📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন 📄 চিন্তা-পেরেশানি এবং বিষণ্নতার চিকিৎসা

📄 চিন্তা-পেরেশানি এবং বিষণ্নতার চিকিৎসা


সূরা ইনশিরাহ [আলাম নাশরাহ] একটি পাত্রে লিখবে। শুকানোর পর যমযম অথবা বৃষ্টির পানি দিয়ে ধুয়ে আল্লাহর বরকতের আশা নিয়ে পান করবে।

أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبُ وَإِلَى رَبِّكَ فَارْغَبُ
“(হে মুহাম্মদ!) আমি কি আপনার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেইনি? আমিই তো আপনার ওপর থেকে আপনার বোঝা নামিয়ে দিয়েছি, যা আপনার পিঠ নুইয়ে দিচ্ছিল, আমিই আপনার স্মরণকে সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছি। অতঃপর কষ্টের সাথে অবশ্যই আরাম রয়েছে; নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে আছে আরাম; অতঃপর যখনি আপনি অবসর পাবেন তখনি আপনি ইবাদাতের পরিশ্রমে লেগে যান এবং সম্পূর্ণ নিজের মালিকের অভিমুখী হন।” (সূরা ৯৪; ইনশিরাহ ১-৮)

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে জ্বিনদের কুরআন কারীম শ্রবণের ঘটনা

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে জ্বিনদের কুরআন কারীম শ্রবণের ঘটনা


মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنزِلَ مِن بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُّسْتَقِيمٍ
“(একবার), যখন একদল জ্বিনকে আমি আপনার কাছে পাঠিয়েছিলাম, তারা কুরআন শুনছিল। যখন তারা সে স্থানে উপনীত হলো, তখন তারা বলতে লাগল, সবাই চুপ হয়ে যাও। অতঃপর যখন কাজ শেষ হয়ে গেল তখন তারা নিজের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবেই ফিরে গেল। তারা বলল, হে আমাদের জাতি, আজ আমরা এমন এক গ্রন্থ শুনেছি যা মূসার পরে নাযিল করা হয়েছে, যা আগের গ্রন্থের সত্যতা স্বীকার করে এবং সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে।” (সূরা ৪৬; আহকাফ ২৯-৩০)

যাবের (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে রাত্রিতে জ্বিনেরা আমার তিলাওয়াত শুনেছিল, আমি তাদের সামনে সূরা আর রাহমান পড়ছিলাম, তারা তোমাদের চেয়ে উত্তম সাড়াদানকারী ছিল। আমি যখনই ‘ফাবি আইয়্যি আ-লা-ই রব্বিকুমা তুকাজ্জিবান’ এ আসতাম, তখনই তারা বলতো, ‘ওয়ালা বিশাইয়্যিম মিন নি'য়ামিকা রব্বানা নুকাজ্জিবু ফালাকাল হামদু’ (হে আমাদের মালিক আপনার নিয়ামতের কোনো কিছুকেই আমরা অস্বীকার করছি না। সুতরাং আপনারই জন্যে সমস্ত প্রশংসা)।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন 📄 বদ নজর (হিংসা) ও এ থেকে আত্মরক্ষার চিকিৎসা

📄 বদ নজর (হিংসা) ও এ থেকে আত্মরক্ষার চিকিৎসা


হিংসা হচ্ছে কু-দৃষ্টির রোগ। জ্বিন এবং ইনসানের কু-দৃষ্টি থেকে শয়তানি শক্তির দ্বারা এর উৎপত্তি হয়। আর সুস্থতা, রোগমুক্তি ও ধনসম্পদের মতো নিয়ামতকে ধ্বংস করে দেয়। এ থেকে রক্ষা পেতে, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং এর চিকিৎসায় আমাদের কর্তব্য হলো, বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা আর একনিষ্ঠতার সাথে সে মোতাবেক আমল করা।

আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় জ্বিন এবং মানুষের কু-দৃষ্টি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতেন, এমনকি তার উপর মোয়াউয়েজাত নাযিল হয়। قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ [সূরা ফালাক] ও قُلْ أَعُوذُ بِরَبِّ النَّاسِ [সূরা নাস] সূরাদ্বয় নাযিল হয় তখন তিনি এ দুটোকে আঁকড়ে ধরলেন আর বাকিগুলো ছেড়ে দিলেন। (জামে তিরমিযী: ২০৫৮)

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন 📄 জ্বিনের আছর (আক্রমণ) থেকে রক্ষার তদবীর

📄 জ্বিনের আছর (আক্রমণ) থেকে রক্ষার তদবীর


ওলামায়ে কেরাম ১০টি বিষয় প্রণয়ন করেছেন। ঈমানদার এগুলোকে অনুসরণ করলে নিজেকে আল্লাহর হুকুমে জ্বিনের আক্রমণ ও অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করতে পারবে।

এক. সর্বদা আল্লাহর নিকট তাদের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাওয়া: وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (সূরা ৪২; ফুসসিলাত ৩৬)

দুই. মোয়াউয়েযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) পড়া।

তিন. আয়াতুল কুরসী পড়া। প্রিয় নবীর হাদীসে এসেছে, যখন তুমি রাত্রে শোবার জন্যে বিছানায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসী সম্পূর্ণটা পড়বে। সব সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার উপর হেফাযতকারী থাকবে। সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না। (বুখারী: ৪/৩৯৬)

চার. সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা। হাদীসে এসেছে, “তোমরা তোমাদের ঘরকেগুলোকে কবর বানিও না। যে ঘরে সূরা বাকারা পড়া হয়, শয়তান সে ঘরের কাছেও আসে না।”

পাঁচ. সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত (২৮৫-২৮৬) তিলাওয়াত করা।

ছয়. সূরা গাফের-এর প্রথম তিন আয়াত পড়বে— حم تَنْزِيلُ الْكِتَبِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ غَافِي الذَّئْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ

সাত. একশত বার পড়তে হবে— لا اله الا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ

আট. বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা।

নয়. সর্বদা (ওযু) পবিত্রাবস্থায় থাকা, সালাত আদায় করা, বিশেষ করে রাগের সময়।

দশ. অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত দৃষ্টি, কথাবার্তা, খাওয়া-দাওয়া এবং মানুষের সংশ্রব থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কেননা, শয়তান উল্লিখিত দরজাসমূহ দিয়ে মানুষের উপর তার কু-প্রভাব বিস্তার করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px