📄 মৃগী রোগী এবং বেহুঁশের হুঁশ ফিরিয়ে আনতে
মৃগী বা বেহুঁশ রোগীর হুঁশ ফিরিয়ে আনতে ১১ বার আয়াতুল কুরসী পড়ে রোগীর মাথায় ফুঁ দেবে।
ইবনুস সুন্নী ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি একবার এ ধরনের রোগীর কানে কুরআনের কতিপয় আয়াত পড়লেন, আর আল্লাহর রহমতে রোগী হুঁশ ফিরে পেল। ইবনে মাসউদ বললেন নিম্নোক্ত আয়াতে কারীমা পড়েছিলেন:
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ فَتَعْلَى اللهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ...
“তোমরা কি সত্যি সত্যিই এটা ধরে নিয়োছ, আমি তোমাদের এমনিই অনর্থকই পয়দা করেছি এবং তোমাদের (কখনোই) আমার কাছে একত্রিত করা হবে না। মহিমান্বিত আল্লাহ তাআলা, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, সম্মানিত আরশের একক অধিপতিও তিনি।” (সূরা ২৩; মুমিনুন ১১৫-১১৮)
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পরিপূর্ণ বিশ্বাস সহকারে কেউ যদি এ আয়াতগুলো পাহাড়ের উপর তিলাওয়াত করে, তাহলে পাহাড়ও সরে যাবে।
📄 যাবতীয় মানসিক রোগের চিকিৎসা
ইবনে দারিস সাঈদ ইবনে যোবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি একজন পাগল লোকের উপর সূরা ইয়াসিন পড়েছেন, আর সে সুস্থ হয়ে গেছে। এ কথা সর্বজনবিদিত যে, সূরা ইয়াসিন হচ্ছে কুরআনের অন্তর! আমাদের জ্বিন ভাইয়েরা যখন উহার তিলাওয়াত শুনে তখন নিশ্চুপ হয়ে যায় এবং আল্লাহর নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ করে।
আল্লাহ তাআলার বাণী:
قُلْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَأَمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُّশْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا
“(হে নবী!) আপনি বলুন, আমার কাছে এ মর্মে ওহী নাযিল করা হয়েছে, জ্বিনদের একটি দল (কুরআন) শুনেছে... তারা বলেছে, আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনে এসেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে।” (সূরা ৭২; জিন ১-২)
কুরআনের বরকতে জ্বিনেরা ওদের মস্তিষ্ক থেকে সরে যাবে যাদেরকে মস্তিষ্কের বিকৃতি পেয়ে বসেছিল। ‘জুনুন’ শব্দের উৎপত্তি ‘জান্ন’ থেকে। সাধারণত জ্বিনদের আক্রমণের কারণেই মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে থাকে। যখন এই কুরআন বিশেষ করে সূরা ইয়াসিন জ্বিনের কর্ণ-কুহরে প্রবেশ করবে, তখন উহা তাদেরকে রোগীর শরীর ও মন থেকে সরিয়ে দেবে। কারণ কুরআনের আয়াতগুলো মুসলিম জ্বিনের সামনে আল্লাহর শাস্তির ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে উপস্থিত হয়, আর কাফির জ্বিনের ওপর তা বিদ্যুতের গর্জনের মতো পতিত হয়। রোগী তখন সুস্থ হয়ে ওঠে।
📄 যাদু টোনার চিকিৎসা
ইবনে আবি হাতেম লাইছ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি যে, নিম্নের আয়াতগুলো যাদুটোনার চিকিৎসায় খুবই কার্যকরী। পানি ভর্তি পাত্রে আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিবে। অতঃপর যাদুগ্রস্ত ব্যক্তির মাথায় উক্ত পানি ঢালবে।
আয়াতগুলো হচ্ছে:
১. فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ...
“অচিরেই আল্লাহ তাআলা তা ব্যর্থ করে দেবেন; আল্লাহ তাআলা কখনো ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজকর্ম শুধরে দেন না।” (সূরা ১০; ইউনুস ৮১-৮২)
২. وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ...
“অতঃপর সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল, আর তারা যা কিছু বানিয়ে এনেছিল তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো।” (সূরা ৭; আ’রাফ ১১৭-১২০)
৩. وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينিকাত তাকলফ মা সনাউ... (সূরা ২০; ত্বা-হা ৬৯)
“তোমার ডান হাতে যে (লাঠি) আছে তা নিক্ষেপ করো, ওরা যা কিছুই করেছে তা তো ছিলো নেহায়েত যাদুকরের কৌশল; আর যাদুকর কখনো সফল হয় না।”
📄 ভুলে যাওয়ার চিকিৎসা
দারেমী [হাদীস নং ৩৩৮৫] মৃগীরা ইবনে ছোবাঈ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ঘুমানোর পূর্বে সূরা বাকারার ১০টি আয়াত পড়বে সে কুরআন ভুলবে না।
• শুরু থেকে চার (১-৪) আয়াত
• আয়াতুল কুরসী (২৫৫)
• আয়াতুল কুরসীর পরবর্তী (২৫৬-২৫৭) দু'আয়াত
• আর সর্বশেষ তিন (২৮৪-২৮৬) আয়াত।
لِلَّهِ مَا فِي السَّمُوتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُসِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحাসিবকুম বিহিল্লাহু ফাইয়াগফিরু লিমান ইয়াশাউ... [সূরা ২; বাকারা ২৮৪-২৮৬]
দারেমী [হাদীস নং ৩৩৮৫] মৃগীরা ইবনে ছোবাঈ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ঘুমানোর পূর্বে সূরা বাকারার ১০টি আয়াত পড়বে সে কুরআন ভুলবে না।
• শুরু থেকে চার (১-৪) আয়াত
• আয়াতুল কুরসী (২৫৫)
• আয়াতুল কুরসীর পরবর্তী (২৫৬-২৫৭) দু'আয়াত
• আর সর্বশেষ তিন (২৮৪-২৮৬) আয়াত।
لِلَّهِ مَا فِي السَّمُوتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُসِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحাসিবকুম বিহিল্লাহু ফাইয়াগফিরু লিমান ইয়াশাউ... [সূরা ২; বাকারা ২৮৪-২৮৬]