📄 মানসিক রোগের চিকিৎসায় আল কুরআন মহৌষধ
ইমাম জাফর সাদেক (রা) বলেন, আমি আশ্চর্যান্বিত হই ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে-
• যে ভীতস্বন্ত্রস্ত হলো, অথচ ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল’ (সূরা ৩; ১৭৩) এর শরণাপন্ন হলো না।
• যে পেরেশানিতে নিমজ্জিত হলো, অথচ ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যলিমীন’ (সূরা ২১; ৮৭) এর আশ্রয় নিল না।
• যে ধোঁকাবাজদের চক্রান্তের শিকার হলো, অথচ ‘ওয়া উফাওউইদু আমরী ইলাল্লাহ...’ (সূরা ৪০; ৪৪) এর দ্বারস্থ হলো না।
গ্রন্থকার আবুল ফিদা বলেন, আমি বিস্ময় বোধ করি ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে, যে রোগাক্রান্ত হয়েছে অথচ ‘আন্নী মাসসানিয়াদ্দুররু ওয়া আন্তা আরহামুর রাহিমীন’ (সূরা ২১; ৮৩) থেকে সাহায্য নিল না। কেননা, এরপরের আয়াতেই আল্লাহ তার কষ্ট দূর করার ওয়াদা করেছেন।
📄 সব ধরনের রোগের চিকিৎসায়
জাফরান এবং গোলাপ জল দিয়ে কোনো পাত্রে ৩ বার সূরা ইখলাস লিখবে। লেখা শুকানোর পর যমযমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে নেবে। এ সময় দৈনিক ৩ বার রোগী নিজেও সূরা ফাতেহা পড়বে এবং তিন দিন পর্যন্ত এ পানি পান করবে। যমযমের পানির মধ্যে সাতবার সূরা ফাতেহা পড়বে এবং ১ সপ্তাহ পর্যন্ত ঐ পানি পান করবে।
ইবনুল কাইয়্যেম (র) বলেন, একবার আমি মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়ি। ডাক্তার এবং ঔষধ কোনোটাই পাচ্ছিলাম না। তখন আমি মক্কায় এভাবে নিজের চিকিৎসা করেছি যে, যমযমের পানি নিতাম এবং এর উপর কয়েকবার করে সূরা ফাতেহা পড়তাম আর ঐ পানি পান করতাম। এর বদৌলতে আলহামদুলিল্লাহ আমি পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভ করি।
📄 আল্লাহর ইসমে আযম দ্বারা যাবতীয় রোগের চিকিৎসা
আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর ইসমে আযম এ দুটি আয়াতের মধ্যে রয়েছে। এর প্রথমটি হলো,
وَالهُكُمُ الهُ وَاحِدٌ لَّا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
“তোমাদের মাবুদ হচ্ছেন একজন, তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই, তিনি দয়ালু, তিনি মেহেরবান।” (সূরা ২; বাকারা ১৬৩)
আর দ্বিতীয় আয়াতটি হচ্ছে সূরা আল-ইমরানের শুরুতে:
الم اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
“আলিফ, লাম, মীম। মহান আল্লাহ তাআলা, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনিই চিরঞ্জীব, তিনিই চিরস্থায়ী।” (সূরা ৩; আলে ইমরান ১-২)¹
এ আমলটি করতে হবে রাতের নামায তাহাজ্জুদের পর, যখন মানুষেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন। ঐ দিনের রোযারও নিয়ত করবে। সোমবার আর বৃহস্পতিবার হলে বেশি ভালো। আল্লাহর ইসমে আযমের বরকতের দোহাই দিয়ে সর্বোচ্চ কাকুতি-মিনতি সহকারে নিজের সুস্থতা অথবা যার জন্যে দু'আ করা হচ্ছে তার সুস্থতা কামনা করবে।
টিকাঃ
১. সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৬, জামে তিরমিযী: ৩৪৭৮, সুনানে ইবনে মাযাহ: ৩৫৫৫।
📄 মাথা ব্যথার চিকিৎসা
আপনার নিজের ডান হাতে রোগীর মাথা (টিপে) ধরবেন এবং পড়বেন,
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ذَلِكَ تَخْفِيفٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ
“এটা তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে দণ্ড হ্রাস (করার উপায়) ও তাঁর একটি অনুগ্রহ মাত্র।” (সূরা ২; বাকারা ১৭৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ﴿ يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ تُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا
“আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর থেকে (বিধি-নিষেধের বোঝা) লঘু করে (তোমাদের জীবন সহজ করে) দিতে চান, (কেননা) মানুষকে দুর্বল করে পয়দা করা হয়েছে।” (সূরা ৪; নিসা ২৮)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْكُنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ وَعَلِمَ أَنَّ فِيكُمْ ضَعْفًا
“(এ নিশ্চয়তা দ্বারা) এখন আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর থেকে (উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার) বোঝা হালকা করে দিয়েছেন, (যেহেতু) তিনি (একথা) জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কিছু কিছু দুর্বলতা রয়েছে।” (সূরা ৮; আনফাল ৬৬)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ كَهيعص ﴿ ذِكْرُ رَحْمَتِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا اذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا
“কা-ফ হা ইয়া আঈন ছোয়াদ। (হে নবী, এ হচ্ছে) আপনার মালিকের অনুগ্রহের (কথাগুলোর) স্মরণ, যা তিনি তাঁর এক অনুগত বান্দা যাকারিয়ার ওপর (প্রেরণ) করেছিলেন। যখন তিনি তার রবকে চুপে চুপে ডেকেছিলেন।” (সূরা ১৯; মারইয়াম ১-৩)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿ وَإِذَا سأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
“(হে নবী!) আমার কোনো বান্দা যখন আপনাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (আপনি তাকে বলে দিন), আমি (তার একান্ত) কাছেই আছি; কোন আহ্বানকারী যখনই আমাকে ডাকে আমি তখনই তার ডাকে সাড়া দেই।” (সূরা ২; বাকারা ১৮৬)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ﴿ وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
“রাত ও দিনের মাঝে যা কিছু স্থিতি লাভ করছে তার সব কিছুই তাঁর জন্যে; তিনি (এদের সবার কথা) শোনেন এবং (সবার অবস্থা) দেখেন।” (সূরা ৬; আন'আম ১৩)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ﴿ أَلَمْ تَرَ إِلَى رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظَّلَّ وَلَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ سَاكِنَا
“(হে নবী!) আপনি কি আপনার মালিকের (কুদরতের) দিকে তাকিয়ে দেখেননি? কিভাবে তিনি ছায়া (সর্বত্র) বিস্তার করে রেখেছেন, তিনি ইচ্ছা করলে তা তো (একই স্থানে) স্থায়ী করে রাখতে পারতেন।” (সূরা ২৫; ফুরকান ৪৫)
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ حم عسق
“হা-মীম, আইন-সীন-কাফ” (সূরা ৪২; শূরা ১-২)
মাথা ব্যথার জন্যে:
আপনার ডান হাতে রোগীর মাথা ধরে ইব্হাম (বৃদ্ধাঙ্গুলি) ও ছাব্বাবাহ (তর্জনী আঙ্গুল) দিয়ে কপালের দু'পাশ টিপে ধরবেন, আর ৭ বার সূরা ফাতিহা পড়বেন। সুবহানাল্লাহ খুব দ্রুত ব্যথা সরে যাবে, ঐ ব্যক্তির, যে সর্বান্তঃকরণে বিশ্বাস করে অথবা একাগ্রচিত্তে শুনতে চায়।
মাথার অর্ধাংশ ব্যথার জন্যে:
তিনবার সূরা ইখলাস পড়বে এবং আরো পড়বে আল্লাহ তাআলার বাণী, بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ لَوْ أَنْزَلْنَا هُذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللهِ “আমি যদি এ কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর নাযিল করতাম তাহলে আপনি (অবশ্যই) তাকে দেখতেন, কিভাবে তা বিনীত হয়ে আল্লাহর ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে পড়ছে।” (সূরা ৫৯; হাশর ২১)
এক গ্লাস বৃষ্টি অথবা যমযমের পানির মধ্যে সাতবার পড়বে, অর্ধেক পানি পান করবে আর বাকি অর্ধেক পানি দিয়ে আক্রান্ত অংশ ধুয়ে ফেলবে।
সব ধরনের মাথা ব্যথায় ডান হাতে মাথা চেপে ধরে আয়াতুশ শেফাগুলো (সূরা ৯; ১৪, সূরা ১০; ৫৭, সূরা ১৬; ৬৯, সূরা ১৭; ৮২, সূরা ২৬; ৮০, সূরা ৪১; ৪৪) এবং সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।