📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 সকল নবির সুন্নাহ

📄 সকল নবির সুন্নাহ


প্রোস্টেট গ্রন্থীর ব্যথায় ব্যথার স্থানে হাত রেখে আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বাণীটুকু তিনবার পড়বেন—
أَلَمْ تَعْلَمُ أَنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُونِ اللهِ مِنْ وَلِي وَلَا نَصِيرٍ
(সূরা ২; বাকারা ১০৬-১০৭)

প্রসব সহজ করার আমল: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল জনৈক মহিলার প্রসবের কষ্টের সময় ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি দোয়া লিখে দিয়েছিলেন। সেটি হলো—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ
সাথে সূরা নাযিআত ৪৬ এবং সূরা আহকাফ ৩৫ নং আয়াত লিখে তা পান করালে প্রসব সহজ হয়।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 ব্যক্তিগত দায়িত্ব

📄 ব্যক্তিগত দায়িত্ব


গোলাপজল ও জাফরান দ্বারা পরিষ্কার পাত্রে সূরা ইনশিক্বাক-এর ১-৪ নং আয়াত লিখে গর্ভবতীকে পান করাতে হবে এবং তার তলপেটের উপর পড়া পানির ছিটা দিতে হবে। এতে প্রসব সহজ হয়।

জ্বরের চিকিৎসায় আহমাদ বিন হাম্বল (র) এর শিখানো চিরকুট যাতে লেখা ছিল—
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ بِسْمِ الله وبالله مُحَمَّدُ رسول الله ﷺ : قُلْنَا يَنَارُ كُونِي بَرْدًا وَ سَلَمَا عَلَى إِبْرَاهِيمَ...
“আমি বললাম, হে আগুন তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল এবং শান্তিময় হয়ে যাও। ওরা তাঁর বিরুদ্ধে একটা ফন্দি আঁটতে চাইল। আর আমি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম।” (সূরা ২১; আম্বিয়া ৬৯-৭০)
এবং জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইস্রাফীলের রবের দোহাই দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।

টিকাঃ
১. আত তিব্বুন্নব্বী: ইবনুল কাইয়্যেম আল যাউজিয়্যাহ, পৃ.- ২৭৭-২৭৮।
২. তিবেব নববী, হাফেয আবি আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আয যাহাবী, পৃ- ২৮৫।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 লেখক পরিচিতি

📄 লেখক পরিচিতি


আবু ফিদা মুহাম্মাদ ইজ্জত মুহাম্মাদ আরিফ
তারজামা ইলা আল-লুগাতিল বেনগালিয়াহ: হাফিয মাহমুদ আল হাসান

মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের মৌলিক নীতিমালা যে কুরআনে পেশ করা হয়েছে, সেখানে অবশ্যই সব রকম সুস্থতারও নিশ্চয়তা রয়েছে। আল্লাহর নেক বান্দাগণ কুরআন থেকে যেসব রোগের চিকিৎসা খুঁজে বের করেছেন, এটি তার একটি সংকলন। কুরআনের তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য নিয়ে যুগে যুগে যেমনি গবেষণা চলছে, তেমনি কুরআন থেকে চিকিৎসা গ্রহণের প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ কুরআনকে “রোগের উপশমকারী ও রহমত” হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর মানসিক ও শারীরিক এমন কোনো রোগ থাকতেই পারে না, যার নিরাময় কুরআনে নেই। প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর কর্তব্য হলো, গভীর বিশ্বাস, নেক আমল ও পবিত্র জীবনযাপনের মাধ্যমে নিজের কল্যাণ, হেফাযত ও সুস্থতার প্রয়োজনে কুরআন থেকে ফায়দা হাসিলের জন্য সচেষ্ট হওয়া।

📘 কুরআন দিয়ে নিজের চিকিৎসা করুন > 📄 মহান আল্লাহ ছাড়া ক্ষতিকে অপসারণ করার আর কেউ নেই

📄 মহান আল্লাহ ছাড়া ক্ষতিকে অপসারণ করার আর কেউ নেই


নিশ্চয়ই সকল কিছুর স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা এবং একমাত্র তিনিই সবকিছু করতে সক্ষম, সবকিছুর প্রতি অনুগ্রহকারী একমাত্র তিনি। সুতরাং তিনি দয়া না করলে আর কে করবে? তিনিই আল্লাহ, যিনি তাঁর বিশাল ক্ষমতা ও রহমতে যাবতীয় বিপদ-মুসিবত অপসারণ করবেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “যিনি আমাকে পয়দা করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে (অন্ধকারে) চলার পথ দেখিয়েছেন। তিনি আমাকে আহার্য দেন। তিনিই আমার পানীয় যোগান। আর আমি যখন রোগাক্রান্ত হই তখন তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন। তিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, তিনি আমাকে আবার নতুন জীবন দেবেন। বিচারের দিন তাঁর কাছ থেকে আমি এ আশা করব যে, তিনি আমার গুনাহসমূহ মাফ করে দেবেন।” (সূরা ২৬; শু'আরা ৭৮-৮২)

অতএব, তাঁর শেফা ছাড়া কোনো শেফা নেই, তাঁর বিপদমুক্তি ছাড়া কোনো বিপদমুক্তি নেই এবং তাঁর শক্তি ছাড়া কোনো শক্তি নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, “যদি আল্লাহ তাআলা তোমাকে কোনো দুঃখ-কষ্ট দেন, তাহলে তিনি ছাড়া অন্য কেউ নেই তা দূরীভূত করার। আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তাহলে তাঁর সে কল্যাণ রদ করারও কেউ নেই। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাকে চান তাকেই কল্যাণ পৌঁছান, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা ১০; ইউনুস ১০৭)

এ কারনেই আইয়ুব (আ) যখন ইজ্জত এবং মহত্ত্বের মালিক, ক্ষমার একমাত্র অধিকারী, শেফাদানকারী, সকলের জন্যে যথেষ্ট, স্বীয় নির্দেশ এবং বিশাল ক্ষমতার দ্বারা সকল বিপদ অপসারণকারী মহান আল্লাহর নিকট চরম অসুস্থতার মুহূর্তে কায়মনোবাক্যে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আহ্বান করলেন। আল্লাহ তাআলার ভাষায়, “স্মরণ করুন! যখন আইয়ুব (আ) তাঁর মালিককে ডেকে বলেছিলেন, হে আল্লাহ আমাকে এক কঠিন অসুখ পেয়ে বসেছে, আমায় আপনি সুস্থ করে দিন, আপনিই হচ্ছেন দয়ালুদের সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।” (সূরা ২১; আম্বিয়া ৮৩)

যাবতীয় পবিত্রতা ও গুণগান আপনারই জন্যে, আপনি আমাদেরকে আপনার নিকট চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদেরকে তা কবুলের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, “অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম, তার যে কষ্ট ছিল তা আমি দূর করে দিলাম, তাঁকে তাঁর পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম, তাদের সবাইকে আমার কাছ থেকে বিশেষ দয়া এবং আমার বান্দাদের জন্যে উপদেশ হিসেবে আরো সমপরিমাণ দান করলাম।” (সূরা ২১; আম্বিয়া ৮৪)

সুতরাং, রোগীর উচিত বেশি বেশি দু'আ করা এবং কবুলের পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস সহকারে আল্লাহর নিকট চাওয়া যে, তিনি তাঁকে সুস্থ করবেন, রোগমুক্ত করবেন আর সে যেন আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নামগুলো দিয়ে দু'আ করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর রহমত তাকে ঢেকে ফেলবে এবং আল্লাহ তার ওপর থেকে বিপদ সরিয়ে দেবেন। অতএব, সকল পবিত্রতা আল্লাহর জন্যে; বনি আদম কতই না দুর্বল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00