📄 জ্বিনের আছর (আক্রমণ) থেকে রক্ষার তদবীর
ওলামায়ে কেরাম ১০টি বিষয় প্রণয়ন করেছেন। ঈমানদার এগুলোকে অনুসরণ করলে নিজেকে আল্লাহর হুকুমে জ্বিনের আক্রমণ ও অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করতে পারবে।
এক. সর্বদা আল্লাহর নিকট তাদের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাওয়া: وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (সূরা ৪২; ফুসসিলাত ৩৬)
দুই. মোয়াউয়েযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) পড়া।
তিন. আয়াতুল কুরসী পড়া। প্রিয় নবীর হাদীসে এসেছে, যখন তুমি রাত্রে শোবার জন্যে বিছানায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসী সম্পূর্ণটা পড়বে। সব সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার উপর হেফাযতকারী থাকবে। সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না। (বুখারী: ৪/৩৯৬)
চার. সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা। হাদীসে এসেছে, “তোমরা তোমাদের ঘরকেগুলোকে কবর বানিও না। যে ঘরে সূরা বাকারা পড়া হয়, শয়তান সে ঘরের কাছেও আসে না।”
পাঁচ. সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত (২৮৫-২৮৬) তিলাওয়াত করা।
ছয়. সূরা গাফের-এর প্রথম তিন আয়াত পড়বে— حم تَنْزِيلُ الْكِتَبِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ غَافِي الذَّئْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ
সাত. একশত বার পড়তে হবে— لا اله الا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ
আট. বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা।
নয়. সর্বদা (ওযু) পবিত্রাবস্থায় থাকা, সালাত আদায় করা, বিশেষ করে রাগের সময়।
দশ. অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত দৃষ্টি, কথাবার্তা, খাওয়া-দাওয়া এবং মানুষের সংশ্রব থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কেননা, শয়তান উল্লিখিত দরজাসমূহ দিয়ে মানুষের উপর তার কু-প্রভাব বিস্তার করে।
📄 জ্বিনে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা
আক্রান্ত ব্যক্তির উপর সূরা ইয়াসিন পড়বে, আর তার কপালে লিখবে,
وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ سُبْحْنَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ
“আর জ্বিনেরা জানে যে, এতে অন্য বান্দাদের মতো তারা আল্লাহ তাআলার আদেশের অধীন এবং তাদের মধ্যে যারা বদকার তাদের অবশ্যই শাস্তির জন্যে একদিন উপস্থিত করা হবে। এরা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে যেসব বেহুদা কথাবার্তা বলে আল্লাহ তাআলা তা থেকে পবিত্র-মহান।” (সূরা ৩৭; সাফফাত ১৫৮ ও ১৫৯)
উপরিউক্ত আমলের বদৌলতে আল্লাহর হুকুমে রোগী হুঁশ ফিরে পাবে এবং শয়তান তার শরীর থেকে সরে পড়বে, ইনশাআল্লাহ। আর রোগীর কর্তব্য হবে, বেশি বেশি কিতাবুল্লাহ-এর তিলাওয়াত করা এবং এর বিধান মোতাবেক আমল করা। মহান আল্লাহ বলেন: فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَنِ الرَّجِيمِ إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَنٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى রব্বিহিম ইয়াতাওয়াক্কালুন (সূরা ১৬; নাহল ৯৮-৯৯)।
📄 জ্বিনে আক্রান্ত বা মৃগী রোগীর চিকিৎসা আর উপসর্গগুলোকে জ্বালিয়ে দেওয়ার আরেকটি পদ্ধতি
প্রথমত: আক্রান্ত ব্যক্তির ডান কানে সাতবার আযান দেবে।
দ্বিতীয়ত: সূরা ফাতেহা, ফালাক ও নাস, আয়াতুল কুরসী, সূরা সাফফাত, সূরা হাশরের শেষের আয়াতগুলো এবং সূরা তারেক পড়বে।
📄 মৃগী রোগী এবং বেহুঁশের হুঁশ ফিরিয়ে আনতে
মৃগী বা বেহুঁশ রোগীর হুঁশ ফিরিয়ে আনতে ১১ বার আয়াতুল কুরসী পড়ে রোগীর মাথায় ফুঁ দেবে।
ইবনুস সুন্নী ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি একবার এ ধরনের রোগীর কানে কুরআনের কতিপয় আয়াত পড়লেন, আর আল্লাহর রহমতে রোগী হুঁশ ফিরে পেল। ইবনে মাসউদ বললেন নিম্নোক্ত আয়াতে কারীমা পড়েছিলেন:
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ فَتَعْلَى اللهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ...
“তোমরা কি সত্যি সত্যিই এটা ধরে নিয়োছ, আমি তোমাদের এমনিই অনর্থকই পয়দা করেছি এবং তোমাদের (কখনোই) আমার কাছে একত্রিত করা হবে না। মহিমান্বিত আল্লাহ তাআলা, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, সম্মানিত আরশের একক অধিপতিও তিনি।” (সূরা ২৩; মুমিনুন ১১৫-১১৮)
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পরিপূর্ণ বিশ্বাস সহকারে কেউ যদি এ আয়াতগুলো পাহাড়ের উপর তিলাওয়াত করে, তাহলে পাহাড়ও সরে যাবে।