদি কোরআনকে পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তা হলে তোমরা তাকে দেখতে সে নুয়ে পড়ত এবং আল্লাহর ভয়ে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যেত।
এই হল রহস্য যে, তওরাতের পক্ষে একইবারে অবতীর্ণ হওয়া সম্ভব হয়েছে, কিন্তু কোরআনে হাকীমের অবতরণ একইবারে হয়নি, বরং অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়েছে যাতে করে মানুষ ক্রমান্বয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই বিদ্যুচ্ছটাগুলো সহ্য করে নেয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে এবং সেগুলোকে ধারণ করতে পারে। কাফের-মুশরিকরা ইহুদীদের প্ররোচনায় মহানবী (সঃ)-এর প্রতি প্রশ্ন তুলত যে, কোরআন মজীদ তওরাতের মত গোটাটাই একইবারে নাযিল হয় না কেন? এর উত্তরে আল্লাহ্ বললেন لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ এর কারণ, যাতে করে একে বহন করার জন্য আমি তোমাদের মন-মস্তিষ্ককে সমর্থ করে তুলতে পারি।) লক্ষ্য করার বিষয়, যে পবিত্র বক্ষ اَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ -এর নূরের জ্যোতিতে পরিপূর্ণ ছিল, তাঁর পক্ষেও কোরআনকে বহন করা সহজ কাজ ছিল না। তা হলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা কি দাঁড়াত, যাদের যোগ্যতা এবং নবীর যোগ্যতায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য?
সে জন্যই জ্ঞান-বুদ্ধি এবং মন-মস্তিষ্কের নিম্নলিখিত যোগ্যতা প্রয়োজন।