📄 কতিপয় সূরা ও আয়াতের ফযিলত
সূরা ফাতেহার ফযিলত: আল কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা হচ্ছে সূরা আল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।
সূরা বাকারার ফযিলত: শয়তান যখন সূরা বাকারার তিলাওয়াত শোনে তখন যে ঘরে এ সূরার তিলাওয়াত হতে থাকে, সে ঐ ঘর থেকে বের হয়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা কুরআন শেখ এবং পড়। কেননা, যে কুরআন শেখে, পড়ে এবং সে মোতাবেক আমল করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ মেশক আম্বর ভরা মোশকের মতো যার খুশবু চতুর্দিকে ছড়ায়।”
সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলোর ফযিলত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সূরা বাকারার সর্বশেষ দুটি আয়াত যে রাত্রে পড়বে, তা তার জন্যে যথেষ্ট হয়ে যাবে।” ইমাম নববী (র) বলেন, এর অর্থ হচ্ছে কিয়ামুল্লাইল-এর বদলে আয়াতদ্বয় যথেষ্ট হয়ে যাবে; কেউ বলেছেন শয়তান বা বিপদাপদ থেকে। তিন দিন কোনো ঘরে ঐ আয়াতদ্বয় তিলায়াত করা হলে শয়তান সে ঘরের নিকটে আসতে পারবে না।
আয়াতুল কুরসীর ফযিলত: আল্লাহর কিতাবের এই আয়াতটি সর্বোত্তম। যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে তার মাঝে আর জান্নাতে প্রবেশ করার মাঝে মৃত্যুই শুধু বাধা হয়ে থাকবে।
সূরা কাহফের ফযিলত: যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পড়বে, দু' জুমার মধ্যবর্তী সময় তার জন্যে আলোকিত হয়ে থাকবে। যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, দাজ্জালের ফেৎনা থেকে তাকে রক্ষা করা হবে।
সূরা ফাতহের ফযিলত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার উপর এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে যা পৃথিবী এবং এতে যা কিছু আছে তার চেয়ে প্রিয়।”
সূরা ইখলাসের ফযিলত: যে ব্যক্তি সূরা ইখলাছ দশবার পড়বে, এর বিনিময়ে তার জন্যে জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। এ সূরা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।
মোয়াউয়াউয়াযাতাঈন-এর ফযিলত: সূরা ফালাক ও সূরা নাস। প্রিয়নবীর অভ্যাস ছিল, যখন তিনি অসুস্থ হতেন তখন নিজে নিজে আশ্রয়দানকারী সূরাগুলো পড়তেন এবং নিজের উপর ফুঁ দিতেন।
টিকাঃ
১. সয়ূতী আল-কানিজ-এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং হাকেম ও বায়হাকীর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।
📄 মানসিক রোগের চিকিৎসায় আল কুরআন মহৌষধ
ইমাম জাফর সাদেক (রা) বলেন, আমি আশ্চর্যান্বিত হই ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে-
• যে ভীতস্বন্ত্রস্ত হলো, অথচ ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল’ (সূরা ৩; ১৭৩) এর শরণাপন্ন হলো না।
• যে পেরেশানিতে নিমজ্জিত হলো, অথচ ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যলিমীন’ (সূরা ২১; ৮৭) এর আশ্রয় নিল না।
• যে ধোঁকাবাজদের চক্রান্তের শিকার হলো, অথচ ‘ওয়া উফাওউইদু আমরী ইলাল্লাহ...’ (সূরা ৪০; ৪৪) এর দ্বারস্থ হলো না।
গ্রন্থকার আবুল ফিদা বলেন, আমি বিস্ময় বোধ করি ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে, যে রোগাক্রান্ত হয়েছে অথচ ‘আন্নী মাসসানিয়াদ্দুররু ওয়া আন্তা আরহামুর রাহিমীন’ (সূরা ২১; ৮৩) থেকে সাহায্য নিল না। কেননা, এরপরের আয়াতেই আল্লাহ তার কষ্ট দূর করার ওয়াদা করেছেন।
📄 সব ধরনের রোগের চিকিৎসায়
জাফরান এবং গোলাপ জল দিয়ে কোনো পাত্রে ৩ বার সূরা ইখলাস লিখবে। লেখা শুকানোর পর যমযমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে নেবে। এ সময় দৈনিক ৩ বার রোগী নিজেও সূরা ফাতেহা পড়বে এবং তিন দিন পর্যন্ত এ পানি পান করবে। যমযমের পানির মধ্যে সাতবার সূরা ফাতেহা পড়বে এবং ১ সপ্তাহ পর্যন্ত ঐ পানি পান করবে।
ইবনুল কাইয়্যেম (র) বলেন, একবার আমি মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়ি। ডাক্তার এবং ঔষধ কোনোটাই পাচ্ছিলাম না। তখন আমি মক্কায় এভাবে নিজের চিকিৎসা করেছি যে, যমযমের পানি নিতাম এবং এর উপর কয়েকবার করে সূরা ফাতেহা পড়তাম আর ঐ পানি পান করতাম। এর বদৌলতে আলহামদুলিল্লাহ আমি পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভ করি।
📄 আল্লাহর ইসমে আযম দ্বারা যাবতীয় রোগের চিকিৎসা
আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর ইসমে আযম এ দুটি আয়াতের মধ্যে রয়েছে। এর প্রথমটি হলো,
وَالهُكُمُ الهُ وَاحِدٌ لَّا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
“তোমাদের মাবুদ হচ্ছেন একজন, তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই, তিনি দয়ালু, তিনি মেহেরবান।” (সূরা ২; বাকারা ১৬৩)
আর দ্বিতীয় আয়াতটি হচ্ছে সূরা আল-ইমরানের শুরুতে:
الم اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
“আলিফ, লাম, মীম। মহান আল্লাহ তাআলা, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনিই চিরঞ্জীব, তিনিই চিরস্থায়ী।” (সূরা ৩; আলে ইমরান ১-২)¹
এ আমলটি করতে হবে রাতের নামায তাহাজ্জুদের পর, যখন মানুষেরা ঘুমিয়ে থাকে তখন। ঐ দিনের রোযারও নিয়ত করবে। সোমবার আর বৃহস্পতিবার হলে বেশি ভালো। আল্লাহর ইসমে আযমের বরকতের দোহাই দিয়ে সর্বোচ্চ কাকুতি-মিনতি সহকারে নিজের সুস্থতা অথবা যার জন্যে দু'আ করা হচ্ছে তার সুস্থতা কামনা করবে।
টিকাঃ
১. সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৬, জামে তিরমিযী: ৩৪৭৮, সুনানে ইবনে মাযাহ: ৩৫৫৫।