📄 সমালোচনা ও আত্মজিজ্ঞাসা
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (র) নাক থেকে রক্তক্ষরণ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কপালের উপর লিখতেন—
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّহীম ﴿ وقيل يأرض ابلعي ماءك ويسمأ أقلعي وغيض الماء وقضي الأمر ﴾
“(অতঃপর) বলা হলো, হে যমীন! তুমি (এবার) তোমার পানি গিলে নাও, হে আসমান! তুমিও (পানি বর্ষণ থেকে) ক্ষান্ত হও। অতএব, পানির প্রচণ্ডতা প্রশমিত হলো এবং (আল্লাহর) কাজও সম্পন্ন হলো।” (সূরা ১১; হৃদ ৪৪)
আর তাঁকে আমি বলতে শুনেছি, একাধিক লোকের জন্যে আমি এটা লিখেছি, আল্লাহর হুকুমে তারা সুস্থ হয়েছে। ক্ষরিত রক্ত দিয়ে লেখা বৈধ হবে না। যেমনটি মূর্খরা করে থাকে। কেননা, রক্ত অপবিত্র। অতএব উহা দ্বারা আল্লাহর পবিত্র কালাম লেখা বৈধ হবে না। জাফরানের কালি দিয়ে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কপালে উক্ত আয়াতে কারীমাটুকু লিখতে হবে।
📄 সমালোচনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ
বধিরতায় আক্রান্ত কানের উপর ডান হাত রেখে ক্বারী সাহেব পড়বেন—
لَوْ أَنْزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَশিয়াতিল্লাহ... (সূরা ৫৯; হাশর ২১)
আরো পড়বেন—
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيمُ هُوَ اللهُ الَّذِي لَا إِلهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلْمُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحْنَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمُوتِ وَالْأَرْضِ وَ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
“তিনিই আল্লাহ তাআলা, তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, দেখা-অদেখা সব কিছুই তাঁর জানা, তিনি দয়াময়, তিনি করুণাময়। তিনিই আল্লাহ তাআলা, তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি রাজাধিরাজ, তিনি পূত-পবিত্র, তিনি শান্তি (দাতা), তিনি বিধায়ক, তিনি রক্ষক, তিনি পরাক্রমশালী, তিনি প্রবল, তিনি মাহাত্ম্যের একক অধিকারী। তারা যেসব (ব্যাপারে আল্লাহর সাথে) শিরক করছে, আল্লাহ তাআলা সেসব কিছু থেকে অনেক পবিত্র। তিনি আল্লাহ তাআলা, তিনি সৃষ্টিকর্তা, তিনি সৃষ্টির উদ্ভাবক, সব কিছুর রূপকার তিনি, তাঁর জন্যেই (নিবেদিত) সকল উত্তম নাম। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে (যেখানে) যা কিছু আছে তার সব কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে, তিনি পরাক্রমশালী, তিনি প্রবল প্রজ্ঞাময়।” (সূরা ৫৯; হাশর ২২-২৪)
📄 নিরপেক্ষতা
আপনার ডান হাতের তর্জনী (বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশের আঙ্গুল) দ্বারা রোগাক্রান্ত অংশের দিকে ইশারা করবেন। অতঃপর পড়তে হবে—
أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا قَالَ أَنِّي يُحْيِ هَذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ... فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“অথবা, (হে রাসূল!) আপনি কি ঐ ব্যক্তির ঘটনার দিকে দৃষ্টি দেননি, যে একটি বস্তির পাশ দিয়ে গেল, (সে দেখল) তা (বিধ্বস্ত হয়ে) আপন অস্তিত্বের ওপর মুখ থুবড়ে আছে, (তখন সে ব্যক্তি বলল, এ (মৃত জনপদ)-কে কিভাবে আল্লাহ তাআলা আবার পুনর্জীবন দান করবেন, এক পর্যায়ে আল্লাহ তাআলা (সত্যি সত্যিই) তাকে মৃত্যু দান করলেন এবং (এভাবেই তাকে) একশত বছর ধরে মৃত (ফেলে) রাখলেন। অতঃপর তাকে পুনরায় জীবিত করলেন। এবার জিজ্ঞেস করলেন, (বলতে পারো) তুমি কতোকাল (মৃত অবস্থায়) কাটিয়েছো? সে বললো, আমি একদিন কিংবা একদিনের কিছু অংশ (মৃত অবস্থায়) কাটিয়েছি। আল্লাহ তাআলা বললেন, বরং এমনি অবস্থায় তুমি একশ বছর কাটিয়ে দিয়েছ, তাকিয়ে দেখো, তোমার নিজস্ব খাবার ও পানীয়ের দিকে।".... (সূরা ২; বাকারা ২৫৯)
📄 এ পথ, ও পথ
মাথার খুসকি নিরাময়ে রোগীর উপর নিম্নোক্ত আয়াতে কারীমা পড়তে হবে—
فَأَصَابَهَا إِعْصَارٌ فِيْهِ نَارٌ فَاحْتَرَقَتْ
“হঠাৎ করে ঐ বাগানকে পেয়ে বসে এক আগুনের ঘূর্ণিবায়ু, যাতে বাগান জ্বলে ভস্মিভূত হয়েছে।” (সূরা ২; বাকারা ২৬৬)
আল্লাহর কুদরত এবং শক্তিতে নিরাময় হয়ে যাবে।
বিষাক্ত ফোঁড়ার চিকিৎসায় রোগীর উপর নিন্মোক্ত আয়াতে কারীমা পড়তে হবে—
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنْসিফুহা রব্বী নাসফা... (সূরা ২০; ত্বা-হা ১০৫-১০৭)
“(হে নবী!) তারা আপনার কাছে (কিয়ামতের সময়) পাহাড়গুলোর অবস্থা (কী হবে) জানতে চাইবে। আপনি তাদের বলুন, (সে সময়) আমার মালিক এগুলোকে (টুকরো টুকরো করে) উড়িয়ে দেবেন। অতঃপর তাকে তিনি মসৃণ ও সমতল ভূমিতে পরিণত করে ছাড়বেন। তখন আপনি এতে কোনো রকম অসমতল ও উঁচু-নিচু দেখবেন না।”