📄 সত্যিকারের অংশগ্রহণ
আপনার ডান হাত ব্যথার স্থানে রাখুন এবং তিনবার পড়ুন—
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَبًا مُؤَجَّلًا... (সূরা ৩; আলে ইমরান ১৪৫)
সূরা কদর [সম্পূর্ণ] সাতবার পড়ুন—
إِنَّا أَنْزَلْتُهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ... (সূরা ৯৭; কদর ১-৫)
অথবা, আল্লাহ তাআলার এই বাণীটি পড়ুন—
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمُوتِ وَالْأَرْضั كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَهُمَا وَ جَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
“যারা কুফরী করে তারা কি দেখে না, আসমানসমূহ ও পৃথিবী (এক সময়) ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিলো। অতঃপর আমিই এদের উভয়কে আলাদা করে দিয়েছি এবং আমি প্রাণবান সব কিছুকেই পানি থেকে সৃষ্টি করেছি, (এসব জানার পরও) কি তারা ঈমান আনবে না?” (সূরা ২১; আম্বিয়া ৩০)
📄 সকল নবির সুন্নাহ
প্রোস্টেট গ্রন্থীর ব্যথায় ব্যথার স্থানে হাত রেখে আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বাণীটুকু তিনবার পড়বেন—
أَلَمْ تَعْلَمُ أَنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُونِ اللهِ مِنْ وَلِي وَلَا نَصِيرٍ
(সূরা ২; বাকারা ১০৬-১০৭)
প্রসব সহজ করার আমল: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল জনৈক মহিলার প্রসবের কষ্টের সময় ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি দোয়া লিখে দিয়েছিলেন। সেটি হলো—
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ
সাথে সূরা নাযিআত ৪৬ এবং সূরা আহকাফ ৩৫ নং আয়াত লিখে তা পান করালে প্রসব সহজ হয়।
📄 ব্যক্তিগত দায়িত্ব
গোলাপজল ও জাফরান দ্বারা পরিষ্কার পাত্রে সূরা ইনশিক্বাক-এর ১-৪ নং আয়াত লিখে গর্ভবতীকে পান করাতে হবে এবং তার তলপেটের উপর পড়া পানির ছিটা দিতে হবে। এতে প্রসব সহজ হয়।
জ্বরের চিকিৎসায় আহমাদ বিন হাম্বল (র) এর শিখানো চিরকুট যাতে লেখা ছিল—
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ بِسْمِ الله وبالله مُحَمَّدُ رسول الله ﷺ : قُلْنَا يَنَارُ كُونِي بَرْدًا وَ سَلَمَا عَلَى إِبْرَاهِيمَ...
“আমি বললাম, হে আগুন তুমি ইব্রাহীমের উপর শীতল এবং শান্তিময় হয়ে যাও। ওরা তাঁর বিরুদ্ধে একটা ফন্দি আঁটতে চাইল। আর আমি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম।” (সূরা ২১; আম্বিয়া ৬৯-৭০)
এবং জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইস্রাফীলের রবের দোহাই দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য কামনা করা হয়েছে।
টিকাঃ
১. আত তিব্বুন্নব্বী: ইবনুল কাইয়্যেম আল যাউজিয়্যাহ, পৃ.- ২৭৭-২৭৮।
২. তিবেব নববী, হাফেয আবি আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আয যাহাবী, পৃ- ২৮৫।
📄 লেখক পরিচিতি
আবু ফিদা মুহাম্মাদ ইজ্জত মুহাম্মাদ আরিফ
তারজামা ইলা আল-লুগাতিল বেনগালিয়াহ: হাফিয মাহমুদ আল হাসান
মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের মৌলিক নীতিমালা যে কুরআনে পেশ করা হয়েছে, সেখানে অবশ্যই সব রকম সুস্থতারও নিশ্চয়তা রয়েছে। আল্লাহর নেক বান্দাগণ কুরআন থেকে যেসব রোগের চিকিৎসা খুঁজে বের করেছেন, এটি তার একটি সংকলন। কুরআনের তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য নিয়ে যুগে যুগে যেমনি গবেষণা চলছে, তেমনি কুরআন থেকে চিকিৎসা গ্রহণের প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ কুরআনকে “রোগের উপশমকারী ও রহমত” হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর মানসিক ও শারীরিক এমন কোনো রোগ থাকতেই পারে না, যার নিরাময় কুরআনে নেই। প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর কর্তব্য হলো, গভীর বিশ্বাস, নেক আমল ও পবিত্র জীবনযাপনের মাধ্যমে নিজের কল্যাণ, হেফাযত ও সুস্থতার প্রয়োজনে কুরআন থেকে ফায়দা হাসিলের জন্য সচেষ্ট হওয়া।