📄 জ্বিনে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা
আক্রান্ত ব্যক্তির উপর সূরা ইয়াসিন পড়বে, আর তার কপালে লিখবে,
وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ سُبْحْنَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ
“আর জ্বিনেরা জানে যে, এতে অন্য বান্দাদের মতো তারা আল্লাহ তাআলার আদেশের অধীন এবং তাদের মধ্যে যারা বদকার তাদের অবশ্যই শাস্তির জন্যে একদিন উপস্থিত করা হবে। এরা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে যেসব বেহুদা কথাবার্তা বলে আল্লাহ তাআলা তা থেকে পবিত্র-মহান।” (সূরা ৩৭; সাফফাত ১৫৮ ও ১৫৯)
উপরিউক্ত আমলের বদৌলতে আল্লাহর হুকুমে রোগী হুঁশ ফিরে পাবে এবং শয়তান তার শরীর থেকে সরে পড়বে, ইনশাআল্লাহ। আর রোগীর কর্তব্য হবে, বেশি বেশি কিতাবুল্লাহ-এর তিলাওয়াত করা এবং এর বিধান মোতাবেক আমল করা। মহান আল্লাহ বলেন: فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَنِ الرَّجِيمِ إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَنٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى রব্বিহিম ইয়াতাওয়াক্কালুন (সূরা ১৬; নাহল ৯৮-৯৯)।
📄 জ্বিনে আক্রান্ত বা মৃগী রোগীর চিকিৎসা আর উপসর্গগুলোকে জ্বালিয়ে দেওয়ার আরেকটি পদ্ধতি
প্রথমত: আক্রান্ত ব্যক্তির ডান কানে সাতবার আযান দেবে।
দ্বিতীয়ত: সূরা ফাতেহা, ফালাক ও নাস, আয়াতুল কুরসী, সূরা সাফফাত, সূরা হাশরের শেষের আয়াতগুলো এবং সূরা তারেক পড়বে।
📄 মৃগী রোগী এবং বেহুঁশের হুঁশ ফিরিয়ে আনতে
মৃগী বা বেহুঁশ রোগীর হুঁশ ফিরিয়ে আনতে ১১ বার আয়াতুল কুরসী পড়ে রোগীর মাথায় ফুঁ দেবে।
ইবনুস সুন্নী ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি একবার এ ধরনের রোগীর কানে কুরআনের কতিপয় আয়াত পড়লেন, আর আল্লাহর রহমতে রোগী হুঁশ ফিরে পেল। ইবনে মাসউদ বললেন নিম্নোক্ত আয়াতে কারীমা পড়েছিলেন:
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ فَتَعْلَى اللهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ...
“তোমরা কি সত্যি সত্যিই এটা ধরে নিয়োছ, আমি তোমাদের এমনিই অনর্থকই পয়দা করেছি এবং তোমাদের (কখনোই) আমার কাছে একত্রিত করা হবে না। মহিমান্বিত আল্লাহ তাআলা, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, সম্মানিত আরশের একক অধিপতিও তিনি।” (সূরা ২৩; মুমিনুন ১১৫-১১৮)
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পরিপূর্ণ বিশ্বাস সহকারে কেউ যদি এ আয়াতগুলো পাহাড়ের উপর তিলাওয়াত করে, তাহলে পাহাড়ও সরে যাবে।
📄 যাবতীয় মানসিক রোগের চিকিৎসা
ইবনে দারিস সাঈদ ইবনে যোবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি একজন পাগল লোকের উপর সূরা ইয়াসিন পড়েছেন, আর সে সুস্থ হয়ে গেছে। এ কথা সর্বজনবিদিত যে, সূরা ইয়াসিন হচ্ছে কুরআনের অন্তর! আমাদের জ্বিন ভাইয়েরা যখন উহার তিলাওয়াত শুনে তখন নিশ্চুপ হয়ে যায় এবং আল্লাহর নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ করে।
আল্লাহ তাআলার বাণী:
قُلْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَأَمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُّশْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا
“(হে নবী!) আপনি বলুন, আমার কাছে এ মর্মে ওহী নাযিল করা হয়েছে, জ্বিনদের একটি দল (কুরআন) শুনেছে... তারা বলেছে, আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনে এসেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে।” (সূরা ৭২; জিন ১-২)
কুরআনের বরকতে জ্বিনেরা ওদের মস্তিষ্ক থেকে সরে যাবে যাদেরকে মস্তিষ্কের বিকৃতি পেয়ে বসেছিল। ‘জুনুন’ শব্দের উৎপত্তি ‘জান্ন’ থেকে। সাধারণত জ্বিনদের আক্রমণের কারণেই মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে থাকে। যখন এই কুরআন বিশেষ করে সূরা ইয়াসিন জ্বিনের কর্ণ-কুহরে প্রবেশ করবে, তখন উহা তাদেরকে রোগীর শরীর ও মন থেকে সরিয়ে দেবে। কারণ কুরআনের আয়াতগুলো মুসলিম জ্বিনের সামনে আল্লাহর শাস্তির ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে উপস্থিত হয়, আর কাফির জ্বিনের ওপর তা বিদ্যুতের গর্জনের মতো পতিত হয়। রোগী তখন সুস্থ হয়ে ওঠে।