📄 লিভার, পাকস্থলী, হৃদকম্পন বৃদ্ধি, বক্ষ ও হৃদ রোগের চিকিৎসায়
গোলাপজল ও জাফরানের কালি দ্বারা সাদা পাত্রে তিনবার আয়াতুল কুরসী লিখবে। যমযমের পানি হলে উত্তম নতুবা যেকোনো পানি দ্বারা তা ধৌত করে খালী পেটে এক সপ্তাহ যাবৎ পান করবে। যমযমের পানির মধ্যে সাতবার সূরা ফাতেহা পড়বে (আমীন ব্যতিত, কেননা তা কেবল নামাযে বলা হয়)। অতঃপর খালি পেটে ঐ পানি পান করবে।
হৃদ রোগে করণীয়:
আবূ জাফর মোহাম্মদ বিন আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি স্বীয় অন্তরে কাঠিন্য অনুভব করে, সে যেন একটি পাত্রে জাফরানের কালি দ্বারা সূরা ইয়াসিন লিখে তা পান করে।
হৃদয়কে শক্তিশালী করতে এবং এতে প্রফুল্লতা দান করতে পরীক্ষিত তদবীরের অন্যতম হচ্ছে: রাত্রে ঘুমানোর পূর্বে স্বীয় ডান হাত বুকের উপর রেখে সূরা গাফের পড়বে। আর সকালে সাতটি খেজুর নিয়ে (মদিনা মোনাওয়ারার খেজুর হলে বেশি উত্তম) তার উপর সাতবার সূরা ফাতিহা পড়বে, আল্লাহর নাম নিয়ে তাঁর বরকতে সেগুলো খেয়ে ফেলবে। আর তিনটি কাজ সম্পূর্ণরূপে পরিহার করবে— অপচয়, রাতজাগা ও আল্লাহর যিকর থেকে গাফেল হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ﴿ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ ﴾ “জেনে রেখ, আল্লাহর যিকরেই অন্তর প্রশান্ত হয়।” (সূরা ১৩; রাদ ২৮) সুতরাং, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার জিহ্বাকে সর্বদা আল্লাহর যিকর- এর দ্বারা সজিব ও তাজা রাখ।
টিকাঃ
১. ইমাম কুরতুবী আর হাকেম তার মোসতাদরাকে বর্ণনা করেছেন।
📄 অর্শ্ব রোগের চিকিৎসা
মানুষের মাঝে এ রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক। এর কারণও বিভিন্ন। (১) মানসিক, (২) শারীরিক ও (৩) খাদ্যজনিত। রসায়নিক চিকিৎসা এখন পর্যন্ত এ রোগকে নির্মূল করতে সক্ষম হয়নি। সাময়িক উপশমের ব্যবস্থা করতে পেরেছে মাত্র। কিন্তু ইসলামী চিকিৎসায় প্রাচীন যুগ থেকেই অর্শ্ব রোগের পূর্ণ চিকিৎসা পাওয়া যায়। তবে শর্ত হলো, রোগের প্রকোপ বৃদ্ধিকারী বস্তুসমূহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। যেমন— অতিরিক্ত রাগ, পরিশ্রম, গ্যাস সৃষ্টিকারী পানীয়, ঝাল জাতীয় খাবার। এ কারণে লাউ, আঁশযুক্ত সবজি, মাছের কলিজার তেল ইত্যাদি অর্শ্ব রোগের খাবার জাতীয় ঔষধের অন্তর্ভুক্ত। উপরন্তু কুরআনুল কারীমের দ্বারা এর চিকিৎসা নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে করতে হবে।
অর্শ্ব রোগের জন্যে কুরআন থেকে যা লিখতে হবে— সূরা ফাতেহা (ওয়ালাদ যললীন পর্যন্ত), সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস লিখার পর লিখবে—
أعُوْذُ بِوَجْهِ اللهِ الْعَظِيمِ وَبِعِزَّتِهِ الَّتِي لَا تُرَامُ، وَبِقُدْرَتِهِ الَّتِي لَا يَمْنَعُ مِنْهَا شَيْءٌ مِنْ شَرِّ هُذَا الْوَجَعِ, وَمِنْ شَرِّ مَافِيهِ
“আল্লাহ তাআলার সুমহান মর্যাদা এবং তাঁর সে সম্মান যার নাগাল পাওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়, তাঁর সে ক্ষমতা, যা থেকে কোনো কিছুকে বাধা দেওয়া যায় না, তাঁর নিকট এ ব্যথার অনিষ্টতা এবং এতে যত প্রকারের ক্ষতি রয়েছে সব কিছু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
এ কথাগুলো গোলাপজল ও জাফরান দিয়ে নকশাবিহীন কাচের পাত্র বা চিনা বাসনে লিখবে। কালি শুকানোর পর যমযমের পানি অথবা বৃষ্টির পানি দ্বারা ধৌত করে তা পান করবে।
📄 কাঁপুনি (ভীতি) এবং বিষ নষ্ট করার চিকিৎসায়
রুগীর উপর পড়তে হবে—
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ لِإِيْلَافِ قُرَيْشٍ إِيْلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَ الصَّيْফِ
“(কা'বার পাহারাদার) কোরায়শ বংশের প্রতিরক্ষার জন্যে, তাদের প্রতিরক্ষা শীত ও গরমকালের সফরের জন্যে।” (সূরা ১০৬; কোরাইশ ১-২)
উক্ত আয়াতে কারীমা পড়ে রোগীকে সাতবার ফুঁ দিবেন। এ ছাড়া জাফরান কালি দ্বারা সাদা পাত্রে লিখে শুকানোর পর বৃষ্টি বা যমযমের পানি দ্বারা ধুয়ে পান করাবেন। খালি পেটে প্রত্যহ একবার করে সাত দিন করতে হবে।
📄 সাপ-বিচ্ছু দংশনের চিকিৎসা
ইবনে আবি শাইবা তাঁর মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেন, ইবনে মাসউদ বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়ছিলেন, তিনি যখন সিজদায় গেলেন তখন একটি বিচ্ছু তাঁর পবিত্র পায়ের আঙ্গুলে দংশন করলো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে বললেন, “বিচ্ছুর উপর আল্লাহর লা'নত, নবী বা অন্য কাউকে সে দংশন করতে ছাড়ে না।” এরপর তিনি লবণ এবং পানি আনতে বললেন, আর দংশিত স্থানকে লবণাক্ত পানিতে বার বার ডুবাতে লাগলেন আর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে দম দিতে থাকলেন। এমনকি তা ব্যথামুক্ত হয়ে গেল। (আল মোসান্নাফ ১২/১৫২)
আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় সাহাবী সফরে ছিলেন, তারা আরবের কোনো এক গোত্রের পাশ দিয়ে যেতে তাদের আতিথেয়তা চাইলেন, তারা সাহাবীদের আবেদন গ্রহণ করলো না। কিছুক্ষণ পর গোত্রের লোকেরা এসে বলল, তোমাদের মধ্যে কি কোনো ঝাড়-ফুঁককারী আছে? গোত্রের সর্দার অসুস্থ বা তাকে বিষধর কিছু দংশন করেছে। সাহাবীদের একজন বললেন, হ্যাঁ। তিনি তাকে সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিলেন, লোকটি সুস্থ হয়ে গেল। তাকে বিনিময়ে এক পাল বকরি দেওয়া হলো। তিনি রাসূলের নিকট ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বললেন, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহর নামের শপথ, আমি শুধু সূরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিয়েছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, “কে তোমাকে শেখাল যে, এ সূরা ঝাড়-ফুঁকে অব্যর্থ।” অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “বকরি থেকে তোমরা গ্রহণ কর, আর তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ রাখিও।” (মুসলিম: ২২১০)
দারকুতনীর এক রেওয়ায়েতে এসেছে, আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, আমি সাতবার ‘আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন’ পড়েছি।