📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 অর্শ্ব রোগের চিকিৎসা

📄 অর্শ্ব রোগের চিকিৎসা


মানুষের মাঝে এ রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক। এর কারণও বিভিন্ন। (১) মানসিক, (২) শারীরিক ও (৩) খাদ্যজনিত। রসায়নিক চিকিৎসা এখন পর্যন্ত এ রোগকে নির্মূল করতে সক্ষম হয়নি। সাময়িক উপশমের ব্যবস্থা করতে পেরেছে মাত্র। কিন্তু ইসলামী চিকিৎসায় প্রাচীন যুগ থেকেই অর্শ্ব রোগের পূর্ণ চিকিৎসা পাওয়া যায়। তবে শর্ত হলো, রোগের প্রকোপ বৃদ্ধিকারী বস্তুসমূহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। যেমন— অতিরিক্ত রাগ, পরিশ্রম, গ্যাস সৃষ্টিকারী পানীয়, ঝাল জাতীয় খাবার। এ কারণে লাউ, আঁশযুক্ত সবজি, মাছের কলিজার তেল ইত্যাদি অর্শ্ব রোগের খাবার জাতীয় ঔষধের অন্তর্ভুক্ত। উপরন্তু কুরআনুল কারীমের দ্বারা এর চিকিৎসা নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে করতে হবে।

অর্শ্ব রোগের জন্যে কুরআন থেকে যা লিখতে হবে— সূরা ফাতেহা (ওয়ালাদ যললীন পর্যন্ত), সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস লিখার পর লিখবে—
أعُوْذُ بِوَجْهِ اللهِ الْعَظِيمِ وَبِعِزَّتِهِ الَّتِي لَا تُرَامُ، وَبِقُدْرَتِهِ الَّتِي لَا يَمْنَعُ مِنْهَا شَيْءٌ مِنْ شَرِّ هُذَا الْوَجَعِ, وَمِنْ شَرِّ مَافِيهِ
“আল্লাহ তাআলার সুমহান মর্যাদা এবং তাঁর সে সম্মান যার নাগাল পাওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়, তাঁর সে ক্ষমতা, যা থেকে কোনো কিছুকে বাধা দেওয়া যায় না, তাঁর নিকট এ ব্যথার অনিষ্টতা এবং এতে যত প্রকারের ক্ষতি রয়েছে সব কিছু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”

এ কথাগুলো গোলাপজল ও জাফরান দিয়ে নকশাবিহীন কাচের পাত্র বা চিনা বাসনে লিখবে। কালি শুকানোর পর যমযমের পানি অথবা বৃষ্টির পানি দ্বারা ধৌত করে তা পান করবে।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 কাঁপুনি (ভীতি) এবং বিষ নষ্ট করার চিকিৎসায়

📄 কাঁপুনি (ভীতি) এবং বিষ নষ্ট করার চিকিৎসায়


রুগীর উপর পড়তে হবে—
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ لِإِيْلَافِ قُرَيْشٍ إِيْلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَ الصَّيْফِ
“(কা'বার পাহারাদার) কোরায়শ বংশের প্রতিরক্ষার জন্যে, তাদের প্রতিরক্ষা শীত ও গরমকালের সফরের জন্যে।” (সূরা ১০৬; কোরাইশ ১-২)

উক্ত আয়াতে কারীমা পড়ে রোগীকে সাতবার ফুঁ দিবেন। এ ছাড়া জাফরান কালি দ্বারা সাদা পাত্রে লিখে শুকানোর পর বৃষ্টি বা যমযমের পানি দ্বারা ধুয়ে পান করাবেন। খালি পেটে প্রত্যহ একবার করে সাত দিন করতে হবে।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 সাপ-বিচ্ছু দংশনের চিকিৎসা

📄 সাপ-বিচ্ছু দংশনের চিকিৎসা


ইবনে আবি শাইবা তাঁর মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেন, ইবনে মাসউদ বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়ছিলেন, তিনি যখন সিজদায় গেলেন তখন একটি বিচ্ছু তাঁর পবিত্র পায়ের আঙ্গুলে দংশন করলো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে বললেন, “বিচ্ছুর উপর আল্লাহর লা'নত, নবী বা অন্য কাউকে সে দংশন করতে ছাড়ে না।” এরপর তিনি লবণ এবং পানি আনতে বললেন, আর দংশিত স্থানকে লবণাক্ত পানিতে বার বার ডুবাতে লাগলেন আর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে দম দিতে থাকলেন। এমনকি তা ব্যথামুক্ত হয়ে গেল। (আল মোসান্নাফ ১২/১৫২)

আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় সাহাবী সফরে ছিলেন, তারা আরবের কোনো এক গোত্রের পাশ দিয়ে যেতে তাদের আতিথেয়তা চাইলেন, তারা সাহাবীদের আবেদন গ্রহণ করলো না। কিছুক্ষণ পর গোত্রের লোকেরা এসে বলল, তোমাদের মধ্যে কি কোনো ঝাড়-ফুঁককারী আছে? গোত্রের সর্দার অসুস্থ বা তাকে বিষধর কিছু দংশন করেছে। সাহাবীদের একজন বললেন, হ্যাঁ। তিনি তাকে সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিলেন, লোকটি সুস্থ হয়ে গেল। তাকে বিনিময়ে এক পাল বকরি দেওয়া হলো। তিনি রাসূলের নিকট ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বললেন, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর নামের শপথ, আমি শুধু সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিয়েছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, “কে তোমাকে শেখাল যে, এ সূরা ঝাড়-ফুঁকে অব্যর্থ।” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “বকরি থেকে তোমরা গ্রহণ কর, আর তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ রাখিও।” (মুসলিম: ২২১০)

দারকুতনীর এক রেওয়ায়েতে এসেছে, আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, আমি সাতবার ‘আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন’ পড়েছি।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 রোমাটিজমের চিকিৎসা

📄 রোমাটিজমের চিকিৎসা


আপনার ডান হাত ব্যথার স্থানে রাখুন এবং তিনবার পড়ুন,
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَبًا مُؤَجَّلًا وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَ مَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الْأَخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَ سَنَجْزِى الشَّكِرِينَ
“কোনো প্রাণীই আল্লাহর অনুমতি (সিদ্ধান্ত) ছাড়া মরবে না, যে ব্যক্তি পার্থিব পুরস্কারের প্রত্যাশা করে আমি তাকে তার কিছু অংশ দান করবো, আর যে ব্যক্তি আখিরাতের পুরস্কারের ইচ্ছা পোষণ করবে, আমি তাকে সে প্রতিফল দান করবো এবং অচিরেই আমি কৃতজ্ঞদের প্রতিফল দান করবো।” (সূরা ৩; আলে ইমরান ১৪৫)

সূরা কদর [সম্পূর্ণ] সাতবার পড়ুন,
إِنَّا أَنْزَلْتُهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَمَا أَدْرَكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ শَه্রিন... (সূরা ৯৭; কদর ১-৫)

অথবা, আল্লাহ তাআলার এ বাণীটি পড়ুন,
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمُوتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَهُمَا وَ جَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
“যারা কুফরী করে তারা কি দেখে না, আসমানসমূহ ও পৃথিবী (এক সময়) ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিলো। অতঃপর আমিই এদের উভয়কে আলাদা করে দিয়েছি এবং আমি প্রাণবান সব কিছুকেই পানি থেকে সৃষ্টি করেছি, (এসব জানার পরও) কি তারা ঈমান আনবে না?” (সূরা ২১; আম্বিয়া ৩০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00