📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 বিষাক্ত ফোঁড়ার চিকিৎসায়

📄 বিষাক্ত ফোঁড়ার চিকিৎসায়


রোগীর উপর নিন্মোক্ত আয়াতে কারীমা পড়তে হবে।

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنْسِفُهَا رَبِّي نَسْفًا فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا لَّا تَرَى فِيهَا عِوَجًا وَلَا أَمْتًا

“(হে নবী!) তারা আপনার কাছে (কিয়ামতের সময়) পাহাড়গুলোর অবস্থা (কী হবে) জানতে চাইবে। আপনি তাদের বলুন, (সে সময়) আমার মালিক এগুলোকে (টুকরো টুকরো করে) উড়িয়ে দেবেন। অতঃপর তাকে তিনি মসৃণ ও সমতল ভূমিতে পরিণত করে ছাড়বেন। তখন আপনি এতে কোনো রকম অসমতল ও উঁচু-নিচু দেখবেন না।” (সূরা ২০; ত্বা-হা ১০৫-১০৭)

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 যাবতীয় বক্ষ ব্যাধির চিকিৎসায়

📄 যাবতীয় বক্ষ ব্যাধির চিকিৎসায়


রুগীর উপর সূরা ইনশিরাহ পড়তে হবে। আলাম নাশরাহ লাকা সদরাক... (সূরা ৯৪; ইনশিরাহ ১-৮)

এবং মহান আল্লাহর বাণী,

رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً মীল লিসানী ইয়াফকাহু কওলী
“(তিনি বললেন) হে আমার মালিক! আপনি আমার জন্যে আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ আমার জন্যে সহজ করে দিন, আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন, যাতে করে ওরা আমার কথা (ভালো করে) বুঝতে পারে।” (সূরা ২০; ত্বা-হা ২৫-২৮)

আয়াতগুলো পড়ে পড়ে ডান হাতে রোগীর বুকের উপর ম্যাসেজ করবে। যমযমের পানির ওপর সূরা ফাতেহা পড়ে ঐ পানি দ্বারা বক্ষ ধুয়ে ফেলবে এবং কিছু পানি পান করবে। এতে বক্ষ শক্তিশালী হয় এবং যাবতীয় ব্যথা দূরীভূত হয়। তবে হে আল্লাহর বান্দা, সিগারেট পান করা, পানকারীদের সাথে উঠাবসা করা আর বেশি কথা বলা থেকে সর্বদা সতর্ক হও।

সব সময় আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করতে সচেষ্ট থাক, স্বীয় হৃদয়কে কুরআনের আয়াতসমূহ দ্বারা ভরপুর করো, সত্য কথা বলা, সৎ কাজের আদেশ আর অসৎ কাজের নিষেধের মাধ্যমে আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাও। আর বেশি বেশি তাহাজ্জুদ নামায পড়, অচিরেই তুমি সুস্থতা ও রোগমুক্তি দেখতে পাবে।

বক্ষ ব্যাধির জন্যে:
ইবনে মারদাওয়াইহ আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি আমার বক্ষে অসুস্থতা অনুভব করি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “কুরআন পড়”। এর সাথে তিন বার সূরা ইনশিরাহ এবং আল্লাহ তাআলার বাণী— وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ (সূরা ১০; ইউনুছ ৫৭) পড়তে হবে।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 লিভার, পাকস্থলী, হৃদকম্পন বৃদ্ধি, বক্ষ ও হৃদ রোগের চিকিৎসায়

📄 লিভার, পাকস্থলী, হৃদকম্পন বৃদ্ধি, বক্ষ ও হৃদ রোগের চিকিৎসায়


গোলাপজল ও জাফরানের কালি দ্বারা সাদা পাত্রে তিনবার আয়াতুল কুরসী লিখবে। যমযমের পানি হলে উত্তম নতুবা যেকোনো পানি দ্বারা তা ধৌত করে খালী পেটে এক সপ্তাহ যাবৎ পান করবে। যমযমের পানির মধ্যে সাতবার সূরা ফাতেহা পড়বে (আমীন ব্যতিত, কেননা তা কেবল নামাযে বলা হয়)। অতঃপর খালি পেটে ঐ পানি পান করবে।

হৃদ রোগে করণীয়:
আবূ জাফর মোহাম্মদ বিন আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি স্বীয় অন্তরে কাঠিন্য অনুভব করে, সে যেন একটি পাত্রে জাফরানের কালি দ্বারা সূরা ইয়াসিন লিখে তা পান করে।

হৃদয়কে শক্তিশালী করতে এবং এতে প্রফুল্লতা দান করতে পরীক্ষিত তদবীরের অন্যতম হচ্ছে: রাত্রে ঘুমানোর পূর্বে স্বীয় ডান হাত বুকের উপর রেখে সূরা গাফের পড়বে। আর সকালে সাতটি খেজুর নিয়ে (মদিনা মোনাওয়ারার খেজুর হলে বেশি উত্তম) তার উপর সাতবার সূরা ফাতিহা পড়বে, আল্লাহর নাম নিয়ে তাঁর বরকতে সেগুলো খেয়ে ফেলবে। আর তিনটি কাজ সম্পূর্ণরূপে পরিহার করবে— অপচয়, রাতজাগা ও আল্লাহর যিকর থেকে গাফেল হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ﴿ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ ﴾ “জেনে রেখ, আল্লাহর যিকরেই অন্তর প্রশান্ত হয়।” (সূরা ১৩; রাদ ২৮) সুতরাং, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার জিহ্বাকে সর্বদা আল্লাহর যিকর- এর দ্বারা সজিব ও তাজা রাখ।

টিকাঃ
১. ইমাম কুরতুবী আর হাকেম তার মোসতাদরাকে বর্ণনা করেছেন।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 অর্শ্ব রোগের চিকিৎসা

📄 অর্শ্ব রোগের চিকিৎসা


মানুষের মাঝে এ রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক। এর কারণও বিভিন্ন। (১) মানসিক, (২) শারীরিক ও (৩) খাদ্যজনিত। রসায়নিক চিকিৎসা এখন পর্যন্ত এ রোগকে নির্মূল করতে সক্ষম হয়নি। সাময়িক উপশমের ব্যবস্থা করতে পেরেছে মাত্র। কিন্তু ইসলামী চিকিৎসায় প্রাচীন যুগ থেকেই অর্শ্ব রোগের পূর্ণ চিকিৎসা পাওয়া যায়। তবে শর্ত হলো, রোগের প্রকোপ বৃদ্ধিকারী বস্তুসমূহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। যেমন— অতিরিক্ত রাগ, পরিশ্রম, গ্যাস সৃষ্টিকারী পানীয়, ঝাল জাতীয় খাবার। এ কারণে লাউ, আঁশযুক্ত সবজি, মাছের কলিজার তেল ইত্যাদি অর্শ্ব রোগের খাবার জাতীয় ঔষধের অন্তর্ভুক্ত। উপরন্তু কুরআনুল কারীমের দ্বারা এর চিকিৎসা নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে করতে হবে।

অর্শ্ব রোগের জন্যে কুরআন থেকে যা লিখতে হবে— সূরা ফাতেহা (ওয়ালাদ যললীন পর্যন্ত), সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস লিখার পর লিখবে—
أعُوْذُ بِوَجْهِ اللهِ الْعَظِيمِ وَبِعِزَّتِهِ الَّتِي لَا تُرَامُ، وَبِقُدْرَتِهِ الَّتِي لَا يَمْنَعُ مِنْهَا شَيْءٌ مِنْ شَرِّ هُذَا الْوَجَعِ, وَمِنْ شَرِّ مَافِيهِ
“আল্লাহ তাআলার সুমহান মর্যাদা এবং তাঁর সে সম্মান যার নাগাল পাওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়, তাঁর সে ক্ষমতা, যা থেকে কোনো কিছুকে বাধা দেওয়া যায় না, তাঁর নিকট এ ব্যথার অনিষ্টতা এবং এতে যত প্রকারের ক্ষতি রয়েছে সব কিছু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”

এ কথাগুলো গোলাপজল ও জাফরান দিয়ে নকশাবিহীন কাচের পাত্র বা চিনা বাসনে লিখবে। কালি শুকানোর পর যমযমের পানি অথবা বৃষ্টির পানি দ্বারা ধৌত করে তা পান করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00