📄 মাথা ব্যথার চিকিৎসা
আপনার নিজের ডান হাতে রোগীর মাথা (টিপে) ধরবেন এবং পড়বেন,
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ذَلِكَ تَخْفِيفٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ
“এটা তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে দণ্ড হ্রাস (করার উপায়) ও তাঁর একটি অনুগ্রহ মাত্র।” (সূরা ২; বাকারা ১৭৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ﴿ يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ تُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا
“আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর থেকে (বিধি-নিষেধের বোঝা) লঘু করে (তোমাদের জীবন সহজ করে) দিতে চান, (কেননা) মানুষকে দুর্বল করে পয়দা করা হয়েছে।” (সূরা ৪; নিসা ২৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْكُنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفًا
“(এ নিশ্চয়তা দ্বারা) এখন আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর থেকে (উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার) বোঝা হালকা করে দিয়েছেন, (যেহেতু) তিনি (একথা) জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কিছু কিছু দুর্বলতা রয়েছে।” (সূরা ৮; আনফাল ৬৬)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ كَهيعص ﴿ ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا اذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا
“কা-ফ হা ইয়া আঈন ছোয়াদ। (হে নবী, এ হচ্ছে) আপনার মালিকের অনুগ্রহের (কথাগুলোর) স্মরণ, যা তিনি তাঁর এক অনুগত বান্দা যাকারিয়ার ওপর (প্রেরণ) করেছিলেন। যখন তিনি তার রবকে চুপে চুপে ডেকেছিলেন।” (সূরা ১৯; মারইয়াম ১-৩)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿ وَإِذَا سأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
“(হে নবী!) আমার কোনো বান্দা যখন আপনাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (আপনি তাকে বলে দিন), আমি (তার একান্ত) কাছেই আছি; কোন আহ্বানকারী যখনই আমাকে ডাকে আমি তখনই তার ডাকে সাড়া দেই।” (সূরা ২; বাকারা ১৮৬)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ﴿ وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“রাত ও দিনের মাঝে যা কিছু স্থিতি লাভ করছে তার সব কিছুই তাঁর জন্যে; তিনি (এদের সবার কথা) শোনেন এবং (সবার অবস্থা) দেখেন।” (সূরা ৬; আন'আম ১৩)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ﴿ أَلَمْ تَرَ إِلَى رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظَّلَّ وَلَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ سَاكِنَا
“(হে নবী!) আপনি কি আপনার মালিকের (কুদরতের) দিকে তাকিয়ে দেখেননি? কিভাবে তিনি ছায়া (সর্বত্র) বিস্তার করে রেখেছেন, তিনি ইচ্ছা করলে তা তো (একই স্থানে) স্থায়ী করে রাখতে পারতেন।” (সূরা ২৫; ফুরকান ৪৫)
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ حم عسق
“হা-মীম, আইন-সীন-কাফ” (সূরা ৪২; শূরা ১-২)
মাথা ব্যথার জন্যে:
আপনার ডান হাতে রোগীর মাথা ধরে ইব্হাম (বৃদ্ধাঙ্গুলি) ও ছাব্বাবাহ (তর্জনী আঙ্গুল) দিয়ে কপালের দু'পাশ টিপে ধরবেন, আর ৭ বার সূরা ফাতিহা পড়বেন। সুবহানাল্লাহ খুব দ্রুত ব্যথা সরে যাবে, ঐ ব্যক্তির, যে সর্বান্তঃকরণে বিশ্বাস করে অথবা একাগ্রচিত্তে শুনতে চায়।
মাথার অর্ধাংশ ব্যথার জন্যে:
তিনবার সূরা ইখলাস পড়বে এবং আরো পড়বে আল্লাহ তাআলার বাণী, بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ لَوْ أَنْزَلْنَا هُذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللهِ “আমি যদি এ কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর নাযিল করতাম তাহলে আপনি (অবশ্যই) তাকে দেখতেন, কিভাবে তা বিনীত হয়ে আল্লাহর ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে পড়ছে।” (সূরা ৫৯; হাশর ২১)
এক গ্লাস বৃষ্টি অথবা যমযমের পানির মধ্যে সাতবার পড়বে, অর্ধেক পানি পান করবে আর বাকি অর্ধেক পানি দিয়ে আক্রান্ত অংশ ধুয়ে ফেলবে।
সব ধরনের মাথা ব্যথায় ডান হাতে মাথা চেপে ধরে আয়াতুশ শেফাগুলো (সূরা ৯; ১৪, সূরা ১০; ৫৭, সূরা ১৬; ৬৯, সূরা ১৭; ৮২, সূরা ২৬; ৮০, সূরা ৪১; ৪৪) এবং সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।
📄 যাবতীয় চক্ষুরোগ চিকিৎসা ও দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে
দু'হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পিঠে
فَكَশَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ
“এখন আমরা তোমার (চোখের সামনে) থেকে তোমার সে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি, অতএব, (আজ তোমার দৃষ্টিশক্তি হবে অত্যন্ত প্রখর (সব কিছুই এখন তুমি দেখতে পাবে)।” (সূরা ৫০; ক্বাফ ২২)
আয়াতে কারীমাটুকু সাতবার এবং সাথে প্রত্যেক বার রাসূলের উপর দুরূদ শরীফ পড়বে। অতঃপর আঙ্গুলদ্বয়ের উপর হালকা থুথু ছিটিয়ে তা দিয়ে চোখ দুটোকে মুছে দেবে। আল্লাহর হুকুমে কিতাবুল্লাহ-এর বরকতে চোখ উঠা-সহ বিভিন্ন চক্ষুপীড়া থেকে নিরাপদ থাকবে আর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাবে।
📄 দাঁতের ব্যথার জন্যে
ব্যথাযুক্ত গালের উপর (আঙ্গুল দিয়ে) লিখবে,
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿ قُلْ هُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ وَ جَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَ الْأَبْصَارَ وَ الْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ ﴾
“(হে রাসূল!) আপনি বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাদের কান, চোখ দিয়েছেন। আরো দিয়েছেন, একটি অন্তর কিন্তু তোমরা খুব কমই (এসব দানের) কৃতজ্ঞতা আদায় কর।” (সূরা ৬৭; মূলক ২৩)
এমনিভাবে আরো লিখবে,
وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي الَّيْلِ وَالنَّহাারি ওহুয়াস সামীউল আলীম
“আর যা কিছু রাত ও দিনে স্থিতি লাভ করে তা তাঁরই। এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।” (সূরা ৬; আনআম ১৩)
📄 কণ্ঠনালীর ব্যথায়
ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘শেয়াবুল ঈমান’ গ্রন্থে ওয়াছেলা বিন আছকা থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে স্বীয় কণ্ঠনালীর ব্যথার অভিযোগ করল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত কর।” (শেয়াবুল ঈমান ২/৫১৯)
কিতাবুল্লাহের বেশি বেশি তিলাওয়াত রোগীর উপর রহমত এবং প্রশান্তি নাযিল করবে। তখন তার গোটা শরীরকে স্থিরতা ঢেকে ফেলবে, শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বীয় দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করতে পারবে। আর আল্লাহর হুকুমে রোগীর নিকট সুস্থতা এবং রোগ মুক্তি ফিরে আসবে, আল্লাহ তাকে পূর্ণ সুস্থতা দান করবেন।
তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তারতীল যত সুন্দর হবে সূরের তন্ত্রিগুলোও ততই সুবিন্যস্ত হবে, হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে আর রোগের যাবতীয় উপকরণ সরে যাবে, দূরীভূত হবে। কেননা, ভালোর সাথে খারাপ একত্রিত হতে পারে না। কুরআনের কথা কতই না ভালো, যা রহমানের বান্দাদের জন্যে শেফা, রহমত এবং বলছম তুল্য, যারা কিতাবুল্লাহকে তিলাওয়াত এবং আমলের মাধ্যমে আঁকড়ে ধরে, আর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো মতাদর্শে জীবন পরিচালনা করে তাদের জন্যে।