📄 চলতি চিন্তাধারা
ডান হাতে রোগীর মাথা ধরে নিম্নোক্ত আয়াতগুলো পড়তে হবে:
১. সূরা বাকারা ১৭৮ (ذَلِكَ تَখফীফুম মির রব্বিকুম ওয়া রহমাহ)
২. সূরা নিসা ২৮ (ইউরীদুল্লাহু আই ইউখফফিফা আনকুম...)
৩. সূরা আনফাল ৬৬ (আল আনা খফফফাল্লাহু আনকুম...)
৪. সূরা মারইয়াম ১-৩
৫. সূরা বাকারা ১৮৬ (ওয়া ইযা সাআলাকা ইবাদি...)
৬. সূরা আন'আম ১৩ (ওয়ালাহু মা সাকানা ফিল লাইলি ওয়ান নাহার...)
মাথার অর্ধাংশ ব্যথার জন্যে তিনবার সূরা ইখলাস এবং সূরা হাশরের ২১ নং আয়াত পড়ে এক গ্লাস যমযম বা বৃষ্টির পানিতে ফুঁ দিয়ে অর্ধেক পান করতে হবে এবং বাকি অর্ধেক দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে।
📄 যাহা বলিব, ন্যায় বলিব
যাবতীয় চক্ষুরোগ চিকিৎসা ও দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে দু'হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পিঠে—
فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ
“এখন আমরা তোমার (চোখের সামনে) থেকে তোমার সে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি, অতএব, (আজ তোমার দৃষ্টিশক্তি হবে অত্যন্ত প্রখর (সব কিছুই এখন তুমি দেখতে পাবে)।” (সূরা ৫০; ক্বাফ ২২) আয়াতে কারীমাটুকু সাতবার এবং সাথে প্রত্যেক বার রাসূলের উপর দুরূদ শরীফ পড়বে। অতঃপর আঙ্গুলদ্বয়ের উপর হালকা থুথু ছিটিয়ে তা দিয়ে চোখ দুটোকে মুছে দেবে। আল্লাহর হুকুমে কিতাবুল্লাহ-এর বরকতে চোখ উঠা-সহ বিভিন্ন চক্ষুপীড়া থেকে নিরাপদ থাকবে আর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাবে।
দাঁতের ব্যথার জন্যে ব্যথাযুক্ত গালের উপর (আঙ্গুল দিয়ে) লিখবে—
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿ قُلْ هُوَ الَّذِى اَنْشَاكُمْ وَ جَعَلَ লকুমুস সামআ ওয়াল আবসারা ওয়াল আফইদাতা কলীলাম মা তাশকুরুন ﴾
“(হে রাসূল!) আপনি বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাদের কান, চোখ দিয়েছেন। আরো দিয়েছেন, একটি অন্তর কিন্তু তোমরা খুব কমই (এসব দানের) কৃতজ্ঞতা আদায় কর।” (সূরা ৬৭; মূলক ২৩) এমনিভাবে আরো লিখবে, وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي الَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ “আর যা কিছু রাত ও দিনে স্থিতি লাভ করে তা তাঁরই। এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।” (সূরা ৬; আনআম ১৩)
📄 সমালোচনা ও সৌজন্য
ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘শেয়াবুল ঈমান’ গ্রন্থে ওয়াছেলা বিন আছকা থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে স্বীয় কণ্ঠনালীর ব্যথার অভিযোগ করল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত কর।” (শেয়াবুল ঈমান ২/৫১৯)
কিতাবুল্লাহের বেশি বেশি তিলাওয়াত রোগীর উপর রহমত এবং প্রশান্তি নাযিল করবে। তখন তার গোটা শরীরকে স্থিরতা ঢেকে ফেলবে, শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বীয় দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করতে পারবে। আর আল্লাহর হুকুমে রোগীর নিকট সুস্থতা এবং রোগ মুক্তি ফিরে আসবে, আল্লাহ তাকে পূর্ণ সুস্থতা দান করবেন। তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তারতীল যত সুন্দর হবে সূরের তন্ত্রিগুলোও ততই সুবিন্যস্ত হবে, হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে আর রোগের যাবতীয় উপকরণ সরে যাবে, দূরীভূত হবে। কেননা, ভালোর সাথে খারাপ একত্রিত হতে পারে না। কুরআনের কথা কতই না ভালো, যা রহমানের বান্দাদের জন্যে শেফা, রহমত এবং বলছম তুল্য।
📄 সমালোচনা ও আত্মজিজ্ঞাসা
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (র) নাক থেকে রক্তক্ষরণ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কপালের উপর লিখতেন—
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّহীম ﴿ وقيل يأرض ابلعي ماءك ويسمأ أقلعي وغيض الماء وقضي الأمر ﴾
“(অতঃপর) বলা হলো, হে যমীন! তুমি (এবার) তোমার পানি গিলে নাও, হে আসমান! তুমিও (পানি বর্ষণ থেকে) ক্ষান্ত হও। অতএব, পানির প্রচণ্ডতা প্রশমিত হলো এবং (আল্লাহর) কাজও সম্পন্ন হলো।” (সূরা ১১; হৃদ ৪৪)
আর তাঁকে আমি বলতে শুনেছি, একাধিক লোকের জন্যে আমি এটা লিখেছি, আল্লাহর হুকুমে তারা সুস্থ হয়েছে। ক্ষরিত রক্ত দিয়ে লেখা বৈধ হবে না। যেমনটি মূর্খরা করে থাকে। কেননা, রক্ত অপবিত্র। অতএব উহা দ্বারা আল্লাহর পবিত্র কালাম লেখা বৈধ হবে না। জাফরানের কালি দিয়ে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কপালে উক্ত আয়াতে কারীমাটুকু লিখতে হবে।